ভারত অধিরাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Union of India
ভারত অধিরাজ্য
ব্রিটিশ কমনওয়েলথের ডোমিনিয়ন

১৯৪৭–১৯৫০
পতাকা অশোকচক্র
নীতিবাক্য
"সত্যমেব জয়তে" (সংস্কৃত)
সঙ্গীত
জনগণমন অধিনায়ক জয় হে
ভারতের অবস্থান
রাজধানী নতুন দিল্লি
ভাষাসমূহ হিন্দি, বাংলা, ইংরেজি এবং ২১ টি অন্যান্য ভাষা
সরকার সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
ভারতের রাজা
 -  ১৯৪৭-৫০ ষষ্ঠ জর্জ
গভর্নর-জেনারেল
 -  ১৯৪৭-৪৮ লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন
 -  ১৯৪৮-৫০ চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী
প্রধানমন্ত্রী
 -  ১৯৪৭-৫০ জওহরলাল নেহেরু
ঐতিহাসিক যুগ ঠান্ডা যুদ্ধ
 -  স্বাধীনতা ১৫ অগস্ট, ১৯৪৭ ১৯৪৭
 -  ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৪৭-৪৮
 -  সংবিধান ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ ১৯৫০
মুদ্রা ভারতীয় টাকা
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

ভারত অধিরাজ্য (ইংরেজি: Union of India বা Dominion of India) ১৫ অগস্ট ১৯৪৭ থেকে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ পর্যন্ত স্থায়ী একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। পরবর্তীকালে এই রাষ্ট্রটি ভারতীয় প্রজাতন্ত্র রূপে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও ইংরেজি Union of India অর্থাৎ ভারত সংঘ কথাটি ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ফেডারেল ব্যবস্থা অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার অর্থে এখনও ব্যবহৃত হয়।

১৯৪৭ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি ঘটলে ব্রিটিশ ভারত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে ভারত অধিরাজ্য ও পাকিস্তান অধিরাজ্য গঠিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিধিবদ্ধ ভারতীয় স্বাধীনতা অধিনিয়ম ১৯৪৭ অনুসারে উক্ত রাষ্ট্রদুটির মেয়াদ ছিল তাদের নিজস্ব সংবিধান প্রখ্যাপিত না হওয়া পর্যন্ত। ভারতের ক্ষেত্রে সংবিধান কার্যকর করার তারিখ ছিল ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০; এই দিনই প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় প্রজাতন্ত্র

ডোমিনিয়ন পর্যায়ে ব্রিটেনের রাজা ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান পদে বৃত থাকেন। তাঁর প্রতিনিধিত্ব করেন দুই রাষ্ট্রের গভর্নর-জেনারেলগণ। তবে এই গভর্নর-জেনারেলের পদটি ব্রিটিশ ভাইসরয়ের পদের অনুরূপ ছিল না। এটি ছিল আনুষ্ঠানিক শাসকের পদ। ডোমিনিয়ন পর্যায়ের ভারতের দুই গভর্নর-জেনারেল হলেন:

  1. লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন (১৯৪৭-৪৮)
  2. চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী (১৯৪৮-৫০)

এই পর্যায়ে ভারতের সরকার প্রধান তথা প্রকৃত শাসক প্রধানমন্ত্রী পদে বৃত ছিলেন জওহরলাল নেহেরু

ভারত বিভাগ[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরেই ভারত ও পাকিস্তান অধিরাজ্য স্বশাসিত অধিরাজ্য রূপে ব্রিটিশ কমনওয়েলথে যোগ দেয়। ভারত বিভাগের ফলে বাংলাপাঞ্জাব – ব্রিটিশ ভারতের এই বৃহত্তম প্রদেশ দুটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়। স্বাধীনতা সমসাময়িক কালে কুড়ি লক্ষ মানুষ শরণার্থী হিসেবে সীমান্ত পার হন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এক লক্ষেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়। ভারত বিভাগের পর কাশ্মীর অঞ্চলের অধিকার নিয়ে দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় এবং সূচনা হয় ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের

বিচারবিভাগীয় প্রয়োগ[সম্পাদনা]

ভারতীয় সংবিধানের ৩০০ নং ধারায় বলা হয়েছে, "ভারত সরকার ভারত সংঘ (Union of India) নামে মামলা করতে পারবে অথবা ভারত সরকারকে ভারত সংঘ নামে চিহ্নিত করে মামলা করা যাবে।" এই কারণে আইনি নথিপত্র ও বিচার প্রক্রিয়ায় ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে সর্বদা "সংঘ" বা "Union" নামে অভিহিত করা হয়। যদিও এই নামটি সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]


আরও দেখুন[সম্পাদনা]