সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস
All India Trinamool Congress
(AITC)
সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
(প্রাক্তন রেলমন্ত্রি, ভারত)
লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন
প্রতিষ্ঠা ১ জানুয়ারি ১৯৯৮ (১৯৯৮-০১-০১)
সদর দপ্তর ৩০ বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা - ৭০০ ০২৬
সংবাদপত্র জাগো বাংলা (বাংলা)
ছাত্র শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ
যুব শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেস
মহিলা শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস
শ্রমিক শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস [১]
কৃষক শাখা সর্বভারতীয় তৃণমূল কিষাণ কংগ্রেস
মতাদর্শ গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ
সাম্যবাদ-বিরোধিতা
সামাজিক উদারনীতি
ভারতীয় জাতীয়তাবাদ
সামাজিক গণতন্ত্র[২]
আন্তর্জাতিক অধিভুক্তি না
নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত মর্যাদা জাতীয় দল[৩]
লোকসভা আসন ৩৪
রাজ্যসভা আসন ১২
নির্বাচনী প্রতীক
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক-চিহ্ন|150px
ওয়েবসাইট
aitcofficial.org

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (সংক্ষেপে তৃণমূল কংগ্রেস; পূর্বনাম পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস) ভারতের একটি রাজনৈতিক দল। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভেঙে এই দল প্রতিষ্ঠিত হল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান নেত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম-শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে যৌথভাবে ২২৭টি আসনে জয়লাভ করে (এককভাবে ১৮৪টি আসনে) সরকার গঠন করে। এইসময় ভারতের শাসক সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউপিএ-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, ২০১২ সালে ইউপিএ থেকে বেরিয়ে আসে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।[৪]২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১১টি আসনে জয়লাভ করে (মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে) পুনরায় সরকার গঠন করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দল প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দল হিসেবে 'তৃণমূল কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় নতুন দলটি ভারতের নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হয়। কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসকে "জোড়া ঘাসফুল" প্রতীক দেয়। ১৯৯৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।

প্রথম দিকের নির্বাচনের ফলাফল[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৭টি আসন জয় করে।[৫] ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূল কংগ্রেস ৮টি আসনে জয়ী হয়।[৬] ২০০০ সালে তৃণমূল কলকাতা পৌরসংস্থায় ক্ষমতায় আসে। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ৬০টি আসনে জয়লাভ করে।[৭] ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে।[৮] ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একক ভাবে লড়ে ৩০টি আসনে জেতে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধে লড়ে ২০টি আসনে জেতে।

মা-মাটি-মানুষ[সম্পাদনা]

মা-মাটি-মানুষ হল তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দ্বারা উদ্ভাবিত একটি প্রাথমিক স্লোগান। স্লোগানটি ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে মমতা ব্যানার্জী একই শিরোনামের একটি বাংলা বইও লেখেন।[৯] এছাড়াও একটি গানের থিম একই শিরোনাম ধারণ করা হয়েছে। জুন ২০১১ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি সে সময়ে ভারতের ষষ্ঠম সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ছিল।[১০]

জাগো বাংলা[সম্পাদনা]

জাগো বাংলা হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস -এর পশ্চিম বঙ্গ শাখার বাংলা মুখপত্র। ২০০৪ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে এটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন শ্রীঞ্জয় বোস।[১১]

কর্মসূচি[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল[সম্পাদনা]

Mamata Banerjee, Chief Minister of West Bengal and leader of the All India Trinamool Congress.

২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১৯টি আসন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পেয়েছিল ৬টি আসন ও এসইউসিআই পেয়েছিল ১টি আসন।[১২]

২০১০ সালের পৌর নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১০ সালের কলকাতা পৌরসংস্থার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৪১টি আসনের মধ্যে ৯৭টি আসনে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে বিধাননগর (সল্টলেক) সহ অধিকাংশ পুরসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।[১৩]

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে ২২৭টি আসনে (এককভাবে ১৮৪টি আসনে) জয়লাভ করে (মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে) সরকার গঠন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে শপথ গ্রহণ করেন।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ তে, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সহ অন্যান্য ইস্যুতে সংঘাত ঘটায় তৃণমূল কংগ্রেস ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউপিএ-এর থেকে বেরিয়ে আসে।[১৪][১৫]

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে ভারতের লোকসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে লড়ে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১১টি আসনে জয়লাভ করে (মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে) সরকার গঠন করে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে পুনরায় শপথ পাঠ করেন।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Telegraph" 
  2. "why TMC" 
  3. "Election Commission of India" 
  4. "Trinamool Congress walks out of UPA coalition"। রয়টার্স। সংগৃহীত ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ 
  5. [১]
  6. [২]
  7. [৩]
  8. [৪]
  9. "Ma Mati Manush book"। সংগৃহীত ৮ মার্চ ২০১৩ 
  10. https://aitmc.org/6Sep13.pdf
  11. http://ceowestbengal.nic.in/RESULT2009/WIN_RUN_MARGIN.PDF
  12. [৫]
  13. "Rupee falls after TMC pulls out from government"। Monetcontrol.com। সংগৃহীত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  14. "Mamata's party ready to meet President tomorrow to officially quit UPA"। NDTV। সংগৃহীত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  15. "West Bengal Election Results 2016: TMC storms back to power in Bengal, Cong-Left alliance loses"The Financial Express (India)। ২০ মে ২০১৬। সংগৃহীত ৩ জুন ২০১৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]