দোহা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

দোহা যা হল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতারের রাজধানী। এটি কাতারের সবচেয়ে জনবহুল শহর। এটির জনসংখ্যা আনুমাণিক ১,৮৫০,০০০ জন যারা শুধু মুল শহরে বসবাস করে। মরুভুমিতে অবস্থিত জনবসতি হিসেব করে মোট জনসংখ্যা প্রায় ২.৪ মিলিওন। এই শহর কাতার দেশটির পূর্বে পারস্য সাগরের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। এটি কাতারের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল শহর। এর ৮০ শতাংশ লোক শহরের প্রাণকেন্দ্রে অথবা শহরতলিতে বসবাস করে। দোহা কাতারের প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চল।

দোহা শহরটির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮২০ সালে কাতারের অন্য একটি শহর আলবিদ্দা এর উপশহর হিসেবে। ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এটিকে কাতারের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি কাতারের বাণিজ্যিক অঞ্চল হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উদীয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চল। যার জন্য বিশ্বায়ন ও বিশ্বের শহর গবেষণা নেটওয়ার্ক এটিকে আন্তরজাতিক শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দোহা শহরটি শিক্ষাঞ্চল হিসেবেও সুপ্রতিষ্ঠিত। এটিকে ঘিরে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠাণ গড়ে উঠেছে।

দোহা অনেক আন্তরজাতিক অনুষ্ঠানের সফল আয়োজক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। এটি বিশ্ব লেনদেন সংস্থার অধিনে অনুষ্ঠিত দোহা উন্নয়ন কার্যক্রমের মন্ত্রীপরিষদ সমন্নীত বৈঠকের প্রথম সফল আয়োজক। দোহা অনেক ক্রীড়া অনুষ্ঠানেরও সফল আয়োজক যার মধ্যে রয়েছে ২০০৬ সালের এসিয়ান গেমস্, ২০১১ সালের প্যান আরব গেমস্ এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে এ এফ ছি গেমস্ এর অনেক খেলা দোহাতে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব তেলজাত পরিষদের ২০ তম আন্তর্জাতিক সভাও দোহাতে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১২ সালের ইউ এন এফ ছি ছি ছি এর জলবায়ু সম্মেলনের ও সফল আয়োজক দোহা। উল্লেখ্য কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক খেলার ভেণ্যু হিসেবে দোহাকে তৈরী করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের এপ্রিলে ১৪০ তম আন্ত-দেশীয় সংসদ সমিতির সমাবেশের সফল আয়োজক ছিল কাতারের দোহা।

২০১৫ সালের মে মাসে, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে দোহাকে নতুন সপ্তাশ্চর্যের শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় যেখানে দোহার সাথে এই গৌরব এর সম্মান পেয়েছিল ভিগান, লা পায, ডারবান, হাভানা, বৈরুত, কুয়ালালামপুর।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]