ফেলুদা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফেলুদা

'প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলুদা' সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র। ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প "ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি" প্রকাশিত হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। ফেলুদার প্রধান সহকারী তাঁর খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)। সত্যজিৎ রায় ফেলুদার সোনার কেল্লাজয় বাবা ফেলুনাথ উপন্যাসদুটিকে চলচ্চিত্রায়িত করেন। এই দুই ছবিতে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে সত্যজিতের পুত্র সন্দীপ রায় ফেলুদার গল্প ও উপন্যাস নিয়ে টেলিভিশন ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

ফেলুদা সিরিজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র[সম্পাদনা]

তপেশরঞ্জন মিত্র ফেলুদার খুড়তুতো ভাই। ফেলুদার দেওয়া তোপসে নামেই অধিক পরিচিত। এই চরিত্রটি আর্থার কনান ডয়েলের জন ওয়াটসন চরিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত। তোপসে ফেলুদার সর্বক্ষণের সঙ্গী। ফেলুদার প্রায় সব অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা সে লিপিবদ্ধ করে। তোপসের বাবা সম্পর্কে ফেলুদার কাকা। ফেলুদা তার কাকার পরিবারেরর সঙ্গেই ২১,রজনী সেন রোড,কলকাতা-৭০০০২৯[১] -র বাড়িতে থাকে। দক্ষিণ কলকাতায় রজনী সেন রোড থাকলেও ২১ নম্বর বাড়িটি অস্তিত্বহীন। তোপসে চরিত্রে নানা সময়ে সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ ফেলুদা চলচ্চিত্রে তোপসের ভূমিকা পালন করেছেন সাহেব ভট্টাচার্য্য ।

লালমোহন গাঙ্গুলি বা লালমোহনবাবু ফেলুদার বন্ধু। ইনি জটায়ু ছদ্মনামে রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস লেখেন। লালমোহনবাবু বাংলায় রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজের একজন জনপ্রিয় লেখক এবং তার নিজের মতে সারা ভারতে তার অনুগামীরা ছড়িয়ে আছে। তাঁর লেখা উপন্যাসগুলির প্রধান চরিত্র সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গোয়েন্দা প্রখর রুদ্র। তাঁর অবিশ্বাস্য গল্পগুলি বেস্টসেলার হলেও বইগুলোতে মাঝে মাঝে খুবই সাধারণ ভুল থাকে, যেগুলো ফেলুদাকে শুধরে দিতে হয়। লালমোহনবাবুর একটি "মাদ্রাজী সবুজ" এ্যাম্বাসেডর গাড়ি আছে যা ফেলুদার অনেক অভিযানের নির্ভরযোগ্য বাহন। সোনার কেল্লা গল্পে ফেলুদা ও তোপসের যোধপুর গমনকালে কানপুরে ট্রেনে প্রথম জটায়ু চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে। সন্তোষ দত্ত সোনার কেল্লাজয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে জটায়ুর ভূমিকা পালন করেন। সত্যজিৎ রায় প্রথম ফেলুদা ছবির পর জটায়ু চরিত্রে রদবদল ঘটিয়ে তাকে অনেকটা সন্তোষ দত্তের মতই গড়ে তোলেন। রবি ঘোষ ও বিভু ভট্টাচার্য্য পরবর্তীকালে এই চরিত্রে অভিনয় করেন। নয়ন রহস্য গল্পে লেখক জটায়ুকে "বিদূষক" হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিধুজ্যাঠা ফেলুদার বাবার বন্ধু। ফেলুদাকে প্রায়ই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী সিধুজ্যাঠার কাছে বিভিন্ন জিজ্ঞাসা নিয়ে দ্বারস্থ হতে হয় ।

মগনলাল মেঘরাজ ফেলুদার অন্যতম শত্রু। ফেলুদা বেশ কয়েকটি কাহিনীতে তার মোকাবিলা করে। জয় বাবা ফেলুনাথ এবং যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে এর মধ্যে প্রধান। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় জয় বাবা ফেলুনাথ চলচ্চিত্রে মগনলাল মেঘরাজের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন উৎপল দত্ত

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ফেলুদা কাহিনী প্রথম পূজাবার্ষিকী দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। অল্প কিছু কাহিনী প্রকাশিত হয়েছিলো সন্দেশ পত্রিকায়। বইগুলির বাঁধাই কপি প্রকাশিত হয়েছে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এছাড়া ফেলুদার উপরে কমিক স্ট্রিপ-ও প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ ফেলুদা বইয়ের প্রচ্ছদ এবং অলঙ্করণ সত্যজিৎ রায়ের নিজের আঁকা। ফেলুদা সিরিজের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস ইংরেজি ভাষাতে অনুদিত হয়েছে।

টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

এখন পর্যন্ত ফেলুদার আটটি কাহিনী চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ এবং সত্যজিতের পুত্র সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় বাক্স রহস্য (১৯৯৬), বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩), কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭), টিনটোরেটোর যীশু (২০০৮), "গোরস্থানে সাবধান (২০১০)", "রয়েল বেঙ্গল রহস্য" । সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ সিনেমায় ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, এবং বোম্বাইয়ের বোম্বেটে থেকে পরবতী সকল সিনেমায় অভিনয় করেন সব্যসাচী চক্রবর্তীসব্যসাচী চক্রবর্তী সিনেমা ছাড়াও ডাঃ মুনসীর ডায়েরী নামে টেলিফিল্মে এবং সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ফেলুদার উপরে নির্মিত টিভি সিরিয়ালে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন । ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাদশাহী আংটি চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। যাতে জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় কে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

সত্যজিৎ রায় প্রেজেন্টস নামে হিন্দিতে যে ফেলুদা কাহিনী টিভিতে দেখানো হয়েছিলো তাতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেন শশী কাপুর এবং লালমোহনবাবুর ভূমিকায় অভিনয় করেন মোহন আগাসে

ফেলুদা সিরিজ[সম্পাদনা]

গল্প/উপন্যাস প্রথম প্রকাশ গ্রন্থভুক্তি অতিরিক্ত তথ্য কাহিনি-সংক্ষেপ
ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি (গল্প) সন্দেশ, ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫-৬৬ এক ডজন গপ্‌পো, ১৯৭০
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬[২]
প্রথম ফেলুদা-গল্প এতে প্রথম ফেলু মিত্তিরের পরিচয় দেওয়া হয়। এতে ফেলুদা একটি চিঠিতে হুমকির রহস্য সমাধান করে।
বাদশাহী আংটি (উপন্যাস) সন্দেশ, মে-মে, ১৯৬৬-৬৭ বাদশাহী আংটি, ১৯৬৯
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
প্রথম ফেলুদা-উপন্যাস এতে ফেলুদা একটি মূল্যবান আন্টি চুরি হওয়ার রহস্য সমাধান করে। তোপসের কমবয়সকালীন সময়ে বাদশাহী আংটির মত আর কোনও রোমাঞ্চকর উপন্যাস নেই।
কৈলাস চৌধুরীর পাথর (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৬৭ এক ডজন গপ্‌পো, ১৯৭০
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
- এতে ফেলুদা একটি পাথর এর জন্য হুমকির পিছনের রহস্য উদ্ঘাটন করে। এতে একসময় যানতে পারে যে তার মক্কেলের একটি জময ভাই আছে। এর পর নানান বিপদের মধ্যদিয়ে তার সামনে আসল সত্য বেড়িয়ে আসে।
শেয়াল-দেবতা রহস্য (গল্প) সন্দেশ, গ্রীষ্ম সংখ্যা, মে-জুন, ১৯৭০ আরো এক ডজন, ১৯৭৬
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
- এতে প্রাচীন মিশরীয় দেবতা আনুবিসের একটি মূল্যবান মূর্তি হারিয়ে যায় এবং সেটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব আসে ফেলুদার উপর।ফেলুদা অত্যন্ত চমৎকারভাবে আনুবিসের প্রপঞ্চময় চরিত্রের অবসান ঘটান এ গল্পে।
গ্যাংটকে গন্ডগোল (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭০ গ্যাংটকে গণ্ডগোল, ১৯৭১
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬[৩]
- গ্রীষ্মের ছুটিতে তাপসের সাথে ফেলুদা গ্যাংটকে বেড়াতে আসে। সেখানে তাদের রহস্যময় ব্যবসায়ী শশধর বোসের পরিচয় ঘটে। এর কিছুক্ষন পর শশধর বোসের ব্যবসার সঙ্গীর ক্ষুন হয়। ফেলুদা এই খুনের রহস্যের সমাধান করে।
সোনার কেল্লা (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭১ সোনার কেল্লা, ১৯৭২
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
প্রথম চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা উপন্যাস এর কাহিনী গড়ে উঠেছে মুকুল নামে একটি জাতিস্মর বালককে কেন্দ্র করে। মুকুল ছয় বছর বয়সে পূর্বজন্মে দেখা সোনার কেল্লার স্মৃতিচারণ করতে থাকে। ডক্টর হাজরা মুকুলকে পরীক্ষা করে মুকুলের সঙ্গে পশ্চিম রাজস্থানে সোনার কেল্লার খোঁজে যেতে রাজি হন। ইতোমধ্যে মুকুলের বাবার সন্দেহ হয় যে ছেলে মুকুল বিপদে পড়েছে। তিনি ফেলুদাকে কাজ দেন তার ছেলের খোজ করতে।
বাক্স-রহস্য (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭২ বাক্স-রহস্য, ১৯৭৩
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০
- ব্যক্তিগত তদন্তকারী প্রদোষ সি. মিত্তার ওরফে ফেলুদাকে ধনী ব্যবসায়ী দিননাথ লাহিড়ী নিয়োগ দেয় শ্যাম্ভূচরণ বোস লিখিত হারিয়ে যাওয়া একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের জন্য। এই গল্প শিমলায় আবর্তিত হয়।
কৈলাসে কেলেঙ্কারি (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৩ কৈলাসে কেলেঙ্কারি, ১৯৭৪
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
- গোয়েন্দা ফেলুদা, তার ভাইপো তোপসে এবং লেখক জটায়ুর সাহায্যে ভারত জুড়ে প্রাচীন ভাস্কর্যের চোরাচালান এবং অবৈধ ব্যবসার তদন্ত করে।রোমাঞ্চকর এ উপন্যাসে কৈলাস নামক স্থানের ঐতিহাসিক মূর্তি বিষয়ক বর্ণনা আছে।
সমাদ্দারের চাবি (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৩ আরো এক ডজন, ১৯৭৬
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[৪]
-
রয়েল বেঙ্গল রহস্য (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৪ রয়েল বেঙ্গল রহস্য, ১৯৭৫
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০
- ফেলুদা, তার ভাইপো তোপসে এবং লেখক জটায়ুর তার বাহিনী একটি ধাঁধা সমাধানের জন্য উত্তরবঙ্গের ধনী জমিদারের দ্বারা আমন্ত্রিত হয়, যা গুপ্তধনের সন্ধান দিবে। কিন্তু মানুষখেকো বাঘের উদয়, একটি রহস্যময় মৃত্যু এবং জঙ্গলের গুজব অপ্রত্যাশিত একটি মোড় নেয় ঘটনায়।
ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৫ আরো এক ডজন, ১৯৭৬
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[৫]
- এতে একজন বৃদ্ধ ফেলুদাকে চিঠি লিখে তার বাড়িতে আসতে বলে। কিন্তু বৃদ্ধের পুত্র বৃদ্ধবেশে ফেলুদাকে ৪টি বই উপহার দেয়। তিনি ফেলুদাকে একটি হেয়ালির সমাধান করতে বলে এবং তার পরিবর্তে আরো ৪টি বই উপহার দিতে সম্মত হন। ফেলুদা তার অগাধ বুদ্ধিবলে এই রহস্য সমাধান করেন।
জয় বাবা ফেলুনাথ (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৫ জয় বাবা ফেলুনাথ, ১৯৭৬
[৬]ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
দ্বিতীয় চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা-উপন্যাস
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৬ ফেলুদা এণ্ড কোং, ১৯৭৭
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[৭]
সন্দীপ রায় কর্তৃক চলচ্চিত্রায়িত
গোঁসাইপুর সরগরম (উপন্যাস) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৬ ফেলুদা এণ্ড কোং, ১৯৭৭
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[৮]
- জীবন মল্লিক গোঁসাইপুর জমিদারের একমাত্র ছেলে। তার বাবা কলকাতার ব্যবসায়ী। এদিকে আত্মারাম বাবু গোঁসাইপুর জমিদারি দখল করার চক্রান্ত করেন। তিনি জমিদার ও জীবনের মাঝে ঝামেলা বাঁধাতে সমর্থ হন। ফলশ্রুতিতে জমিদার মানসিক রুগীতে পরিণত হন। জীবন মল্লিক এরূপ পরিস্থিতিতে রহস্য উদ্ধার করতে গোয়েন্দা ফেলুদার শরণাপন্ন হন।[৯]
গোরস্থানে সাবধান! (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৭ গোরস্থানে সাবধান!, ১৯৭৯
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
-চলচ্চিত্রায়িত ফেলুদা-উপন্যাস একটি গোরস্থান, কিছু খুন, আর রহস্যে মোড়া কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত হয়। রহস্যটি শুরু হয়েছিল একটি মূল্যবান ঘড়ি নিয়ে।
ছিন্নমস্তার অভিশাপ (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৭৮ ছিন্নমস্তার অভিশাপ, ১৯৮১
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০
-
হত্যাপুরী (উপন্যাস) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৯ হত্যাপুরী, ১৯৮১
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
- পুরীতে জনাব ডিজি সেনের পুঁথি সংগ্রহ করার শখকে কেন্দ্র করে এই রহস্য আবর্তিত হয়। তিনি একজন প্রকৃত সংগ্রাহক এবং প্রত্যাশিত ক্রেতাদের কাছ থেকে লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে, একদল লোক তার সংগ্রহ থেকে সবচেয়ে মূল্যবান পাণ্ডুলিপি চুরি করার মনস্থির করে। কাহিনীতে একটি বড় মোড় নেয় যখন চুরির মূল সন্দেহভাজন হত্যা হয়।
গোলোকধাম রহস্য (গল্প) সন্দেশ, মে-অগস্ট, ১৯৮০ আরো বারো, ১৯৮১
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
- এই গল্পে একজন বাঙালি বায়কেমিস্ট নিহার রঞ্জন দত্ত এর কাহিনী রয়েছে। ফেলুদা নিহার বাবুর বাড়িতে ডাকাতির কেস নিয়ে যান। এই ঘটনার শেষ দিকে ফেলুদা দেখেন নিহার বাবুর গবেষণার কাগজ পত্র এবং সঙ্গে ৩৩ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। অই দিনই নিহার বাবুর ২ ভাড়াটিয়া সুখওয়ানি এবং দস্তর-এর একজন দস্তর খুন হন।
যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮০ যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে, ১৯৮১
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬[১০]
-
নেপোলিয়নের চিঠি (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮১ ফেলুদা ওয়ান ফেলুদা টু, ১৯৮৫
ফেলুদা একাদশ, ২০০০ [১১]
-
টিনটোরেটোর যীশু (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮২ টিনটোরেটোর যীশু, ১৯৮৫
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০
সন্দীপ রায় কর্তৃক চলচ্চিত্রায়িত
অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য (গল্প) আনন্দমেলা, ৪ মে-১৫ জুন, ১৯৮৩ এবারো বারো, ১৯৮৪
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
-
জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৩ এবারো বারো, ১৯৮৪
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১২]
-
এবার কান্ড কেদারনাথে (গল্প) শারদীয় দেশ, ১৯৮৪ ফেলুদা ওয়ান ফেলুদা টু, ১৯৮৫
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬[১৩]
-
বোসপুকুরে খুনখারাপি (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৫ একের পিঠে দুই, ১৯৮৮
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
-
দার্জিলিং জমজমাট (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৮৬ দার্জিলিং জমজমাট, ১৯৮৮
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬
-
অপ্সরা থিয়েটারের মামলা (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৭ ডবল ফেলুদা, ১৯৮৯
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
-
ভূস্বর্গ ভয়ংকর (গল্প) শারদীয় দেশ, ১৯৮৭ ডবল ফেলুদা, ১৯৮৯
পাহাড়ে ফেলুদা, ১৯৯৬[১৪]
- এই ক্ষেত্রে, ফেলুদা এবং তার দল কাশ্মীরের শ্রীনগরে যান এবং তারা সেখানে একটি রহস্য খুঁজে পান। যেখানে বিচারক রহস্যময় অবস্থায় মারা যায়। পরে ফেলুদা বিচারক হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে যারা তার অসাধারণ মস্তিষ্ক ব্যবহার করে। এই প্রধান রহস্য মধ্যে আরো অনেক উপ চক্রান্ত আছে। স্বাভাবিকভাবেই ফেলুদা রহস্য সমাধান করে।
শকুন্তলার কণ্ঠহার (গল্প) শারদীয় দেশ, ১৯৮৮ আরো সত্যজিৎ, ১৯৯৩
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
-
লন্ডনে ফেলুদা (গল্প) শারদীয় দেশ, ১৯৮৯ ফেলুদা প্লাস ফেলুদা, ১৯৯২
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১৫]
-
ডাঃ মুনসীর ডায়রি (গল্প) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯০ বাঃ! বারো, ১৯৯৪
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
-
নয়ন রহস্য (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৯০ নয়ন রহস্য, ১৯৯১
ফেলুদার পান্‌চ, ২০০০
- এটি ফেলুদা সিরিজের একদম শেষ দিকের উপন্যাস যার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে নয়ন নামের আশ্চর্য ক্ষমতাধর এক ছেলেকে ঘিরে।
রবার্টসনের রুবি (উপন্যাস) শারদীয় দেশ, ১৯৯২ রবার্টসনের রুবি, ১৯৯১
ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১৬]
সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা উপন্যাস
গোলাপী মুক্তা রহস্য (গল্প)
--
ফেলুদা প্লাস ফেলুদা, ১৯৯১
ফেলুদার সপ্তকাণ্ড, ১৯৯৮
সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা উপন্যাস
ইন্দ্রজাল রহস্য (গল্প) সন্দেশ, ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫-৯৬ কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
কলকাতায় ফেলুদা, ১৯৯৮
সর্বশেষ সম্পূর্ণ ফেলুদা-গল্প
বাক্স রহস্য (প্রথম খসড়া) (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৫ ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১৭] - ব্যক্তিগত তদন্তকারী প্রদোষ সি. মিত্তার ওরফে ফেলুদাকে ধনী ব্যবসায়ী দিননাথ লাহিড়ী নিয়োগ দেয় শ্যাম্ভূচরণ বোস লিখিত হারিয়ে যাওয়া একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের জন্য। এই গল্প শিমলায় আবর্তিত হয়।
তোতা রহস্য (প্রথম ও দ্বিতীয় খসড়া) (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৬ ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১৮] -
আদিত্য বর্ধনের আবিষ্কার (অসম্পূর্ণ) শারদীয় সন্দেশ, ১৯৯৭ ফেলুদা একাদশ, ২০০০[১৯] -


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুস্নাত চৌধুরী (২০০৭)। "Feluda's Home"কলকাতা টিভি। সংগৃহীত ২৭ মে ২০১৪ 
  2. রায়, সত্যজিৎ (১৯৯৬)। পাহাড়ে ফেলুদা। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7215-497-6 
  3. রায়, সত্যজিৎ (১৯৯৬)। পাহাড়ে ফেলুদা। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7215-497-6 
  4. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  5. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  6. রায়, সত্যজিৎ (১৯৭৬)। জয় বাবা ফেলুনাথ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7066-868-9 
  7. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  8. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  9. ফেলুদা-৩০, গোঁসাইপুর সরগরম
  10. রায়, সত্যজিৎ (১৯৯৬)। পাহাড়ে ফেলুদা। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7215-497-6 
  11. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  12. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  13. রায়, সত্যজিৎ (১৯৯৬)। পাহাড়ে ফেলুদা। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7215-497-6 
  14. রায়, সত্যজিৎ (১৯৯৬)। পাহাড়ে ফেলুদা। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7215-497-6 
  15. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  16. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  17. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  18. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4 
  19. রায়, সত্যজিৎ (২০০৩)। ফেলুদা একাদশ। Calcutta: Ananda Publishers Private Limited। আইএসবিএন 81-7756-096-4