আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের লোগো.svg
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোগ্রাম
অবস্থান
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরনবেসরকারি
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৬৫
বিদ্যালয় জেলাঢাকা
বিদ্যালয় কোড১০৮২৭৭
অধ্যক্ষড. শাহান আরা বেগম
শ্রেণী১ম থেকে ১২শ
তালিকাভুক্তি১৯৭৩
ক্যাম্পাসের ধরনশহরে অবস্থিত
অ্যাথলেটিক্সক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি ইত্যাদি
মাস্কটবইয়ের সঙ্গে আলোকিত মোমবাতি এবং পাতার ঝাড়
তথ্য+৮৮০২৯৩৩০১৭৭
শিক্ষা বোর্ডঢাকা
শাখা সংখ্যা
বার্ষিক ম্যাগাজিনপ্রত্যাশা
ওয়েবসাইট

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকা শহরে অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি আইডিয়াল হাই স্কুল (স্কুলটির পূর্ব নাম) বা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল নামেও পরিচিত। ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি মতিঝিলে তার যাত্রা শুরু করে। মূলত তখন এটি তৎকালীন সিজিএস কলোনি (যা বর্তমানে এজিবি কলোনি নামে পরিচিত) এর নিবাসীদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তৈরি হয়। বর্তমানে এর তিনটি মাধ্যমিক শাখা ও একটি উচ্চমাধ্যমিক শাখা (বালিকা) রয়েছে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূল শাখা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

বর্তমানে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যেখানে অবস্থিত অতীতে সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এজিবি কলোনীর (তৎকালীন সিজিএস কলোনি) কর্মচারীদের ক্যান্টিন ছিল। ১৯৬৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার মতিঝিলে একটি টিনশেড বেড়ার ঘরে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৬৮ সালে জুনিয়র স্কুল এবং ১৯৭২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলে উন্নীত হয়৷ ১৯৭৩ সালে স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে৷ মতিঝিল ক্যাম্পাসের ১ একর ১৮ শতাংশ জমি ১৯৮০ সালে তত্‍কালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ করেন৷[১]

কলেজ প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

১৯৯০-৯১ শিক্ষা বছরে সরকারের নির্দেশে মতিঝিল ক্যাম্পাসে স্কুল ভবনের পূর্বদিকে ছাত্রীদের জন্য কলেজ শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ ১৯৯০ সালে কলেজ ভবন ও ২০০৪ সালে একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।[২]

ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি এর মতিঝিল ক্যাম্পাসে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে ইংলিশ ভার্সনের কার্যক্রম শুরু করে৷ এরপর ২০০৫ সালে ইংরেজি ভার্সনে ১ম শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়৷ ২০০৬ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার নিজস্ব অর্থায়নে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে৷ এ জমির ওপর ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা ভিত বিশিষ্ট ইংলিশ ভার্সনের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়৷[২]

বনশ্রী শাখা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালে খিলগাঁও (বর্তমানে রামপুরা) থানার বনশ্রী আবাসিক প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে ৬ বিঘা জমি ক্রয় করে সেমিপাকা ভবনে ১ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭০২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বনশ্রী শাখা আত্মপ্রকাশ করে৷ অতঃপর পর্যায়ক্রমে এ শাখা ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়৷ ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং প্রস্তাবিত এ ভবনটি সর্বোচ্চ ৬ তলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে স্থপতি সংসদ লি: কনস্ট্রাকশন ফার্মের তত্ত্বাবধানে ৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে নবনির্মিত এ ভবনটির উদ্বোধন করা হয়৷ ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে শাখাটির কার্যক্রম এ নতুন ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে৷ [২]

বনশ্রী শাখায় ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

২০১২ সালে বনশ্রী ক্যাম্পাসে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনশত ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে খোলা হয়েছে ইলিশ ভার্সন। সরকারি এবং প্রতিষ্ঠানের যৌথ অর্থায়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সালে ১০তলা ভিত বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এ ভবনেই ইংরেজি ভার্সনের ক্লাস হয়।[২]

মুগদা শাখা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি এর নিজস্ব অর্থায়নে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুগদা শাখার নামে ১ একর জমি বরাদ্দ নেয়। ২০১১ সালের ২ মার্চ থেকে সেখানে সেমি পাকা ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১১ সালের ৮ জুন তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটির নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মুগদা শাখা উদ্বোধন করেন।[১]

শাখা সমূহ[সম্পাদনা]

কলেজ[সম্পাদনা]

কলেজ শাখা ২টি ভবন নিয়ে গঠিত: ৫ তলা বিশিষ্ট কলেজ ভবন ও ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন। বর্তমানে কলেজে প্রায় ২৪০০ জন ছাত্রী রয়েছে।[২]

মতিঝিল শাখা (বাংলা ভার্সন)[সম্পাদনা]

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

মতিঝিল শাখার স্কুল ভবনটি ৫ তলা বিশিষ্ট। এর নিচ তলায় রয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, পৃথক শিক্ষক ও শিক্ষিকা মিলনায়তন, স্টেশনারি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও অফিস। এর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বর্ধিতাংশের নিচ তলায় রয়েছে অধ্যক্ষের কার্যালয় ও ক্যান্টিন; দোতলায় নামাজের ঘর ও পাঠাগার এবং তিনতলায় আছে কম্পিউটার ল্যাব। আর স্কুল অডিটোরিয়ামটি স্কুল ভবনের দোতলায় অবস্থিত।

বিজ্ঞান ভবনে রয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান ও রসায়ন ল্যাব। এছাড়াও নিচতলায় রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র। ভবনগুলোর মাঝে রয়েছে মাঠ যা বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও ব্যবহার করে।

মতিঝিল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক (২০০৯ সাল)

মতিঝিল ক্যাম্পাসে মোট জমির পরিমাণ ১ একর ২৬ শতাংশ (কলেজ ও ইংরেজি মাধ্যম সহ)। প্রতিটি তলার ক্ষেত্রফল প্রায় ২০,০০০ বর্গফুট। মহান ভাষা সৈনিকদের স্মরণে ২০০৯ সালে এ ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আদলে একটি শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছে।

বর্তমানে এ শাখায় প্রায় ৭৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে।

শাখা প্রধান[সম্পাদনা]

প্রভাতী শাখা : মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
দিবা শাখা : মোঃ আব্দুস ছালাম খান

মতিঝিল শাখা (ইংরেজি ভার্সন)[সম্পাদনা]

ইংরেজি ভার্সনে (১২তলা ভিতবিশিষ্ট) একটি ৭তলা ভবন নির্মাণ রয়েছে। প্রতিটি তলার ক্ষেত্রফল প্রায় ৭০০০ বর্গফুট। এ শাখায় বর্তমানে প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে।[২]

বনশ্রী শাখা (বাংলা ভার্সন)[সম্পাদনা]

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

এ শাখায় একটি ৪ তলা ভবন রয়েছে। এ ভবনের প্রতি তলার ক্ষেত্রফল ১৪,৫০০ বর্গফুট। এর পেছনে আছে স্কুল মাঠ এবং একটি টিনশেড ভবন। এখানে স্কুল ক্যান্টিন অবস্থিত। ২০১৭ সালে বনশ্রী শাখায় শহিদ মিনার নির্মিত হয়। বর্তমানে এ শাখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০০০ জন।

শাখা প্রধান[সম্পাদনা]

প্রভাতী শাখা : মুহাম্মদ রুকুন-উজ-জামান রতন
দিবা শাখা : মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন

বনশ্রী শাখা (ইংরেজি ভার্সন)[সম্পাদনা]

ইংরেজি মাধ্যমের জন্য বনশ্রী ক্যাম্পাসে একটি ৫ তলা ভবন রয়েছে। বর্তমানে এ শাখায় প্রায় ১৮৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

মুগদা শাখা[সম্পাদনা]

শুরুতে টিনশেড ভবনে ক্লাস হলেও বর্তমানে মুগদা শাখায় একটি ৫ তলা ভবন (৮ তলা ভিত বিশিষ্ট) রয়েছে। এ শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৬০০ জন।[২]

শাখা প্রধান[সম্পাদনা]

প্রভাতী শাখা : বাবু কাজল কান্তি বড়ুয়া
দিবা শাখা : মোঃ সফিকুল আলম

প্রশাসন[সম্পাদনা]

পরিচালনা পর্ষদ[সম্পাদনা]

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির বর্তমান সদস্যবৃন্দ:[৩]

পদ নাম
সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান
সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম
দাতা সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার
সদস্য (কলেজ) জাহিদুল ইসলাম টিপু
সদস্য (কলেজ) মোঃ মুজিবুর রহমান
সদস্য (মাধ্যমিক) মোঃ আব্দুর রব মিঁয়া
সদস্য (মাধ্যমিক) মোঃ সোহেল আহমেদ সিদ্দিকী
সদস্য (প্রাথমিক) মোহাম্মদ আলী
সদস্য আজিজা বেগম
শিক্ষক প্রতিনিধি (কলেজ) মুনিরজাদী কাফিয়া আলম
শিক্ষক প্রতিনিধি (স্কুল) মোঃ গোলাম মোস্তাফা
শিক্ষক প্রতিনিধি (স্কুল) মাকসুদা আকতার
সদস্য সচিব ও অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম

শিক্ষক ও কর্মচারী[সম্পাদনা]

স্কুল ও কলেজ শাখা মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৫৯২ জন শিক্ষক, ১৯ জন তৃতীয় শ্রেণি এবং ১৫১ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আছে। এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন ডাক্তার ও তিনজন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।[২]

প্রাক্তন অধ্যক্ষবৃন্দ[সম্পাদনা]

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন:[৪]

নাম শুরু শেষ
মোঃ ফয়জুর রহমান (প্রধান শিক্ষক হিসেবে) ২৩/০৬/১৯৭০ ৩১/১২/১৯৯০
মোঃ ফয়জুর রহমান (অধ্যক্ষ হিসেবে) ০১/০১/১৯৯১ ৩০/১১/১৯৯৭
রওনক জাহান ০১/১২/১৯৯৭ ০২/১২/১৯৯৭
মিজানুর রহমান ০৩/১২/১৯৯৭ ২২/১২/১৯৯৭
রওনক জাহান ২৩/১২/১৯৯৭ ২৩/১২/২০০০
মিজানুর রহমান ২১/১২/২০০০ ২০/০১/২০০১
মোঃ এ.কে. নেওয়াজ ২১/০১/২০০১ ১৮/০২/২০০৩

শ্রেণি কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বার্ষিক অনুষ্ঠানাদি[সম্পাদনা]

বই উৎসব[সম্পাদনা]

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল শাখায় ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ উৎসব পালন করা হয়। এদিন ১ম থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন পাঠ্য বই বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়।[৫]

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

প্রতি বছর আইডিয়াল স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে সাধারণত দৌড়, দীর্ঘ লাফ, মোরগ লড়াই, বস্তা দৌড়, ধীরে সাইকেল চালানো ইত্যাদি ইভেন্ট থাকে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সময় অন্তঃশ্রেণি ফুটবল, হ্যান্ডবলক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে।

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বাংলা ও ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, ছড়া গান, রবীন্দ্র সঙ্গীতনজরুল সঙ্গীত ইত্যাদি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

এ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির সাংবৎসরিক ভাল ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি গণিত, বাংলা, ইংরেজি বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তি, সর্বোচ্চ উপস্থিতি, বাংলা-ইংরেজি সুন্দর হাতের লেখা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, ছড়া গান, রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা, রচনা প্রতিযোগীতা ও শ্রেষ্ঠ স্কাউট ইত্যাদি বিষয়ে পুরস্কৃত করা হয়।[১]

মিলাদ মাহফিল[সম্পাদনা]

ঈদে মিলাদুন্নবী(স) উৎযাপন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে কিরাত, আযান, হামদ্, নাত, আরবি হস্তাক্ষর, উত্তম আখলাক সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদ মাহফিলের দিন ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দুয়া করা হয়।

নবীন বরণ[সম্পাদনা]

কলেজ শাখায় নবাগত ছাত্রীদের বরণ করে নিতে নবীন বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বিদায় অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

এসএসসিএইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন[সম্পাদনা]

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিভিন্ন জাতীয় দিবসসমূহ যেমন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও পহেলা বৈশাখ বর্ষ বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।[২]

ক্লাব কার্যক্রম[সম্পাদনা]

আইডিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এইমিং রিসার্চ কাউন্সিল (ISTARC)[সম্পাদনা]

"ধ্বংস নয়, সৃষ্টিতে বিজ্ঞান" এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি আইডিয়াল সায়েন্স ক্লাব গঠিত হয়। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় আইডিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এইমিং রিসার্চ কাউন্সিল সংক্ষেপে ISTARC । ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর ছিলেন মোঃ মোতাহের হোসেন। ২০০৩ সালে ক্লাবটি প্রথমবারের মতো আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান উৎসব এর আয়োজন করে। এরপর ২০০৬ ও ২০০৭ সালে বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন করা হয়।

২০০৭ সালে ক্লাবটির ২য় মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাবু কাজল কান্তি বড়ুয়া। এরপর ৩ বছর বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১১ সালে ৪র্থ ইন্টার স্কুল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়।

২০১২ সালে বাবু কাজল কান্তি বড়ুয়া মুগদা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে ক্লাবটির মডারেটরের দায়িত্ব নেন মোফাজ্জল হোসেন। এ বছর ক্লাবটির নতুন লোগো (বর্তমান লোগো) চালু করা হয়। এছাড়াও সে বছরই প্রতিষ্ঠানের বনশ্রী শাখায় ক্লাবটির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে যথারীতি ইন্টার স্কুল সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হয়।

২০১৫ সালে এ ক্লাবটির ৪র্থ মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুবাস চন্দ্র পোদ্দার। তিনিই অদ্যাবধি ক্লাবটির দায়িত্ব পালন করছেন।[৬] এ ক্লাবটি মিলসেট এশিয়ার অন্যতম সদস্য।[৭]

কার্যক্রম[সম্পাদনা]

ক্লাবটি প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান উৎসবেও ক্লাবটির সদস্যরা অংশ গ্রহণ করে। তবে ক্লাবটির সবচেয়ে বড় আয়োজন হল ইন্টার স্কুল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফেস্টিভ্যাল।[৮]

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

ক্লাবটির বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রিজম

আইডিয়াল ডিবেটিং ক্লাব (IDC)[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালের ৩ এপ্রিল আইডিয়াল ডিবেটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই স্কুলটিতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সহশিক্ষামূলক ক্লাব। ক্লাবটি প্রায়ই সদস্য বিতার্কিকদের জন্য বারোয়ারি বিতর্ক ও অন্তঃশ্রেণি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে। এছাড়াও ক্লাবটি প্রতি বছর ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল নামক বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করে।[৯][১০] ক্লাবটির প্রতি বছর অরিত্র নামক ম্যাগাজিন প্রকাশ করে।

আইডিয়াল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব (IELC)[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আইডিয়াল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব আত্মপ্রকাশ করে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা মডারেটর ছিলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোকসেদুল ইসলাম। ক্লাবটিতে বর্তমানে ১৯৬১ জন সদস্য রয়েছে।[১১]

আইইএলসি প্রতি বছর ন্যাশনাল ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজ কার্নিভাল আয়োজন করে। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।[১২] এরপর ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও যথারীতি এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও ক্লাবটি প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মশালা ও অন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

ক্লাবটির বার্ষিক ম্যাগাজিন অস্পিস (Auspice)

আইডিয়াল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IAIT)[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর আইডিয়াল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IAIT) যাত্রা শুরু করে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ফিদা হোসেন ক্লাবটির মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লাবটি এর সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ক্লাবটি প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল আইটি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে।[১৩][১৪]

আইডিয়াল ক্লাব অফ বিজনেস রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টারপ্রেনার ডেভেলপমেন্ট (ICBRID)[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আইডিয়াল ক্লাব অফ বিজনেস রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টারপ্রেনার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক নবী হোসেন ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বি.এন.সি.সি[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালে এ প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসি দল গঠিত হয়। এটি বি.এন.সি.সি ৪ রমনা ব্যাটেলিয়ানের আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুন। বাংলাদেশের বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে এখানেই প্রথম বি.এন.সি.সি প্লাটুন খোলা হয়েছে।

২০১৭ সালে অত্র প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির একটি ব্যান্ড দল অনুমোদন পায়। প্রতি বছর বিএনসিসির ক্যাডেটবৃন্দকে দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।[২]

স্কাউট[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ স্কাউট, ঢাকা মেট্রোপলিটন এর ২৭নং দল হচ্ছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপ।[১৫] এখানে ৩টি কাব দল, ৩টি স্কাউট দশ, ২টি গার্ল ইন কাব দল, ২টি গার্ল ইন স্কাউট দল এবং ১টি গার্ল ইন রোভার স্কাউট দল আছে। অত্র প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন বেসিক কোর্স সম্পন্ন এডাল্ট লিডার আছে, তন্মধ্যে ১৫ জন দলের সাথে যুক্ত। প্রতি বছরই এ প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্কাউট প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড ও শাপলা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে থাকে।

কার্যক্রম[সম্পাদনা]

স্কাউটের কার্যক্রমের অংশ হিসাবে দক্ষতা যাচাইয়ে প্রতিবছর জন্য নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্ম এবং শীতকালীন তাঁবু বাস অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে ১ দিনের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্কাউট সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

এ প্রতিষ্ঠানের স্কাউটবৃন্দ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, হল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, ইউকে, শ্রীলংকা, ইত্যাদি দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জাম্বুরিতে অংশ গ্রহণ করেছে।

রেড ক্রিসেন্ট[সম্পাদনা]

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানের স্কুল ও কলেজ উভয় শাখায়ই রেডক্রিসেন্ট দল চালু হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। প্রতি বছর নতুনভাবে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী সদর দপ্তরের প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। সকল জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসে অত্র প্রতিষ্ঠানের রেডক্রিসেন্টের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে।

অন্যান্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব ফুটবল[১৬], ক্রিকেট, হ্যান্ডবল[১৭], কাবাডি[১৮] ইত্যাদি দল রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিনি হ্যান্ডবল[১৯], স্কুল কাবাডি[২০], ভুইয়া ভাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট, ইন্টার স্কুল সিক্স-এ-সাইড[২১], ঢাকা মহানগর স্কুল মাদ্রাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা দাবা[২২][২৩] সহ বিভিন্ন ইনডোর খেলায়ও অংশগ্রহণ করে।

শিক্ষা সফর[সম্পাদনা]

স্কুল পর্যায়ে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতি বছর শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর প্রত্যাশা নামক ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা স্থান পায়। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, বোর্ড পরীক্ষাগুলোর ফলাফল, শিক্ষক ও কর্মচারীদের তালিকা এবং বার্ষিক অনুষ্ঠানাদির সচিত্র প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ত্রান ও পুনর্বাসন কার্যক্রম[সম্পাদনা]

ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ত্রান তহবিলে নিয়মিত হারে চাঁদা দিয়ে থাকেন।তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, যুদ্ধসহ বা নানা কারনে বিপন্ন মানুষের সাহায্যার্থে তারাই বরাবর এগিয়ে আসেন।১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার কারণে দুর্গত মানুষদের এ প্রতিষ্ঠান কেবল আশ্রয়ই দেয় নি, বেঁচে থাকার জন্য ত্রান সাহায্যও দিয়েছে।মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার ঘুর্নিঝড় উপদ্রুত মানুষের মাঝে নিজস্ব সংগ্রহ থেকে প্রায় ৬৫ মণ চাল, ১২ হাজার পিস পুরাতন ও নতুন কাপড়, হাজার পিস বিভিন্ন রকমের ছোট বড় পাত্র এবং নগদ টাকা প্রদান করা হয়। বিগত ১৯৯৩ সালের বিধ্বস্ত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এর বিপন্ন মানুষের মধ্যে ১,৩০,০০০/- টাকার সাহায্যে বিতরণ করা হয়। বসনিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলমানদের সাহায্যে ' বসনিয়া মুসলিম সলিডারিটি ফান্ড '- এ বিগত ২২-১০-১৯৯৫ তারিখে ১,৭৫,৫০০/- টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় অসহায় ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান সাহায্য করছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এ প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট কৃতিত্ব রয়েছে। ২০১৫ সালের নেপালের ভুমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ পাঁচলাখ টাকা সাহায্য পাঠিয়েছে। বাংলাদেশে ইউনেস্কো সদস্যভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকায় এ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান শীর্ষে।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

শিক্ষার বিস্তারে এ প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি[২৪], শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি[২৫] এমনকি সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়মের[২৬] অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।[২৭][২৮][২৯][৩০] এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামোতে শিক্ষক ও কর্মচারী ছাড়া আর কোনো পদ না থাকলেও স্কুলটিতে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।[৩১] এছাড়া স্কুলটির একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে হয়রানি[৩২][৩৩], দুর্নীতি ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির[৩৪] অভিযোগে উঠেছিল। আর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগও বেশ পুরাতন।[৩৫][৩৬] তবে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই এসব অভিযোগকে 'ভুয়া' এবং 'প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র' অভিহিত করে আসছে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০ (সংক্ষিপ্ত পরিচিতি)"। প্রত্যাশা। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০১৪। 
  2. "প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস"আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ 
  3. "গভর্নিং বডির মাননীয় সদস্যবৃন্দ"আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ 
  4. "প্রাক্তন অধ্যক্ষগণ"আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ 
  5. "নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা শিশুরা"print.thesangbad.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  6. "১৫ বছরের পথচলা"। প্রিজম। আইডিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এইমিং রিসার্চ কাউন্সিল। ২০১৬। 
  7. "About | ISTARC" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  8. "আইডিয়ালে বিজ্ঞান মেলা | কালের কণ্ঠ"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৩০ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৫ 
  9. "আইডিসি জাতীয় বিতর্ক উৎসব আজ শুরু"Daily Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  10. "শেষ হলো প্রথম আলো-আইডিসি ৭ম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা"www.prothom-alo.com। ২০১০-০৯-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  11. "Ideal English Language Club"www.idealenglishlanguageclub.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  12. "English Language Carnival held at Ideal School and College"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৮-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-২৩ 
  13. "অভিনব এক বিজ্ঞান মেলায়"দৈনিক প্রথম আলো। ২৭ এপ্রিল ২০১৯। 
  14. "শুরু হল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক নিবেদিত আইটি ফেস্টিভ্যাল"Rtv online। ২৭ এপ্রিল ২০১৯। 
  15. "স্কাউটস ইউনিটের বিস্তারিত তথ্য: ২৭ তম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ স্কাউট দল,মতিঝিল শাখা"বাংলাদেশ স্কাউটস 
  16. "ইস্পি ইন্টার-স্কুল সিক্স-এ সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট"দৈনিক আমাদের সময়। ৮ এপ্রিল ২০১৯। 
  17. "স্কুল মিনি হ্যান্ডবল শুরু"দৈনিক ইত্তেফাক। ৩ এপ্রিল ২০১৯। 
  18. "জাতীয় স্কুল কাবাডি"banglanews24.com। ২০ অক্টোবর ২০১১। 
  19. "মিনি হ্যান্ডবলে সানিডেল চ্যাম্পিয়ন"দৈনিক ইত্তেফাক। ০৮ এপ্রিল ২০১৯।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  20. "স্কুল কাবাডির চূড়ান্ত পর্বে ১৬ দল"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮। 
  21. "ইন্টার-স্কুল সিক্স-এ-সাইডের ফাইনাল আজ"দৈনিক সমকাল। ২৮ এপ্রিল ২০১৬। 
  22. "ওয়ালটনের সহায়তায় স্কুল দাবা প্রতিযোগিতা"। ২২ আগস্ট ২০১৫। 
  23. "অন্যান্য > স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড স্কুল দাবা"দৈনিক কালের কণ্ঠ 
  24. "আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি অনিয়ম ১৯৮১ শিক্ষার্থী অতিরিক্ত"দৈনিক সমকাল। ১৭ নভেম্বর ২০১৬। 
  25. "আইডিয়াল স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অভিভাবক ফোরামের"দৈনিক সমকাল। ১২ মার্চ ২০১৮। 
  26. "ফের বিতর্কে মতিঝিল আইডিয়াল"দৈনিক যুগান্তর। ০৮ নভেম্বর ২০১৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  27. "জালিয়াতি: মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অধ্যক্ষের বেতন বন্ধের নির্দেশ"সমকাল (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৬ 
  28. "আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষের বেতন বন্ধের উদ্যোগ"দৈনিক যুগান্তর। ১৫ মে ২০১৯। 
  29. "মতিঝিল আইডিয়ালে ভর্তি কেলেঙ্কারি"দৈনিক ভোরের কাগজ। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮। 
  30. "উত্তরপত্রে ঘষামাজা: দ্বিতীয় তদন্তে অভিযুক্ত মতিঝিল আইডিয়ালের অধ্যক্ষ"বাংলা ট্রিবিউন। ৬ মার্চ ২০১৯। 
  31. "মতিঝিল আইডিয়ালের ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের হোতা 'ইঞ্জিনিয়ার আতিক'"পূর্ব-পশ্চিম বিডি। ১৯ অক্টোবর ২০১৯। 
  32. "আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ : ইংরেজি শিক্ষকের উত্ত্যক্তের শিকার নারী সহকর্মী!"দৈনিক ভোরের কাগজ। ১৪ জুলাই ২০১৯। 
  33. "এবার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ"আওয়াজ বিডি। ১৪ জুলাই ২০১৯। 
  34. "জনাব মো: আ: ছালাম খান এর সকল সার্টিফিকেট ও নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা" (PDF)শিক্ষা মন্ত্রণালয় 
  35. "অবশেষে কোচিংবাজ ৭২ শিক্ষককে শোকজ"দৈনিক যুগান্তর। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। 
  36. "আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ১২৮ শিক্ষকের তালিকা দিয়েছেন অধ্যক্ষ"দৈনিক সমকাল। ৬ জুলাই ২০১৭। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্লাবগুলোর ওয়েবসাইট[সম্পাদনা]