দারুল আদালত
| দারুল আদালত | |
|---|---|
পর্তুগিজ ভবন | |
২০১৯ সালে দারুল আদালত | |
![]() | |
| প্রাক্তন নাম | দারুল আদালত |
| সাধারণ তথ্যাবলী | |
| অবস্থান | সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কলেজ রোড, চকবাজার |
| শহর | চট্টগ্রাম |
| দেশ | |
| স্থানাঙ্ক | ২২°২১′০৫″ উত্তর ৯১°৫০′০৭″ পূর্ব / ২২.৩৫১৩৪৯° উত্তর ৯১.৮৩৫২১° পূর্ব |
| বর্তমান দায়িত্ব | চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন |
| বন্ধ | ২০০২[১] |
| স্বত্বাধিকারী | সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম |
| কারিগরি বিবরণ | |
| তলার সংখ্যা | ২ |
দারুল আদালত (অর্থ: বিচারালয় ভবন; পর্তুগিজ ভবন নামে অধিক পরিচিত) হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি ছিল চট্টগ্রামের প্রথম আদালত ভবন।[২] বর্তমানে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কর্তৃক প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।
অবস্থান
[সম্পাদনা]ভবনটি চট্টগ্রামের চকবাজারে কলেজ রোডের পাশের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ভবনটি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ক্যাম্পাসের পশ্চিমাংশে অবস্থিত। কলেজের বাণিজ্য ভবন ও মূল ক্যাম্পাস দিয়ে ভবনটিতে যাওয়া যায়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]স্থানীয়দের মতে, দুর্গটি আনুমানিক ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রামে পর্তুগিজ উপনিবেশের সময় নির্মিত হয়েছিল,[৩][৪] মতান্তরে ১৭৬১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে নির্মাণ করা হয়েছিল[১][৩][৪] ইতিহাসবিদদের মতে, ভবনটির বয়স প্রায় ৪০০ বছর।[৪]
প্রচলিত আছে যে, এই ভবনের নিচ দিয়ে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গপথ ছিল, যার দ্বারা লুট করা মালপত্র ভবনটিতে আনা হতো। শহর ত্যাগের সময় পর্তুগিজরা এই পথ ব্যবহার করত। সুড়ঙ্গপথটি এখন আর দৃশ্যমান নেই। তবে কথিত আছে যে, চট্টগ্রাম থেকে পলায়নের সময় তারা সুড়ঙ্গটি সিলগালা করে দেয়। এছাড়াও কথিত আছে যে, ভবনের নিচে একটি গোপন কক্ষ ছিল, যেখানে মালপত্র ও অস্ত্র সংরক্ষিত থাকত। পর্তুগিজদের আমলে এখানে প্রতি রাতে নাচ, গান ও আমোদ–প্রমোদের আয়োজন করা হত।[৪]
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভবনটি চট্টগ্রাম মাদ্রাসার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৮৭৯ সালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৩০ হাজার টাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ভবনসহ পুরো পাহাড়টি কিনে নেয়। পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে মহসিন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে ভবনটি কিছু সময়ের জন্য ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[৪] এছাড়াও ভবনটি যুদ্ধকালীন আটক ও নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
২০০২ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ভবনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।[৪]
স্থাপত্যশৈলী
[সম্পাদনা]২০০৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে চালানো সমীক্ষায় বলা হয়, এই ভবনের নির্মাণশৈলী মুঘল, ব্রিটিশ কিংবা আধুনিক কোনো আমলের সঙ্গেই মেলে না। সেই ভিত্তিতে এটিকে পর্তুগিজদের তৈরি স্থাপনা বলে চিহ্নিত করা হয়। এটি ছিল তাদের একটি প্রশাসনিক দুর্গ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।[৪]
ভবনটিতে মোট ২০টি কক্ষ রয়েছে। দোতলা ভবনটির প্রত্যেক তলাতেই একটি কেন্দ্রীয় কক্ষ রয়েছে, যার চারপাশে অন্যান্য কক্ষগুলো সাজানো। ভবনের তিনটি সিঁড়ির মধ্যে একটি পেঁচানো সিঁড়ি ছিল, যা মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির পরিচায়ক। দেয়ালগুলো ১০ ইঞ্চি প্রস্থ বিশিষ্ট, নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে শুধুমাত্র ইট। ভবনের ছাদে রয়েছে দুটি ছোট গম্বুজ, যা থেকে পাহারাদাররা গোটা শহর নজরে রাখতে পারত।[৪]
চিত্রমালা
[সম্পাদনা]- ভবনের ছাদে গম্বুজের অংশ।
- ভবনের ছাদে গম্বুজের অংশ
- উত্তর দিক হতে ভবনের গম্বুজ
- উত্তর-পশ্চিম দিকের সম্পূর্ণ অংশ
- ভবনের ভেতরের অংশ।
- ভবনের ভেতরের অংশ
- উত্তর দিকের অংশ
- দক্ষিণ দিকের অংশ
- উত্তর-পশ্চিম দিকের অংশ
- দক্ষিণ দিকে উপরতলার খোলা বারান্দা
- ভবন পর্যন্ত মূল ক্যাম্পাস হতে প্রশস্ত সিঁড়িপথ
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Darul Adalat - The Daily Star"। thedailystar.net।
- ↑ //www.jaijaidinbd.com/feature/law-and-justice/218373 "দারুল আদালত' চট্টগ্রামের প্রথম আদালত ভবন"। jaijaidinbd.com।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] - 1 2 "The First Court of Ctg: Historic site left in ruins - The Daily Star"। thedailystar.net।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 আবির, নেজাম উদ্দিন (১৬ মে ২০২৫)। "পর্তুগিজ ভবন: ইট–দেয়ালের আড়ালে এক ইতিহাস"। দৈনিক আজাদী।
