সুবর্ণ এক্সপ্রেস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সুবর্ণ এক্সপ্রেস
Subarna Express.jpg
বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকোমোটিভ ২৯৩৮ নিয়ে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে দাঁড়ানো, ঢাকা
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অবস্থাচলমান
স্থানবাংলাদেশ
প্রথম পরিষেবা১৪ এপ্রিল ১৯৯৮ (1998-04-14)
ওয়েবসাইটhttp://www.railway.gov.bd/
যাত্রাপথ
থামে
যাত্রার গড় সময়৫ ঘন্টা ২৫ মিনিট
পরিষেবার হারসপ্তাহে ৬ দিন
যাত্রাপথের সেবা
খাদ্য সুবিধাআছে
কারিগরি
গাড়িসম্ভার
  • একটি বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৯০০ ক্লাস লোকোমোটিভ
  • ৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার কোচ
  • ৭টি এসি ছাড়া কোচ
  • একটি চালক গাড়ী
  • গার্ডব্রেকসংযুক্ত ২টি খাবার কক্ষ

সুবর্ণ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং- ৭০১/১০২) বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের মাঝে অন্যতম একটি ট্রেন। ট্রেনটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মাঝে যাতায়ত করে। এটি একটি বিরতিহীন বিলাসবহুল আন্তনগর ট্রেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ১৯৯৮ সালের ১৪ এপ্রিল নববর্ষের দিনে উদ্বোধন করা হয়। এর কোড নং ৭০১ (যাওয়া)/৭০২ (আসা)। এটি বিরতিহীন, বিলাসবহুল এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেন হিসেবে সমাদৃত। এটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী যাত্রা করে। বর্তমানে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসসহ (৭৮৭/৭৮৮) এই ট্রেনটিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ট্রেনটি শুধুমাত্র বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে।

যাত্রার সময়[সম্পাদনা]

ট্রেনটি সকাল ৭:০০ টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে দুপুর ১২:২৫-এ ঢাকায় পৌছে। ফিরতি সময়সূচিতে ঢাকা থেকে বিকাল ১৫:০০ টায় ঢাকা ত্যাগ করে ও রাত ২০:২৫ এ চট্টগ্রাম পৌছে। এটি চট্টগ্রামভিত্তিক ট্রেন। রাতে এর লোকোমোটিভ এবং কোচসমূহ চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে থাকে। এটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।[১]

কোচসমূহ[সম্পাদনা]

ট্রেনটি বর্তমানে চীনের তৈরিকৃত সাদা এয়ারব্রেক কোচদ্বারা চলে। এই কোচগুলি আমদানি করা হয়েছিল। এতে ৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার কোচ, ৭ টি অ-শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, গার্ডব্রেকসংযুক্ত ২ টি ডাইনিং এবং একটি পাওয়ার কার থাকে। কখনো কখনো চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনটিতে ২২টি পর্যন্ত কোচ থাকে। চীনা কোচের পূর্বে ট্রেনটি ইরানি এয়ারব্রেক কোচদ্বারা পরিচালিত হত। রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কারণে ইরানী কোচগুলো পরিবর্তন করে সুবর্ণ এক্সপ্রেসকে নতুন আমদানীকৃত সাদা চীনা রেক দেওয়া হয়।

লোকোমোটিভ[সম্পাদনা]

সুবর্ণ এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৯০০ ক্লাস লোকোমোটিভ দ্বারা চলে। ট্রেনটির জন্য এয়ারব্রেক লোকোমোটিভ প্রয়োজন।

যাত্রী চাহিদা[সম্পাদনা]

মূলত বিরতিহীন ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেন থেকে একাধিক এসি কোচ রয়েছে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস যাত্রীদের মাঝে জনপ্রিয় একটি ট্রেন।

যাত্রাবিরতি[সম্পাদনা]

দূর্ঘটনা[সম্পাদনা]

২০০৪ সালের ১২ আগস্ট হরতাল চলাকালে ভৈরব বাজার জংশনে আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ১২টি বগি ভস্মীভূত হয়। স্টেশন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ভাংচুর করা হয়। সকাল ১১ঃ৩০ মিনিটে ভৈরব রেল সেতুর অদূরে দুষ্কৃতিকারীরা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন গতিরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে।

৭ মে ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এ আন্তনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ভোর ৪ঃ৫০ এ আগুন ধরিয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। ট্রেনটি স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। এতে ট্রেনের দুটি বগি পুড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৫টি বগি। রেলওয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]