পথের পাঁচালী (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পথের পাঁচালী
পথের পাঁচালী চলচ্চিত্রের পোস্টার.jpg
ডিভিডি কভার
পরিচালক সত্যজিৎ রায়
প্রযোজক পশ্চিমবঙ্গ সরকার
চিত্রনাট্যকার সত্যজিৎ রায়
উৎস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক 
পথের পাঁচালী
অভিনেতা কানু বন্দ্যোপাধ্যায়
করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়
সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়
উমা দাশগুপ্ত
চুনীবালা দেবী
রেবা দেবী
তুলসী চক্রবর্তী
সুরকার রবিশঙ্কর
চিত্রগ্রাহক সুব্রত মিত্র
সম্পাদক দুলাল দত্ত
স্টুডিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার
পরিবেশক অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন(১৯৫৫)
এডওয়ার্ড হ্যারিসন (১৯৫৮)
মার্চেন্ট আইভরি প্রোডাকসন্স
সনি পিকচার্স ক্লাসিকস (১৯৯৫)[১]
মুক্তি
  • ২৬ আগস্ট ১৯৫৫ (১৯৫৫-০৮-২৬) (India)
দৈর্ঘ্য ১১২-১২৬ মিনিট[পাদটীকা ১]
দেশ ভারত
ভাষা বাংলা
নির্মাণব্যয় ৭০,০০০-১,৫০,০০০[পাদটীকা ২] (US$১৪,৬০০–৩১,৩০০)[পাদটীকা ৩]

পথের পাঁচালী ১৯৫৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রযোজিত ও সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্রবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস পথের পাঁচালী অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। অপু ত্রয়ী চলচ্চিত্র-সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালীর মুখ্য চরিত্র অপুর শৈশবকে কেন্দ্র করে বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে বাংলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জীবনধারা চিত্রায়িত করা হয়েছে।

এই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সমস্যা থাকায় নির্মাণকার্য্য ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ তিন বছর পরে তা সম্পূর্ণ হয়। কম বাজেটে অপেশাদার অভিনেতা ও অনভিজ্ঞ শিল্পীদের নিয়ে এই চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। সেতার বাদক রবিশঙ্কর এই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগ ব্যবহার করে চলচ্চিত্রের সঙ্গীতাবহ নির্মাণ করেন। সুব্রত মিত্র চিত্রগ্রহণ ও দুলাল দত্ত সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩রা মে নিউ ইয়র্ক শহরের মিউজিয়াম অব মডার্ণ আর্টের একটি প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ও পরে সেই বছর কলকাতা শহরে মুতি লাভ করলে দর্শকদের প্রশংসা লাভ করে। সমালোচকরা চলচ্চিত্রটিতে প্রদর্শিত বাস্তববাদ, মানবতা ও গুণমানকে প্রশংসা করলেও অনেকে এর মন্থর লয়কে চলচ্চিত্রটির খামতি বলে মনে করেন।

অপুর জীবন সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত (১৯৫৬) এবং অপুর সংসার (১৯৫৯) নামক অপু ত্রয়ী চলচ্চিত্র-সিরিজের পরবর্তী দুইটি চলচ্চিত্রে দেখানো হয়। পথের পাঁচালী ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে সামাজিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে সমান্তরাল চলচ্চিত্রের ধারা তৈরি করে। স্বাধীন ভারতে নির্মিত পথের পাঁচালী ছিল প্রথম চলচ্চিত্র যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ টানতে সক্ষম হয়। এটি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৫৬ কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ মানব দলিল পুরস্কার সহ বহু পুরস্কার লাভ করে, যার ফলে সত্যজিৎ রায় ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র-নির্মাতাদের মধ্যে একজন বলে গণ্য হন।

কাহিনীসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে নিশ্চিন্দিপুর নামক বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অপু (সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়) ও তাঁর পরিবারের জীবনযাত্রার কথাই পথের পাঁচালী ছবির মুখ্য বিষয়। অপুর বাবা পুরোহিত হরিহর রায় (কানু বন্দ্যোপাধ্যায়) নিশ্চিন্দিপুরের পৈতৃক ভিটেয় তাঁর নাতিবৃহৎ পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তিনি পেশায় পুরোহিত। আয় সামান্য। লেখাপড়া জানেন। তাই কিছু ভাল যাত্রাপালা লিখে অধিক উপার্জনের স্বপ্ন দেখেন। বাস্তবে তিনি অত্যন্ত ভালমানুষ এবং লাজুক প্রকৃতির লোক। সকলে সহজেই তাকে ঠকিয়ে নেয়। পরিবারের তীব্র অর্থসংকটের সময়েও তিনি তাঁর প্রাপ্য বেতন আদায় করার জন্য নিয়োগকর্তাকে তাগাদা দিতে পারেন না। হরিহরের স্ত্রী সর্বজয়া (করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়) তাঁর দুই সন্তান দুর্গা (উমা দাশগুপ্ত) ও অপু এবং হরিহরের দূর সম্পর্কের বিধবা পিসি ইন্দির ঠাকরুণের (চুনীবালা দেবী) দেখাশোনা করেন। দরিদ্রের সংসার বলে নিজের সংসারে বৃদ্ধা ন্যুব্জদেহ ইন্দির ঠাকরুনের ভাগ বসানোটা ভাল চোখে দেখেন না সর্বজয়া। সর্বজয়ার অত্যাচার অসহ্য বোধ হলে ইন্দির মাঝে মাঝে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। দুর্গা তার ধনী প্রতিবেশীর বাগান থেকে ফলমূল চুরি করে আনে ও ইন্দির ঠাকরুনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খায়। একদিন, সেই প্রুতিবেশীর স্ত্রী এসে দুর্গাকে একটি পুঁতির মালা চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেন ও এই চুরির প্রবণতাকে উৎসাহ দেওয়ার অপরাধে সর্বজয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে্ন।

ভাইবোন অপু ও দুর্গার মধ্যে খুব ভাব। দুর্গা দিদি। সেও মায়ের মতোই অপুকে ভালবাসে। তবে মাঝেমধ্যে তাকে খেপিয়ে তুলতেও ছাড়ে না। তারা কখনও কখনও চুপচাপ গাছতলায় বসে থাকে, কখনও মিঠাইওয়ালার পিছু পিছু ছোটে, কখনও ভ্রাম্যমাণ বায়োস্কোপ-ওয়ালার বায়োস্কোপ দেখে বা যাত্রাপালা দেখে। সন্ধ্যাবেলা দু'জনে দূরাগত ট্রেনের বাঁশি শুনতে পেয়ে আনন্দ পায়। একদিন তারা বাড়িতে না বলে অনেক দূরে চলে আসে ট্রেন দেখবে বলে। কাশের বনে ট্রেন দেখার জন্য অপু-দুর্গার ছোটাছুটির দৃশ্যটি এই ছবি এক স্মরণীয় ক্ষণ। বাড়ি ফিরে এসে তারা ইন্দির ঠাকরুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

গ্রামে ভাল উপার্জন করতে সক্ষম না হয়ে হরিহর একটা ভাল কাজের আশায় শহরে যান। সর্বজয়াকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান যে, ভাল উপার্জন হলে ফিরে এসে ভাঙা বসতবাড়িটা সারিয়ে তুলবেন। হরিহরের অনুপস্থিতিতে তাঁদের অর্থসংকট তীব্রতর হয়। সর্বজয়া অত্যন্ত একা বোধ করতে থাকেন ও খিটখিটে হয়ে যেতে থাকেন। বর্ষাকালে একদিন দুর্গা অনেকক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাধায়। ওষুধের অভাবে তার জ্বর বেড়েই চলে ও শেষে এক ঝড়ের রাতে দুর্গা মারা যায়। এরপর একদিন হরিহর ফিরে আসেন। শহর থেকে যা কিছু এনেছেন, তা সর্বজয়াকে বের করে দেখাতে থাকেন। সর্বজয়া, প্রথমে চুপ করে থাকেন, পরে স্বামীর পায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হরিহর বুঝতে পারেন যে, তিনি তার একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছে। তারা গ্রাম ও পৈতৃক ভিটে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাত্রার তোড়জোড় শুরু হলে, অপু দুর্গার চুরি করা পুঁতির মালাটা আবিষ্কার করে। সে মালাটা ডোবার জলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, অপু বাবামায়ের সঙ্গে গোরুর গাড়িতে চড়ে নতুন এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলেছে।

শ্রেষ্ঠাংশে[সম্পাদনা]

নির্মাণ[সম্পাদনা]

উপন্যাস[সম্পাদনা]

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী বাংলা সাহিত্যের একটি ধ্রুপদী জীবনীমূলক উপন্যাস[১১]:১৭৩[১২]:২৭৭ ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে একটি সাময়িকপত্রে ধারাবাহিকভাবে উপন্যাসটি প্রকাশিত হতে শুরু করে[১৩]:৭৪ এবং ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় ।[১৪] উপন্যাসটিতে একটি দরিদ্র পরিবারের নিজের গ্রামের ভিটেতে টিকে থাকার লড়াই এবং সেই পরিবারের ছেলে অপুর বেড়ে ওঠা বর্ণিত হয়েছে। উপন্যাসের পরবর্তী অংশে বাবা-মায়ের সঙ্গে অপুর গ্রাম ছেড়ে যাত্রা ও কাশীবাসের কাহিনী রয়েছে, যা সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত নামক পরবর্তী চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে।[১৩]:৭৫

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সিগনেট প্রেসের চিত্রলেখ নকশাকার হিসেবে কাজ করার সময়, পথের পাঁচালী উপন্যাসটির একটি নতুন অখণ্ড সংস্করণের অলঙ্করণ করার সময়[১৩]:৫৮ বইটি পড়েন।[১৫]:২২-২৩ প্রেসের মালিক ডি. কে. গুপ্ত তাকে বলেন যে এই বইটি থেকে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব।[১৫]:২৩ ১৯৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দে সত্যজিৎ যখন চলচ্চির বানানোর কথা চিন্তাভাবনা শুরু করেন,[৯]:৩৯ তখন তিনি এই উপন্যাসের মানবতা ও গীতিধর্মিতার প্রভাবে এটিকে চলচ্চিত্র রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন।[১৬]:৩৩

চিত্রনাট্য[সম্পাদনা]

পথের পাঁচালী চলচ্চিত্রের কোন চিত্রনাট্য লেখা হয়নি। সত্যজিৎ রায়ের আঁকা ছবি ও টীকাগুলি থেকে এই চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।[১৫]:৪৪ তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রার সময় এই সকল নোটগুলি লেখেন।[১৫]:৪২

অপুর পাঁচালী বইতে সত্যজিৎ লিখেছেন যে তিনি চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে তিনি উপন্যাসের বেশ কিছু চরিত্রকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ও গল্পটিকেও কিছুতা রদবদল করেছিলেন।[১৫]:৪৫ উপন্যাসের শুরুর দিকেই গ্রামের মন্দিরে সকলের সামনেই ইন্দির ঠাকরুণের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু চলচ্চিত্রে অপু ও দুর্গা তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। চলচ্চিত্রের অপু ও দুর্গার ট্রেন দেখার জন্য দৌড়নোর দৃশ্যটিও উপন্যাসে নেই। বর্ষায় ভিজে প্রচণ্ড জ্বর বাঁধিয়ে দুর্গার মৃত্যু ঘটে বলে চলচ্চিত্রে দেখানো হলেও উপন্যাসে মৃত্যুর কারণ অজানাই রাখা হয়েছে। হরিহর রায়ের পরিবারের গ্রাম ত্যাগ দিয়ে চলচ্চিত্র শেষ হলেও উপন্যাস সেই ভাবে শেষ হয়নি।[১৩]:৭৫

অভিনয়[সম্পাদনা]

পথের পাঁচালী চলচ্চিত্র নির্মাণ হওয়ার আগেই কানু বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা ছিলেন। সত্যজিতের বন্ধু-পত্নী করুণা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ভারতীয় গণনাট্য সংঘের একজন অপেশাদার অভিনেত্রী ছিলেন। দুর্গার ভূমিকায় অভিনয় করার পূর্বে উমা দাশগুপ্ত কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। অপুর চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সত্যজিৎ পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সন্ধানে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেন, কিন্তু কোন বিজ্ঞাপনের মারফত আসা কোন ছেলেকেই তাঁর পছন্দ হয়নি, কিন্তু সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায় তাঁদের বাড়ির নিকটে সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় নামে একটি ছেলেকে লক্ষ্য করেন এবং অবশেষে অপুর চরিত্রে তাঁকেই পছন্দ করা হয়। ইন্দির ঠাকরুণের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সত্যজিৎ কলকাতার নিষিদ্ধ পল্লী থেকে চুনীবালা দেবী নামক একজন পুরাতন নাট্যাভিনেত্রীকে খুঁজে বের করেন। অন্যান্য বিভিন্ন অনুল্লেখ্য চরিত্রে বড়াল গ্রামের বাসিন্দারা অভিনয় করেন।[১৩]:৭৮-৮০

সম্মাননা[সম্পাদনা]

’পথের পাঁচালী’ দেশী বিদেশী অনেক পুরস্কার অর্জন করে ।

সাল পুরুষ্কার চলচ্চিত্র উৎসব দেশ
১৯৫৫
  • ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেষ্ট ফিচার ফিল্ম (গোল্ডেন লোটাস অ্যাওয়ার্ড)
  • ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেষ্ট ফিচার ফিল্ম বাংলা (সিলভার লোটাস অ্যাওয়ার্ড)
৩য় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত)  ভারত
১৯৫৬
  • পামি ডি’আর প্রতিযোগিতা[১৭]
  • শ্রেষ্ঠ মানব ডকুমেন্ট
  • ওসিআইসি পুরষ্কার - বিশেষ উল্লেখ
১৯৫৬ ৯ম কান চলচ্চিত্র উৎসব  ফ্রান্স
১৯৫৬ ভ্যাটিকান পুরস্কার, রোম --  ইতালি
১৯৫৬ গোল্ডেন কারবাও, ম্যানিলা --  ফিলিপাইন
১৯৫৬ মেধার ডিপ্লোমা এডিনবরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব  স্কটল্যান্ড
১৯৫৭ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ‘সাজনিক গোল্ডেন লরেল’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব  জার্মানি
১৯৫৭
  • শ্রেষ্ঠ পরিচালক জন্য গোল্ডেন গেট
  • শ্রেষ্ঠ ছবি জন্য গোল্ডেন গেট
সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব  যুক্তরাষ্ট্র
১৯৫৮ শ্রেষ্ঠ ছায়াছবি ভ্যানকুভার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব  কানাডা
১৯৫৮ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড[১৮] স্ট্র্যাটফোর্ড ফিল্ম ফেস্টিভাল  কানাডা
১৯৫৮ সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র, জাতীয় বোর্ড পর্যালোচনা পুরস্কার ১৯৫৮[১৯] --  যুক্তরাষ্ট্র
১৯৫৯ সেরা বিদেশী চলচ্চিত্র নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উত্সব  যুক্তরাষ্ট্র
১৯৬৬ কিনেমা জাম্পু পুরস্কার সেরা বিদেশী চলচ্চিত্র জন্য --  জাপান
১৯৬৯ শ্রেষ্ঠ অইউরোপীয় ছায়াছবির জন্য বদিল পুরস্কার[২০] --  ডেনমার্ক

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: অপু ত্রয়ী

পথের পাঁচালী ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র তথা তাঁর প্রসিদ্ধ চলচ্চিত্র-সিরিজ অপু ত্রয়ী-র প্রথম ছবি। অপর দুটি ছবি হল অপরাজিত (১৯৫৬) ও অপুর সংসার (১৯৫৯) । তিনটি ছবি একত্রে অপু ত্রয়ী হিসাবে পরিচিত।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. বিভিন্ন উৎসে এই চলচ্চিত্রের বিভিন্ন রকম দৈর্ঘ্য উল্লেখ করেছে। মিউজিয়াম অব মডার্ণ আর্টের মতে চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য ১১২ মিনিট,[২]:২০৪ এলএ উইকিলির একতি বিজ্ঞপ্তিতে ১১৫ মিনিট,[৩] দ্য গার্ডিয়ানের স্টুয়ার্ট জেফ্রিসের ২০১০ সালের একটি রিপোর্টে ১২৫ মিনিট,[৪] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের রোভি হ্যাল এরিকসন তাঁর একটি সমালোচনায় ১২৬ মিনিট[৫] ও ডগ প্র্যাট ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে ১২৫ মিনিট বলে বর্ণনা করেছেন।[৬]:৯০৮ ব্রিটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন চলচ্চিত্র সংস্করণের জন্য ১০০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ভিডিও সংস্করনের জন্য ১১৯ মিনিট ৩১ সেকেন্ড বলে দ্যটি ভিন্ন দৈর্ঘ্য বলে উল্লেখ করেছে।[৭]
  2. সত্যজিৎ রায় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে মাই ইয়ার্স উইথ অপু:এ মেমোয়্যার গ্রন্থে লেখেন যে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে ৭০,০০০ খরচ হয়[৮]:৩৬, এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিকট ৭০,০০০ ঋণ ছিল।[৮]:৬০ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের একটি সাক্ষাতকারে সত্যজিৎ রায় বলেন যে, এই চলচ্চিত্র নির্মাণে ১৫০,০০০ খরচ হয়।[৯]:৪০
  3. ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বিনিময় হার ছিল ১ মার্কিন ডলারে ৪.৭৯[১০]:৪০৮

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sengoopta, Chandak (১৬ নভেম্বর ২০০৯)। "Apu-In-The-Word"Outlook। পৃ: ২/৫। আসল থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২২ এপ্রিল ২০১৪ 
  2. Bee, Harriet Schoenhotz; Hellczer, Cassandra; McFadden, Sarah, সম্পাদকবৃন্দ (২০১৩)। MoMA Highlights: 350 Works from The Museum of Modern Art, New York (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট। আইএসবিএন 978-0-87070-846-6 
  3. "Pather Panchali"LA Weeklyআসল থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  4. Jeffries, Stuart (১৯ অক্টোবর ২০১০)। "Pather Panchali: No 12 best arthouse film of all time"The Guardianআসল থেকে ১৭ অক্টোবর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  5. Hal Erickson, Rovi। "Pather Panchali (1955)"The New York Timesআসল থেকে ৮ ডিসেম্বর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  6. Pratt, Douglas (২০০৫)। Doug Pratt's DVD: Movies, Television, Music, Art, Adult, and More! (ইংরেজি ভাষায়)। UNET 2 Corporation। আইএসবিএন 978-1-932916-01-0 
  7. "Pather Panchali (1957)"British Board of Film Classificationআসল থেকে ২৭ এপ্রিল ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ এপ্রিল ২০১৪ 
  8. ৮.০ ৮.১ রায়, সত্যজিত (১৯৯৬)। My Years with Apu [অপুর সাথে আমার বছরগুলি] (ইংরেজি ভাষায়)। পেঙ্গুইন বুকস ইন্ডিয়া। আইএসবিএন 978-0-14-024780-0 
  9. ৯.০ ৯.১ Isaksson, Folke (২০০৭)। "Conversation with Satyajit Ray"। in Cardullo, Bert। Satyajit Ray: Interviews [সত্যজিৎ রায়: ইন্টারভিউ] (ইংরেজি ভাষায়)। University Press of Mississippi। আইএসবিএন 978-1-57806-937-8 
  10. Kalra, Bhawna (ফেব্রুয়ারি ২০১২)। "Devaluation of Indian Rupee against US $: A Historical Perspective" (PDF)। International Journal of Research in Economics & Social Sciences (ইংরেজি ভাষায়) (Euro Asia Research and Development Association) 2 (2)। আইএসএসএন 2249-7382আসল থেকে ১৯ অক্টোবর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৮ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  11. Gugelberger, Georg M. (১৯৯৬)। The Real Thing: Testimonial Discourse and Latin America (ইংরেজি ভাষায়)। Duke University Press। আইএসবিএন 978-0-8223-1844-6 
  12. Gokulsing, K. Moti; Dissanayake, Wimal (২০১৩)। Routledge Handbook of Indian Cinemas (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন 978-1-136-77284-9 
  13. ১৩.০ ১৩.১ ১৩.২ ১৩.৩ ১৩.৪ Robinson, Andrew (১৯৮৯)। Satyajit Ray: The Inner Eye (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। আইএসবিএন 978-0-520-06946-6 
  14. Sekhar, Saumitra (২০১২)। "Pather Panchali"BanglapediaAsiatic Society of Bangladeshআসল থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  15. ১৫.০ ১৫.১ ১৫.২ ১৫.৩ ১৫.৪ Ray, Satyajit (২০১০)। অপুর পাঁচালী (ইংরেজি ভাষায়)। আনন্দ পাবলিশার্সআইএসবিএন 81-7215-367-8 
  16. Ray, Satyajit (২০০৫)। Our Films, Their Films (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Longman। আইএসবিএন 81-250-1565-5 
  17. "Festival de Cannes: Pather Panchali"festival-cannes.com (ইংরেজি ভাষায়)। 
  18. "Indian Film Honored; Pather Panchali Wins Prize at Stratford, Ont., Fete"New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯৫৮-০৭-১৪। পৃ: ১৬। 
  19. "Awards 1958, National Board of Review Awards" (ইংরেজি ভাষায়)। 
  20. "Awards 1969, Bodil Awards" (ইংরেজি ভাষায়)। 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]