ইউরোপিয়ান ক্লাব

স্থানাঙ্ক: ২২°২১′২০″ উত্তর ৯১°৪৭′৫৭″ পূর্ব / ২২.৩৫৫৫৭৪° উত্তর ৯১.৭৯৯১৭৭° পূর্ব / 22.355574; 91.799177
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০১০-এ ইউরোপিয়ান ক্লাব

ইউরোপিয়ান ক্লাব (পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব নামেও পরিচিত) হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলীর আমবাগান সড়কে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এর পাশে বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত।[১][২][৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ[সম্পাদনা]

ইউরোপিয়ান ক্লাবের সম্মুখে স্মৃতিফলক


ইউরোপিয়ান ক্লাব ছিল মূলত ব্রিটিশদের প্রমোদকেন্দ্র। সন্ধ্যা হলেই ইংরেজরা এখানে মদ খেয়ে, নাচে-গানে আনন্দ উল্লাস করতো। এই ক্লাবে কেবল ইংরেজ কর্মকর্তা, কর্মচারী, দারোয়ান ছাড়া এদেশীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এখানে সাইনবোর্ডে লেখা ছিল "ডগস অ্যান্ড ইন্ডিয়ান প্রহিবিটেড" (কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ)।[৪] [২][১]

১৮ এপ্রিল ১৯৩০ সালে, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনা ছিল ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করা, তবে সেদিন গুড ফ্রাইডে হওয়ায় ক্লাব বন্ধ ছিলো। এরপর ১৯৩২ সালের ১০ আগস্ট শৈলেশ্বর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল ক্লাব আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।[৫] এর পরের মাসে মাস্টারদা সূর্য সেন পুনরায় ক্লাব আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, ২৩ সেপ্টেম্বর পুরুষের ছদ্মবেশে পাঞ্জাবি, পাগড়ি পরিহিত প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে[৬][৭] রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ এর দিকে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। আক্রমণে মিসেস সুলিভান নামক এক ইংরেজ মহিলা নিহত, এবং চারজন পুরুষ ও সাতজন মহিলা আহত হয়।[৮] ক্লাব আক্রমণ শেষে বিপ্লবীরা বেরিয়ে আসেন, ইংরেজদের পাল্টা আক্রমণে গুলিতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আহত হন এবং ইংরেজদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।[১]

ক্লাব আক্রমণ পরবর্তী অবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারত পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পর সরকার ইউরোপিয়ান ক্লাব রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[১]

ইউরোপিয়ান ক্লাবের পাশের এই স্থানে প্রীতিলতা আত্মাহুতি দেন। স্থানটি তার স্মরণে সংরক্ষিত


এখানে, ২০১২ সালের ২ অক্টোবর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর উদ্যোগে নির্মিত "প্রীতিলতার আবক্ষ ভাস্কর্য" উদ্বোধন করা হয়।[২][৯] ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি পরিদর্শনে আসেন।[১০] এর পরে, ক্লাবটিকে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মৃতি যাদুঘর [১] নামকরণ করে নামফলক স্থাপন করা হয়। তবে, এটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ ছিল, পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরে তেমন উন্নয়ন করা হয়নি।[১] বর্তমানে, পুনরায় ক্লাবটিতে ইউরোপিয়ান ক্লাব নামফলক ব্যবহার হচ্ছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ক্লাব পরিদর্শনে আসেন ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।[৩]

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনীভিত্তিক নির্মিত বীরকন্যা প্রীতিলতা চলচ্চিত্রের শ্যুটিংও হয় এখানে।[১১] বিভিন্ন সময়ে ইউরোপিয়ান ক্লাব সংরক্ষণ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করার আশ্বাস দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী[১২]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রীতিলতা জাদুঘর, নাম ছাড়া কিছু নেই"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  2. "৮০ বছর পর ইউরোপিয়ান ক্লাবে 'প্রীতিলতা ভাস্কর্য'"। বাংলানিউজ ২৪। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  3. "সেই ইউরোপিয়ান ক্লাবে ভারতের হাই কমিশনার"। বিডিনিউজ ২৪। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  4. শতবর্ষের সন্ত বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী, অলকা নন্দিতা, পৃ ৪২, ২০১০, বাতিঘর, চট্টগ্রাম
  5. সূর্য সেনের সোনালি স্বপ্ন, রুপময় পাল, পৃ ২০০,১৯৮৬, দীপায়ন, কলকাতা
  6. প্রীতিলতা, সম্পাদনা শংকর ঘোষ, পৃ ১৪১, ২০০৮, প্রমিথিউসের পথে, কলকাতা
  7. প্রীতিলতা, সম্পাদনা শংকর ঘোষ, পৃ ১৪০, ২০০৮, প্রমিথিউসের পথে, কলকাতা
  8. DO AND DIE: The Chittagong Uprising: 1930-34, Manini Chatterjee, Page 221, 1999, Penguin Books, India
  9. "ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে 'অমর' প্রীতিলতা"। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  10. "দুই দিনের চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকায় প্রণব মুখার্জি"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  11. "কতটা এগোচ্ছে অনুদানের চলচ্চিত্র?"। যায় যায় দিন। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২ 
  12. "ঐতিহাসিক পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব শীঘ্রই যাদুঘরে রূপান্তর হচ্ছে : মেয়র"। abnews24। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২