জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির লোগো
অফিসিয়াল লোগো
প্রতিষ্ঠাতা(গণ)রশিদ চৌধুরী
প্রতিষ্ঠিতএপ্রিল ২৩, ১৯৭৩
জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তামোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন[১][২]
অনুষদ
কর্মচারী
স্বত্বাধিকারীবাংলাদেশ সরকার
প্রাক্তন নামচট্টগ্রাম কলাভবন
অবস্থান
দামপাড়া
, ,
বাংলাদেশ
ঠিকানা৫০৬/৫০৭, বাগমনিরাম, মোহাম্মদ আলী সড়ক, দামপাড়া, চট্টগ্রাম

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম বা চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অধিভুক্ত-নিয়ন্ত্রিত জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যা চট্টগ্রামের দামপাড়া অধিনস্ত মোহাম্মদ আলী সড়কে ম্যানোলা পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী বাগমনিরাম এলাকায় অবস্থিত।

বিবরণ[সম্পাদনা]

আয়তকার প্রসেনিয়াম মিলনায়তন ভবন

বর্তমানে একাডেমিতে একটি মিলনায়তন, একটি কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ ভবন, একটি মহড়া ভবন এবং একটি আর্ট গ্যালারি ভবন রয়েছে। একাডেমির আয়তকার প্রসেনিয়াম মিলনায়তনের মূলমঞ্চের আয়তন চারশত পঞ্চাশ বর্গফুট। এটি উপরে-নিচে তিনশত আসন সম্বলিত দোতলা বিশিষ্ট ভবন। মিলনায়তনের অভ্যন্তরে শিল্পীদের জন্য রয়েছে সাজঘর।

মিলনায়তন ভবনের পাশে রয়েছে তিনতলা কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ ভবন, যার নিচ তলায় কার্যালয় কক্ষ। ২০০০ সালে ভবনটি স্থাপন করা হয়। ভবনের অন্যান্য তলায় রয়েছে ঝংকার, নূপুর, অনুপ্রাস, অন্তরা ও নিসর্গ নামে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শ্রেণিকক্ষ।

কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ ভবনের দক্ষিণ পাশে অনিরুদ্ধ মহড়া ভবন নামে একটি ত্রিতল মহড়া ভবন রয়েছে, যার প্রতি তলায় দুইটি করে কক্ষ।[৩] ২০১০ সালে নির্মিত এই ভবনটি সাধারণত নৃত্য, নাট্য, আবৃত্তি ও মূকাভিনয়সহ নানা পরিবেশনা শিল্পের চর্চা ও মহড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ ভবন

মহড়া ভবনের পাশে রয়েছে ত্রিতল আর্ট গ্যালারি ভবন যা ২০০৯ সালে নির্মিত হয়। এই ভবনে সাধারণত যাবতীয় প্রদর্শনীর আয়োজন হয়ে থাকে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন চিত্র গ্যালারি এবং তৃতীয় তলায় রয়েছে পটুয়া কামরুল হাসান চিত্র গ্যালারি। দুইটি চিত্র গ্যালারিতে তিনটি করে কক্ষ রয়েছে।

একাডেমির পূর্ব-উত্তর পাশে রয়েছে "অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চ" একটি মুক্তমঞ্চ। ১৪ ডিমেম্বর ২০০৯ সালে একাডেমি প্রঙ্গণে মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়।[৪] পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে এটি পুনঃপরিকল্পনার মাধ্যমে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কর্তৃক পুনঃনির্মাণ করা হয়। ২০১০ সালে টেরাকোটার মাধ্যমে একাডেমির মূল ফটকের নকশাঙ্কন করা হয়।

একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা পরিষদে রয়েছেন একজন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন কার্যালয় তত্ত্বাবধানকারী এবং আটজন কর্মচারী।[২][৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম কলা ভবনের নামফলক উদ্বোধন করেন ফরাসি মনীষী মসিয় অঁদ্রে মাল্‌রো

১৯৭৩ সালে "চট্টগ্রাম কলাভবন" প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরী[৬] একই বছর ২৩ এপ্রিল ফরাসি মনীষী মসিয় অঁদ্রে মাল্‌রো বর্তমান শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে তৎকালীন চট্টগ্রাম কলাভবনের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম উৎসব ১৯৭৭ উদ্যাপনের উদ্যেশ্যে শিল্প ও সাহিত্য পরিষদের সভাপতি এবং তৎকালীন জেলা প্রশাশক হাসনাত আবদুল হাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় "চট্টগ্রাম কলাভবন" নামে একটি অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়।[১][৩][৭]

পরবর্তীকালে ১৯৯৫ সালে, বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় কতৃক স্বয়ংক্রিয় নবায়নযোগ্য লীজ হিসাবে প্রদানকৃত একাডেমির বর্তমান স্থানে শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হয়।[৮]

কার্যক্রম[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মূলত সঙ্গীত, চারুকলা, নৃত্য, মঞ্চনাটক সহ বিবিধ সাংস্কৃতিক বিষয়ের চর্চা এবং বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত।

এই একাডেমি জেলাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি- প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে থাকে। যার মধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান, বসন্ত উৎসব, পৌষ মেলা, লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা, জাতীয় শিশু দিবস, জাতীয় শোক দিবস, রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী, নজরুল জন্মজয়ন্তী, বিশ্বসঙ্গীত দিবস, বিশ্ব নাট্য দিবস, আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস, ঋতু ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাৎসরিক চারুকলা প্রদর্শনী, আবৃত্তি উৎসব, নাট্য উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ত্রৈমাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।[২] এছাড়াও, গুণীজনদের জন্ম-মৃত্যু উদযাপনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।[৯] প্রতিবছর এই একাডেমিতে বিভিন্ন নাট্যউৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।[১০]

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম[সম্পাদনা]

মহড়া ভবন

একাডেমিতে চার এবং দুই বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ ও ফাওন্ডেশন কোর্সসমূহ চালু রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন কোর্স প্রায় ১৮০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণরত রয়েছে।

বর্তমানে এই একাডেমিতে নিম্নে উল্লেখিত বিষয়সসূহে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে:[১১]

চার বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কোর্সসমূহ
  • কণ্ঠসঙ্গীত
  • নৃত্যকলা
  • তালযন্ত্র
  • চারুকলা
দুই বছর মেয়াদী ফাউন্ডেশন কোর্সসমূহ
  • আবৃত্তি
  • নাট্যকলা

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর প্রতিটি জেলায় গুণীজনদের শিল্পকলার বিভিন্ন শাখায় সম্মাননা জ্ঞাপন করার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা’ প্রদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।[১২] এই পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে সম্মাননা পদক ও দশ হাজার টাকার সম্মাননা চেক।[১৩] এরই অংশ হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর শিল্প সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য পাঁচ জন শিল্পীকে এই সম্মাননা প্রদন করা হয়। ২০১৬ সালে সঙ্গীতে কল্যাণী ঘোষ, আবৃত্তিতে রণজিত রক্ষিত, চারুকলায় আবুল মনসুর, নাট্যকলায় মিঞা আবদুল জলিল ও লোকসংস্কৃতিতে আবদুল গফুর হালী এই সম্মাননা পদক পান।[২] ২০১৪ সালে ফটোগ্রাফিতে মোরতজা তওফিকুল ইসলাম, সঙ্গীতে ওস্তাদ মিহির লালা, যন্ত্রশিল্পীতে ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম, নৃত্যকলায় গুল জেসমীন সেলিমা বেগম (রেশমা ফিরোজ), ও নাট্যকলায় মিলন চৌধুরী এই সম্মাননা পদক পান।[১৩]

ম্যানিলা পাহাড় ধস[সম্পাদনা]

জুলাই, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে দামপাড়া এলাকায় ম্যানিলা পাহাড়ের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ধসে পড়লে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে একাডেমির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের দেয়াল ভেঙে গিয়ে কার্যালয় ও শ্রেণিকক্ষে পাহাড়ের মাটি ঢুকে পড়ে।[১৪][১৫][১৬]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন - আধুনিকায়ন হয়নি ৩৮ বছরেও"দৈনিক প্রথম আলো। জানুয়ারি ২৪, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৩, ২০১৫ 
  2. বিকিরণ বড়ুয়া (সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৫)। "জেলা শিল্পকলা একাডেমী, চট্টগ্রাম - নির্মল শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার অনন্য প্রাণকেন্দ্র"দৈনিক আজাদীচট্টগ্রাম: এম এ মালেক। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. ঊর্মি বড়ুয়া (মে ৬, ২০১৬)। "নবরূপে সাজছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি"দৈনিক পূর্বকোণচট্টগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "পাল্টে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি"ctgsun.comচট্টগ্রাম। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. ইউসুফ ইকবাল (২০১৩)। "জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণবন্ত প্রাঙ্গণ"। স্মরণিকা: জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা ২০১৩ (মুদ্রণ) (প্রথম সংস্করণ)। চট্টগ্রাম: জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম। 
  6. শামসুল হোসাইন (এপ্রিল ৪, ২০১৪)। "শিল্পী রশিদ চৌধুরী স্বপ্ন ও উদ্যোগ"দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ জুন ২০, ২০১৪ 
  7. মোহাম্মদ খালেদ, সম্পাদক (নভেম্বর ১৯৯৫)। হাজার বছরের চট্টগ্রাম (দৈনিক আজাদী ৩৫ বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ্যা) (মুদ্রণ) (প্রথম সংস্করণ)। চট্টগ্রাম: এম এ মালেক (দৈনিক আজাদী)। 
  8. "জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম"shilpakala.chittagong.gov.bdবাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ 
  9. "ভাষা ও সংস্কৃতি"। chittagong.gov.bd। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২৩, ২০১৪ 
  10. "চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজিত "নাট্যোৎসব ২০১৪""ctgbarta24.com। ২০১৪। ২৫ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৩, ২০১৫ 
  11. "চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি প্রসঙ্গে" (প্রিন্ট/ওয়েব) (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। দৈনিক আজাদী। ডিসেম্বর ২০, ২০১২। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ 
  12. "চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা ২০১৩ প্রদান অনুষ্ঠান কাল"দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ। মার্চ ২১, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৩, ২০১৫ 
  13. "শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পেলেন পাঁচ গুণী"দৈনিক ভোরের কাগজ। চট্টগ্রাম। জানুয়ারি ২১, ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ 
  14. "ম্যানোলা পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ শিল্পকলা একাডেমি"বাংলানিউজ২৪.কমচট্টগ্রাম। ২০১৫-০৭-২৬। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ 
  15. জেলা শিল্পকলা একাডেমি ক্ষতিগ্রস্ত/23888 "চট্টগ্রামে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ক্ষতিগ্রস্ত" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)natunsomoy.comচট্টগ্রাম। জুলাই ২৬, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  16. "পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি ক্ষতিগ্রস্থ"nirapadnews.comচট্টগ্রাম। জুলাই ২৬, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১৩, ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ২২°২১′২৫.৪২″ উত্তর ৯১°৪৯′২১.৫৬″ পূর্ব / ২২.৩৫৭০৬১১° উত্তর ৯১.৮২২৬৫৫৬° পূর্ব / 22.3570611; 91.8226556