ভিডিও গেম

ভিডিও গেমস হচ্ছে এক ধরনের ইলেকট্রনিক গেমস যা ব্যবহারকারীর সাথে ভিডিও ডিভাইসে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভিডিও গেমসকে আজকাল তার জনপ্রিয়তার জন্যে যন্ত্রে ডিসপ ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। ভিডিও গেমস খেলার জন্য যে সকল ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয় প্লাটফর্ম। যেমন পার্সোনাল কম্পিউটার এবং ভিডিও গেম কনসোল। তাছাড়া ভিডিও গেমস ব্যবহৃত হয় ইনপুট ডিভাইজ। যেমন পি.এস.পিতে খেলার জন্য ব্যবহৃত গেম কন্ট্রোলার, জয়স্টিক। কম্পিউটারে খেলার জন্য কী-বোর্ড ও মাউস ব্যবহৃত হয়।[১][২][৩]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ভিডিও গেমের ইতিহাস জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৪০-এর দশকে, যখন থমাস টি. গোল্ডস্মিথ জুনি. এবং এস্টেল রে ম্যানন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্টে আবেদন করে একটি আবিস্কারের জন্য যা তারা বর্ণনা করে ''বিনোদনমূলক ক্যাথোড রে টিউব ডিভাইস''। কিন্তু ভিডিও গেম জনপ্রিয়তায় পৌছায় না সত্তুর আশির দশকের আগে যতদিননা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ '''আর্কেড গেম্স''', কনসোল গেম্স, হোম কম্পিউটার গেমস্ এর সাথে পরিচিত হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত, ভিডিও গেম বিনোদনের জন্য একটি জনপ্রিয় মাধ্যম এবং আধুনিক সংস্কৃতির অঙ্গ। ২০১৩ পর্যন্ত আট প্রজন্মের ভিডিও গেম কনসোল রয়েছে।
উৎপত্তি
[সম্পাদনা]"Tennis for Two" (১৯৫৮), একটি প্রাথমিক অ্যানালগ কম্পিউটার গেম যা প্রদর্শনের জন্য একটি অস্কিলোস্কোপ ব্যবহার করত
"Spacewar!" (১৯৬২), একটি প্রাথমিক মেইনফ্রেম কম্পিউটার গেম, যা PDP-1 কম্পিউটারে চালানো হচ্ছিল
"Pong" (১৯৭২), প্রাথমিক আর্কেড ভিডিও গেমগুলোর মধ্যে একটি প্রাথমিক ভিডিও গেমগুলো ব্যবহার করত ইন্টারেক্টিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেগুলোর বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শন ব্যবস্থা ছিল। সবচেয়ে প্রাথমিক উদাহরণটি ১৯৪৭ সালে দেখা যায়—একটি "ক্যাথোড-রে টিউব আমিউজমেন্ট ডিভাইস" ২৫ জানুয়ারি ১৯৪৭ তারিখে পেটেন্টের জন্য ফাইল করা হয়েছিল, যার উদ্ভাবক ছিলেন থমাস টি. গোল্ডস্মিথ জুনিয়র এবং এস্তেল রে মান। এটি ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৮ তারিখে ইউ.এস. পেটেন্ট ২৪৫৫৯৯২ হিসেবে অনুমোদিত হয়। রাডার প্রদর্শন প্রযুক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত, এটি একটি অ্যানালগ ডিভাইস ছিল যা ব্যবহারকারীকে একটি স্ক্রিনের ডটকে নিয়ন্ত্রণ করতে দিত, যেন এটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মতো মনে হয়।
লক্ষ্যবস্তুগুলো স্ক্রিনে স্থির কাগজের ছবির আকারে স্থাপন করা হতো। অন্যান্য প্রাথমিক উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্রিস্টোফার স্ট্রেচির দ্য্রাফটস গেম, ১৯৫১ সালের ব্রিটেন উৎসবে নির্মিত "নিমরড" কম্পিউটার; আলেকজান্ডার এস. ডগলাসের ১৯৫২ সালের "OXO" টিক-ট্যাক-টো কম্পিউটার গেম; ১৯৫৮ সালে উইলিয়াম হিগিনবোথমের "Tennis for Two"; এবং ১৯৬২ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ছাত্র মার্টিন গ্রেটজ, স্টিভ রাসেল এবং ওয়েইন উইটানের দ্বারা লেখা "Spacewar!" যা DEC PDP-1 কম্পিউটারে চালানো হতো। প্রতিটি গেমের প্রদর্শনের পদ্ধতি আলাদা ছিল: "NIMROD" খেলায় আলো ব্যবহার করত, "OXO" গ্রাফিকাল ডিসপ্লে ব্যবহার করত, "Tennis for Two" অস্কিলোস্কোপ ব্যবহার করত এবং "Spacewar!" PDP-1 এর ভেক্টর ডিসপ্লে ব্যবহার করত।
নোলান বুশনেল ২০১১ সালে গেম ডেভেলপারস কনফারেন্সে বক্তৃতা দিচ্ছেন রালফ এইচ. বের (বাম দিকে, ২০০৯) এবং নোলান বুশনেল (ডান দিকে, ২০১৩) উভয়কেই "ভিডিও গেমের পিতা" বলা হয়েছে
এই আবিষ্কারগুলো আধুনিক ভিডিও গেমের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ১৯৬৬ সালে, স্যান্ডার্স অ্যাসোসিয়েটস-এ কাজ করার সময়, রালফ এইচ. বের একটি সিস্টেম উদ্ভাবন করেন যা টেলিভিশন স্ক্রিনে একটি সাধারণ টেবিল টেনিস খেলা খেলতে সাহায্য করত। কোম্পানির অনুমোদনের পরে, বের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেন, যাকে "ব্রাউন বক্স" বলা হয়। স্যান্ডার্স বেরের উদ্ভাবনগুলো পেটেন্ট করেছিল এবং ম্যাগনাভক্সকে লাইসেন্স প্রদান করেছিল, যা প্রথম হোম ভিডিও গেম কনসোল, "ম্যাগনাভক্স ওডিসি" (১৯৭২ সালে মুক্তি পায়) হিসেবে বাজারজাত করেছিল।
আলাদাভাবে, নোলান বুশনেল এবং টেড ড্যাবনি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান "Spacewar!" দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ছোট কয়েন-অপারেটেড আর্কেড কেবিনেটে কম খরচে একই ধরনের গেম তৈরি করেন। এটি ১৯৭১ সালে "কম্পিউটার স্পেস" নামে মুক্তি পায়, যা প্রথম আর্কেড ভিডিও গেম হিসেবে পরিচিত। বুশনেল এবং ড্যাবনি পরে "অ্যাটারি, ইনক." প্রতিষ্ঠা করেন এবং অ্যালান অ্যালকর্নের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় আর্কেড গেম ১৯৭২ সালে তৈরি করেন, যা ছিল পিং-পং স্টাইলের "Pong", যা সরাসরি ওডিসির টেবিল টেনিস গেম থেকে অনুপ্রাণিত। আটারি হোম সংস্করণেও "Pong" তৈরি করে, যা ১৯৭৫ সালের ক্রিসমাসে মুক্তি পায়। ওডিসি এবং "Pong" উভয়েরই সাফল্য, আর্কেড গেম এবং হোম মেশিন উভয় ক্ষেত্রেই, ভিডিও গেম শিল্পের সূচনা করে। বের এবং বুশনেল উভয়কেই তাদের অবদানের জন্য "ভিডিও গেমের পিতা" হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
মূল প্লাটফর্মসমূহ
[সম্পাদনা]
কম্পিউটার গেম্স
[সম্পাদনা]যেসব গেমস সাধারণত কম্পিউটারে খেলা হয়ে থাকে তাকে কম্পিউটার গেমস্ বলে। বর্তমানে ডেস্কটপ কম্পিউটারে গেমস খেলা, বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত গেম সফটওয়্যার হিসেবে থাকে। এটি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে অথবা কিনে খেলা যায়। এছাড়াও গেমসের বিভিন্ন সিডি বা ডিস্ক পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন গেমসও রয়েছে।
আর্কেড গেম্স
[সম্পাদনা]আর্কেড গেম্স (ইংরেজি: Arcade games) (অথবা কয়েন-আপ) হচ্ছে মুদ্রা-নির্ভর বিনোদন-মূলক যন্ত্র, যা সাধারণত শুঁড়িখানা এবং বিভিন্ন বিনোদন দানকারী স্থাপনা(য়) স্থলভিষিক্ত থাকে। অধিকাংশই ভিডিও গেম, পিনবল যন্ত্র এবং যান্ত্রিক বৈদ্যুতিক গেম (যেমন ক্লাও ক্রেনস্)।
কনসোল গেম্স
[সম্পাদনা]কনসোল গেমস হচ্ছে এমন গেমস যা কিছু বিশেষ ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রে খেলা হয়ে থাকে। এসব যন্ত্রকে গেম কনসোল বলা হয়ে থাকে। কিছু উল্লেখযোগ্য গেম কনসোল হলঃ এক্সবক্স, প্লেস্টেশন, নিনটেন্ডো, ডব্লিউআইআই ইত্যাদি।
হ্যান্ডহেল্ড গেম্স
[সম্পাদনা]হ্যান্ডহেল্ড গেমস হল এমন গেমস যা এক হাতে বহনযোগ্য এক প্রকার ছোট যন্ত্রে খেলা হয়ে থাকে। এসব যন্ত্রকে হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস বলে। এ যন্ত্রে একটি স্ক্রিন, একটি স্পীকার এবং কিছু বাটন থাকে। ১৯৭০ সালের দিকে এসব গেমের উৎপত্তি ঘটে। ২০০০ সাল পর্যন্ত এসব গেম অনেক জনপ্রিয় ছিল। মোবাইল গেমসের আবিষ্কারের পর এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। পরবর্তীতে কম্পিউটার গেমস, মোবাইল গেমস এবং কনসোল গেমসের উন্নতি ঘটায় এ জাতীয় গেম জনপ্রিয়তা হারায়। যেমন: গেইম বয়।
মোবাইল গেইমস
[সম্পাদনা]যেসমস্ত গেইম মোবাইল এ খেলা হয়ে থাকে তাকে মোবাইল গেইম বলে। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এ জাতীয় গেইমের উদ্ভব ঘটে। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত মোবাইল গেইম হলো টেট্রিস (Tetris) যা Hagenuk MT-2000 ফোনে ১৯৯৪ সালে প্রথম পাওয়া যায়। এরপর নোকিয়া তাদের নোকিয়া ৬৬১০ (Nokia 6610) ফোনে Snake গেমটি যুক্ত করে যা পরবর্তীতে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
উন্নয়ন
[সম্পাদনা]পরিবর্তন
[সম্পাদনা]প্রতারণা
[সম্পাদনা]ত্রুটি
[সম্পাদনা]তত্ত্ব
[সম্পাদনা]সামাজিক দিকসমূহ
[সম্পাদনা]জনসংখ্যা পরিসংখ্যন
[সম্পাদনা]একাধিক গেমপ্লেয়ার
[সম্পাদনা]সুবিধাসমূহ
[সম্পাদনা]বিতর্ক
[সম্পাদনা]ব্যবসায়িক দিকসমূহ
[সম্পাদনা]সমালোচনা
[সম্পাদনা]পাদটীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "ভিডিও গেম"। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "ভিডিও গেম কী?"। টেকটার্গেট। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "ভিডিও গেম কনসোল কী?"। লাইফওয়্যার। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫।