দেওয়ানহাট
| অবস্থান | ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম |
|---|---|
| স্থানাঙ্ক | ২২°২০′২০″ উত্তর ৯১°৪৮′৪৮″ পূর্ব / ২২.৩৩৮৭৭৯১° উত্তর ৯১.৮১৩৩৮০২° পূর্ব |
| খোলার তারিখ | আনু. ১৭৫৮ |
| উন্নয়নকারী | চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ |
| পণ্য বিক্রি | মাটির তৈজসপত্র, পাখি |
| পার্কিং | না |
দেওয়ানহাট চট্টগ্রামের প্রধান বাজারগুলির মধ্যে একটি।[১] এটি নগরীর পোস্তার পাড় সংলগ্ন পশ্চিমে ডবলমুরিং থানার অন্তর্গত।[২] পূর্বে সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসতো। শুরুতে বড় আকারে হাট বসলেও বর্তমানে এর আকার ছোট হয়ে আসছে।[২] বর্তমানে এখানে মাটির তৈজসপত্র সহ কবুতর ও বিভিন্ন পাখির হাট বসে। এছাড়াও প্রতিদিন ভোরে কর্মপার্থী দিনমজুর এবং মিন্ত্রিরা কাজের জন্য এখানে অপেক্ষা করে।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]মধ্যযুগের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ছিল পোস্তা। পোস্তা শব্দটি ফার্সি শব্দ "পুস্ত" থেকে আগত যার অর্থ উল্টো দিক বা পিছন দিক। এই বিশেষণটি পারস্য ঐতিহ্যে স্থান-নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেহেতু নদীতীরবর্তী সুলকবহর বন্দরের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যযুগের পোস্তার পাড়ের অবস্থান ছিল নগরের উল্টো দিকে বা পেছনের দিকে। বাংলার নবাবী শাসনামলে ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোগল প্রশাসকের দিউয়ান ছিলেন মহা সিং।[৩] তিনি ১৭৫৩ সালে নায়েব সুবাদার পদে অভিষিক্ত হন এবং ১৭৫৮ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। পোস্তার পাড়ের নিকটবর্তী এই স্থানটিকে মহা সিং বেছে নেন দেওয়ান হাট স্থাপনের জন্য। এবং এই হাট প্রতিষ্ঠা করেন।[১] পরে স্মারক হিসাবে তার নামানুসারে দেওয়ানহাট নামকরণ করা হয়।[২]
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্য
[সম্পাদনা]দেওয়ানহাটের ঐতিহ্যবাহী পরিচয় হাট বা বাজারকেন্দ্রিক হলেও বর্তমানে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও প্রসারিত হয়েছে।
- কবুতর ও পাখির হাট: দেওয়ানহাটের সবচেয়ে বিখ্যাত আয়োজন হলো এখানকার কবুতরের হাট। সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই হাট বসে।[৪][৫] এখানে গিরিবাজ, রেসার, সিরাজি, ময়ূরপঙ্খীসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি কবুতর কেনাবেচা হয়।[৪] কবুতর ছাড়াও বিভিন্ন সৌখিন পাখি, টার্কি এবং বিদেশি মুরগিও এই হাটে পাওয়া যায়।[৫] দূর-দূরান্ত থেকে বহু ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে এই হাটটি একটি উৎসবে পরিণত হয়।[৫]
- আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য: পুরোনো হাটের পাশাপাশি দেওয়ানহাট ও এর সংলগ্ন এলাকায় বহু আধুনিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখানকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের শাখা রয়েছে। এছাড়াও, এই এলাকায় এক্সপোনেন্টের (Xponent) মতো আধুনিক সফটওয়্যার কোম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।[৬]
যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল হওয়ায় দেওয়ানহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- দেওয়ানহাট ওভারব্রিজ: এই এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো দেওয়ানহাট সেতু বা ওভারব্রিজ।[৭] এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন দ্বারা বিভক্ত শহরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে।[৭] পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে এটি সম্পূর্ণরূপে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।[৭]
- সড়ক যোগাযোগ: দেওয়ানহাট মোড় শহরের বেশ কয়েকটি প্রধান রাস্তাকে সংযুক্ত করেছে। টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, ইপিজেড এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাওয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য রুট। চট্টগ্রাম শহরের গণপরিবহনের একটি বিশাল অংশ, বিশেষ করে ৬, ৭ এবং ১০ নম্বর রুটের বাসগুলো দেওয়ানহাটের উপর দিয়ে চলাচল করে।
- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: শহরের যানজট কমাতে নির্মিত চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ দেওয়ানহাটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে, যা এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]দেওয়ানহাট এলাকায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা এই স্থানটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান:
- অন্যান্য প্রতিষ্ঠান:
- হর্টিকালচার সেন্টার: দেওয়ানহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে একটি হর্টিকালচার সেন্টার (উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্র) রয়েছে, যা উদ্যানপালন বিষয়ক গবেষণা ও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে।
- এক্সপোনেন্ট (Xponent): দেওয়ানহাটে অবস্থিত এই সফটওয়্যার কোম্পানিটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছে।[৬]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 শামসুল হোসাইন (২০১২)। "দেওয়ান হাট"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 3 4 খালেদ, মোহাম্মদ, সম্পাদক (নভেম্বর ১৯৯৫)। "দেওয়ান হাট"। নগরজীবন। হাজার বছরের চট্টগ্রাম (৩৫ বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ্যা)। চট্টগ্রাম: এম এ মালেক: ২৯৭।
- ↑ খালেদ, মোহাম্মদ, সম্পাদক (নভেম্বর ১৯৯৫)। "সংক্ষিপ্ত ইতিহাস"। ইতিহাস। হাজার বছরের চট্টগ্রাম (৩৫ বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ্যা)। চট্টগ্রাম: এম এ মালেক: ২৭।
- 1 2 ছবি (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "দেওয়ানহাটের কবুতর"। Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- 1 2 3 Move with Sarwar (১৩ জুন ২০২২)। "চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে পাখি ও কবুতর হাট | Popular Pet & Birds Market in Chittagong Dewan hat"।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 "Web Technology Company | XPONENT"। www.xponent.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- 1 2 3 "দেওয়ানহাট সেতু"। উইকিপিডিয়া। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- 1 2 "দেওয়ানহাট সিটি কর্পোরেশন কলেজ"। উইকিপিডিয়া। ৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Dewan Hat City Corporation College | Home Page"। dccc.edu.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫।