বিষয়বস্তুতে চলুন

তেজগাঁও কলেজ

স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৫′২৭″ উত্তর ৯০°২৩′১৮″ পূর্ব / ২৩.৭৫৭৫০° উত্তর ৯০.৩৮৮৩৩° পূর্ব
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তেজগাঁও কলেজ
কলেজ লোগো
নীতিবাক্যBe Honest Be Successful
স্থাপিত১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ
প্রাতিষ্ঠানিক অধিভুক্তি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ইআইআইএন১০৮৫৩৩ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
অধ্যক্ষশামীমা ইয়াসমিন (ভারপ্রাপ্ত)
শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিবর্গ
৪৫০+
অবস্থান,
শিক্ষাঙ্গন১৬ ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট, ঢাকা
ওয়েবসাইটtejgaoncollege.edu.bd
মানচিত্র

তেজগাঁও কলেজ বাংলাদেশের ঢাকায় ফার্মগেটে অবস্থিত একটি বেসরকারি কলেজ। এটিই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি কলেজ। উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা পরিচালনায় কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে জনাব অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দিন আহমদ নিরলস কর্মচেষ্টায় ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ইসলামিয়া হাই স্কুলে ঢাকা নাইট কলেজ নামে সর্বপ্রথম এই কলেজের যাত্রা শুরু। এর পর জনাব রশিদউদ্দিন কলেজকে আরও শক্তিশালী করতে এগিয়ে আসেন। তখন কলেজটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব মফিজ উদ্দিন আহমদ ও সম্পাদক ছিলেন জনাব শফিকুল ইসলাম।

সমসাময়িক সময়ে কলেজের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল, শিক্ষকরা বিনা বেতনে ক্লাস নিতেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনে কলেজটি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। এখানে ১৮ মাস ক্লাস চলার পর আবার তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুলে স্থানান্তর করা হয়।

এখানে ক্লাস চলে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। নানা প্রতিকূলতায় কলেজকে আবারও স্থানান্তর করা হয় তেজগাঁও শিল্প এলাকার আসাদুল হকের ক্রাউন লন্ড্রিতে। অবশেষে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে কলেজটিকে নিয়ে আসেন ফার্মগেটের বর্তমান আল-রাজী হাসপাতালে। এসময় ‘ঢাকা নাইট কলেজ’ নামটি পাল্টে বর্তমান ‘তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা’ নামটি রাখা হয়।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের পর জনাব তোফায়েল আহমেদ অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। তিনি ছিলেন অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দিন আহমদের শ্যালক। অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ এই কলেজটিকে স্থায়ী একটি নিবাস দিতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা শুরু করেন। তিনি তৎকালীন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের সহযোগিতায় ঢাকার ফার্মগেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজ ও ছাত্রাবাসের জন্য জায়গা ক্রয় করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব ইউসুফ আলী কর্তৃক ১২ই জুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কলেজের নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়।

১৯৯৮ সালে প্রফেসর মোঃ আব্দুর রশীদ অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। নতুন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স চালু করেন। ২০২২ সালে প্রফেসর মোঃ হারুন উর-রশিদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আগস্ট ২০২৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন প্রফেসর শামিমা ইয়াসমিন।

বর্তমানে কলেজটি ফার্মগেটের ১৬ নম্বর ইন্দিরা রোডে সাতটি নিজস্ব ভবন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।[][]

বিবরণ

[সম্পাদনা]
তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মিত শহীদ মিনার

তেজগাঁও কলেজ নিজস্ব একটি আটতলা,তিনটি সাততলা,একটি ছয়তলা ও দুটি চারতলাবিশিষ্ট ভবন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কলেজে সকাল ও বিকালে আলাদা শিফটে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী ছাড়াও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কলেজটিতে ছেলে-মেয়ে উভয়ের শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক বা ইউনিফর্ম রয়েছে, অবশ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর জন্য কোনো নির্ধারিত ইউনিফর্ম নেই।

কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা কমনরুম রয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গনে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। এছাড়া কলেজের একটি ভবনের দোতলায় পূর্ণাঙ্গ একটি জামে মসজিদ রয়েছে। কলেজের নতুন ভবনের নিচতলায় একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম বা মিলনায়তন রয়েছে। যার নামকরন করা হয়েছে প্রিন্সিপাল আবদুর রশীদ অডিটোরিয়াম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীভুক্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে যাচ্ছে।

অনুষদসমূহ

[সম্পাদনা]

তেজগাঁও কলেজে বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন এবং প্রফেশনাল কোর্সের ২৯টি আলাদা আলাদা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা পরিচালনা করে আসছে। এই কলেজের বিভাগসমূহ হলো[]:

এছাড়াও রয়েছে:

  • গার্হস্থ্য অর্থনীতি
  • কম্পিউটার শিক্ষা
  • সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা
  • প্রকৌশল অঙ্কন

গ্রন্থাগার ও পরীক্ষাগার

[সম্পাদনা]

কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সুবিধার্থে তেজগাঁও কলেজে একটি সুপরিসর গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগারটি পালাক্রমে একাধিক গ্রন্থাগারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ানুগ ব্যবহারিক শিক্ষার প্রয়োজনে রয়েছে পরীক্ষাগার।

সহশিক্ষা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে সহশিক্ষা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতে কলেজে বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ডিবেটিং ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট কার্যক্রমও পরিচালিত হয় কলেজে। এছাড়া বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, বনভোজন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা হয়।

শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের সংগঠন "কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল টুরিস্ট ক্লাব" রয়েছে। প্রতি বছর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান উন্নয়ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে থাকে।

উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী

[সম্পাদনা]

প্রকাশনা

[সম্পাদনা]

কলেজ থেকে অনিয়মিতভাবে অর্ণব নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "বিভিন্ন নিবন্ধ"। অর্ণব (তেজগাঁও কলেজ বার্ষিকী)। ঢাকা: তেজগাঁও কলেজ। ২০০৫-২০০৬ খ্রিস্টাব্দ। পৃ. ১৪৪। {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |format= এর জন্য |url= প্রয়োজন (সাহায্য); |তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
  2. আহমেদ, শামীম (১১ জানুয়ারি ২০২২)। "৬০ বছরে তেজগাঁও কলেজ"প্রতিদিনের সংবাদ
  3. অনুষদসমূহ, তেজগাঁও কলেজের ওয়েবসাইট।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]