বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর লোগো
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর লোগো
আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের নামফলক
সংক্ষেপেবাপক
গঠিত১৯৭৩
সদরদপ্তরপর্যটন ভবন, পশ্চিম আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকা, ঢাকা - ১২০৭, বাংলাদেশ
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা
চেয়ারম্যান
সায়েমা শাহীন সুলতানা
ওয়েবসাইটwww.parjatan.gov.bd

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বাপক) একটি সরকারি পর্যটন সংস্থা। ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১৪৩ নং আদেশের মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। সংস্থাটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে এটি পরিচিত ও জাতীয় অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ সংস্থাটির দুটি মূল দায়িত্ব হচ্ছে: পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সারাদেশে পর্যটকদের জন্য সুবিধাদি সৃষ্টি ও তা পরিচালনা করা।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিষয়গুলো তৎকালীন যোগযোগ মন্ত্রণালয়ের এবং পর্যটন খাত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিমান পরিবহন বিভাগ সৃষ্টি করে ঐ বিভাগসহ জাহাজ চলাচল,অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে পুনরায় এ মন্ত্রণালয়কে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ হিসেবে রূপান্তর করা হয়। ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে পৃথকভাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২৪ মার্চ, ১৯৮২ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আদেশ ১৪৩ অনুযায়ী ১.০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পাঁচ লক্ষ টাকা পরিশোধিত মূলধন ও ছোট ছোট ৬ টি ইউনিট (কক্সবাজারস্থ হোটেল উপল ও প্রবাল, হোটেল সেলিম খুলনা, রেন্ট-এ কার, সাকুরা রেস্তোরাঁ ও বার এবং রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স) নিয়ে বাপক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। Bangladesh Parjatan Corporation (Amendment) Act, 2022 অনুযায়ী বর্তমানে সংস্থাটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ১০০০ (এক হাজার) কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪০০ (চারশত) কোটি টাকা। বর্তমানে পর্যটকদের সেবা প্রদানের জন্য ৫৩ টি বিভিন্ন প্রকার পর্যটন স্থাপনা যেমন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, বার, পিকনিক স্পট, সুইমিং পুল, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে।

কার্যাবলী

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তাদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য নিম্নরূপ কার্যাবলী সম্পন্ন করে:-[]

  • অভ্যন্তরীণ পর্যটন অবকাঠামো সৃষ্টি;
  • প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পর্যটকদের মানসম্মত সেবা প্রদান;
  • দেশে ও বিদেশে পর্যটন-এর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট বা সহায়ক সকল কার্য সম্পাদন;
  • দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা;
  • সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ;
  • সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে বিদেশের সাথে পর্যটন চুক্তি সম্পাদন
  • পর্যটন সংক্রান্ত নানামুখী গবেষণা এবং দেশে-বিদেশে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা;
  • পর্যটকদের জন্য হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, রেস্ট-হাউজ, পিকনিক স্পট, ক্যাম্পিং সাইট, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক, ওয়াটার স্কিইং ও পর্যটকদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, নির্মাণ, আয়োজন, সংস্থান ও পরিচালনা;
  • ট্রাভেল এজেন্সি গঠন এবং দলবদ্ধ ভ্রমণ আয়োজনের জন্য রেলওয়ে, শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইনস, জলপথ ও সড়ক পরিবহনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা;
  • কার্যকর কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম উৎসাহিতকরণ এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিকল্পে দেশের নারী জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণ
  • প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্যকে অক্ষুন্ন রেখে ইকো-ট্যুরিজম ও নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে ethno-tourism এর উন্নয়ন;
  • পর্যটন শিল্পে শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব উৎসাহিতকরণ;

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (সংশোধন) বিল-২০২২

[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ৭ জুন ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (সংশোধন) বিল-২০২২’ সংসদে পাস হয়।[] সংশোধিত বিলে এর অনুমোদিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার কোটি টাকা করা হয় এবং পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা করা হয়। সদস্য সংখ্যা ৪ জন থেকে বাড়িয়ে ১১ জন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।[] ১৯৭২ সালের এই আইনে পর্যটকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘কেউ নিজের ঘর থেকে ভ্রমণ বা শ্রান্তি বিনোদনের জন্য ২৪ ঘণ্টার বেশি কিন্তু ছয় মাসের কম সময়ে আরেক জায়গায় থাকলে তিনি পর্যটক হিসেবে গণ্য হবেন’। সংশোধিত বিলে এই সময় এক বছর করা হয়েছে। তবে চাকরির জন্য থাকলে তাকে পর্যটক হিসেবে ধরা হবে না।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য"। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৮
  2. "সংসদে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (সংশোধন) বিল ২০২২ পাস"বাসস। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  3. "পর্যটন করপোরেশন বিল পাস, বাংলা ট্রিবিউন, ৭ জুন ২০২২"। ৮ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০২২
  4. বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন বিল পাস, বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম, ৭ জুন ২০২২