কালিদাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কালিদাস
জীবিকা কবি ও নাট্যকার
ধরণ সংস্কৃত সাহিত্য
বিষয় হিন্দু পুরাণ
উল্লেখযোগ্য রচনা অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌, মেঘদূত
দম্পতি কথিত আছে, এক রাজকন্যাকে বিবাহ করেছিলেন


কালিদাস ছিলেন ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষার এক বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার। ইংরেজ কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মতো দেখা হয় তাকে সংস্কৃত ভাষার সাহিত্যে।.[১] তার কবিতা ও নাটকে হিন্দু পুরান ও দর্শনের প্রভাব আছে। কালিদাস প্রাচীন যুগের ভারতীয় কবি। তিনি সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিরূপে পরিচিত। যদিও তাঁর জীবনকাহিনি সম্পর্কে বিশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি প্রথম জীবনে মূর্খ ছিলেন এবং বিদূষী স্ত্রী কর্তৃক অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করতে গেলে দেবী সরস্বতীর বরপ্রাপ্ত হন।

তাঁর সময়কাল নিয়ে দুটি মত প্রচলিত। প্রথম মতে, তিনি খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে বিদ্যমান ছিলেন। তাঁর মালবিকাগ্নিমিত্রম নাটকের নায়ক অগ্নিমিত্র ছিলেন শুঙ্গবংশীয় রাজা, যাঁর শাসনকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৫-৪৮ অব্দ। অপর মতে, তাঁর সময়কাল খ্রিস্টীয় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের মধ্যে। বিক্রমাদিত্য নামে পরিচিত গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভাকবি হিসাবেই তাঁর খ্যাতি সমধিক। কালিদাসের বহু রচনায় দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য, রাজধানী উজ্জয়িনী ও রাজসভার উল্লেখ পাওয়া যায়। সপ্তম শতাব্দীতে বাণভট্ট রচিত হর্ষচরিত গ্রন্থে কালিদাসের সপ্রশংস উল্লেখ আছে।

কালিদাস মেঘদূতম, কুমারসম্ভবম্‌, রঘুবংশম, ঋতুসংহার, শৃঙ্গাররসাষ্টক, শৃঙ্গারতিলক, পুষ্পবাণবিলাস নামক কাব্য, নলোদয়দ্বাদশ-পুত্তলিকা নামে দুটি আখ্যানকাব্য এবং অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌, বিক্রমোর্বশীয়ম, মালবিকাগ্নিমিত্রম নামে তিনটি নাটক রচনা করেন।

জীবন[সম্পাদনা]

কালিদাসের রামতেক পাহাড় যা তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল মেঘদূত কাব্য রচনা করতে

কালিদাসের রচনা অত্যন্ত সুপরিচিত হলেও, তাঁর জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায় না। জানা যায়, তিনি ছিলেন দেবী কালীর (মতান্তরে সরস্বতীর) ভক্ত। একটি কিংবদন্তি অনুসারে, এক রাজকন্যার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু কবি ছিলেন গণ্ডমূর্খ। এজন্য রাজকন্যা তাঁকে অপমান করলে, তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে যান। তখন তাঁর আরাধ্যা দেবী তাঁকে রক্ষা করেন ও বর দেন। দেবীর বরে তিনি কবিত্বশক্তি অর্জন করেন। পরে রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভায় তাঁর স্থান হয়। কথিত আছে, রাজা কুমারদাসের রাজত্বকালে সিংহলে এক গণিকার হাতে তিনি নিহত হন।

অবস্থান[সম্পাদনা]

কালিদাস ঠিক কোন অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন, তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। কেউ বলেছেন, তাঁর বাসস্থান ছিল হিমালয়ের কাছে; আবার কেউ বলেছেন উজ্জয়িনী অথবা কলিঙ্গে। এই তিনটি অনুমানের কারণ হল, কুমারসম্ভবম্‌ গ্রন্থে হিমালয়ের বর্ণনা, মেঘদূত গ্রন্থে প্রকাশিত উজ্জয়িনীর প্রতি তাঁর ভালবাসা এবং রঘুবংশম্‌ গ্রন্থে বর্ণিত কলিঙ্গ-সম্রাট হেমাঙ্গদের স্তুতিবাদ।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

নাটক[সম্পাদনা]

  • মালবিকাগ্নিমিত্রম্
  • অভিজ্ঞানমশকুন্তলম্
  • বিক্রমোর্বশীয়ম্

কাব্যগ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • মেঘদূতম্
  • কুমারসম্ভবম্
  • রঘুবংশম্
  • ঋতুসংহার

প্রভাব[সম্পাদনা]

শকুন্তলা ও দুষ্মন্ত; রাজা রবি বর্মা অঙ্কিত চিত্র।

কালিদাসের রচনাবলি ইংরেজি ভাষায় একাধিকবার অনূদিত হয়েছে। পরে জার্মান ভাষাতেও কালিদাসের রচনাবলি অনূদিত হয়। জার্মানির বিখ্যাত কবি গ্যেটে ও হারডার কালিদাসের রচনার উচ্চ প্রশংসা করেছিলেন।[২] ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর শিল্পীদেরও কালিদাসের রচনা অনুপ্রেরণা জোগায়। ১৯৬১ সালে ভি শান্তারাম অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌ অবলম্বনে তাঁর স্ত্রী চলচ্চিত্রটি তৈরি করেন। আর আর চন্দ্র কালিদাসের জীবনালেখ্য অবলম্বনে ১৯৬৬ সালে তৈরি করেন তামিল চলচ্চিত্র মহাকবি কালিদাস। ১৯৮৩ সালে কন্নড় ভাষায় নির্মিত কবিরত্ন কালিদাস ছবিতে অভিনয় করেন রাজকুমার।[৩] ১৯৬০ সালে তেলেগু ছবি মহাকবি কালিদাস ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এ নাগেশ্বর রাও।[৪]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • K.D. Sethna. Problems of Ancient India, p. 79-120 (chapter: "The Time of Kalidasa"), 2000 New Delhi: Aditya Prakashan. ISBN 81-7742-026-7 (about the dating of Kalidasa)
  • V. Venkatachalam. Fresh light on Kalidasa's historical perspective, Kalidasa Special Number (X), The Vikram, 1967, pp. 130–140.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. R A Malagi (2005), "Toward a Terrestrial Divine Comedy: A study of The Winter's Tale and Shakuntalam", in Poonam Trivedi; Dennis Bartholomeusz, India's Shakespeare: translation, interpretation, and performance, University of Delaware Press, পৃ: 123, আইএসবিএন 9780874138818 
  2. Maurice Winternitz and Subhadra Jha, History of Indian Literature
  3. Kavirathna Kalidasa (1983) Kannada Film at IMDb
  4. Mahakavi Kalidasu, 1960 Telugu film at IMDb.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]