আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের লোগো.svg
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোগ্রাম
অবস্থান
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ এবং বনশ্রী,রামপুরা-১২১৯
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরন৯০% সরকারি
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৬৫
বিদ্যালয় জেলাঢাকা
অধ্যক্ষড. শাহান আরা বেগম
বিদ্যালয়ের প্রধানমোঃ মোফাজ্জল হোসেন (মতিঝিল-প্রভাতি)
মোঃ আব্দুস সালাম খান (মতিঝিল-দিবা)
মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (বনশ্রী-দিবা)
কর্মকর্তা১৭৫০+ শিক্ষক, ১০০০+ কর্মী
অনুষদ৩০০
শ্রেণী১ম থেকে ১২শ
তালিকাভুক্তি১৯৭৩
শিক্ষার্থী সংখ্যা১৮০০০+
ক্যাম্পাসের আকার২ একর
ক্যাম্পাসের ধরনশহরে অবস্থিত
অ্যাথলেটিক্সহ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন, স্প্রিন্ট ও দেশীয় বিভিন্ন খেলাসমূহ
মাস্কটবইয়ের সঙ্গে আলোকিত মোমবাতি এবং পাতার ঝাড়
তথ্য+৮৮০২৯৩৩০১৭৭
শিক্ষা বোর্ডঢাকা
শাখা সংখ্যা
বার্ষিক ম্যাগাজিনপ্রত্যাশা
ওয়েবসাইট

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (আইডিয়াল হাই স্কুল বা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল নামেও পরিচিত) ঢাকা শহরের মতিঝিলে , রামপুরা অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি তার যাত্রা শুরু করে। মূলত তখন এটি তৎকালীন সিজিএস কলোনি (যা বর্তমানে এজিবি কলোনি নামে পরিচিত) এর নিবাসীদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তৈরি হয়। বর্তমানে এর তিনটি মাধ্যমিক শাখা ও একটি উচ্চমাধ্যমিক শাখা (বালিকা) রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূল শাখা প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার মতিঝিলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ও ১৯৬৮ সালে জুনিয়র স্কুল এবং ১৯৭২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলে উন্নীত হয়৷ ১৯৭৩ সালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়৷ পরবর্তীকালে ১৯৯০-৯১ শিক্ষা বছরে সরকারের নির্দেশে মতিঝিল ক্যাম্পাসে স্কুল ভবনের পূর্বদিকে ছাত্রীদের জন্য কলেজ শাখা চালু করা হয়৷ মতিঝিল ক্যাম্পাসের ১ একর ১৮ শতাংশ জমি ১৯৮০ সালে তত্‍কালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ করেন৷ মহান ভাষা সৈনিকদের স্মরণে ২০০৯ সালে গভর্নিং বডির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল ক্যাম্পাসে নির্মিত হয়েছে শহিদ মিনার এবং ২০১৭ সালে বনশ্রী শাখায় নির্মিত হয় আরও একটি শহিদ মিনার।

ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে মতিঝিল ক্যাম্পাসে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে ইংলিশ ভার্সন চালু হয়৷ ২০০৫ সালে ইংরেজি মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি এবং পর্যায়ক্রমে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়৷ ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর কাছ থেকে স্কুল বিল্ডিং সংলগ্ন ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়৷ উক্ত জমির ওপর ২০০৯ সালে নতুন গভর্নিং বডি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে বার তলা ভিতবিশিষ্ট ইংলিশ ভার্সনের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়৷

বনশ্রী ব্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালে খিলগাঁও (বর্তমানে রামপুরা) থানার বনশ্রী আবাসিক প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে ছয় বিঘা জমি ক্রয় করে সেমিপাকা ভবনে ১ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭০২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বনশ্রী ব্রাঞ্চ যাত্রা শুর করে৷ অতঃপর পর্যায়ক্রমে এ ব্রাঞ্চ ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়৷ পরবর্তীকালে গভর্নিং বডি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক বহুতল বিশিষ্ট ইমারত নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে৷ ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং প্রস্তাবিত এ ভবনটি সর্বোচ্চ ৬ তলা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ বর্তমানে চার তলা বিশিষ্ট এ স্কুল ভবনের প্রতি তলার ক্ষেত্রফল ১৪,৫০০ বর্গফুট৷ ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে নবনির্মিত এ ভবনের উদ্বোধন করা হয়৷ ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম এ নতুন ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে৷ ২০১২ সালে নির্বাচিত গভর্নিং বডি দায়িত্ব গ্রহণের পর বনশ্রী ক্যাম্পাসে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনশত ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে খোলা হয়েছে নতুন ইংলিশ ভার্সন শাখা৷ এই শাখার জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ শুরু হয় যা বর্তমানে (2018) 4 তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ।

মুগদা ব্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-৮) জনাব রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন গভর্নিং বডি গঠিত হয়৷ এ সময় খিলগাঁও-সবুজবাগ এলাকায় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীর চাহিদা মেটাতে সবুজবাগ থানার মুগদায় প্রতিষ্ঠানের একটি ব্রাঞ্চ খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়৷ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি-এর নেতৃত্বে গভর্নিং বডির সকল সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঢাকা-৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বিক সহযোগিতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুগদা ব্রাঞ্চের জন্য এক একর জমি বরাদ্দ করেন এবং সেখানে সেমিপাকা ভবন নির্মাণ করা হয়৷ ২০১১ সালের ২ মার্চ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৫৭ জন ছাত্র- ছাত্রী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়৷ ২০১১ সালে ৮ জুন তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং একই দিনে এ ব্রাঞ্চটির আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন৷

অন্যান্য কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বি.এন.সি.সি[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালে এ প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসি দল গঠিত হয়। এটি বি.এন.সি.সি ৪ রমনা ব্যাটেলিয়ানের আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুন। বাংলাদেশের বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে এখানেই প্রথম বি.এন.সি.সি প্লাটুন খোলা হয়েছে।

স্কাউট[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ স্কাউট, ঢাকা মেট্রোপলিটন এর ২৭নং দল হচ্ছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপ। এখানে ৩টি কাব দল, ৩টি স্কাউট দশ, ২টি গার্ল ইন কাব দল ও ২টি গার্ল ইন স্কাউট দল আছে।

ক্লাব কার্যক্রম[সম্পাদনা]

অত্র প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে 'আইডিয়াল ডিবেটিং ক্লাব' Ideal Debating Club (IDC) নামে একটি বিতর্ক সংঘ৷এই ক্লাবটি ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়।এই ক্লাব এ স্কুলের সবচেয়ে পুরনো ক্লাব। বর্তমানে এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় দেড়শ৷ ক্লাবটি ছাত্র-ছাত্রীদের বিতর্ক সংক্রান্ত মান মনিটরিং করে৷ আইডিয়াল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব Ideal English Language Club (IELC) ধদজদজদজদজদজদফজফক গঠিত হয়েছে। ২০০১ সালে 'ধ্বংস নয়, সৃষ্টিতে বিজ্ঞান', এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় Ideal Science Club (ISC) ৷ ক্লাবের কার্যক্রমের ব্যাপকতার প্রেক্ষিতে এর নামকরণ করা হয়েছে Ideal Science and Technology Aiming Research Council (ISTARC)৷ ISTARC-এর সদস্যরা ইতোমধ্যে নটরডেম কলেজে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় পাঁচ বার, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে চার বার এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজ্ঞান মেলায় দুবার অংশ গ্রহণ করে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে৷ উল্লেখ্য, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে ISTARC -এর সদস্যরা চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে গৌরব অর্জন করে৷৷ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েও ISTARC -এর সদস্যরা চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে বহুবার গৌরব অর্জন করেছে, এখনো করছে।৷ ২০০৩, ২০০৫, ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে ISTARC কর্তৃক আয়োজিত যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বিজ্ঞান মেলায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে সুধীমহলের নজর কাড়ে৷ এখন থেকে প্রতিবছর এই বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]