বঙ্গবন্ধু টানেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানচট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
অবস্থানির্মানাধীন
শুরুদক্ষিণ পতেঙ্গা, ৪১ নং ওয়ার্ড
শেষকক্সবাজার সড়ক
ক্রিয়াকলাপ
নির্মাণ শুরু২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
স্বত্বাধিকারীবাংলাদেশ সরকার
যানবাহনপণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মোটরগাড়ি
কারিগরী
দৈর্ঘ্য৩.৪৩ কিলোমিটার
যাত্রাপথের মানচিত্র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা বঙ্গবন্ধু টানেল বা বঙ্গবন্ধু সুড়ঙ্গ বা কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ হল কর্ণফুলী নদীর নিচে অবস্থিত নির্মাণাধীন সড়ক সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গটি কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে। এই সুড়ঙ্গেন মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হবে।[১][২][৩] বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৪৩ কিলোমিটার। এই সুড়ঙ্গটি নির্মিত হলে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নদী তলদেশের প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গপথ।[৪][৫] চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) এই সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।[৬] চট্টগ্রাম শহরপ্রান্তের নেভাল একাডেমির পাশ দিয়ে শুরু হওয়া এই সুড়ঙ্গ নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা প্রান্তের চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে নদীর দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছাবে। কর্ণফুলী নদীর মধ্যভাগে কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ অবস্থান করবে ১৫০ ফুট গভীরে।[৬] সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা[৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।[৬] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।[৮]

অর্থায়ন[সম্পাদনা]

সুড়ঙ্গ নির্মাণে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা [৯][১০][১১]। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং এর ঢাকা সফরে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ঋণ হিসাবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকার করছে।[৬] এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের সুদের হার ২ শতাংশ।[১২]

নির্মাণ তথ্য[সম্পাদনা]

নদী সুড়ঙ্গটির নির্মাণ কাজ হাতে পেয়েছে চীনের নির্মাণ সংস্থা। ২০২২ সালের মধ্যে টানেল বা সুড়ঙ্গটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি এবং তা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে[৭]। সুড়ঙ্গটির মূল দৈর্ঘ্য ৩.৪৩ কিলোমিটার হলেও এর সঙ্গে ৫ কিলোমিটারের বেশি সংযোগ সড়ক যুক্ত হবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First ever river tunnel under Karnaphuli planned"The Financial Express। Dhaka। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৩ 
  2. "Work on Karnaphuli tunnel to begin this FY: Minister"Dhaka Tribune। ৮ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৩ 
  3. "Karnaphuli tunnel construction to start this fiscal"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৩ 
  4. "Foreign firm picked as Karnaphuli tunnel project consultant" 
  5. "Deal signed for Karnaphuli Tunnel"। ২০১৭-০৩-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৩-২৫ 
  6. "কর্ণফুলীর তলদেশ ফুঁড়ে এগোচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেল অগ্রগতি ৫০ ভাগ"। ১ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "ফেব্রুয়ারিতে খুলছে বঙ্গবন্ধু টানেল, চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০১-০৩ 
  8. "'বঙ্গবন্ধু টানেল' নির্মাণের খননকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী"। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২০ 
  9. "বঙ্গবন্ধু টানেল এর টোল, উদ্বোধন, নির্মান ও অন্যান্য সকল তথ্য ২০২৩"EduportalBD। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০১-২২ 
  10. "বঙ্গবন্ধু টানেল রক্ষণাবেক্ষণে ৩৫% অর্থ খরচ ডলারে"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০১-২২ 
  11. "বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে চট্টলাবাসীর উচ্ছ্বাস"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০১-২২ 
  12. নতুন জটিলতায় পেছাচ্ছে কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন, আমাদের সময়, ১৫ মে ২০২২