হীরাবাঈ বরোদাকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হীরাবাঈ বরদাকর
জন্ম নামচম্পাকলি
জন্ম২৯ মে, ১৯০৫
মিরাজ, বোম্বে প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত[১]
মৃত্যু২০ নভেম্বর ১৯৮৯
ধরনখেয়াল, ঠুমরী, গজল, ভজন
পেশাসংগীত শিল্পী
কার্যকাল১৯২০-১৯৮০

হীরাবাঈ বরোদাকর (১৯০৫ – ১৯৮৯) একজন ভারতীয় সংগীত শিল্পী ছিলেন, যিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত গাইতেন। তিনি ওস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খান এর নিকট গানের তালিম নিয়েছিলেন।[২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি জন্মেছিলেন ১৯০৫ সালে। তাঁর পিতার নাম ওস্তাদ আবদুল করিম খান ও মাতার নাম তারাবাঈ মানে। তারাবাঈ মানে ছিলেন দেশীয় রাজ্য বরোদার রাজমাতার ভাইয়ের মেয়ে।

আবদুল করিম খানের কাছে তারাবাঈ মানে গানের তালিম নিতেন। তাঁরা পরষ্পরের প্রেমে পড়েন ও বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, তারাবাঈয়ের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয় নি। অতঃপর, তাঁরা রাজ্য ছেড়ে বোম্বে তে চলে আসেন।

এই দম্পতির দুইটি পুত্রসন্তান ও তিনটি কন্যাসন্তান ছিল। তাঁদের প্রত্যেকেই পরবর্তী জীবনে বিখ্যাত হয়েছেন।

হীরাবাঈ তাঁর ভাই সুরেশবাবু মানের কাছে গানের তালিম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ওস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খানের নিকট গানের তালিম নেন, যিনি তাঁর বাবার সম্পর্কিত ভাই এবং তাঁর চাচা ছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৫ বছর বয়সে, কেসরবাঈ কেরকার এর পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি প্রথমবারের মত দর্শকদের সামনে সংগীত পরিবেশন করেন। হীরাবাঈ বরোদাকর খেয়াল, ঠুমরী, মারাঠি নাট্যসংগীতভজনে সুদক্ষ ছিলেন। তিনি কনসার্টে ভারতীয় নারীদের গান গাওয়ার প্রথা চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী পথিক ছিলেন। তিনি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর কনসার্টে ব্যাপক জমসমাগম হত। তিনি তাঁর ছোট বোন সরস্বতী রানের সাথে প্রায়ই কনসার্টে একত্রে সংগীত পরিবেশন করতেন।[৩]

তিনি গান গাওয়া ছাড়াও কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: সুবর্ণ মন্দির, প্রতিভা, জানাবাঈমিউনিসিপ্যালিটি। তিনি নারীদের জন্য 'নূতন সংগীত বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নারীদের গানের তালিম দেওয়া হত। প্রতিষ্ঠানটি কিছু নাটকও মঞ্চস্থ করেছিল।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে তিনি সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।[৪] ১৯৭০ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রদান করে ভারত সরকার[৫] এছাড়াও তিনি বিষ্ণুদাস ভাভে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

তিনি ভারতীয় সাংস্কৃতিক দলের হয়ে ১৯৫৩ সালে চীনপূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে মুম্বাইয়ে তাঁর শিষ্য ড. প্রভা আত্রে কর্তৃক 'সুরেশবাবু - হীরাবাঈ স্মৃতি সঙ্গীত সমারোহ' নামে একটি সংগীত উৎসব চালু হয়। সংগীত উৎসবটি ভারতের অন্যতম প্রধান সংগীত উৎসব বলে পরিগণিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তিনি মানিকরাও গান্ধী বরোদাকরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসের ২০ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Massey, Reginald & Jamila (১৯৯৬)। The Music of India। Abhinav Publications। পৃষ্ঠা 150। আইএসবিএন 81-7017-332-9 
  2. Sharma, Manorama (২০০৬)। Tradition of Hindustani Music। A.P.H. Publishing Corporation। পৃষ্ঠা 54। আইএসবিএন 81-7648-999-9 
  3. Wade, Bonnie C. (১৯৯৪)। Khyāl: creativity within North India's classical music tradition। Cambridge University Press Archive। পৃষ্ঠা 196। আইএসবিএন 0-521-25659-3 
  4. "Sangeet Natak Akademi - All Awardees"Sangeet Natak Akademi। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১৬ 
  5. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫