বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
আইএটিএ
বিজি
আইসিএও
বিবিসি
কল সাইন
বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠাকাল ৪ জানুয়ারি ১৯৭২ (1972-01-04) (৪৩ বছর আগে)
কার্যক্রম শুরু ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ (১৯৭২-০২-০৪)
হাব
দ্বিতীয় হাব
এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ মসলিন লাউঞ্জ [১]
অধীনস্ত কোম্পানি
  • বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার
  • বিমান পোল্ট্রি কমপ্লেক্স
  • বিমান এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টার
বহরে বিমানের সংখ্যা
গন্তব্য ২৪
স্লোগান আকাশে শান্তির নীড়
প্রধান কার্যালয় ঢাকা, বাংলাদেশ
গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি
  • জামালউদ্দীন আহমেদ (চেয়ারম্যান)
  • কাইল হেউড(এমডি ও সিইও)[২]
ওয়েবসাইট www.biman-airlines.com

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হল বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশি পতাকাবাহী এই বিমানটি প্রধানত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়াও, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,সিলেট থেকেও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহনের পাশপাশি আভ্যন্তরিন সেবাও প্রদান করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৪২ টি দেশের সাথে এর আকাশ সেবার চুক্তি থাকলেও মাত্র ১৬টি দেশে এর কার্যক্রম পরিচালনা করে।

২০০৭ সালের ২৩ জুলাই তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয়।[৩] এর প্রধার কার্যালয়ের নাম “বলাকা ভবন” যা ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত। বিমান বাংলাদেশের যাত্রী সেবার একটা বিশাল অংশ হল হাজ্জযাত্রী আর বিদেশগামি যাত্রী। বর্তমানে কিছু ব্যাক্তি মালিকানাধিন বেসরকারি বিমান প্রতিষ্ঠান চালু হওয়াতে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো উন্নত এবং বিশ্বস্ত সেবা দিয়ে ৮% হারে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশি বাজার সুবিধা গ্রহন করতে আগ্রহী। বাজারের এই উন্নতির জন্য কৃতিত্ব দিতে হয় প্রবাসী বাঙ্গালি ও পর্যটকদের।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে একক আধিপত্য বজায় রাখে।[৪] ১৯৯৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি ঘটতে থাকে। কিন্তু দূর্নিতী আর অসাধু ব্যাবস্থাপনার জন্য ১৯৯৬ এর পর লোকসান হতে থাকে। বাংলাদেশ বিমান সর্বোচ্চ ২৯ টি গন্তব্যে এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা টু নিউ ইয়র্ক এবং ঢাকা টু টোকিয়ো ফ্লাইট। ২০০৭-এ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরিত হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশ বিমান, বোয়িং এর সাথে ১০ টি বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি করেছে।

বিমান বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান সেফটি এজেন্সি দ্বারা স্বীকৃত, এছাড়াও আইএটিএ (IATA) এর নিরাপত্তা জনিত অডিট পাশ করে।[৫][৬][৭] যার কারনে বিমান বাংলাদেশ সহজে পুরাতন গন্তব্য গুলোতে তার ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে কোলকাতা বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ ২৭ ফ্রেন্ডশিপ

রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ১২৬ অনুসারে ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গঠিত হয়।[৮][৯] এদিন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে একটি ডিসি-৩ বিমান নিয়ে জাতির বাহন হিসেবে বাংলাদেশ বিমান যাত্রা শুরু করে।[১০] সাবেক পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ২৫০০ কর্মচারী ও কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা এবং ১০ জন বোয়িং ৭০৭ পাইলট ও ৭ জন অন্যান্য পাইলটের সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়।[১১] প্রাথমিকভাবে এর নাম ছিল এয়ার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল।[১২]

১৯৮১ সালে লন্ডন হিথ্রো এয়ারপোর্টে বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭০৭-৩২০সি বিমান

১৯৭২ এর ৪ ফেব্রুয়ারীতে আভ্যন্তরিন সেবার মাধ্যমে বিমান তার যাত্রা শুরু করে । ভারত থেকে নিয়ে আসা ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-৩ ছিল প্রথম সংযোজন। ডগলাস ডিসি-৩ ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম, যশোর এবং সিলেটের যোগাযোগ স্থাপন করেছিল। এই ডিসি-৩ বিমানটি ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ এ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার মুখে পরে। এই দুর্ঘটনার পর ভারত সরকার বানংলাদেশকে আরও দুইটি ফকার এফ-২৭ উপহার দেয়। অল্প সময়ের ব্যাবধানে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব চার্চ কাউন্সিলের কাছ থেকে লোন নিয়ে ডগলাস ডিসি-৬ সংযোযন করা হয়। পরবরতিতে ডগলাস ডিসি-৬ এর পরিবর্তে ডগলাস ডিসি-৬বি নিয়ে আসা হয়, যা টোল এয়ার এর কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছিল। ডগলাস ডিসি-৬বি ঢাকা কলকাতা রুটে চলাচল করত। ১৯৭২ সালের চৌঠা মার্চ বিমান বাংলাদেশ, ব্রিটিশ সরকার থেকে পাওয়া একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড প্লেন নিয়ে ঢাকা টু লন্ডন রুটে প্রথম সাপ্তাহিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ঢাকা-কোলকাতা রুটে নিয়মিত সেবা প্রদানের জন্য ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ভারত থেকে একটি ফকার এফ-২৭ আনা হয়। ওই বছর বিমান প্রায় ১,০৭৮ টি ফ্লাইটে ৩,৮০,০০০ জন যাত্রী পরিবহন করে এবং নতুন ৩ টি ফকার এফ-২৭ যোগ করে। এবং একটি বোয়িং ৭০৭-৩২০সি ১৯৮১ সালে ঢাকা টু হিথ্রো রুটে সংযোজন করা হয়।

২০০৭ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০ বিমান কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অবতরন করছে

ঢাকা-কোলকাতা রুটে নিয়মিত ২ টি ফ্লাইট পরিচালন করার জন্য ১৯৭৩ সালে আরো ৪ টি ফকার এফ-২৭ আনা হয়। একই সময় একটি বোয়িং ৭০৭ সংযুক্ত হলে বিমান ঢাকা টু লন্ডন সপ্তাহে ২ টি ফ্লাইট চালু করে। সে বছরেই বিমান চট্টগ্রাম টু কলকাতা রুটে সেবা প্রদান শুরু করে। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারী, কাঠমান্ডু, নভেম্বরে ব্যাংকক এবং ডিসেম্বরে দুবাই রুটে পরিসেবা চালু করে। ১৯৭৬ বিমান দুইটি ফকার এফ-২৭ বিক্রি করে একটি বোয়িং ক্রয় করে আবু ধাবি, করাচী ও মুম্বাই রুটেও সার্ভিস চালু করে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে আরও একটি বোয়িং কিনে সিঙ্গাপুরে এই পরিসেবা শুরু করে। পরের বছর বিমান তার ৪র্থ বোয়িং ক্রয়ের মাধ্যমে জেদ্দা, দোহাআমস্টারডাম রুটে সার্ভিস চালু করে এবং সে বছরেই বিমান পাবলিক সেক্টোর কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয় এবং পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে বিমান ব্রেক ইভেন পয়েন্ট স্পর্শ করে এবং পরের বছর লাভের মুখ দেখে। কুয়ালালামপুর, এথেন্স, মাসকটত্রিপলির আন্তর্জাতিক রুট ১৯৭৯ সালে সংযুক্ত হয়। ১৯৮০তে ইয়াং ,টোকিও এবং ধাবাওং রুট ও চালু করে বিমান। ২০০৭ এ ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি ১০-৩০ ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর বিমান বন্দরে অবতরন করে।

১৯৮৩ সালে আরও ৩টি ডিসি-১০ সংযুক্ত হয়।[১১]:7[১৩] এছাড়াও বিমান বাগদাদ (১৯৮৩), প্যারিস (১৯৮৪) এবং বাহরাইনে (১৯৮৬) তাদের সেবা শুরু করে। ৫ অগাস্ট ১৯৮৪ তে বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ দূর্ঘটনা ঘটে, একটি ফকার বিমান চট্রগ্রাম থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে দূর্ঘটনায় পতিত হয়, যাতে প্রায় ৪৯ জন যাত্রী মৃত্যুবরন করেন। এর পর লম্ভা দূরত্বর ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৯৯৬ সালে বিমান দুইটি দূরপাল্লার এয়ারবাস এ৩১০ ক্রয় করে। এর পর ২০০০ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইস আর জ্যামাইকা এয়ারলাইন্স থেকে ভাড়ায় আনা দুইটি এয়ারবাস এ৩১০ সংযোজন করা হয়। এছাড়া ২০০৩ এ আরও একটি ভাড়ায় আনা এয়ারবাস এ৩১০ বহরে যোগ হয়।

২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বিমান ১১,৫০,০০০ জন যাত্রী পরিবহণ করে, যা বিগত দশকের তুলনায় দুইগুন আর ৭০ ভাগ বেশি। প্রাইভেট সার্ভিস চালু হলে বিমান ৩৫ ভাগ বাজার হারায় এবং গড়ে বছরে ১,৬২,০০০ জন আভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহণ করে। একই সময় বিমান ইতিহাসে সর্ববৃহৎ লোকসানের মুখ দেখে, যার পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। পরের বছর লোকসান হয় প্রায় ৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। সে সময় বিমান তার জ্বালানী সরবরাহকারী, বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনকে এক মিলিয়ন ডলারের তেলের বিলও পরিশোধ করতে পারেনি।[১৪]

ব্যাবস্থাপনা[সম্পাদনা]

A white aircraft with cargo doors open being loaded.
২০১০ সালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানের প্রথম যাত্রা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূচনালগ্ন থেকেই থেকেই এর পুরো মালিকানা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। ১৯৭৭ সালে বিমানকে একটি পাবলিক সেক্টর করপরেশনে পরিনত করা হয় যা এর পরিচালক ও কর্মকর্তাদের কিছুটা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। ১৯৮৭ সাল বিমানের পরিশোধিত মূলধন আরো দুই হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়।[১৫] এবং সর্বশেষে ২০০৭ সালে যখন বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত করা হয় তখন এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত হয়।

আশির দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিমানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুরুর দিকে কিছু উন্নয়ন ও সম্প্রসারন হলেও এর অদক্ষ্য ব্যাবস্থাপনা ও ব্যাপক দূর্নিতীর কারনে ধীরে ধীরে এর লাভ কমতে শুরু করে। সেই দূর্নিতীগুলোর মধ্যে ছিল লোক দেখানো জিনিষপত্র ক্রয়, ভুয়া মেরামত বিল, রাজনৈতীক কারনে অলাভজনক রূটে বিমান চালনা ইত্যাদি।[১৬][১৭] ১৯৯৬ সালের একটি গবেষনায় দেখা যায় যে শুধুমাত্র দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিমানে ৫২৫৩ জন কর্মকর্তা ছিল যেখানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রায় সমান সংখ্যক দাফতরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে বিমান বাংলাদেশের চেয়ে দশগুন বেশি বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল। এই গবেষনাই প্রমান করেছিল যে তৎকালীন বিমান মূলধন স্বল্পতায় ভূগছিল এবং রাজনৈতীক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যাবহৃত হচ্ছিল।[১৮]

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা যায় যে ৯২-৯৩ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশের কাছে সরকারের কর বাকি ছিল প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৯৯৯ সালের বিমান বাংলাদেশের উপর পরিচালিত এক অডিট থেকে জানা যায় যে বিমানের এর টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিদের (সেলস এজেন্ট) কাছে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা পাওনা আছে যা বিমানেরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে সম্ভব হয়েছিল।[১৯] উপরন্তু এই টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে অতিরিক্ত ২৪ লক্ষ টাকা কমিশন হিসেবে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল যা বিমান বাংলাদেশের নিয়ম বহির্ভূত। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দূর্নিতী প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি দূর্নিতীর অভিযোগে[২০] সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাই বাংলাদেশ বিমানের সাবেক ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার শামীম ইস্কান্দারকে গ্রেফতার করে। শামীম ইস্কান্দারের গ্রেফতারের আগে তার সহযোগী আরো প্রায় পয়ত্রিশ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।[২১]

পরিচালনা পর্ষদ[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বিমানের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন এয়ার মার্শাল (অবঃ) জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাইল হেউড কর্মরত আছেন।[২২] এর আগে ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন কেভিন স্টিল। তিনি ছিলেন বিমানের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বিদেশি প্রধান নির্বাহী।[২৩][২৪] তাকে অন্যান্য ৪২ জন স্থানীয় ও বিদেশি প্রার্থীর মধ্য থেকে বাছাই করা হয়। বিমানে যোগদানের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে কেভিন স্টিল বিমানকে একুশ শতকের আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার প্রতিজ্ঞার কথা উল্লখ করেছিলেন[২৫] যদিও নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে তার সাফল্য নিয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ ছিল, ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি এমডি ও প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।[২]


বেসরকারীকরন[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালের পর থেকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতীক ক্ষতির কারনে[২৬][২৭] বাংলাদেশ সরকার বিমান বাংলাদেশকে বেসরকারীকরনের সিন্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ২০০৪ সালে বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে বিমানের চল্লিশ শতাংশ শেয়ার বিক্রয়ের করার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল যে বাংলাদেশ সরকার বিমানের কিছু নিয়ন্ত্রন সরকার সংরক্ষন করতে চায়। এই প্রস্তাব বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয় না উপরন্তু প্রস্তাবটি তৈরী এবং নিরীক্ষন করার পেছনে বেসরকারী তদারকি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করায় সরকারের ১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়।[২৮]

পূনর্গঠনের পর বিমানের নতুন লোগো

২০০৭ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তত্বাবধায়ক সরকার বিমানকে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত করার পরিকল্পনা মঞ্জুর করে যার শেয়ারের মালিকানা সাতটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়[২৯]। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানব সম্পদ ও যন্ত্রপাতির অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য সরকার বিমানের কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্বেচ্ছা অবসরের রুপরেখা প্রনণয়ন করে। তৎকালীন বিমান বাংলাদেশে বিমান এবং মানব সম্পদের অনুপাত ছিল ৩৬৭:১, কিন্তু একই শিল্পে অন্যান্ন এশিয়ান সংস্থাগুলো ১৫০:১ অনুপাত বজায় রেখেছিল। চাকুরীর মেয়াদ অনুযায়ী স্বেচ্ছা অবসরের পাওনাদি ঘোষিত হয়েছিল এবং বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ঋনে নেওয়া ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা পরিশোধের ব্যাবস্থা করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনা থেকে বিমান প্রায় ১৬০০ কর্মী কমিয়ে আনার পরীকল্পনা করেছিল কিন্তু ২১৬২ জন কর্মী স্বেচ্ছা অবসরের জন্য আবেদন করে। এদের মধ্য থেকে ১৮৭৭ জনের আবেদন বিমান ব্যাবস্থাপনা গ্রহন করে।[৩০]

২৩ জুলাই ২০০৭ এ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত হয়। প্রথমে এটির নাম পূর্বের বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রাখার সুপারিশ করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।[৩১] সরকার এর পূরো পনেরো লক্ষ শেয়ারেরই মালিক যদিও সরকার ৪৯% শেয়ার ব্যাক্তিগত খাতের মালিকানায় দিয়ে বাকি ৫১% শেয়ার সরকারী মালিকানায় রেখে এর নিয়ন্ত্রন ধরে রাখতে চেয়েছিল। পূনর্গঠনের পর এর সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ডঃ আব্দুল মোনেমকে পুনরায় ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বাকী ছয়জন পরিচালককে জ্বালানী, বানিজ্য, অর্থ, বেসামরিক বিমান চলাচল, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও কেবিনেট ডিভিশন থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেবিনেট সচিব বিমানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই ছয় মন্ত্রনালয়ের সচিব ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রনালয়ের যুজ্ঞ সচিবকে সমানভাবে বিমানের শেয়ারের মালিকানা দেওয়া হয়। সরকার ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এয়ার কমোডর জাহেদ কুদ্দুস (অবঃ) কে ডঃ আব্দুল মোনেমের স্থলাভিষিক্ত করে। এয়ার কমোডর জাহেদ কুদ্দুস (অবঃ) এ আগে ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত ছিলেন।[৩২]

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরীত করার আগে যেসকল কর্মী স্বেচ্ছা অবসর পরীকল্পনায় চকুরী ছেড়েছিলেন তারা সমন্বিতভাবে বিয়ানে একটি প্রতিযোগী এয়ারলাইন্স গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।[৩৩] যার জন্য এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনাল, বিমান ইমপ্লইজ এয়ারলাইন ও বলাকা নামগুলি প্রস্তাব করা হয়েছিল।[৩৪] বিমানের সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিইডেন্টও তাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই বিষয়ে আর কিছু শোনা যায় নি।

যাত্রী সেবা[সম্পাদনা]

বিমান বাংলাদেশের ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০ এর অভ্যন্তরের ছবি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাজে গ্রাহকসেবার জন্য সকলের কাছে পরিচীত। অনিয়ন্ত্রিত সময়সূচীর জন্য ২০০৭ সালে বিমান লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর ও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট সহ অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো থেকে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয় ২০০৭ সালের গ্রিষ্মে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা বিএএ বিমানকে প্রমানসহ একটি চিঠি দেয় যাতে উল্লেখ ছিল যে বিমান ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বরাদ্দকৃত সময়সূচীতে হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরন করে নি যা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন (IATA) এর নিয়মানুযায়ী বাধ্যতামূলক। এবং পরবর্তী গ্রীষ্মে যদি বিমান লন্ডনে পরিসেবা চালু রাখতে চায় তাহলে হিথ্রো বিমানবন্দরের আশা ছেড়ে দিয়ে স্ট্যান্সড বা গেটউইক বিমানবন্দর ব্যাবহার করতে পারে।[৩৫] পরবর্তী বছর বিএএ এর সাথে অলোচনায় বসে বিমান এই মর্মে আশ্বস্ত করে যে এটি বরাদ্দকৃ অবতরন সময়সূচীর অন্তত পক্ষে ৮০% ব্যাবহার করবে। এর ফলে ২০০৮ সালে বিমান লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরনের অনুমতি পায়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানের একটি ডিসি ১০ দিয়ে পরিচালিত ঢাকা-লন্ডন সরাসরি সেবার একটি বিমান হিথ্রো বিমানবন্দরে তার নির্ধারিত সময়ের তিন ঘন্টা পর পৌছালে তাকে হিথ্রোতে অবতরন করার অনুমতি না দিয়ে জ্বালানী ভরার জন্য গেটউইক বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে দি টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে হিথ্রো বিমানবন্দরের সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিমান সংস্থা হিসেবে আক্ষা দেওয়া হয় যার প্রত্তেকটি বিমানে প্রায় তিন ঘন্টা করে দেরি হয়। ২০০৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সময়সূচি না মানার কারনে এর কর্মীদের বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমন না করার সতর্কতা জারি করে। তাসত্বেও যারা বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমন করেছে তারা নিজ দায়িত্বে ভ্রমন করেছে এবং তাদের বীমার টাকা দাবি করতে পারে নি। বাংলাদেশ বিমানের নুতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান ২০০৮ সালের এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। তিনি আরো যোগ করেন যে সে সময় বিমান সময়সূচী মেনে চলতে হিমশিম খাচ্ছিল এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসবে।

ভ্রমণ শ্রেণী ও সুযোগ সুবিধা[সম্পাদনা]

বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের ইকোনমি শ্রেণীতে চামড়ায় মোড়া আসন। এই আসনগুলো বিমানের জাঁকজমক বাড়ানোর সাথে সাথে আরো কিছু সুবিধা দেয় যেমন এগুলো পরীষ্কার করা সুবিধা আর তরল পদার্থ পড়লে এই আসনগুলো তা শুষে নেয় না।

সাধারনত বড় এবং সুপরিসর বিমানগুলোতে দুই ধরনের ভ্রমণ শ্রেণী (বিজনেস ক্লাস ও ইকোনমি ক্লাস) রয়েছে কিন্তু ছোট এবং অল্প পরিসর বিমানগুলোতে শুধুমাত্র একটি ইকোনমি ক্লাস সেবা প্রদান করা হয়। এয়ারবাস এ৩১০ ঘরানার বিমানগুলোতে মসলিন এক্সিকিউটিভ শ্রেনীর আসন ২-৩-২ বিন্যাসে সাজানো আছে অপরদিকে ম্যাকডনাল ডগলাস ডিসি ১০-৩০ বিমানগুলোতে যাত্রীদের আরো বেশি জায়গা দিয়ে ২-২-২ বিন্যাসে সাজানো থাকে। ইকোনমি ক্লাসে সচরাচর আসনগুলো ২-৫-২ ভাবে বিন্যাসিত থাকে।

বিমানে ইংরেজী এবং বাংলা উভয় ভাষার জাতীয় দৈনিক পত্রিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

ডিসি ১০-৩০ বিমানগুলির প্রত্যেকটি কেবিনে প্রজেক্টরের সাহায্যে প্রদর্শনের ব্যাবস্থা আছে অপরদিকে এয়ারবাস এ৩১০ বিমানে ছাদের লাগেজ রেকে ঝুলন্ত মনিটরের ব্যাবস্থা আছে। তবে আধুনিক বিমানগুলোতে যাত্রিদের ব্যাক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী অনুষ্ঠান দেখানোর সুবিধার জন্য প্রত্তেকটি আসনের পিছনেই এলসিডি মনিটর লাগানো আছে। পুরাতন বিমানগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদনের সময় এগুলোতে যে ধরনের সুযোগ সুবিধা ছিলো বাংলাদেশ বিমান সেগুলোই অব্যাহত রয়েছে।[৩৬][৩৭]

২০০৭ সালে আইএটিএ এর নির্ধারিত ই-টিকেটিং নিয়ম প্রবর্তন করার জন্য বিমান এমাডিউস নামক এক কোম্পানির সাথে চুক্তি করে। আইএটিএ এর সকল সদস্যদের জন্য এই ই-টিকেটিং নিয়ম চালু করার শেষ সময় ছিল ৩১শে ডিসেম্বর ২০০৭। আইএটিএ এর সদস্য হওয়া সত্বেও বিমান এই সময়সীমার মধ্যে ই-টিকেটিং পদ্ধতি চালু করে নি। এর অন্যতম কারন ছিল এমাডিউসের স্থানিয় অফিস, আদালত কতৃক মানি লন্ডারিং এর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল এর সকল কর্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছিল। যদিও মাসখানেকের মধ্যেই উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে তারা কার্যক্রমে ফিরে আসে।[৩৮]

পন্য পরিবহন[সম্পাদনা]

বিমান বাংলাদেশ যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি, যাত্রী পরিবহনের বিমানগুলোর মালামাল রাখার জায়গা ব্যাবহার করে বিভিন্ন আন্তির্জাতীক গন্তব্যে মালামাল পৌছানোর কাজও করে থাকে।[৩৯] এই জন্য বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতীক বমানবন্দরে একটি কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্টা করেছে যেখানে বিদেশে পাঠানোর আগে মালামাল প্যাকেজিং এবং লেবেলিং করা হয়।[৪০]

বিমান বাংলাদেশ ২০০৩-০৪ অর্থবছরে মালামাল পরিবহনে ১৬.৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যেখানে অন্যান্য বিমান পরিচালনা সংস্থা যেমন বিসমিল্লাহ এয়ারলাইন্স, বেষ্ট এভিয়েশন, এয়ার বাংলাদেশ সহ অন্যান্য বেসরকারী সংস্থাগুলো একই অর্থবছরে ১০৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তা সত্বেও বিমান পন্য পরিবহনে বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। এই বেসরকারী সংস্থাগুলো পন্য পরিবহন পরিসেবার বাজার ১০.৬% বৃদ্ধি করতে সক্ষয় হয়। মোট ৯৯,০০০ টন পন্যের মধ্যে ৪৭% মালামাল বিদেশি বিমান পরিবহন সংস্থা, ২৪% বেসরকারী সংস্থাগুলো এবং বিমান মাত্র ২৯% মালামাল পরিবহন করেছিল।[৪১]

যাত্রীসেবার সাথে, পন্য পরিবহনেও বিমানে মারাত্বক রকম দূর্নিতি হত। ২০০৪ সালে এক তদন্ত প্রতিবেদন দেখা যায় যে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের পন্য পরিবহন পরিসবায় সরকার মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।

গন্তব্যসমূহ[সম্পাদনা]

অভ্যন্তরীণ বিমান যাতায়াত ব্যবস্থায় দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াত করা যায়, আর আন্তর্জাতিক বিমান যাতায়াত ব্যবস্থায় শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে গমনাগমন করা যায়।

বিমান বাংলাদেসশের সাথে ৪৩ টি দেশে যাত্রীসেবা পরিচালনা করার চুক্তি থাকলেও বিমান স্বল্পতার কারনে মাত্র ১৬ টি দেশে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।[৪২] বর্তমানে বিশ্বের ১৬ টি শহরে ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এশিয়াইউরোপ - এ দু'টি মহাদেশে চলাচলকারী রুটসমূহ হচ্ছে: - লন্ডন, রোম, ম্যানচেষ্টার, মিলান, কুয়েত, দোহা, কুয়ালালামপুর, কোলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, হংকং ইত্যাদি।

ক্রমেই বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো বিমানের পূর্বের লাভজনক গন্তব্যগুলি দখল করে নিচ্ছে। যেমন ঢাকা-লন্ডন রুটে যেখানে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও বিমান বাংলাদেশের একছত্র আধিপত্য ছিল[৪৩] সেখানে এমিরেটস ও এয়ার ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলো এই রুটটিকে লাভজনক রুট হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশের এই বিমান স্বল্পতা ও অব্যাবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটেন প্রবাসীদের ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স সহ অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলো সিলেট-লন্ডন রুটে বিমান পরিবহন সেবা প্রদান করার পরীকল্পনা খতিয়ে দেখছে।[৪৪][৪৫]

২০১৩ সালে বিমান বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ই-টিকেটিং চালু করার উদ্দেশ্যে হান এয়ারের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করে।

নিউ ইয়র্ক ও ম্যানচেষ্টার[সম্পাদনা]

বিমান বাংলাদেশের একটি ডিসি ১০ বিমান ব্রাসেল্‌স বিমানবন্দরে অবতরন করছে। বিমান বাংলাদেশ ১৩ বছর ধরে এই ডিসি ১০ বিমান ব্যাবহার করে ঢাকা-নিউ ইয়র্ক-ব্রাসেল্‌স পরিসেবা চালু রেখেছিল

১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ ব্রাসেলস হয়ে নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে যেবা প্রদান করে।[৪৬] এই ঢাকা- নিউ ইয়র্ক রুটটিই বিমানের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক রুট ছিল এবং বিমানের স্বল্পতা ও ক্রমবর্ধমান ক্ষতির সম্মুখিন হওয়া সত্বেও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ল্যান্ডিং স্লট ধরে রাখার জন্য বিমান অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। কারন একবার জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং স্লট হারিয়ে ফেললে তা পূনরুদ্ধার করা কঠিন ছিল।[৪৭] ক্ষতির পরিমান কমাবার লক্ষে এবং ব্রিটেনের উত্তরে ম্যানচেষ্টারে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরনের লক্ষে বিমান নিউ ইয়র্ক যাওয়া এবং আসার পথে ম্যানচেষ্টারে যাত্রাবিরতী দেওয়ার পরীকল্পনা করে। ৮ এপ্রিল ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক যাবার পথে বিমান সর্বপ্রথম ম্যানচেষ্টার বিমানবন্দরে অবতরন করে। যদিও এর আগে ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনেষ্ট্রেশন (FAA) বিমানকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বিমান পরীবহন সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে।[৪৮] দ্বিতীয় শ্রেনীর অন্তর্ভূক্ত বিমান সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে অবতরন করতে কিছু বাধ্যবাধকতা সম্মুখিন হতে হয়। এই বাধ্যবাধকতা সত্বেও বিমান নিউ ইয়র্কে সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে সক্ষম হয়েছিল কিন্তু ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো ও নতুন ল্যান্ডিং স্লট পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পরেছিল।দ্বিতীয় শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত বিমান সংস্থাগুলো অন্তত দুই বছরের জন্য তাদের নির্ধারিত সময়সূচী এবং গন্তব্যে কোন ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে না। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ নিউ ইয়র্ক-ঢাকা ফ্লাইটটি ব্রাসেল্‌সে ট্রানজিট না দিয়ে সেটি ম্যানচেষ্টারে ট্রানিজিট দেওয়ার এফএএ (ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি) বিমানকে জরিমানা করে। ফলে বিমান ম্যানচেষ্টারে ট্রানজিট বাতিল করে পুনরায় ব্রাসেল্‌সে ট্রানজিট দেয়।[৪৯]

এফএএ বিমান বাংলাদেশকে এর ডিসি ১০ বিমানটি পরিবর্তন করার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয় কারন এই বিমানটি অতি পুরানো হওয়ায়, কোন সমস্যা হলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার মত যথেষ্ট সুরক্ষিত নয়।[৫০][৫১] ২০০৬ সালের ১৩ মে ডিসি ১০ বিমানের নিরাপত্তা জনিত কারনে এফএএ বিমানের বিজি০০১ ফ্লাইটকে নিউ ইয়র্কের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয় নি।[৫২] পরে এই বিমানটি কানাডার মন্ট্রিয়েল-পিয়ের ইলিয়ট ট্রুডু আন্তর্জাতীক বিমনবন্দরে অবতরন করে এবং এর যাত্রীরা অন্য একটি বিমানে তাদের গন্তব্যে পৌছায়। কানাডিয় বিমান প্রশাষন বিমানটিকে পর্যবেক্ষন করে কোন সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করলে এফএএ পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে এটি তাদের ভুল ছিল। সেবার কানাডা থেকে বিমানটি কোন যাত্রী না নিয়েই ঢাকা ফিরে আসে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরাতন হয়ে যাওয়া এই ডিসি ১০ বিমান এবং প্রত্তেক যাত্রায় প্রায় ৮০,০০০ ইউএস ডলার লোকসান করতে থাকা এই রুটটি বিমান বন্ধ করে দেয়। এই বিমানটিকে অন্যান্য স্থানিয় এবং আন্তর্জাতীক রুটে চালিয়ে বিমান তার অব্যাহত লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার পরীকল্পনা করে।[৫৩] সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিমানের নিউ ইয়র্ক রুটটি পুনরায় চালু করার পরীকল্পনা করা হয়। এর আগে জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কতৃপক্ষ ফ্লাইট পূনর্বহাল করার জন্য ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দেয়, এবং এই সময়ের পরে স্থায়ীভাবে বিমানের অবতরন সময়সূচী বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।[৫৪] ক্ষতির সম্মুখিন হওয়া সত্বেও গুরুত্বপূর্ন হওয়ায় যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে একটি চুক্তি পূনর্বিবেচনা করে, বিমান ২০১০ সালে ভাড়ায় আনা একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান দিয়ে পুনরায় ঢাকা-ম্যানচেস্টার-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু করার পরীকল্পনা করে।

হজ্জ্ব ফ্লাইট[সম্পাদনা]

হজ্জ্ব ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কাবো এয়ার থেকে ভাড়ায় আনা বিমান বাংলাদেশের একটি বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমান

বাংলাদেশের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম প্রতি বছর হজ্জ্বব্রত পালন করতে মক্কায় যান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই হল একমাত্র বাংলাদেশি ব্বিমান সংস্থা যা প্রতি বিছর জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে প্রতি বছর হজ্জ্বযাত্রী পরীবহন করে থাকে। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ যেমন প্রধানমন্ত্রী বা বিমান মন্ত্রী প্রতি বছর এই হজ্জ্ব ফ্লাইটের উদ্বোধন করে থাকেন।[৫৫][৫৬]

সরকার ২০০২ সালে একবার বেসরকারী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এই পরিসেবা উন্মুক্ত করেছিল। এয়ার বাংলাদেশ হল সর্বপ্রথম বেসরকারী বিমান পরীবহন সংস্থা যারা হজ্জ্ব ফ্লাইট পরিচালনা করে। কিন্তু বেসরকারী এই বিমান সংস্থা সেই বছর বিবিন্ন যাত্রায় প্রায় সর্বোচ্চ নয় দিন পর্যন্ত বিলম্ব করায় পুনরায় বিমান বাংলাদেশ একচ্ছত্র আধিপত্যে ফিরে যায়।

বিমানের হজ্জ্ব ফ্লাইটগুলো আজ পর্যন্ত কখনই ঝামেলামুক্ত ছিল না। ২০০৫ সালে হজ্জ্ব ফ্লাইটের জন্য অতিরীক্ত ভাড়া ধার্য করার অভিযোগে তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।[৫৭] ২০০৬ সালে বর্ধিত চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০০৬ সালে বিমান বাংলাদেশ এর সমস্ত হজ্জ্ব ফ্লাইট থেকে প্রথম শ্রেণী সরিয়ে নেয়ার মত নজিতবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়।[৫৮] অপরদিকে হজ্জ্ব এজেন্সিগুলো নিয়মনিতী মেনে না চলার জন্য হজ্জ্বযাত্রীদের ভিসা প্রাপ্তি বিলম্ব হলে বিমান বাংলাদেশকে এর প্রায় ১৯ টি যাত্রা বাতিল করতে হয়। আবার এই ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অতিরীক্ত যাত্রীর জন্য অতিরীক্ত বিমান যোগাড় করতে ব্যার্থ হয়।[৫৯][৬০]

২০০৭ সালে বিমানের হজ্জ্ব ফ্লাইটের সমস্যা সমাধানের জন্য সাবেক তত্বাবধায়ক সরকার তিন বছর মেয়াদী পরীকল্পনা গ্রহন করে। এই পরীকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশের অন্য দুটি আন্তর্জাতীক বিমানবন্দর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও হজ্জ্ব ফ্লাইট পরীচালনা শুরু হয়। বিমান বাংলাদেশ হজ্জ্ব ফ্লাইট পরীচালনার জন্য ফুকেট এয়ার থেকে দুটি বিমান লিজ নেয়। ফুকেট এয়ারকে চুক্তি অনুযায়ী ১০% অগ্রীম দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ৩০% অগ্রীম দাবি করে বসলে ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে এই চুক্তি শেষ হয়ে যায়। ফুকেট এয়ারের জায়গা পূরন করতে একটি রি-টেন্ডারের মাধ্যমে অষ্ট্রেলিয়ার আসবান এরোনেটিক্সকে পরবর্তীতে নির্বাচন করা হয়।[৬১]

২০১২ সালের আগস্ট মাসেও বিমান হজ্ব ফ্লাইট নিয়ে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়। বিমান এর হজ্ব ফ্লাইট সময়সূচী ঠিক রাখতে গিয়ে অন্যান্য গন্তব্যসমূহে অনিয়মিত হয়ে পরে।[৬২] তা সত্বেও বিমান হজ্ব ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রায় একশ কোটি টাকা লাভও করে যা বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে হজ্ব ফ্লাইটগুলো কিছুটা বিলম্বিত হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় যাত্রীদের দূর্ভোগ কিছুটা কমই হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালের হজ্ব ফ্লাইটে আরও দুটি ফ্লাইট যোগ করার কথা জানায় বিমান কতৃপক্ষ।[৬৩]

উড়োজাহাজ বহর[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে বিমান বাংলাদেশের একটি এয়ারবাস এ৩১০ বিমান লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরন করছে।

পুরাতন যামানার একটি দগলাস ডাকোটা এবং ডিসি-৩ বিমান দিয়ে বিমান বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। ঢাকা থেকে সিলেটচট্টগ্রামের স্থানীয় রুটগুলো শুরু হয় চারটি ফকার ফকার এফ ২৭ বিমান অধিগ্রহনের মধ্যমে। অপরদিকে ব্রিটিশ ক্যালিডোনিয়ান থেকে একটি চাটার্ড বিমান আনার পর বিমানের আন্তর্জাতীর পরিসেবা শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স থেকে তিনটি ডিসি ১০ বিমান ক্রয়ের মাধ্যমে লম্বা দূরত্বের অন্তর্জাতীক ফ্লাইটগুলো শুরু করা সম্ভব হয়।

প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ডিসি ১০-৩০ বিমানগুলো কোনপ্রকার উল্লেখযোগ্য যান্ত্রিক গোলোযোগ ছাড়াই বিমান বাংলাদেশের একমাত্র সুপরিসর বিমান হিসেবে ভালভাবেই সেবা দিয়ে আসছে। এই বিমানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্তর্জাতীক সেবা প্রদানের কাজে ব্যাবহার করা হত। অন্যদিকে ঘরোয়া রুটগুলোতে ফকার এফ ২৭ এবং বিএ এটিপি বিমানগুলো ব্যাবহার করা হত যেগুলো প্রায়শই যান্ত্রিক গোলোযোগের শিকার হয়ে পরে থাকত। একবার বাংলাদেশ সরকারের এক মন্ত্রী বিমানে চড়ে যখন জানতে পারলেন যে তিনি যে বিমানটিতে চড়েছেন সেটি ব্রিটিশ এরোস্পেস এটিপি বিমান তখন তিনি তার বিমান যাত্রা বাতিল করে সড়কপথে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

১৯৯০ সালের মধ্যভাগে বিমান তার লম্বা দুরত্বের রুটগুলির জন্যে এয়ারবাস সিরিজের বিমানগুলির প্রতি নজর দেয়। ১৯৯৬ সালে দুটি নতুন এয়ারবাস এ৩১০ বিমানের বহরে যোগ দেয় এবং ২০০০ সালে আরো একটি বিমান বহরে আরে। এই বিমানগুলি কখনই লম্বা দূরত্বের রুটে ডিসি ১০ বিমানগুলির জায়গা দখল করতে পারে নি যদিও ডিসি ১০ বিমান বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা জনিত কারনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। বিমান সবসময় এর ফকার এফ ২৭, ডিসি ১০ এবং এয়ারবাস এ৩১০ বিমানগুলোর রক্ষনাবেক্ষন সহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতীক বিমানবন্দরেই করে থাকে।[৬৪]

২০১২ সালে বিমান বাংলাদেশের ডিসি ১০ বিমানগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য একটি জার্মান কোম্পানির সাথে তিন বছরের চুক্তি করা হয়।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিমান বাংলাদেশ ডিসি ১০ বিমানগুলোকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে পাচটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেওয়ার প্রস্তাব করে। এছাড়াও বিমান দুই বছরের মধ্যে তার বিমান বহরে আরো বোয়িং ৭৭৭ যোগ করে মোট ১৬ টি বিমানের বহরে রুপান্তরের পরিকল্পনা করছে যেখানে এয়ারবাস এ৩১০ বিমানগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।[৬৫] এছাড়াও ঘরোয়া রুটগুলি পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালেই আরো দুটি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনের বিমান অন্তর্ভক্ত করার পরিকল্পনা আছে।[৬৬][৬৭]

বিমানের বহরে থাকা শেষ দুটি ডিসি-১০ বিমানের একটি ১০ নভেম্বর ২০১৩ তে এর অর্থনৈতীক আয়ুষ্কাল শেষ করে এবং অপর বিমানটিকে বিমান বাংলাদেশ বিকল্প বিকল্প হিসেবে আরও কিছু দিন হ্যাঙ্গারে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এই বিমানদুটি পৃথিবীর সর্বশেষ সচল ডিসি-১০ হওয়ায় এগুলো নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ সারা বিশ্বের বিমান কৌতূহলীদের সামনে এই বিমান দিয়ে ঢকা থেকে বার্মিংহাম হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে এর শেষ ফ্লাইট প্রস্তাব করে।[৬৮] উল্লেখ্য যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি ডিসি-১০ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাদুঘরে দান করেছে।[৬৯]

প্রতীক[সম্পাদনা]

বিমান বাংলাদেশের সর্বশেষ সংযোজিত প্রতীক অঙ্কিত একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছে।

আধুনিক বাংলায় বিমান শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “ভিমান” থেকে। প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে “ভিমান” শব্দটি ব্যাবহার করা হয়েছে এমন একটি যন্ত্র বোঝাতে যা উড়তে পারে। বিমানের প্রাতীক হিসেবে লেজে লাল বৃত্তের ভিতরে সাদা বলাকা অঙ্কিত চিহ্ন ব্যাবহার করা হয়। তবে শুরুর দিকে বিমানের নাক থেকে শুরু করে জানালার উপর দিয়ে লেজ পর্যন্ত একটি গাড় লাইন বিমান বাংলাদেশের প্রতীক ছিল এই গাড় সবুজ লাইনটি আশির দশকে পরিবর্তন করে বাংলাদেশের পতাকার সাথে মিলিয়ে লাল ও সবুজ রঙ ব্যাবহার করা হয় যা পরবর্তীতে দুই দশক ধরে টিকে ছিল। ২০১০ সালে বিমান বাংলাদেশ একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে এর সবধরনের প্রতীকেই পরিবর্তন আনা হয়। একই বছর বিমানের নতুন প্রতীক উন্মোচন করা হয় এবং ভাড়ায় আনা বোয়িং ৭৭৭ বিমানে তা প্রথমবারের মত ব্যাবহার করা হয়। তবে নির্বাচনের পরে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে বিমানকে তার পুরোনো প্রতীকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় কারন সেই সরকার বিমানের এই ব্র্যান্ডিং কোনভাবেই পছন্দ করে নি। এর পরীপ্রেক্ষিতে বিমান একটি আধুনিক প্রতীক সংযোজন করে যা প্রথম বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর বিমানে প্রদর্শিত হয়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের বিমানগুলো এই তিন ধরনের প্রতীকই ব্যাবহার করে আসছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদর দফতরের নাম রাখা হয়েছে বলাকা ভবন[৭০][৭১] যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত।

বর্তমান বহর[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর চ্যাঙ্গি বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের একটি এয়ারবাস এ৩১০ বিমান অবতরন করছে।
ফুইমিচিনো বিমানবন্দরে বিমানের একটি ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০

এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিম্নোক্ত বিমানসমূহ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে:[৭২]

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান বহর
বিমান সেবায় নিয়োজিত ফরমায়েশ যাত্রী নোট
বি প্রিই মোট
এয়ারবাস এ৩১০-৩০০ ২৫ ১৯৬ ২২১
২৫ ১৯৮ ২২৩
বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ১২ ১৫০ ১৬০ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ নতুন বিমান বহরে সংযুক্ত হবে।.
বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর 2 ১২ ২১[৭৩] ২৮৬ ৩১৯ ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেওয়া.[৭৪]
বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর]] ৩৫ ৩৮৪ ৪১৯
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার [৭৫] ঘোষনার অপেক্ষায় ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যে পরিসেবায় নিয়োজিত হবে
ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ [৭৬] ৭৪ ৭৪ স্মার্ট এভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া.[৭৬]
মোট ১২

বিমান বাংলাদশের পূর্বোক্তোন বিমানসমূহ[সম্পাদনা]

বিমান বাংলাদেশ এর বিমান পরিচালনার ইতিহাসে নিম্নোক্ত বিমানসমুহ ব্যাবহার করা হয়েছে-

  • ব্রিটিশ এরোস্পেস এটিপি
  • বোয়িং ৭০৭-১২০বি
  • বোয়িং ৭০৭-৩২০
  • বোয়িং ৭০৭-৩২০সি
  • বোয়িং ৭৩৭-৩০০
  • বোয়িং৭৪৭-২০০বি
  • বোয়িং ৭৪৭-৩০০
  • বোয়িং ৭৪৭-৩০০এসসিডি
  • বোয়িং ৭৪৭-৪০০
  • ডগলাস ডিসি-৬বি
  • ডগলাস ডিসি-৮-৪০
  • ডগলাস ডিসি-৮-৫০
  • ম্যাকডনেল ডগলাস এমডি-৮০

আধুনিকায়ন[সম্পাদনা]

বিমানের আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর অধিকাংশই ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-১০ এবং এয়ারবাস এ৩১০-৩০০ বিমানগুলো দিয়ে পরিচালনা করা হয় অপরদিকে ঘরোয়া এবং আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোতে সচরাচর ফকার এফ ২৭ বিমান ব্যাবহার করা হয়।[৭৭] এই ডিসি ১০ বিমানগুলো ম্যাকডনেল ডগলাস কোম্পানি কতৃক নির্মিত ৪৪৫ টি বিমানের মধ্যে ৪৪৩ তম অর্থাৎ উৎপাদনের শেষের দিককার বিমান, এবং এয়ারবার এ৩১০ বিমানগুলো ১৯৯৬ সালের দিককার তৈরী।[৭৮] বিমান বাংলাদেশের সর্বশেষ ক্রয়কৃত বিমানটি থাইল্যান্ডের পিবি এয়ার থেকে কেনা। ১৯৯৭ সালে তৈরী এই ফকার এফ ২৭-৪০০০এস বিমানটি ২০০৪ সালে ২.৯১ নিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে কেনা হয়েছিল।[৭৯] সর্বশেষ অধিগ্রহনকৃত বিমান হওয়া সত্বেও বিমানটি বর্তমান বহরের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন।[৮০] এই পুরাতন হয়ে যাওয়া বিমানগুলোর কারনে অধিকাংশ সময়ই বিমান বাংলাদেশ এর বিমানের সময়সূচী বজায় রাখতে হিমশিম খায়।[৮১] পুরাতন যামানার বিমানগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এগুলোর অনেক বেশি রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজন হয় এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে এর খুচরা যাওন্ত্রপাতি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পরে।

২০১০ সালে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের প্রথম বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর

২০০০ সালে বিমান বাংলাদেশ ডিসি ১০ বিমানগুলোকে প্রিতিস্থাপন করার জন্য মোট চারটি সুপরিসর বিমান অধিগ্রহন করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলেও বেসরকারীকরন সহ সকল প্রস্তাব ফাইলবন্দি হয়ে পরে থাকে।[৮২] ২০০৫ সালে আরেকটি প্রস্তাবে বিমান বাংলাদেশ বোয়িং এবং এয়ারবাস কোম্পানির দশটি সুপরিসর বিমান কেনার আগ্রহ দেখায় যার মূল্য ছিল প্রায় একশ কোটি মার্কিন ডলার। বোয়িং এই ক্রয় প্রস্তাবে সরকারের গ্যারান্টি প্রদান সাপেক্ষে অর্থায়নের অগ্রহ প্রকাশ করে। আমলাতান্ত্রিক সময়ক্ষেপন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির অভাবে বোয়িং এই প্রস্তাবে অগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং প্রস্তাব বাতিল করে। স্বল্প দূরত্বের এবং ছোট বিমান কেনার আরো একটি প্রতাবও এভাবে ঝুলে থাকে। দুটি এয়ারবাস এ৩১০-৩০০ এবং দুটি এয়ারবাস এ৩১০-৬০০ বিমান ভাড়া নেওয়ার জন্য ২০০৭ সালে বিমান একটি টেন্ডার আহ্বান করে। এই টেন্ডারে একমাত্র অংশগ্রহনকারী ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক স্টার এভিয়েশন।[৮৩]

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এর পুরাতন বিমানগুলিকে নতুন প্রজন্মের বিমান দিয়ে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করে যায়। এরঅই অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে বোয়িং কোম্পানিকে চারটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ এবং চারটি বোয়িং বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান যথাক্রমে ২০১৩ এবং ২০১৭ সালে সরবরাহ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই বিমানগুলোর গড় সর্বনিম্ন দর ছিল ১৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে। একই সময়ে এয়ারবাস কোম্পানি বিমানকে বোয়িং এর চেয়ে অনেক সস্তা দরে এর এয়ারবাস এ৩২০ অথবা এয়ারবাস এ৩৩০ সিরিজের বিমান সরবরাহ করার প্রস্তাব দেয়। অপরদিকে বিমান বাংলাদেশ এর সাম্প্রতিক দৈনন্দিন সময়সূচী পালনের জন্য ২০০৮ সালে ক্রয়ের সুবিধা সহ পুরাতন এয়ারবাস এ৩১০-৩০০ বিমান ভাড়ার দরপত্র আহ্বান করে।

বিমান বাংলাদেশের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান

২০০৮ সালের মার্চ মাসে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারলাইন্স থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের সুপরিসর বিমান কেনার পরিকল্পনার কথা ঘোষনা করে। প্রথম চারটি বিমান হল বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর (প্রত্তেকটির গড় মূল্য ১৮২.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) যেগুলোর মধ্যে দুটি ২০১২ সালে এবং দুটি ২০১৪ সালের শুরুতে সরবরাহ করার কথা। [৮৪] সরবরাহকৃত বিমানদুটির একটির নাম পালকি এবং অপরটির নাম রাখা হয় অরুণ আলো, আর ২০১৪ সালের শুরুতে হস্তান্তরযোগ্য বিমানগুলোর প্রস্তাবিত নাম যথাক্রমে আকাশ প্রদীপরাঙ্গাপ্রভাত। অপর চারটি বিমান হল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (প্রত্তেকটির মূল্য ১৩৩.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) যা ২০১৭ সালে সরবরাহ করা হবে। বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানগুলোতে ৪৬৩ জন যাত্রীর জন্য আসন রয়েছে অপরদিকে ড্রিমলাইনার বিমানগুলোতে ২৯৪ জন যাত্রী ধরে। বোয়িং এর সাথে বিমানের চুক্তির স্বারকপত্রে আরো দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ইআর বিমান ২০১৫ সালের মধ্যে ভাড়া নেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। প্রারম্ভিক ভাবে বিমান বোয়িংকে ১.৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করে এবং বাকী অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ৮৫% এবং বাকী অংশ স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করবে।[৮৫] এই চুক্তির অল্প কিছুদিন পরেই বিমান বাংলাদেশ বোয়িং এর সাথে ঘরোয়া রুটগুলো পরিচালনার জন্য আরও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান কেনার চুক্তি করে।

২০০৮ সালে বিমান বাংলাদেশ সৌদিআরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নাইজেরিয়ার কাবো এয়ার থেকে ৫৪২ আসন বিশিষ্ট বোয়িং ৭৪৭-২০০ ইজারা নেয়। ওরিয়েন্ট থাই এয়ার এয়ার থেকেও আরেকটি ৫১২ আসন বিশিষ্ট বোয়িং ৭৪৭-৩০০ ইজারা নেওয়া হয়। ইউরো আটলান্টিক এয়ারওয়েজের সাথে ২০০৯ সালের আরেকটি চুক্তিতে ২০০৭ সালের অধিগ্রহনকৃত বিমানগুলো আসার পূর্বের চাহিদা মেটানোর জন্য দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর ভাড়ায় আনা হয়। এর মধ্যে একটি বিমান ঢাকা-ম্যানচেষ্টার-নিউ ইয়র্ক রুট পূনর্বহাল এবং অপরটি অন্যান্য ইউরোপীয় গন্তব্যে পরিসেবা চালুর উদ্দেশ্য ব্যাবহার পরিকল্পনা করা হয়। এই ইজারাকৃত বিমানগুলো ২০১০ সালে বহরে যুক্ত হয় এবং ২০০৯ সালের প্রস্তাবিত নতুন প্রতীক সংযোযজিত হয়। বিমান বাংলাদেশ বোয়িংকে দশটি বিমানের ফরমায়েশ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করছে এবং ২০০৮ সালে অর্ডার দেওয়া দুটি বোয়িং ৭৭৭-৮০০ইআর এর সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেপি মর্গান থেকে ২৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশের নতুন প্রতীক বহন করে ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে প্রথমবারের মত বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি বহরে যোগ হয়। এটি ছিল বোয়িং নির্মিত এই ধরনের ৩০০ তম বিমান। পরবর্তীতে বোয়িং নির্মিত ৩০১ তম বিমানটিও বিমান বাংলাদেশের বহরে যোগ হয়। এই বিমানটি পুর্বোক্তন ঢাকা-ম্যানচেস্টার-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমান ঘাটতি মেটাতে ব্যাবহৃত হচ্ছে।

অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৮৯ সালে বিমানের যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করার জন্য বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয় যার সম্পূর্ন মালিকানা ছিল বিমান বাংলাদেশের। বিমানের এই কোম্পানিটি বাংলাদেশে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, ড্রাগনএয়ার, উজবেকিস্তান এয়ারওয়েজ এবং ইন্ডিয়ান এয়ারের প্রধান খাদ্য সরবরাহকারী এবং এটিই বিমানের অন্যতম লাভজনক কোম্পানি। বিমান পোল্ট্রি কমপ্লেক্সের উৎপাদিত ডিম এবং মুরগীর প্রায় ৯০% ই বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার ব্যাবহার করে থাকে। এই বিমান পোল্ট্রি কমপ্লেক্সটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০০৭ সালে বার্ড ফ্লু ধরা পরার কারনে অনেক মুরগী নিধন করা হয়। এটিই ছিল বাংলাদেশে বার্ড ফ্লু এর প্রথম ঘটনা।

দূর্ঘটনা[সম্পাদনা]

মার্চ ২০১২ পর্যন্ত এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্যানুযায়ী মোট ১১ টি দূর্ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোস সংখিপ্ত বিবরন নিম্নে তুলে ধরা হল।

তারিখ স্থান বিমান বিমান নাম্বার ক্ষতি যাত্রী সংখ্যা মৃত্যু বর্ণনা সূত্র
১০ অক্টোবর,১৯৭২ বাংলাদেশঢাকা ডিসি-৩ অজানা W/O প্রশিক্ষন উড়ানের সময় ঢাকার কাছে ভূপাতিত হয়। [৮৬]
18 নভেম্বর ১৯৭৯ বাংলাদেশসাভার বাজার এফ ২৭-২০০ S2-ABG W/O দুটি ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেলে সাভার বাজারের কাছে মাঠে জরুরি অবতরন করতে বাধ্য হয়। [৮৭][৮৮]
৩ এপ্রিল ১৯৮০  সিঙ্গাপুর বোয়িং ৭০৭-৩২০সি S2-ABQ W/O ৭৪ সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ১০০ মিটার উচ্চতায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পুনরায় রানওয়ের দিকে ফিরে আসার সময় রানওয়ে থেকে প্রায় ২০০০ ফিট দূরত্বে পিছলে যায়। [৮৯]
৫ আগষ্ট ১৯৮৪ বাংলাদেশঢাকা এফ ২৭-৬০০ S2-ABJ W/O ৪৯ ৪৯ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কয়েকবার ব্যার্থ অবতরন চেষ্টার পর শেষবার রানওয়ে শুরু হওয়ার প্রায় ৫০০ মিটার পূর্বেই মুখ থুবড়ে পরে। [৯০]
২২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ বাংলাদেশসিলেট এফ ২৮-৪০০০ S2-ACJ W/O ৮৯ কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সময় সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বেলি ল্যান্ডিং বা চাকা ছাড়াই শরীরের উপর অবতরন করে। [৯১]
৮ অক্টোবর ২০০৪ বাংলাদেশসিলেট এফ ২৮-৪০০০ S2-ACH W/O ৭৯ ঢাকা থেকে আসার সময় ওসমানি বিমানবন্দরে বৃষ্টিপাতের কারনে পিচ্ছল রানওয়ে পার করে আরো ১৫০ ফিট অতিক্রম করে যার ফলে বিমানটি ১৫ ফিট গর্তের মধ্যে ঢুকে যায়।
১ জুলাই ২০০৫ বাংলাদেশচট্টগ্রাম ডিসি-১০-৩০ইআর S2-ADN W/O ২১৬ বিমানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করত। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবার সময় দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় অবতরনের সময় বিমানের ডানদিক হেলে যায় এবং ডানদিকের পাখার একটি ইঞ্জিন খুলে আগুন ধরে যায়। বিমানের সব যাত্রী বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল তবে কিছু যাত্রী সামান্য আহত হয়। পরবর্তীতে তদন্ত্র প্রতিবেদনে পাওয়া যায় যে বিমানে কোন যান্ত্রিক গোলোযোগ ছিল না। এই দূর্ঘটনার জন্য বিমানের পাইলটকে দায়ি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। [৯২][৯৩][৯৪]
১২ মার্চ ২০০৭ সংযুক্ত আরব আমিরাতদুবাই এ-৩১০-৩০০] S2-ADE W/O ২৩৬ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় বিমানের সামনের দিককার ল্যান্ডিং গিয়ার অকেজো হয়ে যাওয়ায় বিমানটি ঐ বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ের শেষদিকে গিয়ে থেমে যায়। বিমানে ২৩৬ জন যাত্রীর অধিকাংশই অক্ষত ছিলেন এবং মাত্র কয়েকজন সামান্য আহত হন। এই ঘটনার ফলে দুবাই আন্তর্যাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আট ঘন্টার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "On Ground Services"। Biman Bangladesh Airlines। আসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  2. ২.০ ২.১ "Biman's new CEO takes charge"The Daily Star। ৬ জানুয়ারি ২০১৫।  ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  3. "Biman goes PLC", bdnews24.com, 23 July 2007
  4. "Airports"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগৃহীত ৩০ মে ২০০৭ 
  5. "Bangladesh off the unsafe list", The Daily Star, 22 July 2012
  6. "Biman gets int'l registration renewed", The Daily Star, 23 March 2012
  7. "Official Journal of the European Union", European Aviation Safety Agency, 4 December 2012
  8. "Biman Bangladesh Airlines"Banglapedia। সংগৃহীত ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  9. "First Schedule (Article 47)"। Government of the People's Republic of Bangladesh। আসল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  10. দ্য ডেইলী স্টার, ৪ জানুয়ারী, ২০১২ইং, মুদ্রিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা-বি১
  11. ১১.০ ১১.১ The History of Biman Bangladesh Airlines. Jatree, Page 6. Biman Bangladesh Airlines. January–March 1987.
  12. "Airports"Banglapedia। সংগৃহীত ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  13. Ahmad, Reaz (২৬ নভেম্বর ২০০৫)। "Biman at height of flight disarray"The Daily Starআসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  14. "No plan to tackle critical problems"The Bangladesh Monitor। ১ জুন ২০০৭। আসল থেকে ১ এপ্রিল ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১০ জুন ২০০৭ 
  15. "Amendment of section 5 of Ord. XIX of 1977"। The Heidelberg Bangladesh Law Translation Project, from Bangladesh Gazette, Extraordinary। ১ আগস্ট ১৯৮৭। আসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  16. Hasan, Rashidul (৮ অক্টোবর ২০০৬)। "Nothing impossible in Biman purchase"The Daily Starআসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  17. Lawson, Alastair (৩০ আগস্ট ২০০৬)। "Airline's 'lonely hearts' tactic"। BBC News। আসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  18. "Government that Works: Reforming the Public Sector"Private Sector Development & Finance Division — Country Department 1 – South Asia Region। ১০ জুলাই ১৯৯৬। আসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  19. "Annual Report 1999, Office of the Comptroller and Auditor General of Bangladesh." (PDF)। Government of the People's Republic of Bangladesh। ১৯৯৯। আসল থেকে ১৪ এপ্রিল ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  20. Asif, Imran (১৬ মার্চ ২০০৭)। "Clipping the wings"The Daily Starআসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  21. "35 Biman staff sent on forced retirement"The Daily Star। ২৮ মার্চ ২০০৭। আসল থেকে ২৩ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৩ মে ২০১২ 
  22. "Board Of Directors"। Biman Bangladesh Airlines। আসল থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০১৫-এ আর্কাইভ করা। 
  23. "First foreign CEO for Biman", bdnews24.com, 18 March 2013
  24. "Biman MD Steele joins office", The Financial Express (Bangladesh), 19 March 2013
  25. "New MD says Biman to be a profitable entity soon", The Financial Express, 28 March 2013
  26. "Economic Review 2005" (PDF)। Bangladesh Ministry of Finance। আসল থেকে ৮ মে ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৯ জুন ২০০৭ 
  27. "Transport and Communication Review 2007" (PDF)। Bangladesh Ministry of Finance। আসল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৯ জুন ২০০৭ 
  28. "Biman's call for strategic partner flops"The New Age। ১৮ নভেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ১০ জুন ২০০৭ 
  29. Hasan, Rashidul (৬ জুন ২০০৭)। "Biman offers its staff voluntary retirement"The Daily Starআসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  30. "1863 Biman staff sent into retirement"। South Asian Media Net। ৩ জুলাই ২০০৭। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৯ আগস্ট ২০০৭ 
  31. "Biman's PLC plan delayed by 3 weeks"The Daily Star। ২৬ জুন ২০০৭। আসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  32. "Zahed Kuddus new Biman CEO"The Financial Express। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  33. "Ex-Biman men form body to float private airline"The Daily Star। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  34. "Ex-Biman workers to float private airline"India eNews। ৭ জুন ২০০৭। সংগৃহীত ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  35. "Int'l airports warn Biman of boycott"The Daily Star। ২ নভেম্বর ২০০৭। আসল থেকে ২ নভেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২ নভেম্বর ২০০৭ 
  36. "Biman in-flight video"। Biman Bangladesh Airlines। সংগৃহীত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  37. "Biman in-flight audio"। Biman Bangladesh Airlines। সংগৃহীত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  38. "Biman resumes ticketing thru' Amadeus"The Daily Star। ২৪ জানুয়ারি ২০০৬। সংগৃহীত ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  39. "Biman Cargo"। Biman Bangladesh Airlines। সংগৃহীত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ [অকার্যকর সংযোগ]
  40. Porimol Palma (১৩ এপ্রিল ২০০৮)। "Govt mulls private management for ZIA's cargo village"The Daily Star। সংগৃহীত ৭ মার্চ ২০১০ [অকার্যকর সংযোগ]
  41. "Private cargo operators fly high"The Daily Star। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪। সংগৃহীত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  42. "Steps to make Biman PLC by June approved"The Daily Star। ২০ মে ২০০৭। সংগৃহীত ২২ মে ২০০৭ 
  43. Mark Frary (৭ নভেম্বর ২০০৮)। "British Airways to reduce Gatwick services, cut Kolkata and Dhaka routes"The Times (London)। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  44. Rashidul Hasan and Sarwar A Chowdhury (২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Private airlines take off, aim higher"The Daily Star। সংগৃহীত ১৬ মার্চ ২০১০ 
  45. "Royal Bengal Airline: Overview and Strategy"। Royal Bengal Airline। সংগৃহীত ১৬ মার্চ ২০১০ 
  46. "Biman makes its last flight to NY today"The Daily Star। ২৯ জুলাই ২০০৬। সংগৃহীত ১৭ জুন ২০০৭ 
  47. "Biman to reroute NY flight to halve loss"The Daily Star। ৫ মার্চ ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  48. "Manchester Airport Reports and Images"। Ringway Reports। April ২০০৬। আসল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  49. "Biman to suspend NY flights in June"New Age। ৪ মে ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  50. "Biman not to continue flight to New York"New Age। ২৭ জুলাই ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  51. "Biman in a ferrango"The Bangladesh Today। ১৭ মে ২০০৬। আসল থেকে ১৯ নভেম্বর ২০০৬-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  52. "CAAB warned of poor aircraft maintenance"The Daily Star। ১৬ মে ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  53. "Saturday saw the last DC 10 Dhaka–New York flight"New Age। ৩০ জুলাই ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ মে ২০০৭ 
  54. "Biman's domestic flights partly restored"The Daily Star। ৬ মার্চ ২০০৮। সংগৃহীত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  55. "Khaleda opens Hajj flights"The New Nation। ১১ ডিসেম্বর ২০০৫। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  56. "Stranded pilgrims fly out of Dhaka"। BBC News। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০২। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  57. "Mir Nasir resigns"The New Nation। ১৭ নভেম্বর ২০০৫। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  58. "Biman prepares for smooth hajj flights"New Age। ১৩ নভেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  59. "Foreign airlines won’t offer extra flights for Hajj pilgrims"New Age। ১১ ডিসেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  60. "Hajj still uncertain for thousands of pilgrims"। BangladeshNews.com.bd। ১৬ ডিসেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  61. "Australian pvt airline chosen for hajj trips"The Daily Star। ২৭ আগস্ট ২০০৭। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  62. "Biman set to fly into schedule chaos"bdnews24.com। ৩১ আগস্ট ২০১২। আসল থেকে ২০ জুলাই ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। 
  63. http://www.kalerkantho.com/online/national/2013/09/17/5598
  64. "Corporate Profile"। Biman Bangladesh Airlines। সংগৃহীত ২৪ নভেম্বর ২০১১ 
  65. Ahmed, Inam; Islam, Shariful (২৩ এপ্রিল ২০১৩)। "Unlike Biman"The Daily Star। সংগৃহীত ১ জুলাই ২০১৩ 
  66. "Request for Proposal"। Biman Bangladesh Airlines। ৮ মে ২০১৩। সংগৃহীত ১০ মে ২০১৩ 
  67. "Biman to lease 4 aircraft for Hajj flights in September"New Age। ২৮ মে ২০১৩। সংগৃহীত ৫ জুন মে ২০১৩ 
  68. http://www.biman-airlines.com/about/news?id=46e17663-312b-46ba-93d6-3d7e508f36b8
  69. "যুক্তরাষ্ট্রের জাদুঘরে যাচ্ছে বিমানের ডিসি-১০"। বনিকবার্তা। ২০১৩-১১-২০। সংগৃহীত ২০১৩-১১-২০ 
  70. "Biman staff threaten to stop all air services on Sept 7"The New Age। ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭ [অকার্যকর সংযোগ]
  71. "Head Office." Biman Bangladesh Airlines. Retrieved 5 June 2011. "Head office BIMAN BANGLADESH AIRLINES LTD. HEAD OFFICE, BALAKA KURMITOLA, DHAKA-1229 BANGLADESH"
  72. "Fleet Information"। Biman Bangladesh Airlines।  ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  73. "Bihanga May-June 2014"Biman Bangladesh Airlines। পৃ: ৮২। সংগৃহীত ২৩ জুন ২০১৪ 
  74. "Biman Bangladesh nears completion of dramatic fleet renewal, but its outlook remains challenging"Centre for Aviation। ৩ জুলাই ২০১৪। আসল থেকে ৪ জুলাই ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। 
  75. "Biman's New Boeing 777-300ER" (Press release)। Biman Bangladesh Airlines।  ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  76. ৭৬.০ ৭৬.১ "Biman gets 2 aircraft for domestic operation"The Daily Star। ৩ এপ্রিল ২০১৫।  ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  77. "Aircraft Registration History"। AirFrames.org। সংগৃহীত ২৯ মে ২০০৭ 
  78. Chowdhury, Erfan (২ নভেম্বর ২০০৫)। "Biman's obsolete planes"The Daily Starআসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  79. "Air Operators in Thailand"আসল থেকে ১৩ মার্চ ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৯ মে ২০০৭ 
  80. "Biman set to purchase two old F–28s"। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। আসল থেকে ৩ এপ্রিল ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৯ মে ২০০৭ 
  81. "Biman's 3 flights delayed for 40 hours: Passengers stranded at Shahjalal International without food, shelter"The New Nation। ৭ জুলাই ২০০৭। সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০০৭ 
  82. "Biman seeks aircraft proposals"Flight International। ১৮ জুলাই ২০০০। আসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জুলাই ২০১২ 
  83. "UAE firm lone bidder in Biman tender"The News। ১১ মে ২০০৭। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৪ মে ২০০৭ 
  84. "বিমানের বহরে আসছে দুটি নতুন বোয়িং"। প্রথম আলো। Reuters। ২২ আগস্ট ২০১৩। 
  85. "Biman Bangladesh To Receive Boeings From 2011"। Airwise News। Reuters। ৯ মে ২০১০। আসল থেকে ১২ জানুয়ারি ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  86. এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কে দুর্ঘটনার বিবরণ । সংগৃহীত 9 March 2012।
  87. এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কে S2-ABG-এর জন্য দুর্ঘটনার বিবরণ । সংগৃহীত 18 March 2012।
  88. "Airline accidents" (pdf)। Flight International: 1987। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৯। সংগৃহীত ২৪ আগস্ট ২০১১। "Four crew were injured when a Bangladesh Biman F.27 crashed during a training flight from Dacca on November 18. It is reported to have made a forced landing without power." 
  89. "Flight safety: 1980 reviewed – NON-FATAL ACCIDENTS/INCIDENTS: SCHEDULED FLIGHTS" (pdf)। Flight International: 234। ২৪ জানুয়ারি ১৯৮১। সংগৃহীত ২৫ আগস্ট ২০১১ 
  90. "Commercial flight safety: 1984 reviewed – Fatal accidents: scheduled passenger flights" (PDF)। Flight International: ৩৫। ২৬ জানুয়ারি ১৯৮৫। সংগৃহীত ৯ মার্চ ২০১২ 
  91. "Chronology of Biman mishaps"The Daily Star। ৯ অক্টোবর ২০০৪। আসল থেকে ২৭ মার্চ ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৭ মার্চ ২০১২। "On December 22, 1997 a Fokker-28 with 89 people aboard crashlanded in Sylhet, leaving 17 people injured. The aircraft landed on its belly in a paddy field, 3 km from the runway, failing to land at Sylhet Airport due to heavy fog." 
  92. "Biman flight meets accident in Ctg, 1st Ld"। bdnews24.com। ১ জুলাই ২০০৫। আসল থেকে ২৭ মার্চ ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৭ মার্চ ২০১২ 
  93. "Biman DC-10 skids off runway in Ctg: Aircraft badly damaged, crew, passengers safe, Ctg Airport closed, probe body formed"The New Nation। ১ জুলাই ২০০৫। আসল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৬ আগস্ট ২০১১ 
  94. Rashidul Hasan (১০ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Biman pilot sacked over DC–10 crash"The Daily Starআসল থেকে ২৭ মার্চ ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৭ মার্চ ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]