আটলান্টিক মহাসাগর

স্থানাঙ্ক: ০° উত্তর ২৫° পশ্চিম / ০° উত্তর ২৫° পশ্চিম / 0; -25
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আটলান্টিক মহাসাগর
Map of the Atlantic Ocean
Extent of the Atlantic Ocean according to the 2002 IHO definition, excluding Arctic and Antarctic regions
স্থানাঙ্ক০° উত্তর ২৫° পশ্চিম / ০° উত্তর ২৫° পশ্চিম / 0; -25
অববাহিকার দেশসমূহ[[List of countries and territories bordering the Atlantic Ocean |List of bordering countries (not drainage basin)]], ports
পৃষ্ঠতল অঞ্চল১০,৬৪,৬০,০০০ কিমি (৪,১১,০০,০০০ মা) North Atlantic: ৪,১৪,৯০,০০০ কিমি (১,৬০,২০,০০০ মা),
South Atlantic ৪,০২,৭০,০০০ কিমি (১,৫৫,৫০,০০০ মা)[১]
গড় গভীরতা৩,৬৪৬ মি (১১,৯৬২ ফু)[১]
সর্বাধিক গভীরতাPuerto Rico Trench
৮,৩৭৬ মি (২৭,৪৮০ ফু)[২]
পানির আয়তন৩১,০৪,১০,৯০০ কিমি (৭,৪৪,৭১,৫০০ মা)[১]
উপকূলের দৈর্ঘ্য১,১১,৮৬৬ কিমি (৬৯,৫১০ মা) প্রান্তিক সমুদ্রসহ
দ্বীপপুঞ্জList of islands
ট্রেঞ্চPuerto Rico; South Sandwich; Romanche
উপকূলের দৈর্ঘ্য ভাল সংজ্ঞায়িত পরিমাপ হয়নি
This video was taken by the crew of Expedition 29 on board the ISS. The pass starts from just northeast of the island of Newfoundland over the North Atlantic Ocean to central Africa, over দক্ষিণ সুদান

আটলান্টিক মহাসাগর বা অতলান্ত মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। এর আয়তন ১০৬,৪৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৪১.১ মিলিয়ন বর্গমাইল); এটি পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। ইউরোপীয় ধারণা অনুযায়ী, এটি “পুরাতন পৃথিবীকে” “নতুন পৃথিবীর” থেকে আলাদা রাখে।

আটলান্টিক মহাসাগরটি পূর্বদিকে ইউরোপ এবং আফ্রিকা এবং পশ্চিমে আমেরিকার অঞ্চলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘায়িত, এস-আকৃতির অববাহিকা রূপে অবস্থিত। আন্তঃসংযুক্ত বিশ্ব মহাসাগরের একটি অংশ হিসাবে, এটি উত্তরে সুমেরু মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর , দক্ষিণ-পূর্বে ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত (অনেক সংজ্ঞায় আটলান্টিককে অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণে বিস্তৃত হিসাবে বর্ণনা করা হয়)। নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত আটলান্টিক মহাসাগরকে প্রায় ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা মহাসাগরটিকে উত্তর আটলান্টিকদক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে বিভক্ত করেছে।[৩]

আটলান্টিকেের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে চ্যালেঞ্জার অভিযান, জার্মান উল্কা অভিযান, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট-দোহার্টি আর্থ অবজারভেটরি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হাইড্রোগ্রাফিক অফিস[৩]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

আফ্রিকার ১৭১০ সালের ফরাসী মানচিত্রে এথিওপিয়ান মহাসাগর

"আটলান্টিক" সমুদ্রের প্রাচীনতম উল্লেখ পাওয়া যায় প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে স্টেসিকোরাসের(SCH মধ্য প্রায়। এআর 1. 211): [৪] Atlantikôi pelágei তে(গ্রীক: Ἀτλαντικῷ πελάγει ; ইংরেজি: 'আটলান্টিক সমুদ্র'; etym. 'আটলান্টিসের সমুদ্র') এবং খ্রিস্টপূর্ব চারশো পঞ্চাশে হেরোডোটাসের The Histories তে (এইচডিটি 1.202.4): Atlantis thalassa (গ্রীক: Ἀτλαντὶς θάλασσα ; ইংরাজী: 'সমুদ্রের আটলান্টিস' বা 'আটলান্টিস সমুদ্র' [৫] ) যেখানে নামটি "হেরাকলসের স্তম্ভের বাইরের সমুদ্র" বোঝায় যা, কথিত আছে, সেই সমুদ্রের অংশ যা সমস্ত ভূখণ্ড ঘিরে রয়েছে । [৬] এসব ক্ষেত্রে নামের অর্থ অ্যাটলাস, গ্রিক পুরাণের টাইটান, যিনি স্বর্গের ভার বহন করেছিলেন ও যিনি পরে মধ্যযুগীয় মানচিত্রগুলোতে প্রচ্ছদপটে আবির্ভূত হন এবং আধুনিক অ্যাটলাস মানচিত্রের নাম যাঁর নাম থেকে গৃহীত। [৭] অন্যদিকে, প্রাচীন গ্রীক নাবিকদের কাছে এবং ইলিয়াডওডিসির মতো প্রাচীন গ্রীক পৌরাণিক সাহিত্যে, এই সর্ব-পরিবেষ্টক মহাসাগর অকেয়ানাস নামে পরিচিত ছিল, যা পৃথিবীকে নদীর মত ঘিরে রেখেছে। গ্রীকদের কাছে বরং সুপরিচিত ছিল: ভূমধ্যসাগর এবং কৃষ্ণ সাগর [৮]। "আটলান্টিক" শব্দটি মূলত বোঝাত মরোক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালা এবং জিব্রাল্টার প্রণালী ও উত্তর আফ্রিকান উপকূলে দ্বারা বেষ্টিত সমুদ্রকে। কয়েক মিলিয়ন বছর আগে প্যানজিয়া অতিমহাদেশকে ঘিরে থাকা বিশাল প্যান্থালেসা সমুদ্রের জন্য বিজ্ঞানীরা গ্রীক শব্দ thalassa পুনরায় ব্যবহার করেছেন।

প্রাচীন ইথিওপিয়া থেকে উদ্ভূত "এথিওপিয়ান মহাসাগর " শব্দটি উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দক্ষিণ আটলান্টিকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়েছিল। [৯] আবিষ্কারের যুগে আটলান্টিক ইংরেজ মানচিত্র প্রস্তুতকারকদের কাছে বিশাল পশ্চিমি মহাসাগর হিসাবেও পরিচিত ছিল। [১০]

প্রায়শই ব্রিটিশ এবং আমেরিকান বক্তারা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর বোঝাতে, মিওসিস বা বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গীতে, পুকুর শব্দটি ব্যবহার করত। এই শব্দটি ১৬৪০ সালের প্রথম দিকে, প্রথম চার্লসের রাজত্বকালে প্রথম প্রকাশিত হয় পামফ্লেটের মুদ্রণে এবং ১৮৬৯ সালে নেহিমিয়াহ ওয়ালিংটনের Historical Notices of Events Occurring Chiefly in The Reign of Charles I -এ "বিশাল পুকুর" কথাটি আটলান্টিক মহাসাগরকে বোঝাতে প্রথম চার্লসের স্বরাষ্ট্র সচিব ফ্রান্সিস উইন্ডব্যাঙ্ক পুনরায় ব্যবহার করেন।[১১] [১২]

বিস্তার এবং তথ্য[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক উদ্-বিদ্যা সংস্থা (আইএইচও) ১৯৫৩ সালে মহাসাগর এবং সমুদ্রের সীমার সংজ্ঞা তৈরী করেছিল, [১৩] তবে কিছু সংজ্ঞা তারপর সংশোধিত হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান এবং দেশ কিছু সংজ্ঞা ব্যবহার করে না, উদাহরণস্বরূপ সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক। একইভাবে, মহাসাগর এবং সমুদ্রের বিস্তার এবং সংখ্যা আলাদা আলাদা।

আটলান্টিক মহাসাগর পশ্চিমে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা দ্বারা বেষ্টিত। এটিডেনমার্ক প্রণালী, গ্রিনল্যান্ড সাগর, নরওয়েজীয় সাগর এবং বেরেন্টস সাগর দ্বারা সুমেরু মহাসাগরের সাথে যুক্ত। পূর্ব দিকে, সমুদ্রের যথাযথ সীমানা হল ইউরোপ: জিব্রাল্টার প্রণালী (যেখানে এটি ভূমধ্যসাগরের সাথে - একটি প্রান্তীয় সাগরের সাথে - এবং আদতে, কৃষ্ণ সাগেরর সাথে যুক্ত, উভয় সাগরই এশিয়াকে স্পর্শ করে) এবং আফ্রিকা।

দক্ষিণ-পূর্বে, আটলান্টিক ২০° পূর্ব মেরিডিয়ান বরাবর, যা আগুলহাস অন্তরীপ থেকে দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত বিস্তৃত, ভারত মহাসাগরে মিলিত হয়। ১৯৫৩ এর সংজ্ঞায় এটি অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণে বিস্তৃত ছিল, তবে পরবর্তীকালের মানচিত্রগুলোতে এটি দক্ষিণ মহাসাগরের কাছে ৬০ ডিগ্রি সমান্তরালে সীমিত হয়। [১৩]

আটলান্টিকের উপকূলে বিভিন্ন প্রকারের অসংখ্য উপসাগর এবং সাগর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাল্টিক সাগর, কৃষ্ণ সাগর, ক্যারিবীয় সাগর, ডেভিস প্রণালী, ডেনমার্ক প্রণালী, ড্রেক জলপথের অংশবিশেষ, মেক্সিকো উপসাগর, ল্যাব্রাডর সাগর, ভূমধ্যসাগর, উত্তর সাগর, নরওয়েজীয় সাগর, স্কশিয়া সাগরের প্রায় পুরোটা এবং অন্যান্য ছোটখাট জলভূমি। এই সকল প্রান্তীয় সাগরগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলে আটলান্টিকের উপকূলের মোট দৈর্ঘ্য ১১১,৮৬৬ কিমি(৬৯,৫১০ মাইল), যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের ১৩৫,৬৬৩ কিমি(৮৪,২৯৭ মাইল)।

প্রান্তীয় সমুদ্র সহ আটলান্টিক ১০৬,৪৬০,০০০ বর্গকিমি(৪১,১০০,০০০ বর্গমাইল) জায়গা দখল করে আছে, যা বিশ্ব মহাসাগরের ২৩.৫% এবং আয়তনে ৩১০,৪১০,৯০০ ঘনকিমি(৭৪,৪৭১,৫০০ ঘনমাইল) যা পৃথিবীর সমুদ্রের মোট আয়তনের ২৩.৩%। প্রান্তীয় সমুদ্র বাদ দিয়ে আটলান্টিক ৮১,৭৬০,০০০বর্গকিমি(৩১,৫৭০,০০০ বর্গমাইল) জায়গা দখল করে আছে এবং আয়তনে ৩০৫,৮১১,৯০০ ঘনকিমি(৭৩,৩৬৮,২০০ ঘনমাইল)। উত্তর আটলান্টিক ৪১,৪৯০,০০০ বর্গকিমি(১৬,০২০,০০০ বর্গমাইল) (১১.৫%) এবং দক্ষিণ আটলান্টিক ৪০,২৭০,০০০ বর্গকিমি(১৫,৫৫০,০০০ বর্গমাইল) (১১.১%) জায়গা দখল করে আছে। [১] গড় গভীরতা ৩,৬৪৬ মিটার(১১,৯৬২ ফুট) এবং সর্বাধিক গভীরতা পুয়ের্তো রিকো খাতের মিলওয়াকি গহ্বর, ৮,৩৭৬ মিটার(২৭,৪৮০ ফুট)। [১৪] [১৫]

আটলান্টিক মহাসাগরের বৃহত্তম সমুদ্র[সম্পাদনা]

শীর্ষ বড় সমুদ্র: [১৬] [১৭] [১৮]

  1. সারগাসো সাগর - ৩.৫ মিলিয়ন বর্গকিমি
  2. ক্যারিবীয় সাগর - ২.৭৫৪ মিলিয়ন বর্গকিমি
  3. ভূমধ্যসাগর - ২.৫১০ মিলিয়ন বর্গকিমি
  4. গিনি উপসাগর - ২.৩৫ মিলিয়ন বর্গকিমি
  5. মেক্সিকো উপসাগর - ১.৫৫০ মিলিয়ন বর্গকিমি
  6. নরওয়েজীয় সাগর - ১.৩৮৩ মিলিয়ন বর্গকিমি
  7. হাডসন উপসাগর - ১.২৩ মিলিয়ন বর্গকিমি
  8. গ্রীনল্যান্ড সাগর - ১.২০৫ মিলিয়ন বর্গকিমি
  9. আর্জেন্টিনীয় সাগর - ১ মিলিয়ন বর্গকিমি
  10. ল্যাব্রাডর সাগর - ৮৪১,০০০ বর্গকিমি
  11. আর্মিঙ্গার সাগর - ৭৮০,০০০ বর্গকিমি
  12. ব্যাফিন উপসাগর - ৬৮৯,০০০ বর্গকিমি
  13. উত্তর সাগর - ৫৭৫,০০০ বর্গকিমি
  14. কৃষ্ণ সাগর - ৪৩৬,০০০ বর্গকিমি
  15. বাল্টিক সাগর - ৩৭৭,০০০ বর্গকিমি
  16. লিবিয়ান সাগর - ৩৫০,০০০ বর্গকিমি
  17. লেভান্টাইনন সাগর - ৩২০,০০০ বর্গকিমি
  18. কেল্টীয় সাগর - ৩০০,০০০ বর্গকিমি
  19. টাইরেনিয়ান সাগর - ২৭৫,০০০ বর্গকিমি
  20. সেন্ট লরেন্স উপসাগর - ২২৬,০০০ বর্গকিমি
  21. বিস্কায়া উপসাগর - ২২৩,০০০ বর্গকিমি
  22. এজিয়ান সাগর - ২১৪,০০০ বর্গকিমি
  23. আয়োনীয় সাগর - ১৬৯,০০০ বর্গকিমি
  24. বালেয়ারীয় সাগর - ১৫০,০০০ বর্গকিমি
  25. অ্যাড্রিয়াটিক সাগর - ১৩৮,০০০ বর্গকিমি
  26. বথনিয়া উপসাগর - ১১৬,৩০০ বর্গকিমি
  27. ক্রেটের সাগর - ৯৫,০০০ বর্গকিমি
  28. মাইনের সাগর - ৯৩,০০০ বর্গকিমি
  29. লিগুরীয় সাগর - ৮০,০০০ বর্গকিমি
  30. ইংলিশ চ্যানেল - ৭৫,০০০ বর্গকিমি
  31. জেমস উপসাগর - ৬৮,৩০০ বর্গকিমি
  32. বথনিয়া সাগর - ৩৬,৮০০ বর্গকিমি
  33. সিড্রা উপসাগর - ৫৭,০০০ বর্গকিমি
  34. হেব্রিডেসের সাগর - ৪৭,০০০ বর্গকিমি
  35. আইরিশ সাগর - ৪৬,০০০ বর্গকিমি
  36. আজভ সাগর - ৩৯,০০০ বর্গকিমি
  37. বথনিয়া বে - ৩৬,৮০০ বর্গকিমি
  38. ভেনেজুয়েলা উপসাগর - ১৭,৮৪০ বর্গকিমি
  39. ক্যাম্পেচে উপসাগর - ১৬,৪০০ বর্গকিমি
  40. লিওঁ উপসাগর - ১৫,০০০ বর্গকিমি
  41. মার্মারা সাগর - ১১,৩৫০ বর্গকিমি
  42. ওয়াডেন সাগর - ১০,০০০ বর্গকিমি
  43. দ্বীপমালা সাগর - ৮,৩০০ বর্গকিমি

সমুদ্রতল[সম্পাদনা]

আটলান্টিক অববাহিকায় সমুদ্রের গভীরতার কৃত্রিম রঙের মানচিত্র

আটলান্টিকের সমুদ্রতল মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা(এমএআর) নামক একটি ডুবো পর্বতশ্রেণী দ্বারা অধ্যুষিত। এটি ৮৭° উত্তর বা উত্তর মেরুর ৩০০ কিমি (১৯০ মা) দক্ষিণ থেকে ৫৪° দক্ষিণে কুমেরুর বোভেত দ্বীপে অবধি বিস্তৃত। [১৯]

মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা[সম্পাদনা]

এমএআর আটলান্টিককে দ্রাঘিমা বরাবর দুই ভাগে ভাগ করে, যার প্রতিটিতে একাধিক অববাহিকা অনুপ্রস্থ শৈলশিরা দ্বারা বিভক্ত। এমএআরের উচ্চতা বেশিরভাগ জায়গায় ২,০০০ মি (৬,৬০০ ফু) অবধি গেছে, তবে দুটি স্থানে এর চ্যুতি হয়েছে: নিরক্ষীয় অঞ্চলের নিকটবর্তী রোমানচে খাত এবং ৫৩° উত্তরে গিগস ফাটল এলাকা। এমএআর হল পানিতলের মধ্যে প্রতিবন্ধক, তবে এই দুটি চ্যুতিতে গভীর পানির স্রোতগুলো এক দিক থেকে অন্য দিকে যেতে পারে। [২০]

এমএআর পার্শ্ববর্তী সমুদ্রের তল থেকে ২–৩ কিমি (১.২–১.৯ মা) উঁচু এবং এর চ্যুতি উপত্যকাটি হল উত্তর আমেরিকান পাত ও উত্তর আটলান্টিকের ইউরেশীয় পাতের মধ্যে এবং দক্ষিণ আমেরিকান পাত ও দক্ষিণ আটলান্টিকের আফ্রিকান পাতের মধ্যে বিভক্তকারী সীমানা। এমএআরের থেকে আইসল্যান্ডের আইজফল্লাজকুলের ব্যাসল্ট আগ্নেয়গিরি এবং মহাসাগর তলের উপাধান লাভা উৎপন্ন হয়। [২১] শৈলশিরার শীর্ষে পানির গভীরতা বেশিরভাগ জায়গায় ২,৭০০ মিটারের (১,৫০০ ফ্যাদম; ৮,৯০০ ফুট) কম, যেখানে শৈলশিরার পাদদেশে তিনগুণ বেশি গভীর। [২২]

এমএআর দুটি উল্লম্ব শৈলশিরা দ্বারা ছিন্ন হয়েছে: অ্যাজোরস – জিব্রাল্টার রুপান্তর চ্যুতি, যা নুবিয়ান এবং ইউরেশীয় পাতের মধ্যে সীমানা হিসেবে চিহ্নিত, এমএআরকে ৪০° উত্তরের কাছে, অ্যাজোরাস ক্ষুদ্র পাতের উভয় দিকে অ্যাজোরাস ত্রিসন্ধিতে ছেদ করেছে। [২৩] উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট, নামহীন সীমানা এমএআরকে পনেরো-বিশ চ্যুতি অঞ্চলের কাছাকাছি বা তার ঠিক উত্তরে প্রায় ১৬° উত্তরে ছেদ করে। [২৪]

১৮৭০-এর দশকে, চ্যালেঞ্জার অভিযানটি বর্তমানে মধ্য-আটলান্টিক শৈলশিরা নামে পরিচিত অংশগুলো আবিষ্কার করেছিল।

১৯২০এর দশকে শব্দ-প্রতিধ্বনি যন্ত্র ব্যবহার করে জার্মান উল্কা অভিযানটি আবিষ্কার করেছিল শৈলশিরার অবশিষ্টাংশ।[২৫] ১৯৫০এর দশকে এমএআরের অনুসন্ধানের ফলে সমুদ্রতলদেশ প্রসারণ এবং ভূত্বকীয় পাত সংস্থান তত্ত্বেরগ্রহণযোগ্যতা দেখা দেয়। [১৯]

এমএআরের বেশিরভাগ অংশ পানির নিচে বিস্তৃত, তবে যেখানে এটি পৃষ্ঠে পৌঁছেছে সেখানে আগ্নেয় দ্বীপ তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে নয়টি সম্মিলিতভাবে তাদের ভূতাত্ত্বিক মানের জন্য একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে মনোনীত হয়েছে, তাদের মধ্যে চারটি তাদের সাংস্কৃতিক এবং প্রাকৃতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে "অনন্যসাধারণ বিশ্বজনীন কদর" হিসাবে বিবেচিত হয়: আইসল্যান্ডের থিংভেৎলির, পর্তুগালের পিকো দ্বীপের দ্রাক্ষাক্ষেত্র সংস্কৃতি; যুক্তরাজ্যের গফ এবং অগম্য দ্বীপপুঞ্জ; এবং ব্রাজিলিয়ান আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জ: ব্রাজিলের ফার্নান্দো দে নোরোনহা এবং আটল দাস রোকাস রিজার্ভস।[১৯]

সমুদ্রতলদেশ[সম্পাদনা]

আটলান্টিকের মহাদেশীয় তাকগুলো নিউফাউন্ডল্যান্ড, দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত এবং উত্তর-পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত প্রশস্ত। পশ্চিমি আটলান্টিক কার্বনেট প্ল্যাটফর্মগুলো বিশাল অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে আছে, উদাহরণস্বরূপ ব্লেক মালভূমি এবং বারমুডা উচ্চভূমি। অ্যাটলান্টিকের চারদিকে নিষ্ক্রিয় প্রান্তরেখাগুলো ঘিরে রয়েছে। তবে কয়েকটি জায়গায় সক্রিয় প্রান্তরেখাগুলো গভীর সমুদ্রখাত তৈরী করে : পশ্চিম আটলান্টিকের পুয়ের্তো রিকো খাত (সর্বাধিক ৮,৩৭৬ মিটার বা ২৭,৪৮০ ফুট) এবং দক্ষিণ আটলান্টিকের দক্ষিণ স্যান্ডউইচ খাত (৮,২৬৪ মিটার বা ২৭,১১৩ ফুট)। উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কাছে প্রচুর সমুদ্রগর্ভস্থ গিরিখাত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গিরিখাত মহাদেশীয় উচ্চভূমি বরাবর এবং গহন সমভূমির ভেতরেও গভীর-সমুদ্র খাত রূপে প্রসারিত।[২০]

১৯২২ সালে মানচিত্রনির্মানবিদ্যায় এবং সমুদ্রবৃত্তিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটেছিল। ইউএসএস স্টুয়ার্ট আটলান্টিকের তলদেশ জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন মানচিত্র আঁকতে একটি নৌ-ধ্বনিতরঙ্গ-গভীরতা-অনুসন্ধানকারী ব্যবহার করেছিল। এটি সামান্য অনুমানের ওপর নির্ভরশীল ছিল কারণ শব্দ জাহাজ থেকে স্পন্দনের মাধ্যমে সোজা এগিয়ে সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রতিফলিত হয়, এবং জাহাজে ফিরে আসে। [২৬] সমুদ্রের গভীর তলদেশ মোটামুটি সমতল বলে মনে করা হলেও তাতে মাঝেমাঝে খাদ, গহন সমভূমি, খাত, সামুদ্রিক পাহাড়, অববাহিকা, মালভুমি, গিরিখাত, এবং কিছু গায়ওট(Guyot) থাকে। মহাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলের বিভিন্ন তাকগুলো নিম্নবর্তী ভূসংস্থানের ১১% গঠন করে যা কখনো কখনো মহাদেশীয় উচ্চভূমির ভিতরে কয়েকটি গভীর খাত হিসেবে প্রবেশ করে।

৬০° উত্তর এবং ৬০° দক্ষিণের মধ্যে গড় গভীরতা ৩,৭৩০ মি (১২,২৪০ ফু), বা বিশ্ব সমুদ্রের গড়ের কাছাকাছি।[২০]

দক্ষিণ আটলান্টিকের ওয়ালভিস শৈলশিরা এবং রিও গ্র্যান্ডে উচ্চভূমি সমুদ্র স্রোতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। লরেন্তিয়ান গহ্বর কানাডার পূর্ব উপকূল ছাড়িয়ে উপস্থিত।

পানির বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

Visualisation of the Gulf Stream stretching from the Gulf of Mexico to Western Europe
গাল্ফ প্রবাহ উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম ইউরোপ অবধি উত্তর আটলান্টিক জুড়ে মেলে এবং এর তাপমাত্রা ২০ °C (৩৬ °F) পতিত হয়।
Map displaying a looping line with arrows indicating that water flows eastward in the far Southern Ocean, angling northeast of Australia, turning sough-after passing Alaska, then crossing the mid-Pacific to flow north of Australia, continuing west below Africa, then turning northwest until reaching eastern Canada, then angling east to southern Europe, then finally turning south just below Greenland and flowing down the Americas' eastern coast, and resuming its flow eastward to complete the circle
থার্মোহলাইন সঞ্চালনের পথ। বেগুনি পথগুলো গভীর-পানি স্রোতে বোঝায়, অন্যদিকে নীল পথগুলো পৃষ্ঠদেশের স্রোতকে উপস্থাপন করে।

পৃষ্ঠতলে পানির তাপমাত্রা অক্ষাংশ, স্রোত ব্যবস্থা এবং মরসুমের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় এবং অক্ষাংশ বরাবর সৌরশক্তির তারতাম্য প্রতিফলিত করে। তাপমাত্রা সর্বনিম্ন −২ °সে (২৮ °ফা) থেকে সর্বোচ্চ ৩০ °সে (৮৬ °ফা)। নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তরে সর্বাধিক তাপমাত্রা দেখা যায় এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মেরু অঞ্চলে দেখা যায়। মধ্য অক্ষাংশে ৭–৮ °C (১৩–১৪ °F) অবধি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। [৩]

সাধারণত অক্টোবর থেকে জুন অবধি ল্যাব্রাডর সাগর, ডেনমার্ক প্রণালী এবং বাল্টিক সাগরে পৃষ্ঠতল সমুদ্রের বরফ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে।[৩]

কোরিওলিস প্রভাবে উত্তর আটলান্টিকের পানি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে, অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিকের পানির ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরছে। আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণি জোয়ারগুলো অর্ধ-আহ্নিক - প্রতি ২৪ চান্দ্র ঘন্টায় দুটি উচ্চ জোয়ার দেখা দেয়। ৪০ ডিগ্রি উত্তরের ওপরের পূর্ব-পশ্চিম কম্পনটি উত্তর আটলান্টিক কম্পন নামে পরিচিত।[৩]

লবতা[সম্পাদনা]

আটলান্টিক মোটামুটি লবণাক্ত প্রধান সমুদ্র; উন্মুক্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির লবণতা প্রতি হাজার ভরের ৩৩ থেকে ৩৭ ভাগ পর্যন্ত (৩.৩-৩.7%), যা অক্ষাংশ এবং মরসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বাষ্পীভবন, বৃষ্টিপাত, নদীর প্রবাহ এবং সামুদ্রিক বরফের গলন সমুদ্রপৃষ্ঠের লবণতার পরিমানকে প্রভাবিত করে। যদিও সর্বনিম্ন লবণতা নিরক্ষীয় অঞ্চলের ঠিক উত্তর দিকে (ভারী ক্রান্তীয় বৃষ্টিপাতের কারণে), তবু সাধারণভাবে সর্বনিম্ন লবণতা উচ্চ অক্ষাংশে এবং উপকূল বরাবর দেখা যায় যেখানে বড় নদী প্রবেশ করে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের কম বৃষ্টিপাত এবং উচ্চ বাষ্পীভবনযুক্ত অঞ্চলে, মোটামুটি ২৫ ডিগ্রি উত্তর এবং দক্ষিণে সর্বাধিক লবণতা দেখা যায়। [৩]

আটলান্টিকের উচ্চতর পৃষ্ঠের লবণতা, যার উপর আটলান্টিক থার্মোহলাইন সঞ্চালন নির্ভর করে, দুটি প্রক্রিয়া দ্বারা বজায় রাখা হয়: আগুলহাস ফুটো/অঙ্গুর, যা দক্ষিণ আটলান্টিকের মধ্যে ভারত মহাসাগরের লবণাক্ত পানিকে নিয়ে আসে এবং "বায়ুমণ্ডল সেতু", যা ক্রান্তীয় আটলান্টিকের পানিকে বাষ্পীভূত করে প্রশান্ত মহাসাগরে পাঠায়। [২৭]

পানির ভর[সম্পাদনা]

আটলান্টিক পানির জনগণের জন্য তাপমাত্রা-লবণাক্ততার বৈশিষ্ট্য [২৮]
পানির ভর তাপমাত্রা লবণতা
উর্ধ্বভাগের পানি ( ০-৫০০ মি. বা ০-১,৬০০ ফুট )
সুমেরু নিকটবর্তী আটলান্টিকের
উর্ধ্বভাগের পানি (ASUW)
০.০-৪.০ °সে ৩৪.০-৩৫.০
পশ্চিম দিকের উত্তর আটলান্টিকের
কেন্দ্রীয় পানি (WNACW)
৭.০-২.০ °সে ৩৫.০-৩৬.৭
পূর্ব দিকের উত্তর আটলান্টিকের
কেন্দ্রীয় পানি (ENACW)
৮.০-১৮.০ °সে ৩৫.২-৩৬.৭
দক্ষিণ আটলান্টিকের
কেন্দ্রীয় পানি (SACW)
৫.০-১৮.০ °সে ৩৪.৩-৩৫.৮
মধ্যবর্তী পানির ( ৫০০–১,৫০০ মি (১,৬০০–৪,৯০০ ফু) )
পশ্চিম দিকের সুমেরু নিকটবর্তী

আটলান্টিকের অন্তর্বর্তী পানি

৩.০-৯.০°সে ৩৪.০-৩৫.১
পূর্ব দিকের সুমেরু নিকটবর্তী

আটলান্টিকের অন্তর্বর্তী পানি

৩.০-৯.০ °সে ৩৪.৪-৩৫.৩
ভূমধ্যসাগরীয় পানি ২.৬-১১.০°সে ৩৫.০-৩৬.২
মেরু অঞ্চলের মধ্যবর্তী পানি -১.৫-৩.০°সে ৩৪.৭-৩৪.৯
গভীর এবং অতল গহ্বর পানির (1,500) মি – নীচে বা 4,900 ফুট-নীচে)
উত্তর আটলান্টিক

গভীর পানি(NADW)

১.৫-৪.০ °সে ৩৪.৮-৩৫.০
অ্যান্টার্কটিক নিম্ন পানি(AABW) -০.৯-১.৭ °সে ৩৪.৬৪-৩৪.৭২
আর্কটিক নিম্ন পানি(ABW) -১.৮ থেকে -০.৫ °সে ৩৪.৮৫-৩৪.৯৪

আটলান্টিক মহাসাগরের উর্ধ্বভাগের পানির ভরকে উষ্ণতা এবং লবণতার ভিত্তিতে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। উত্তর আটলান্টিকের সুমেরু সন্নিকটস্থ অঞ্চলের উর্ধ্বভাগের পানি সুমেরু সন্নিকটস্থ অন্তর্বর্তী পানির এবং উত্তর আটলান্টিকের অন্তর্বর্তী পানির উৎস। উত্তর আটলান্টিকের কেন্দ্রীয় পানিকে পূর্বভাগ এবং পশ্চিম ভাগ, এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে পশ্চিম ভাগটি গাল্ফ ধারা দ্বারা প্রভাবিত এবং তাই উর্ধ্বভাগ মেরু সন্নিকটস্থ অন্তর্বর্তী পানির নিকটবর্তী। পূর্বভাগের পানি ভূমধ্যসাগরীয় পানির সান্নিধ্যের কারণে লবণাক্ত। উত্তর আটলান্টিকের কেন্দ্রীয় পানি দক্ষিণ আটলান্টিকের কেন্দ্রীয় পানিতে ১৫° উত্তরে মিলিত হয়। [২৯]

পাঁচটি অন্তর্বর্তী পানি রয়েছে: উপ-মেরু অক্ষাংশে চারটি স্বল্প-লবণতার পানি এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ-লবণতার পানি। সুমেরু সন্নিকটস্থ অন্তর্বর্তী পানি উত্তর থেকে প্রবাহিত হয়ে গ্রিনল্যান্ড-স্কটল্যান্ড সিলের দক্ষিণে উত্তর আটলান্টিক গভীর পানির উৎস হয়ে উঠেছে। এই দুটি অন্তর্বর্তী পানির পশ্চিম এবং পূর্ব অববাহিকায় পৃথক লবণতা রয়েছে। উত্তর অ্যাটলান্টিকের লবণতার বিস্তৃত পরিমাণটি উত্তর সাবট্রপিকাল মহাসাগরীয় বলয় দ্বারা কৃত অসামঞ্জস্যতার জন্য এবং বিস্তৃত উৎস থেকে প্রাপ্ত বিশাল পরিমাণ পানির অবদানে হয়েছে- ল্যাব্রাডর সাগর, নরওয়েজীয়-গ্রিনল্যান্ড সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণ আটলান্টিক অন্তর্বর্তী পানির কারণে ঘটে। [২৯]

উত্তর আটলান্টিক গভীর পানি (এনএডিডাব্লু) চার প্রকার পানির জটিল মিশ্রণ, যার মধ্যে দুটি খোলা সমুদ্রের গভীর পরিচলন দ্বারা গঠিত- ক্ল্যাসিকাল এবং উচ্চ ল্যাব্রাডর সমুদ্রের পানি - এবং আর দুটি গঠিত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড-আইসল্যান্ড-স্কটল্যান্ড গোবরাট জুড়ে ঘন পানির প্রবাহ থেকে - ডেনমার্ক প্রণালী এবং আইসল্যান্ড-স্কটল্যান্ড প্লাবিত পানি। পৃথিবী জুড়ে তার পথে এনএডিডাব্লু-এর গঠন আরো অন্যান্য পানিরাশি, বিশেষত অ্যান্টার্কটিকের নিম্ন পানি এবং ভূমধ্যসাগর প্লাবিত পানি দ্বারা প্রভাবিত হয়। [৩০] উত্তর আটলান্টিকের উত্তরভাগের উত্তপ্ত অগভীর পানির প্রবাহ দ্বারা এনএডিডাব্লু পুষ্ট হয় যা ইউরোপের অস্বাভাবিক উষ্ণ জলবায়ুর জন্য দায়ী। এনএডিডাব্লু গঠনের পরিবর্তনগুলো অতীতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে যুক্ত ছিল। যেহেতু মনুষ্যনির্মিত পদার্থগুলো পরিবেশে প্রবেশ করেছে, ট্রিটিয়াম এবং ১৯৬০ এর দশকের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে উদ্ভূত রেডিওকার্বন এবং CFC পরিমাপ করে এনএডিডাব্লুটির পথটি নির্ধারণ করা যায়। [৩১]

মহাসাগরীয় বলয়[সম্পাদনা]

Map showing 5 circles. The first is between western Australia and eastern Africa. The second is between eastern Australia and western South America. The third is between Japan and western North America. Of the two in the Atlantic, one is in hemisphere.
পাঁচটি মহাসাগরীয় বলয়ের মানচিত্র

ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরন্ত উষ্ণ পানির উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় বলয় উত্তর আটলান্টিক জুড়ে রয়েছে, এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরন্ত উষ্ণ পানির দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় বলয় দক্ষিণ আটলান্টিক জুড়ে রয়েছে। [৩]

উত্তর আটলান্টিকে, পৃষ্ঠভাগের সঞ্চালনটি তিনটি আন্তঃসংযুক্ত স্রোতের দ্বারা সৃষ্ট: গাল্ফ প্রবাহ, যা কেপ হ্যাটারাসে উত্তর আমেরিকার উপকূল থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়; উত্তর আটলান্টিক স্রোত যা গাল্ফ প্রবাহের একটি শাখা যেটি গ্র্যান্ড ব্যাংক থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়; এবং মেরু সন্নিকটস্থ মুখ, উত্তর আটলান্টিক স্রোতের একটি বিস্তৃত, অস্পষ্ট সম্প্রসারণ যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয়কে মেরু সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয়ের থেকে পৃথক করে। স্রোতের এই ধারাটি উত্তর আটলান্টিকের মধ্যে গরম পানি পরিবহন করে, তা না হলে উত্তর আটলান্টিক এবং ইউরোপের তাপমাত্রা লক্ষণীয়ভাবে কম হত। [৩২]

উত্তর আটলান্টিকের মেরু সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয়ে উষ্ণ ক্রান্তীয় পানি শীতল উপ-মেরু এবং মেরু অঞ্চলের পানিতে রূপান্তরিত হয়। ল্যাব্রাডর সাগরে এই পানি আবার ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় বলয়ে প্রবাহিত হয়।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় বলয়ের উত্তরে, ঘূর্ণবাত উত্তর আটলান্টিক মেরু সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয় জলবায়ুর পরিবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে। এটি গভীর সমুদ্র এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের বাতাস দ্বারা চালিত না হয়ে বরং প্রান্তিক সমুদ্র এবং আঞ্চলিক ভূসংস্থানের সমুদ্র স্রোত দ্বারা পরিচালিত হয়। [৩৩] মেরু সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয় বিশ্বব্যাপী থার্মোহলাইন সংবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পূর্ব ভাগে উত্তর আটলান্টিক স্রোতের ঘূর্ণাবর্ত শাখা রয়েছে যা ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব আটলান্টিকে উষ্ণ, লবণাক্ত পানি পরিবহন করে। শীতকালে এই পানি ঠান্ডা হয় এবং গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব মহাদেশীয় ঢাল বরাবর প্রতিস্রোত গঠন করে যা ল্যাব্রাডর সাগরের মহাদেশীয় সীমানার চারিপাশে প্রবল স্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। এই পানিটির এক তৃতীয়াংশ উত্তর আটলান্টিক গভীর পানির (এনএডিডাব্লু) অংশ হয়ে যায়। এনএডিডাব্লু তার পরিবর্তে মেরিডিয়োনাল ত্তলটান সংবহনে(এমওসি) পানি সরবরাহ করে। শতক-দশকের স্কেলে মেরু সন্নিকটস্থ মহাসাগরীয় বলয়ের পরিবর্তন উত্তর আটলান্টিক কম্পনের সাথে সম্পর্কিত যা ল্যাব্রাডর সাগরের পানিতে বিশেষভাবে পরিলক্ষ্যিত হয়। [৩৪]

দক্ষিণ আটলান্টিক প্রতি-ঘূর্ণবাত দক্ষিণ ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় বলয় দেখা যায়। এই মহাসাগরীয় বলয় দক্ষিণ আটলান্টিক কেন্দ্রীয় পানির উৎস, যেখানে অ্যান্টার্কটিক অন্তর্বর্তী পানি ড্রেক জলপথ এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি মেরু অঞ্চলের উপরের স্তর থেকে উৎপন্ন হয়। উভয় স্রোতই ভারত মহাসাগরের পানিতে পুষ্ট। আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে ক্ষুদ্র ঘূর্ণবাত মহাসাগরীয় বলয়টি বৃহৎ উপ-ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় বলয়ে অন্তর্নিহিত রয়েছে। [৩৫] দক্ষিণ উপ-ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় বলয়টি একটি বায়ু দ্বারা চালিত একম্যান স্তর দ্বারা আংশিকভাবে আচ্ছাদিত। মহাসাগরীয় বলয়ের অবস্থান কাল ৪.৪-৮.৫  বছর। উত্তর আটলান্টিক গভীর পানি উপ-ক্রান্তীয় মহাসাগরীয় বলয় থার্মোকলাইনের নীচে দক্ষিণের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। [৩৬]

সারগাসো সাগর[সম্পাদনা]

সরগাসো সমুদ্রের আনুমানিক বিস্তার

পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিকের সারগাসো সাগর হল এমন অঞ্চল যেখানে দুটি প্রজাতির সারগাসাম (S. fluitans and natans) ৪,০০০ কিমি (২,৫০০ মা) জুড়ে ভাসমান, যা গাল্ফ প্রবাহ, উত্তর আটলান্টিক প্রবাহ এবং উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত দ্বারা ঘেরা রয়েছে। এই সামুদ্রিক আগাছা প্রাচীন টেথিস সাগরের ইউরোপীয় উপকূলের তৃতীয় কোনো পূর্বপুরুষের থেকে সৃষ্টি হয়েছিল এবং যদি তা হয়ে থাকে তবে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সাগরে ভাসমান হয়ে অঙ্গজ জননের দ্বারা নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। [৩৭]

সরগ্যাসাম মাছ (হিস্ট্রিও হিস্ট্রিও)

সারগাসো সাগরে অবস্থিত অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সার্গাসাম মাছ, শৈবালের মতন উপাঙ্গযুক্ত এক ধরণের মাংসাশী প্রাণী যারা সার্গাসাম আগাছার সাথে গতিহীন ভাবে ভাসমান থাকে। প্রচীন টেথিস মহাসাগরের জীবাশ্ম উপসাগরে, বর্তমানে কার্পাথিয়ান অঞ্চলে, একই ধরণের মাছের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। সম্ভবত মায়োসিন যুগের শেষে টেথিসের মুখ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সারগাসো সাগরের গোষ্ঠীটি আটলান্টিকে চলে গেছে। [৩৭] সারগাসোর প্রাণী এবং উদ্ভিদের উৎস বহু শতাব্দী ধরে রহস্যজনক ছিল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কার্পাথিয়ানে পাওয়া "কোসি-সারগাসো গোষ্ঠী" নামে পরিচিত জীবাশ্মগুলো অবশেষে প্রমাণ করেছিল যে এই গোষ্ঠীটি কার্পাথিয়ান অববাহিকায় সৃষ্ট হয়েছিল, সেখান থেকে সিসিলি পেরিয়ে মধ্য আটলান্টিকের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছিল যেখানে এটি সারগাসো সাগরের আধুনিক প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়েছিল। [৩৮]

ইউরোপীয় ইল মাছের উৎপত্তি ভূমির অবস্থান কয়েক দশক ধরে অজানা ছিল । ১৯ শতকের গোড়ার দিকে আবিষ্কৃত হয়েছিল যে দক্ষিণ সারগাসো সাগর হল ইউরোপীয় এবং আমেরিকান উভয় ধরণের ইল মাছের উৎপত্তি ভূমি। তারপর প্রথমটি ৫,০০০ কিমি (৩,১০০ মা) এর বেশি এবং দ্বিতীয়টি ২,০০০ কিমি (১,২০০ মা) এর বেশি পরিযান করেছে। মহাসাগরীয় স্রোত যেমন উপসাগরীয় প্রবাহ ইল লার্ভাকে সরগাসো সাগর থেকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার চরাঞ্চলে বয়ে এনেছে। [৩৯] সাম্প্রতিক বিতর্কিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে লার্ভা এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয় অবস্থায় ইল মাছেরা সম্ভবত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে দিক নির্ধারণ করতে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি ব্যবহার করে। [৪০]

জলবায়ু[সম্পাদনা]

Map of Caribbean showing seven approximately parallel westward-pointing arrows that extend from east of the Virgin Islands to Cuba. The southern arrows bend northward just east of the Dominican Republic before straightening out again.
আটলান্টিক মহাসাগরে বাণিজ্য বাতাসে তরঙ্গ — রূপান্তরকারী বাতাসের অঞ্চলগুলো যেগুলো চলমান বায়ু হিসাবে একই ট্র্যাক ধরে চলে — বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে যা ঘূর্ণিঝড় গঠনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
কলম্বিয়ার সান আন্দ্রে দ্বীপপুঞ্জের ক্রান্তীয় সিক্ত এবং শুষ্ক আবহাওয়া।

জলবায়ু ভূপৃষ্ঠের পানির এবং পানির স্রোতগুলোর পাশাপাশি বাতাসের তাপমাত্রা দ্বারা প্রভাবিত হয়। সমুদ্রের তাপ সংরক্ষণ এবং নিস্তারণের বিশাল ক্ষমতার কারণে সামুদ্রিক জলবায়ু বেশি পরিমিত এবং অভ্যন্তরীণ জলবায়ুর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ঋতুভিত্তিক তারতম্যযুক্ত। উপকূলীয় আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য এবং পানির তাপমাত্রা থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনুমান করা যায়। [৩]

বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতার বেশীরভাগই মহাসাগরের থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। জলবায়ু অঞ্চলগুলো অক্ষাংশের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়; উষ্ণতম অঞ্চলটি আটলান্টিকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে উত্তরে প্রসারিত। শীতলতম অঞ্চলগুলো উচ্চ অক্ষাংশে রয়েছে, শীতলতম অঞ্চলগুলো সামুদ্রিক বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত। বিভিন্ন অঞ্চলে উষ্ণ এবং ঠান্ডা পানি পরিবহণের মাধ্যমে মহাসাগরীয় স্রোত জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। এই স্রোতগুলোর উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বায়ু শীতল বা উষ্ণ হয়ে সংলগ্ন স্থলভাগকে প্রভাবিত করে। [৩]

উপসাগরীয় প্রবাহ এবং এর ইউরোপের দিকের উত্তর অংশ, উত্তর আটলান্টিক প্রবাহ জলবায়ুকে কিছুটা প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উপসাগরীয় প্রবাহ উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলরেখা বরাবর শীতকালের তাপমাত্রা খুব কমতে দেয় না, তাই মধ্যভাগের তুলনায় উপকূলে শীতকালীন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে। উপসাগরীয় প্রবাহ ফ্লোরিডা উপদ্বীপের তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন হতে দেয় না। উচ্চ অক্ষাংশে উত্তর আটলান্টিক প্রবহ সমুদ্রের ওপরে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে তোলে, তাই ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের জলবায়ু মৃদু এবং আকাশ মেঘলা থাকে, অথচ একই উচ্চ অক্ষাংশে অন্যান্য জায়গাগুলো শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা হয়। ঠান্ডা পানির স্রোত পূর্ব কানাডার উপকূল (নিউফাউন্ডল্যান্ড অঞ্চলের গ্র্যান্ড ব্যাংকস) এবং আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ভারী কুয়াশায তৈরী করে। সাধারণত, বায়ু স্থলভাগের উপর আর্দ্রতা পরিবহন করে।[৩]

প্রাকৃতিক বিপর্যয়[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে আইসবার্গ এ২২এ

প্রতি শীতে আইসল্যান্ডীয় নিম্নচাপ ঘন ঘন ঝড়ের সৃষ্টি করে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ড ব্যাংকগুলোর কাছে জাহাজ পথ বরাবর হিমশৈল দেখতে পাওয়া যায়। বরফের মরসুমটি মেরু অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘতর তবে সেসব অঞ্চলে খুব কম জাহাজ চলাচল করে।[৪১]

গ্রীষ্ম এবং শরৎকালে উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিমাঞ্চলে হ্যারিকেনের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী বায়ু বৈষম্য এবং দুর্বল নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের জন্য দক্ষিণ আটলান্টিকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বিরল। [৪২]

ভূতত্ত্ব এবং পাত সঞ্চালন[সম্পাদনা]

প্যানেজিয়ার ভাঙ্গনের ফলে আটলান্টিক মহাসাগর তিনটি পর্যায়ে উন্মুক্ত হয়েছিল

আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ মূলত বেসাল্ট এবং গ্যাব্রো দিয়ে তৈরি ঘন মাফিক মহাসাগরীয় ভূত্বকে গঠিত এবং তার ওপর রয়েছে সূক্ষ্ম কাদামাটি, পলি এবং সিলিকার ক্ষর। মহাদেশীয় প্রান্ত এবং মহাদেশীয় তাকে ঘনত্ব কম, তবে পুরু ফেলসিক মহাদেশীয় শিলা রয়েছে যা সমুদ্রতলের চেয়ে অনেক বেশি পুরানো। আটলান্টিকের প্রাচীনতম সামুদ্রিক ভূত্বকটি ১৪৫ মিলিয়ন বছরের পুরানো এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল এবং উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে বা দক্ষিণ আটলান্টিকের দুপাশে অবস্থিত। [৪৩]

অনেক জায়গায়, মহাদেশীয় বালুচর এবং মহাদেশীয় নতি পুরু পলির স্তরে আবৃত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মহাসাগরের উত্তর আমেরিকার দিকে, ফ্লোরিডা এবং বাহামাসের মতো উষ্ণ অগভীর পানিতে প্রচুর কার্বোনেট জমা হয়, তবে জর্জেস তীরের মতো অগভীর বালুচর অঞ্চলে নদীর পানির মোটা বালু এবং পলি দেখতে পাওয়া যায়। প্লাইস্টোসিন বরফের যুগে মোটা বালি, পাথর এবং নুড়ি নোভা স্কটিয়ার উপকূল বা মাইন উপসাগর উপকূলের মতো কিছু অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছিল।

মধ্য আটলান্টিক[সম্পাদনা]

উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার মধ্যবর্তী মধ্য আটলান্টিকে প্যানিজিয়ার বিচ্ছেদ শুরু হয়েছিল। ট্রায়াসিক যুগের শেষের দিকে এবং জুরাসিক যুগের শুরুর দিকে অববাহিকা উন্মুক্ত হয়েছিল। এই সময়কালে আটলাস পর্বতমালার উত্থানের প্রথম পর্যায়টিও দেখা যায়।

অতিমহাদেশ প্যানজিয়ার প্রথম ভাঙ্গনের সময়ে আটলান্টিক মহাসাগর উন্মুক্ত হতে শুরু করে। উভয়ই ঘটনার শুরু হয়েছিল মধ্য আটলান্টিক ম্যাগম্যাটিক প্রদেশ (সিএএমপি) এর বিস্ফোরণের ফলে, যা পৃথিবীর অন্যতম বড় বিলুপ্তির ঘটনা- ট্রায়াসিক–জুরাসিক বিলুপ্তির ঘটনার সময়ে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্‍ আগ্নেয় প্রদেশ ছিল।[৪৪]

মধ্য আমেরিকার সংযোগস্থল গঠনের ফলে প্লিওসিনের শেষে মধ্য আমেরিকার সাগরমুখ বন্ধ হয়ে যায় । সংযোগস্থল গঠনের ফলে অনেক স্থলচর প্রাণীকে স্থানান্তরিত ও বিলুপ্ত হতে হয় যা বৃহৎ আমেরিকান বিনিময় নামে পরিচিত; কিন্তু সমুদ্রপথ বন্ধ হওয়ায় "বৃহৎ আমেরিকান বিচ্ছেদ" ঘটে যা আটলান্টিক এবং প্রশান্ত উভয় মহাসাগরে সমুদ্রের স্রোত, লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। সংযোগস্থলের উভয় পক্ষের সামুদ্রিক জীব বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। [৪৫]

 উত্তর আটলান্টিক[সম্পাদনা]

ভূতাত্ত্বিকভাবে, উত্তর আটলান্টিক দক্ষিণে নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং আইবেরিয়ায় দুটি সংলগ্ন সীমা এবং উত্তরে সুমেরু ইউরেশিয়ান অববাহিকার মধ্যে অবস্থিত। উত্তর আটলান্টিক তার পূর্বসূরি, আইপেটাস মহাসাগরের সীমানার খুব কাছে উন্মুক্ত হয়েছিল এবং মধ্য আটলান্টিক থেকে ছয়টি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে: আইবেরিয়া - নিউফাউন্ডল্যান্ড, পোরকুপাইন- নর্থ আমেরিকা, ইউরেশিয়া-গ্রিনল্যান্ড, ইউরেশিয়া – উত্তর আমেরিকা।

সমুদ্রতলদেশ প্রসারণের ফলে ভূত্বক বৃদ্ধি পায় এবং খাত ও পলল অববাহিকার সৃষ্টি হয়। দ্য রকাল খাত ১০৫ থেকে ৮৪ মিলিয়ন বছর আগে উন্মুক্ত হয়েছিল।[৪৬]

প্রায় ৬১ মিলিয়ন বছর আগে ল্যাব্রাডর সাগর উন্মুক্ত করে প্রসারণ শুরু হয়েছিল যা ৩৬ মিলিয়ন বছর আগে অবধি অব্যাহত ছিল। ভূতাত্ত্বিকগণ দুটি ম্যাগম্যাটিক পর্যায়ের উল্লেখ করেন। একটি ৬২ থেকে ৫৮ মিলিয়ন বছর আগে গ্রীনল্যান্ডকে উত্তর ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করে এবং দ্বিতীয়টি ৫৬ থেকে ৫২ মিলিয়ন বছর আগে এই বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ করে।

৬২ মিলিয়ন বছর আগে, আইসল্যান্ড একটি বিশেষ ধরণের ঘন ম্যান্টল উদ্গিরণের ফলে গঠিত হয়েছিল। এই সময়কালে উদ্গিরিত হওয়া প্রচুর পরিমাণে ব্যাসাল্ট বাফিন দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ড, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ এবং স্কটল্যান্ডে পাওয়া যায়। [৪৬] উত্তর আটলান্টিক উন্মুক্ত হওয়ার ফলে উপকূল বরাবর মহাদেশীয় ভূত্বকের উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঘন বেসাল্ট দিয়ে গঠিত ৭ কিমি পুরু হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের গানবজর্ন ক্ষেত্রটি দ্বীপের উচ্চতম অংশ। এটি এতই উঁচু যে এটির পাদদেশে পুরানো ম্যাসোজোইক পলল শিলা দেখা যায়। এটি পশ্চিম স্কটল্যান্ডের উঁচু হেব্রাইডেেস পলল শিলার উপরে পুরানো লাভা ক্ষেত্রগুলোর অনুরূপ। [৪৬]

দক্ষিণ আটলান্টিক[সম্পাদনা]

পশ্চিম গন্ডোয়ানার (দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকা) বিভক্তি ক্রিটেসিয়াস যুগের প্রাথমিক পর্যায়ে দক্ষিণ আটলান্টিক গঠনের সূচনা করেছিল। দুই মহাদেশের উপকূলরেখা আপাতদৃষ্টিতে একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সামঞ্জস্য প্রথম চোখে পড়ে যখন মানচিত্রে প্রথম দক্ষিণ আটলান্টিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে প্রথম কম্পিউটার-সহায়ক প্লেট টেকটোনিক পুনর্গঠনের সময় এটি একটি বিষয় ছিল। [৪৭] [৪৮] এই চমৎকার সামঞ্জস্য, তারপর থেকে কিছু সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং পরে কম্পিউটার-সহায়ক পুনর্গঠনে উত্তরে-প্রসারণকারী ভাঙনকে বিবেচনা করার জন্য উপকূলের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন বিকৃতি অঞ্চল প্রচলন করা হয়েছে। উভয় মহাদেশীয় প্লেটকে সাব-প্লেটে বিভক্ত করার জন্য আন্তঃ-মহাদেশীয় চ্যুতি এবং বিকৃতির প্রচলন করা হয়েছে। [৪৯]

ভূতাত্ত্বিকভাবে দক্ষিণ আটলান্টিককে চারটি বিভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে: রোমানচে চ্যুতি অঞ্চলের (আরএফজেড) ১০°উ থেকে নিরক্ষীয় বিভাগ; আরএফজেড থেকে ফ্লোরিয়ানোপোলিস চ্যুতি অঞ্চলের(এফএফজেড, ওয়ালভিস শৈলশ্রেণী এবং রিও গ্র্যান্ডে উচ্চভূমির উত্তরে) মধ্যে কেন্দ্রীয় বিভাগ; এফএফজেড থেকে আগুলহাস-ফকল্যান্ড চ্যুতি অঞ্চলের (এএফএফজেড) মধ্যে দক্ষিণ বিভাগ; এবং এএফএফজেডের দক্ষিণে ফকল্যান্ড বিভাগ। [৫০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Eakins ও Sharman 2010
  2. Dean 2018-12-21T17:15:00–05:00, Josh। "An inside look at the first solo trip to the deepest point of the Atlantic"Popular Science (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-২২ 
  3. U.S. Navy 2001
  4. Mangas, Julio; Plácido, Domingo (১৯৯৮)। La Península Ibérica en los autores griegos: de Homero a Platón – SLG / (Sch. A. R. 1. 211)। Editorial Complutense। পৃষ্ঠা 283–। 
  5. "Ἀτλαντίς, DGE Diccionario Griego-Español"dge.cchs.csic.es। ১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. Hdt. 1.202.4
  7. Oxford Dictionaries 2015
  8. Janni 2015
  9. Ripley ও Anderson Dana 1873
  10. Steele, Ian Kenneth (১৯৮৬)। The English Atlantic, 1675–1740: An Exploration of Communication and Community (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 978-0-19-503968-9 
  11. "Pond"Online Etymology Dictionary। Douglas Harper। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  12. Wellington, Nehemiah (১ জানুয়ারি ১৮৬৯)। Historical Notices of Events Occurring Chiefly in the Reign of Charles I। Richard Bentley। 
  13. IHO 1953
  14. USGS: Mapping Puerto Rico Trench
  15. "Atlantic Ocean"Five Deeps Expedition (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-২৪ 
  16. June 2010, Remy Melina 04। "The World's Biggest Oceans and Seas"livescience.com 
  17. "World Map / World Atlas / Atlas of the World Including Geography Facts and Flags - WorldAtlas.com"WorldAtlas 
  18. "List of seas"listofseas.com 
  19. World Heritage Centre: Mid-Atlantic Ridge
  20. Levin ও Gooday 2003
  21. The Geological Society: Mid-Atlantic Ridge
  22. Kenneth J. Hsü (১৯৮৭)। The Mediterranean Was a Desert: A Voyage of the Glomar Challengerআইএসবিএন 978-0-691-02406-6 
  23. DeMets, Gordon এবং Argus 2010
  24. DeMets, Gordon এবং Argus 2010
  25. NOAA: Timeline
  26. Hamilton-Paterson, James (১৯৯২)। The Great Deep 
  27. Marsh এবং অন্যান্য 2007
  28. Emery ও Meincke 1986
  29. Emery ও Meincke 1986
  30. Smethie এবং অন্যান্য 2000
  31. Smethie এবং অন্যান্য 2000
  32. Marchal, Waelbroeck এবং Colin de Verdière 2016
  33. Tréguier এবং অন্যান্য 2005
  34. Böning এবং অন্যান্য 2006
  35. Stramma ও England 1999
  36. Gordon ও Bosley 1991
  37. Lüning 1990
  38. Jerzmańska ও Kotlarczyk 1976
  39. Als এবং অন্যান্য 2011
  40. "Do Baby Eels Use Magnetic Maps to Hitch a Ride on the Gulf Stream?"Scientific American। ১৭ এপ্রিল ২০১৭। ১৯ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৭ 
  41. "ABOUT INTERNATIONAL ICE PATROL (IIP)"www.navcen.uscg.gov 
  42. Landsea, Chris (১৩ জুলাই ২০০৫)। "Why doesn't the South Atlantic Ocean experience tropical cyclones?"Atlantic Oceanographic and Meteorological Laboratory। National Oceanographic and Atmospheric Administration। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৮ 
  43. Fitton, Godfrey; Larsen, Lotte Melchior (১৯৯৯)। "The geological history of the North Atlantic Ocean"। পৃষ্ঠা 10, 15। 
  44. Blackburn এবং অন্যান্য 2013
  45. Lessios 2008
  46. Fitton ও Larsen 1999
  47. Eagles 2007
  48. Bullard, Everett এবং Smith 1965
  49. Seton এবং অন্যান্য 2012
  50. Torsvik এবং অন্যান্য 2009