বিষয়বস্তুতে চলুন

জেল হত্যা দিবস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেল হত্যা দিবস
পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঘটনাস্থল নিকটবর্তী জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য
আনুষ্ঠানিক নামজেল হত্যা দিবস
পালনকারীবাংলাদেশ
ধরনজাতীয় শোক দিবস
তাৎপর্য১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড স্মরণ
উদযাপনপুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা
তারিখ৩ নভেম্বর

জেল হত্যা দিবস প্রতি বছর ৩রা নভেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের চারজন জাতীয় নেতাঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মুহাম্মদ মনসুর আলী ও আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে এ দিবস পালন করা হয়।[][]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ঘটনাপ্রবাহ

[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সেনাবাহিনীর দ্বারা ধানমন্ডির তার নিজস্ব বাসভবনে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্টপতির পদে আসীন করে সামরিক শাসন জারি করে ও ২২শে আগস্ট মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে গ্রেফতার করে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। ২ মাস ১৯ দিন পর একই বছরের ৩ নভেম্বর গভীর রাতে সেনাসদস্যরা দেশত্যাগ করার পূর্বে খন্দকার মোশতাক আহমেদ এর অনুমতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং সেখানে বন্দি অবস্থায় থাকা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন জাতীয় চার নেতা - সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।[]

শিকার

[সম্পাদনা]

পরিণতি

[সম্পাদনা]

এই হত্যাকাণ্ড ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কময় অধ্যায়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্য ও সমস্ত জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই ঘটনা খন্দকার মোশতাক আহমেদের পতন ত্বরান্বিত করে। খুনিরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ১৫ই আগস্ট ও ৩রা নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড একই গোষ্ঠী সংঘটিত করে।

বিচারকার্য

[সম্পাদনা]

জেলখানায় ঐ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরের দিন ৪ঠা নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক কাজী আব্দুল আউয়াল লালবাগ থানায় বাদী হয়ে চার নেতার হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন । মামলার এজাহারে বলা হয় যে, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন এর নেতৃত্বে চার পাঁচ জন সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেন। হত্যার পর বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পরদিন মামলা করা হলেও এই মামলার তদন্ত থেমেছিল ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড মামলা ও জেলহত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু করা হয়। টানা আট বছর বিচার চলার পর ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি এর বিচার কাজ শেষ হয়। ৯ মাস পর ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত তিনজন পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, ১২ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে খালাস প্রদান করে।[]

২০০৮ সালের ২৮শে আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জেলহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন সামরিক কর্মকর্তাকে খালাস দেয়। খালাসীদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দীন আহমেদকে ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ খালাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "আজ জেলহত্যা দিবস"বাংলা ট্রিবিউন। ৩ নভেম্বর ২০১৬। ১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার |ইউআরএল-বস্থা= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  2. "শোকাবহ জেল হত্যা দিবস সোমবার"দৈনিক যুগান্তর। ২ নভেম্বর ২০১৪।
  3. "জেল হত্যা: 'প্রেসিডেন্ট বলেন, আর্মি অফিসাররা যা চায় সেটা কর'"বিবিসি বাংলা। ৩ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  4. "ইসলাম, সৈয়দ_নজরুল"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬
  5. "আহমদ, তাজউদ্দিন"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬
  6. "কামারুজ্জামান, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬
  7. "আলী, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬
  8. 1 2 "জেল হত্যা মামলার রায় ৩০শে এপ্রিল"বিবিসি বাংলা। ঢাকা। ১৭ এপ্রিল ২০১৩।