সরকারি তিতুমীর কলেজ
প্রাক্তন নামসমূহ | জিন্নাহ কলেজ |
|---|---|
| নীতিবাক্য | জ্ঞানই শক্তি |
| ধরন | সরকারি |
| স্থাপিত | ৭ মে ১৯৬৮ |
মূল প্রতিষ্ঠান | ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় |
| ইআইআইএন | ১০৮০৩৫ |
| আচার্য | রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন |
| উপাচার্য | অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম |
| অধ্যক্ষ | প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমদ |
শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিবর্গ | ১৭১ |
| শিক্ষার্থী | ২৭,৮৮৪ |
| স্নাতক | ২৪,৯৯০ |
| স্নাতকোত্তর | ২,৮৯৪ |
| ঠিকানা | বীর উত্তম এ.কে খন্দকার রোড, মহাখালী , , ১২১৩ , ২৩°৪৬′৫৪″ উত্তর ৯০°২৪′১৩″ পূর্ব / ২৩.৭৮১৫৯৬° উত্তর ৯০.৪০৩৬৮৬° পূর্ব |
| শিক্ষাঙ্গন | নগর, ১১.২১ একর (৪.৫৪ হেক্টর) |
| ভাষা | বাংলা ইংরেজি |
| সংক্ষিপ্ত নাম | জিটিসি |
| ওয়েবসাইট | www |
![]() | |
সরকারি তিতুমীর কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই কলেজটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১] সে সময় কলেজটি জিন্নাহ কলেজ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কলেজটির নাম পরিবর্তন করে তিতুমীর কলেজ রাখা হয়। কলেজটি ঢাকা শহরের বনানী থানার অন্তর্ভুক্ত মহাখালী এলাকায় অবস্থিত।
বর্তমানে এই কলেজে তিনটি অনুষদে (কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) মোট ২২ টি বিভাগে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।[২] ব্যানবেইসের তথ্যানুসারে ১১.২১ একর আয়তনের এ ক্যাম্পাসে স্নাতক (সম্মান) স্তরে ২৪,৯৯০ জন এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ২৮৯৪ জন মিলে মোট ২৭,৮৮৪ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে। ২০২৬ সালে এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে সংযুক্ত হয়।
ইতিহাস

১৯৬৮ সালে 'জিন্নাহ কলেজ' নামে সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৩] তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান সাবেক জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র আন্দোলন নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করেন এবং এর নামকরণ করা হয় জিন্নাহ কলেজ।[৪] ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটি ডিগ্রি কলেজ হিসাবে শুরু করলেও ১৯৭০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতেও ক্লাস নেওয়া শুরু হয়।[৫] অবশ্য পরে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান রেডিও-টেলিভিশনে এক ভাষণে জাতীয় পরিষদ স্থগিত ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে জিন্নাহ কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কতিপয় ছাত্রনেতা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিন্নাহ্ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন আনিসুজ্জামান খোকন (জিন্নাহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক) জিন্নাহ কলেজের নাম 'তিতুমীর কলেজ' প্রস্তাব করেন। ২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ্ কলেজের নাম 'তিতুমীর কলেজ' হিসেবে চূড়ান্ত হয়। ঐ রাতেই 'তিতুমীর কলেজ' নামকরণের সাইনবোর্ড লেখা হয় এবং দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয়। এলাকার কিছু যুবক "তিতুমীর" নামকরণের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
২০১৭ সালে এই কলেজ কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাখালী রেললাইন ও আশপাশের সড়ক অবরোধ করে।[৬][৭] এর ফলে ঢাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে গন্তব্যে হেঁটে যেতে হয়। এসময় ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।[৮] অবরোধ চলাকালে উপকূল এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে, এতে জানালার কাঁচ ভেঙে কয়েকজন যাত্রী ও শিশু আহত হয়।[৯][১০][১১] এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই অধিভুক্ত বাতিল করা হয়।[১২][১৩]
বিভাগ ও অনুষদসমূহ
সরকারি তিতুমীর কলেজে শুরুর দিকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চালু থাকলেও পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে এবং চাহিদা অনুসারে এখন শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিসমূহ চালু রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল বিভাগ এই কলেজে চালু ছিল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকার সময়ও আগের বিভাগগুলোর সকল কার্যক্রম চালু ছিল। বর্তমানে এখানে যেসকল ডিসিপ্লিন চালু রয়েছে:
- বিজ্ঞান অনুষদ
- পদার্থবিজ্ঞান
- রসায়ন
- গণিত
- প্রাণিবিজ্ঞান
- উদ্ভিদবিজ্ঞান
- মনোবিজ্ঞান
- পরিসংখ্যান
- ভূগোল ও পরিবেশ
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)
- বাণিজ্য অনুষদ
- হিসাব বিজ্ঞান
- ব্যবস্থাপনা
- মার্কেটিং
- ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
- কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
- বাংলা
- ইংরেজি
- ইতিহাস
- দর্শন
- সমাজবিজ্ঞান
- ইসলাম শিক্ষা
- সমাজকর্ম
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
- অর্থনীতি
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান
সুবিধা
গ্রন্থাগার
কলেজটিতে প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব গ্রন্থাগার বা সেমিনার এবং একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার রয়েছে। যেখানে ২০,০০০ এর অধিক বই সংগ্রহে রয়েছে।
আবাসিক হল
কলেজটির ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ৫টি আবাসিক হল রয়েছে; এগুলো হলো:
- আক্কাছুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাস
- সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস
- সিরাজ ছাত্রী নিবাস
- শহীদ মামুন ছাত্রাবাস
- অপরাজিতা ছাত্রী নিবাস
পরিবহন ব্যবস্থা
ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ৯টি বাস আছে-
- বিআরটিসি লাল বাস
- সম্পর্ক
- অগ্নিবীণা
- সোনার তরী
- সাদা বাস
- চলন্তিকা
- সৌহার্দ্য
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান
- অনিন্দ্য
সহশিক্ষা কার্যক্রম
সরকারি তিতুমীর কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে৷ এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
- তিতুমীর কলেজ আইটি সোসাইটি (TCITS)
- জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীর।
- যুব রেড ক্রিসেন্ট,সরকারি তিতুমীর কলেজ
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর
- বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) সরকারি তিতুমীর কলেজ ইউনিট
- সরকারি তিতুমীর কলেজ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব
- সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি
- তিতুমীর নাট্যদল, সরকারি তিতুমীর কলেজ
- তিতুমীর কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি
- সরকারি তিতুমীর কলেজ ফুটবল ক্লাব
- সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব (জিটিসি ডিসি)
- তিতুমীর আর্ট ক্লাব
- শুদ্ধস্বর কবিতা মঞ্চ
- সরকারি তিতুমীর কলেজ রিসার্চ ক্লাব
- তিতুমীর ক্রিকেট ক্লাব
- তিতুমীর ব্যাডমিন্টন ক্লাব
- তিতুমীর ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম ক্লাব
- সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
- আদিবাসী ছাত্র সংগঠন, সরকারি তিতুমীর কলেজ
- তিতুমীর ইসলামিক কালচারাল ক্লাব
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- টিপু মুনশি - সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী
- রবিউল ইসলাম জীবন - গীতিকার ও সাংবাদিক
- শতাব্দী ওয়াদুদ - অভিনেতা
- সাইফ খান - অভিনেতা
- হাসান মাসুদ - অভিনেতা
- এম এম শাহীন - রাজনীতিবিদ
- জিয়াউল হক পলাশ - অভিনেতা
- শবনম বুবলী - অভিনেত্রী
- আমিরুল ইসলাম খান আলীম - সংসদ সদস্য
- মাহেরিন চৌধুরী
আরো দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ Government Titumir College. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে Explore Dhaka. Retrieved 8 August 2012.
- ↑ "৫৬ বছরে পা রাখল সরকারি তিতুমীর কলেজ"। ঢাকা পোস্ট। ৭ মে ২০২৩।
- ↑ "প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছরে সরকারি তিতুমীর কলেজ"। thedailycampus.com। ৭ মে ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্র সংসদ নেই দুই দশক"। দৈনিক সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২২।
- ↑ "WELCOME TO GOVERNMENT TITUMIR COLLEGE – Govt. Titumir College, Dhaka"। titumircollege.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ মে ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "ফের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা"। দৈনিক সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "৫ ঘণ্টা পর মহাখালীর সড়ক ও রেলপথ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা"। বাংলা ট্রিবিউন। ১৮ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "মহাখালীতে সড়ক-রেলপথ অবরোধ, আটকে আছে ২ ট্রেন"। ঢাকা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "তিতুমীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা"। BBC News বাংলা। ১৯ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের মিছিল থেকে ট্রেনে ঢিল, আহত শিশু-নারী"। দেশ রূপান্তর। ১৮ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "চলন্ত ট্রেনে হামলার ঘটনায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন, চলছে ট্রলের বন্যা"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকছে না সাত কলেজ"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৭ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকছে না ৭ কলেজ"। দৈনিক সমকাল। ২৭ জানুয়ারি ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
উইকিমিডিয়া কমন্সে সরকারি তিতুমীর কলেজ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।- দাপ্তরিক ওয়েবসাইট

- অধিভুক্ত সাত কলেজের ওয়েবসাইট
| বাংলাদেশের বিদ্যালয় বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
