মুলাদী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুলাদি উপজেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মুলাদী উপজেলা
উপজেলা
মুলাদী উপজেলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মুলাদী উপজেলা
মুলাদী উপজেলা
বাংলাদেশে মুলাদী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫৪′৫৫″উত্তর ৯০°২৪′৫৪″পূর্ব / ২২.৯১৫৩° উত্তর ৯০.৪১৫০° পূর্ব / 22.9153; 90.4150স্থানাঙ্ক: ২২°৫৪′৫৫″উত্তর ৯০°২৪′৫৪″পূর্ব / ২২.৯১৫৩° উত্তর ৯০.৪১৫০° পূর্ব / 22.9153; 90.4150
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ বরিশাল বিভাগ
জেলা বরিশাল জেলা
আয়তন
 • মোট ২৩৫.৫ কিমি (৯০.৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১,৭৪,৭৭৫
 • ঘনত্ব ৭৪০/কিমি (১৯০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৬%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট muladi.barisal.gov.bd/


মুলাদী বাংলাদেশের বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

মুলাদী ২২.৯১৫৩° উত্তর ৯০.৪১৫০° পূর্ব স্থানাকে অবস্থিত। উত্তরে কালকিনী উপজেলাগোসাইরহাট উপজেলা, পূর্বে হিজলা উপজেলামেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে বরিশাল সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে বাবুগঞ্জ উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুলাদী উপজেলার নামকরণের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে এখানে একটি চর জেগে উঠে এবং সেটাই মূলভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে মূল অর্থ প্রধান আর দ্বীপ মানে ভূমি। সেই থেকেই মুলাদীর নামকরণ হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এছাড়া ধর্ম প্রচার করতে মুলাই খান নামক এক দরবেশ এতদঞ্চলে এসেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় কাজের জন্য এই এলাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন, ধারণা করা হয় মুলাই খানের নামানুসারে এই জনপদের নাম হয়েছে মুলাদী। মুলাদীর ‘দী’ শব্দাংশটি এসেছে সম্ভবত দ্বীপ হতে। বর্তমান মুলাদী উপজেলা বিশাল বিশাল নদী বেষ্টিত দ্বীপসদৃশ একটি ভূখণ্ড। এই ভূখণ্ডে মুলাই খান ইসলাম প্রচারের জন্য এসে আস্তানা স্থাপন করলে তা ‘মুলাই দ্বীপ’ নামে পরিচিতি পায় এবং লোকমুখে বিবর্তিত ও সংক্ষিপ্ত হয়ে মুলাদ্বীপ এবং তা হতে বর্তমান মুলাদী রূপলাভ করেছে। এছাড়া ‘দী’ শব্দটি ডিহি শব্দের অপভ্রংশ হতে পারে। একসময় (১৯২২ সালের পূর্বে) কয়েকটি মৌজা নিয়ে একটি তৌজি এবং কয়েকটি তৌজি নিয়ে একটি ডিহি গড়ে উঠতো। আজকের মুলাদী একসময় একটি ডিহি ছিল এবং তা মুলাই খানের নামানুসারে মুলাই ডিহি নামে পরিচিত ছিল। পরে লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে মুলাদী নাম ধারণ করা অস্বাভাবিক নয়।[২]

প্রশাসন মুলাদী থানা ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটা ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৯৮টি মৌজা এবং ১০৮টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা ১৭১৯৪৮; পুরুষ ৫০.৪৯%, মহিলা ৪৯.৫১%; মুসলিম ৯৭,৭৯%, হিন্দু ২.১৬% এবং অন্যান্য ০.০৫%।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ ৫, উচ্চ বিদ্যালয় ৩০ টি, জুনিয়র বিদ্যালয় ৫, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৭ টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০ টি, মাদ্রাসা ১৭টি মুলাদী উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:

  • মুলাদী ডিগ্রী কলেজ
  • মুলাদী এম জে উচ্চ বিদ্যালয় (বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ছাত্র ছিলেন )
  • মুলাদী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা
  • নাজিরপুর ঘোষেরচর দাখিল মাদ্রাসা
  • সাহেবেরচর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা
  • বানিমর্দ্দন দাখিল মাদ্রাসা
  • দক্ষিণ কাজিরচর উচ্চ বিদ্যালয়
  • কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজ
  • নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • নাজিরপুর গার্লস স্কুল
  • জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মসজিদ ৪৪০ টি, মন্দির ১৮ টি, গীর্জা ১টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মুলাদী জামে মসজিদ, নাজিরপুর বন্দর জামে মসজিদ, কাজিরচর কাজিবাড়ি জামে মসজিদ ও মুলাদী মন্দির অন্যতম।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান পেশা[সম্পাদনা]

কৃষি ৫১.১৭%, কৃষি শ্রমিক ২০.৬৭%, মজুরী শ্রমিক ৩.১৮%, ব্যবসা ৭.৫২%, চাকরি ৭.১৩%, মাছ ধরা ২.৫% এবং অন্যান্য ৭.৮৩%। ২৬১৫৯,৪৫ হেক্টর জমি ব্যবহার আবাদি জমি, পতিত জমি ২৩৭,৫৬ হেক্টর, একক ফসল ৪২%, ডবল ফসল ৫০%, তিন ফসলি ৮%. সেচের আওতায় আবাদি জমি ৭৪%। কৃষকদের মধ্যে ভূমি নিয়ন্ত্রণ, ২৯%, ৩২,৮২%, ক্ষুদ্র ২৭% মাঝারী এবং ৪.০৯% সমৃদ্ধ, ৭.০৯% প্রান্তিক ভূমিহীন ; মাথা প্রতি ০.১৪ হেক্টর আবাদি জমি।

ফসল[সম্পাদনা]

প্রধান ফসল ধান, গম, মিষ্টি আলু, ডাল, বেগুন, পান। বিলুপ্ত বা প্রায় বিলুপ্ত শস্য পাট, তামাক, সরিষা, চীনাবাদাম, রসুন, আখ, অড়হর, চীন, কাউন। প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, কলা, জাম, নারিকেল, লিচু, খেজুর, সুপারি, আমড়া।

কলকারখানা[সম্পাদনা]

এখানে ময়দা কল ১ টি, রাইস মিল ২৫টি, বরফকল ৫টি, কল ৪০, নাড়ি কল ২টি এবং চিড়াকল ১টি রয়েছে।

হাট-বাজারঃ- মুলাদী বন্দর হাট, খাশেরহাট, নাজিরপুর বন্দর, নাতিরহাট, বানিমর্দ্দন, সোনামদ্দিন, রামারপোল, কুতুবপুর, কাজিরহাট

মেলাঃ- পাতারচর (পাইতিখলা) মীর কুতুব শাহ-র মেলা, কাজিরচর আদম আলী ফকির মেলা, মুন্সি বারী মেলা যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মেলা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকা রাস্তা ২২ কিমি, আধাপাকা রাস্তা ১৫ কিমি, কাচা রাস্তা ২৫০ কিমি; ৬৫ নটিক্যাল মাইল।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • শহীদ আলতাফ মাহমুদ ( সুরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
  • আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কাদের,সাদা মনের মানুষ, চরলক্ষীপুর/নন্দী বাজার,
  • মোশাররফ হোসেন মঙ্গু, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে মুলাদী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১২ মার্চ, ২০১৫ 
  2. মোহাম্মদ, নূরুজ্জামান (২০০৭)। বাংলাদেশের জেলা উপজেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য। মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]