এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ
জন্মগলাচিপা, পটুয়াখালী জেলা।
মৃত্যু২৪ জানুয়ারি ২০১০
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
আনুগত্যবাংলাদেশ
সার্ভিস/শাখাবাংলাদেশ সেনাবাহিনী
পদমর্যাদালেফটেন্যান্ট কর্নেল

লেফটেন্যান্ট কর্নেল  (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২৮ জানুয়ারি ২০১০ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি সহ ৫ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।[১][২]

পেশা[সম্পাদনা]

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা ছাড়াও ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণির বাড়িতে হামলা করে সেরনিয়াবাতের চার বছরের নাতি, শেখ মণির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ যাদের পেয়েছে, তাদেরই হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি লিবিয়ায় ত্রিপোলিতে একটি কূটনৈতিক মিশনে পদোন্নতি পান।[৩][৪][৫]

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। রাজনৈতিক আশ্রয় চান। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ১৮ জুন ২০০৭ সালে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৩ মার্চ ২০০৭ সালে মার্কিন ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তাকে আটক করে। পরে দেশে ফেরত পাঠায়। ১৮ নভেম্বর ২০০৯ সালে তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালিতে আগুন দেয়া হয়।[৬][৭]

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা[সম্পাদনা]

২ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে এএফএম মহিতুল ইসলাম ধনমণ্ডি থানায় হামলা মামলা দায়ের করেন। [৮] ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর শেখ মুজিব ও তার পরিবারের হত্যার দায়ে দায়ের করা মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। ২৩এপ্রিল ২০০১ বাংলাদেশ হাইকোর্ট ১২ জনের মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। [৬][৯] দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে বিচারের কাজে গতি পায়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয় সে বছরের ১৯ নভেম্বর।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর[সম্পাদনা]

২৪ জানুয়ারি ২০১০ সালে মৃত্যুদণ্ডের বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি প্রাণ ভিক্ষা চান ও প্রত্যাখ্যাত হন। এদিন রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। প্রথমে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ও মেজর মোহাম্মদ বজলুল হুদার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সবশেষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক প্রক্রিয়া মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।[১০][১১][১২] পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় তাকে দাফন করা হয়।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Four could not even be traced"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ আগস্ট ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  2. "Govt to confiscate their properties"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  3. "Mohiuddin's confession"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  4. "Mohiuddin wasn't present at spot"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  5. "Rewards for slayers"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  6. "Condemned Mohiuddin arrives today"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  7. "Convict Maj Mohiuddin's house set afire"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  8. "Long road to justice"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  9. "SC starts to hear convicts' appeals"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  10. "5 Bangabandhu killers hanged"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  11. "Huda, Mohiuddin, seek SC review"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭ 
  12. "Nation rids itself of stigma"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭