উত্তর কাট্টলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

উত্তর কাট্টলী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের অন্তর্গত একটি গ্রাম। এর পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগর ও পূর্ব পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবস্থিত।

শব্দতত্ত্ব[সম্পাদনা]

কায়েদ ও টুলী শব্দের ধ্বনি বিপর্যয়ের মাধ্যমে কাট্টলী শব্দের উৎপত্তি। কায়েদ শব্দের অর্থ শিক্ষিত, টুলী শব্দের অর্থ আবাসস্থল। অর্থাৎ কাট্টলী শব্দটির অর্থ শিক্ষিতের আবাসস্থল।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাজী নজরুল ইসলামের আগমন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশ নিতে ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মত চট্টগ্রাম ভ্রমণ করেন। এসময় তিনি তামাকুমন্ডি লেনের হাবিব উল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার এর বাড়িতে অবস্থান করেন। জনশ্রুতি আছে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির সাথে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী নজির আহমদ চৌধুরীর সখ্যতা ছিল। তিনি এবং কাজী নজরুল ইসলামের বন্ধু হাবিব উল্লাহ বাহারের ঘনিষ্ঠজন জয়নাল আবেদিন চৌধুরী নজরুল ইসলামকে উত্তর কাট্টলীতে আতিথ্য গ্রহনের আমন্ত্রন জানান। নজরুল ইসলাম উত্তর কাট্টলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা শুনে এই আমন্ত্রন গ্রহণ করেন এবং নাজির বাড়ির বাংলো ঘরে কিছুদিন অবস্থান করেন। এসময় নজরুল ইসলাম সকালে বিকেলে উত্তর কাট্টলী সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যেতেন, নৌকায় চড়তেন, জেলেদের মাছ ধরা পর্যবেক্ষণ করতেন। ঘোড়ায় চড়ে কুমিরা, পাহাড়তলীসীতাকুণ্ড অঞ্চলে গিয়েছিলেন। বিশেষত সীতাকুণ্ড অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড় তিনি ঘুরে দেখেছিলেন।

১৯২৯ সালের ১১ই জানুয়ারি কাট্টলী ইউনিয়ন ক্লাব গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে নজরুল ইসলামে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে। জনশ্রুতি হল, নাজির বাড়ির সামনে কাট্টলী ইউনিয়ন ক্লাবের মাঠে অথবা মৌলানা তমিজুর রহমান বাড়ির সামনে খোলা বিলে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় "অগ্নি-কবি কাজী নজরুল ইসলামের খায়রে-মখদম উপলক্ষে" শিরোনামে মৌলানা তমিজুর রহমান কর্তৃক লিখিত ২৬ লাইনের একটি কবিতা মানপত্র আকারে প্রকাশিত হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন কাট্টলী ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি মৌলানা তমিজুর রহমান। তিনি উক্ত মানপত্রটি কবি নজরুল ইসলামকে পাঠ করে শোনান। মানপত্রের এক পর্যায়ে উল্লেখ ছিল, "আগমনীর নায্‌রানা দে, বিশ্ব-কবি নজরু গলে, গরীব দেশে আর কি আছে তোহফা দিতে চরণ তলে।" তোহফা ও চরণ শব্দ দুটি উচ্চারিত হবার পর নজরুল ইসলাম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন,

যেখানে পুরো ভারত আমাকে কাফের বলছে সেখানে কায়েদ টুলির মানুষরা আমাকে সম্মান দিচ্ছেন, তোহ্ফা‌ দিচ্ছেন।

— কাজী নজরুল ইসলাম

এ কথা বলে তিনি ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন এবং বাংলায় মিলাদ পড়েন। শিক্ষা ও সভ্যতার উপর বক্তব্য রাখেন এবং গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে বক্তব্য শেষ করেন।[১]

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মাস্টারদা সূর্য সেন উত্তর কাট্টলী সংলগ্ন সমুদ্রতটকে অস্ত্রচালনা প্রশিক্ষণস্থল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও যোদ্ধাদের আবাসন ব্যবস্থা এ গ্রামে করা হয়েছিল। পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণের পর প্রীতিলতা আত্নহত্যা করেছিলেন এবং উত্তর কাট্টলীর প্রফুল্ল দাস এই অভিযানে অংশ নেন।

উত্তর কাট্টলীর তালুকদার বাড়ি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।[২]

পাড়া/মহল্লা[সম্পাদনা]

  • মুন্সিপাড়া
  • বিশ্বাসপাড়া
  • উত্তর পাড়া
  • আচার্য্য পাড়া
  • ধোপা পাড়া
  • আগ্রাপাড়া
  • খেজুরতলি

রাজনীতি[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

সামাজিক সংগঠনসমূহ[সম্পাদনা]

  • কাট্টলী ইয়ুথ কাউন্সিল[৩]
  • কাট্টলী ফ্রেন্ডস সোসাইটি

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কাট্টলীতে নজরুল"। ইতিহাসের খসড়া। জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর সংখ্যা, ২০১৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. গণমানুষের নেতা, জহুর আহমদ চৌধুরী (এপ্রিল ২০১৩)। গণমানুষের নেতা জহুর আহমদ চৌধুরী। কদম মোবারক এতিমখানা মার্কেট (২য় তলা), ৪০ মোমিন রোড, চট্টগ্রাম: বেহেনা চৌধুরী, প্রজ্ঞালোক প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৩৩, ৩৪। আইএসবিএন 98460220016 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: length (সাহায্য) 
  3. Sangbad, Ctg। "চট্টগ্রামে শিশুদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলছে কাট্টলী ইয়ুথ কাউন্সিল"CTG Sangbad। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০২০ 
  4. "৩ জানুয়ারী ১৯৭২ঃ জহুর আহমেদ চৌধুরী"সংগ্রামের নোটবুক (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০ 
  5. "ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া চলবে না-আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০ 
  6. "চৌধুরী, মাহমুদুন্নবী"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০ 
  7. "চট্টগ্রামের নতুন মেয়র মঞ্জুর আলম"BBC News বাংলা। ২৪ জুন ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০ 
  8. "চসিক প্রশাসক হলেন খোরশেদ আলম সুজন"চসিক প্রশাসক হলেন খোরশেদ আলম সুজন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০