মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়.jpg
জ্ঞানই আলো
অবস্থান
মতিঝিল, ঢাকা
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরন সরকারি
প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ
প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী)
বিদ্যালয় বোর্ড ঢাকা বোর্ড
শ্রেণী প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রধান শিক্ষক সৈয়দ হাফিজুল ইসলাম
কর্মকর্তা ৫০ (প্রায়)
শ্রেণী শ্রেণী ১-১০ ও ১১-১২
Years taught ১১
লিঙ্গ বালক
ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৩০০০
ভাষার মাধ্যম বাংলা
ভাষা বাংলা
ক্যাম্পাস ৭.২ একর

মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত একটি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স সন্নিকটবর্তি আউটার সার্কুলার রোড সংলগ্ন দক্ষিণ শাহজাহানপুর মোড়ে অবস্থিত। বিদ্যালয়টির অধীনে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হলেও মূলত মূল ব্যবস্থাপনায় ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পরিচালিত হয় বলে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। বিদ্যালয় প্রভাতি এবং দিবা -এই দুই শাখায় পরিচালিত হয়। সরকারি ভর্তি কার্যক্রমে বিদ্যালয়টি "খ" গ্রুপে শ্রেণীবদ্ধ[১]

পরিচিতি[সম্পাদনা]

প্রতীক[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের প্রতীকটি গোলাকৃতির। যার সাদা পটভূমিতে লাল রঙের একটি বড় বৃত্ত, এবং তার অভ্যন্তরে একটি ছোট বৃত্ত। বড় বৃত্তটির ভিতরে বৃত্তাকারে বিদ্যালয়ের নাম ও অবস্থানস্বরূপ "ঢাকা" লেখা; বিদ্যালয়ের নাম এবং অবস্থানের মাঝখানে দুটো পাঁচ-মাথা-তারকা রয়েছে। ভিতরের বৃত্তের ভিতরে ঊর্ধ্বাংশে বৃত্তাকারে বিদ্যালয়ের মূল মন্ত্র জ্ঞানই আলো লেখা। তার ঠিক নিচে একটি খোলা বই, তার পিছনে প্রজ্জলিত মোমবাতি। খোলা বইয়ের বাম অংশে বাংলা স্বরবর্ণের প্রথম দুটো বর্ণ "অ" এবং "আ" লেখা, আর ডান অংশে বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম দুটো অক্ষর "ক" এবং "খ" লেখা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এই বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এই বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিদ্যালয়টি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, মতিঝিল, যা পরবর্তিতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট স্কুল হিসেবে সমধিক পরিচিতি পায়। স্বাধীন বাংলাদেশে বিদ্যালয়টি বর্তমান নামে শিক্ষা মণ্ত্রনালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৫ থ্রিস্টাব্দে এই বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয় এবং ঐ বছরই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবার গৌরব অর্জন করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রশিদ উদ্দিন জাহিদ।[২]

শুরু থেকেই বিদ্যালয়টিতে দিবা শাখা ও প্রভাতি শাখা প্রচলিত ছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তানের অধীন ছিল বলে প্রভাতি শাখা ছিল উর্দু মিডিয়াম, আর দিবা শাখা ছিল বাংলা মিডিয়ামে পড়ালেখার জন্য, এবং শাখাদ্বয়ের নামও ছিল যথাক্রমে 'উর্দু মিডিয়াম' এবং 'বেঙ্গলি মিডিয়াম'। পরে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর দুই শাখাতেই বাংলা মিডিয়ামে পড়ালেখা শুরু হয় এবং শাখাদ্বয়ের নাম যথাক্রমে 'প্রভাতি শাখা' ও 'দিবা শাখা' হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

পূর্ব পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রীয় অবদান রাখেন। যুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রের ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবহিত আছে, তাঁরা হলেন:

  • মাজহারুল হক, মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার্থী
  • খোকন, মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার্থী
  • আনোয়ার কামাল, মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার্থী

বিবরণ[সম্পাদনা]

মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ

বিদ্যালয়ের মূল ভবনেই প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর অধ্যয়ন পরিচালিত হয়। সাধারণত ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণীতে ক, খ , গ, ঘ, ঙ; এই পাঁচটি শাখা রয়েছে, যার প্রথমোক্ত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ৩টি শাখার ক্লাস প্রভাতি শাখার অধীনে, এবং দ্বিতীয়োক্ত ২টি শাখার ক্লাস দিবা শাখার অধীনে এবং ১০ম শ্রেণীর ২টি শাখার ক্লাস প্রভাতি শাখার অধীনে, এবং দ্বিতীয়োক্ত ৩টি শাখার ক্লাস দিবা শাখার অধীনে পরিচালিত হয়। নবম-দশম শ্রেণীতে ক, খ ও গ শাখা বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হয়, এবং ঘ ও ঙ শাখাটি এককভাবে ব্যবসায় শিক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকে। ১ম -৫ম শ্রেণিতে শুধুমাত্র ক ও খ শাখা আছে যা যথাক্রমে প্রভাতিদিবা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শিক্ষায় মানবিক শিক্ষার ব্যবস্থা নেই বিদ্যালয়ের এখন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীও আছে (প্রেক্ষিত ২০১৫)।

বিদ্যালয়টিতে দিবা শাখা ও প্রভাতি শাখা পরিচালনার জন্য প্রধান শিক্ষক একজন হলেও আলাদা সহকারী শিক্ষক রয়েছেন এবং আলাদা শিক্ষকমণ্ডলীও রয়েছেন। এমনকি দুই শাখার জন্য আলাদা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও স্টাফ রয়েছেন।

বিদ্যালয়টি তার প্রারম্ভলগ্নে কো-এডুকেশন, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ের একত্র পঠনধারায় চললেও পরবর্তিতে ছেলেদের জন্য আলাদা করে বালক ও বালিকা পৃথক গন্ডি তৈরি করা হয়। যদিও এখনও বিদ্যালয়ের একটি ভবনের অর্ধেক বালিকা শাখা, এবং বাকি অংশ বালক শাখা ব্যবহার করে থাকে। তবে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি বালক শাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি বাড়তি ক্লাসরুমের প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভিতরের মাঠে তৈরি করা হয়েছে আরো একটি শ্রেণীভবন। বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখেই স্বাগত জানায় একটি ত্রিধারা স্মৃতিস্তম্ভ। প্রবেশ পথের বাম দিকে প্রধান শিক্ষকের বাসভবন অবস্থিত। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের নিচতলায় রয়েছে একটি বিশালাকায় উপ-দ্বিতল অডিটরিয়াম। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি পাঠাগার, যাতে রয়েছে প্রায় ১৫০০০ বই। এছাড়া ব্যবহারিক শিক্ষার প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সহায়ক ল্যাবরেটরি রয়েছে, রয়েছে কম্পিউটারেরও একটি আলাদা ল্যাবরেটরি।

ব্যতিক্রমবাদে প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকল শ্রেণীর ছাত্রদের এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে কোরআন (সূরা ফাতিহা) তেলাওয়াত, বিদ্যালয়ের শপথ পাঠ এবং জাতীয় সংগীত সমস্বরে গাওয়াসহ শারীরিক কসরত অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য পোষাকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সাদা শার্ট ও ফুল প্যান্ট বরাদ্দ। এছাড়া পোষাক হিসেবে সাদা কেড্‌স বা জুতা পরতে হয়। কোমরে কালো বেল্ট পরার অনুমতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় থেকে বুকে ধারণ করার জন্য কাপড়ের ব্যাজ দেয়া হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের জন্য পোষাকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাদা শার্ট ও ফুল প্যান্ট বরাদ্দ। এছাড়া পোষাক হিসেবে কালো কেড্‌স বা জুতা পরতে হয়। কোমরে কালো বেল্ট পরার অনুমতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় থেকে বুকে ধারণ করার জন্য কাপড়ের ব্যাজ দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ভিতরের মাঠের এক কোণে খাবার প্রস্তুত করার আলাদা একটি ঘর রয়েছে, তবে তা ক্যান্টিন নয়। বিদ্যালয়ের মাসিক বেতনের সাথে অতিরিক্ত কিছু টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা দিয়ে ছাত্রদের জন্য এই কক্ষে টিফিন তৈরি করা হয়। তৈরিকৃত টিফিন, টিফিন পিরিয়ডে ক্লাস-ক্যাপ্টেনরা ক্লাসে নিয়ে গিয়ে উপস্থিত ছাত্রদের মধ্যে বিলি করেন।

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষাসহায়ক পাঠক্রম রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে একটি পি.টি. ক্লাস বাধ্যতামূলক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য দুটো মাঠ রয়েছে, যার একটি মূল ভবন দিয়ে ঘেরা, যাকে ভিতরের মাঠ বলা হয়, আর অন্যটি মুল ভবনের পিছনে, যাকে বাইরের মাঠ বলা হয়। বাইরের মাঠটিতে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে বড় ধরণের উন্নয়ন কাজ করানো হয়। এই মাঠটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তশ্রেণী ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা ও আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা আয়োজনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ২০০০ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সংযোজিত হয় একটি বাস্কেটবল খেলার মাঠ। ইনডোর গেমসের মধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে টেবিল টেনিস বেশ জনপ্রিয়, এবং বিদ্যালয়ে একাধিক টেবিল টেনিস খেলার টেবিলের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে Terry Fox Run-এ অংশগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব ফুটবল, ক্রিকেট, খো খো, কাবাডি, টেবিল টেনিস দল, যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের পক্ষে প্রতিযোগিতা করে থাকে। এছাড়া নির্মাণ বিদ্যালয় ক্রিকেট-এ এই বিদ্যালয়ের ক্রিকেট দল ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে অর্জন করে শ্রেষ্ঠ দল হবার গৌরব।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সহশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি পাঠক্রমে যোগ করা হয়েছে 'সিসিএ' (কো-কারিকুলার এক্টিভিটিস) ক্লাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠক্রমের বাইরের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ পান। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মুক্তবুদ্ধির ও মুক্তচিন্তার চর্চার জন্য বিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আন্তঃসংগঠন। বিদ্যালয়ের আন্তঃসংগঠনের মধ্যে স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিএনসিসি'র কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এই তিন সংগঠন, বিশেষ করে বিএনসিসি কোরের সদস্যবৃন্দ প্রতি বছর বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে থাকে। অত্র বিদ্যালয়ে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিএনসিসি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই তিন বাহিনী বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অন্তর্বর্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষ পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে থাকে। এমনকি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে অত্র বিদ্যালয়ের একজন বিএনসিসি ক্যাডেট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অফ ওনার প্রদান করার গৌরব অর্জন করেন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ও ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত "জাতীয় বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা"য় রানার-আপ হবার গৌরব অর্জন করে। এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাব। ষষ্ঠ স্টামফোর্ড ন্যাশনাল ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১১-তে বিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা ফাইনাল বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে বিদ্যালয়টি, এছাড়া সেখানে শ্রেষ্ঠ তার্কিক হন নাফিস ফেরেদৌস সাকিব[৩]।২০১৫ সালে রাজউক ন্যাশনাল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় । ২০১৪ সালের ১৪-ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় MGBHS সাংস্কৃতিক সংঘ -সংশপ্তক। এটি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয় বিদ্যালয়ের তিন ছাত্র ইনান মারশাদ, তাসনীম বিন আলম ও সাদেকীন হায়দার। সংগঠনটি জাতীয় শিশু পুরস্কার-সহ বিভিন্ন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তাছাড়া, সংগঠনটি বিদ্যালয়ে উইকিমিডিয়া,বাংলাদেশ এর একটি কর্মশালাও আয়োজন করেছে। [৪]|

জনস্বার্থমূলক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

তনু হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রদের মিছিল

প্রাকৃতিক দূর্‍্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবার ব্রত রয়েছে এ বিদ্যালয়ের। ১৯৮৮,১৯৯৮,২০০৪ সালের বন্যায় ঢাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে বিদ্যালয়ের স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে অসহায় মানুষদের সাহায্য করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে চট্রগ্রামে জলোচ্ছ্বাস,১৯৯৬ সালে টাঙ্গাইলের টর্নেডোতে আক্রান্ত এলাকার জন্য এবং ২০০৭ সালে সিডর আক্রান্ত দক্ষিনাঞ্চলের জনগনের সহায়তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ফলাফল[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রায় প্রতি বছরই সাফল্য পরিলক্ষিত হয়। যখন শিক্ষা কার্যক্রম প্রাক্তন বিভাগ পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো, তখন ১৯৯০ ও ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়ের ৩ জন ছাত্র মাধ্যমিক চূড়ান্ত পরীক্ষা এসএসসিতে মেধাতালিকায় স্থান করে নেন। ১৯৯৩ সনে ৩ জন; ১৯৯৪ সনে ৩ জন; ১৯৯৫ সনে ৬ জন; ১৯৯৮ সনে ২ জন এসএসসিতে মেধাতালিকায় স্থান করে নেন (প্রেক্ষিত ১৯৯৯)। এছাড়াও ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান একজন, ঐ বছর জুনিয়র বৃত্তি পান ৪ জন; ১৯৯৮ সালে জুনিয়র বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান ১ জন, সাধারণ বৃত্তি পান ১ জন। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ফলাফল বিবেচনায় ঢাকার সেরা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যালয়টি নবম অবস্থানে অবস্থান করে।২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ফলাফল বিবেচনায় বাংলাদেশের সেরা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যালয়টি ষষ্ঠ অবস্থানে অবস্থান করে।

অনুষ্ঠানাদি[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, আযান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসব ও জাতীয় দিবসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা। মিলাদ মাহফিল এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকে বিভিন্ন পুরস্কার। এছাড়া বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন চ্যারিটি প্রোগ্রাম, বই মেলা, রেড ক্রিসেন্টের রক্ত সংগ্রহ অভিযান, আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতাও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রতি বছর নবম-দশম শ্রেণীরা শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে অংশগ্রহণকারী বিদায়ী ছাত্রদের বিদায় উপলক্ষে আয়োজন করে থাকে বিদায় সংবর্ধনা ও র‍্যাগ-ডে'র। এসকল বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে বনভোজনের আয়োজনও করা হয়ে থাকে, তবে তাতে শিক্ষার্থীদের চাঁদাও অন্তর্ভুক্ত হয়।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৯৫ থ্রিস্টাব্দে এই বিদ্যালয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ঐ বছরই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবার গৌরব অর্জন করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রশিদ উদ্দিন জাহিদ।[২]

উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

অন্যান্য[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ের দিবা শাখার ক্লাস সমাপ্ত হয়ে গেলে সন্ধ্যায় বিদ্যালয়টি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত 'বাংলাদেশ ল'কলেজ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রতি বছর একবার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বি.এড. প্রোগ্রামের ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। তখন বি.এড. পরীক্ষার্থীগণ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ক্লাসচলাকালীন সময়ে পাঠদান করে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে থাকেন; এসময় বিদ্যালয়ের রুটিনবদ্ধ শিক্ষক ক্লাস থেকে অব্যাহতি নিয়ে তা উক্ত পরীক্ষার্থীর অধীনে রেখে যান। পাঠ চলাকালীন একজন পরীক্ষক শিক্ষার্থীদের পিছনে বসে উক্ত পরীক্ষার্থী-শিক্ষকের পাঠদান মূল্যায়ন করেন। এছাড়া বিদ্যালয় অডিটরিয়ামটি মতিঝিল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ও তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যবহার করে থাকে। বিদ্যালয়ের ভিতরের দিকে বালিকা বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগের একটি অন্তর্বর্তি যাতায়াত পথ রয়েছে, যা প্রয়োজন ছাড়া তালাবদ্ধ থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে, বিশেষ করে দির্ঘস্থায়ী বন্যার সময় বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোতে সরকারিভাবে দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দেখভাল করেন। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন প্রয়োজনেও (জানাযার নামায আদায় ইত্যাদি) স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসন বিদ্যালয়ের বড় মাঠটি ব্যবহার করে থাকেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রাজধানীর সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু আজ, যায়যায়দিন রিপোর্ট, প্রকাশকাল: [অনুল্লেখিত; সংগ্রহের তারিখ: ১৬ জানুয়ারি ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  2. সনদ, বার্ষিকী'৯৭, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা থেকে প্রকাশিত, পৃ. ১৮-১৯; সংগ্রহের তারিখ: জানুয়ারি ১৪, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  3. ক্যাম্পাস : ষষ্ঠ স্টামফোর্ড ন্যাশনাল ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপের জমজমাট সমাপনী, লেখাপড়া পাতা, দৈনিক সমকাল; প্রকাশকাল: ১৩ জানুয়ারি ২০১২, সংগ্রহের তারিখ: ১৬ জানুয়ারি ২০১২।
  4. "[১]"।
  • বার্ষিকী'১১(প্রসূন), মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা; প্রকাশকাল: ২০১১ খ্রিস্টাব্দ; সংগ্রহের তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০১২।
  • বার্ষিকী'৯৯, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা; প্রকাশকাল: ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৪০৬ বঙ্গাব্দ); সংগ্রহের তারিখ: ১৪ জানুয়ারি ২০১২।
  • বার্ষিকী'৯৭, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা; প্রকাশকাল: ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪০৪ বঙ্গাব্দ); সংগ্রহের তারিখ: ১৪ জানুয়ারি ২০১২।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]