জাহাঙ্গীর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাহাঙ্গীর
Flag of the Mughal Empire.svg চতুর্থ মুঘল সম্রাট
সময়কাল ১৫ অক্টোবর  – ৬ নভেম্বর ১৬২৯
অভিষেক ২৪ অক্টোবর ১৬০৫
পূর্বসূরী আকবর
উত্তরসূরী শাহ জাহান
দাম্পত্য সঙ্গী নুর জাহান
স্ত্রী শাহিব - ই - জামাল
তাজ বিবি মিলকিস মাকানি
অন্যান্য ১৭ স্ত্রী
ইশু
খসরু
পারভেজ
শাহ জাহান

অন্যান্য
পূর্ণ নাম
নুরুদ্দীন মহম্মদ সেলিম
বাসগৃহ তীমুরিয়
পিতা আকবর
মাতা জোধাবাই
জন্ম ৩০ আগস্ট ১৫৬৯
ফাতেহপুর সিকরি
মৃত্যু অক্টোবর ২৮ ১৬২৭
কাশ্মীর
সমাধি লাহোর
ধর্ম ইসলাম

নুরুদ্দীন মহম্মদ সেলিম বা জাহাঙ্গীর (আগস্ট ৩০, ১৫৬৯অক্টোবর ২৮, ১৬২৭) ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট। তিনি ১৬০৫ সাল থেকে তার মৃত্যু অবধি ১৬২৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর-এর পুত্র। তিনি ১৫৯৯ সালে তার পিতা আকবর-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। সেই সময় আকবর দক্ষিণ ভারত-এ ব্যস্ত ছিলেন। তিনি হেরে গেলেও পরবর্তী কালে তার সৎমা রুকাইয়া সুলতান বেগমসেলিমা সুলতান বেগম এর সমর্থনে ১৯০৫ সালে রাজা হতে সমর্থ হন। প্রথম বছরেই তাকে তার বড় ছেলে খসরুর বিদ্রহের মোকাবিলা করতে হয় ও তিনি তাতে সফল হন। তিনি খসরু সমর্থিত ২০০০ লোককে মৃত্যুদণ্ড দেন ও খসরুকে অন্ধ করে দেন।

বাবার মত চমৎকার প্রশাসন ছাড়াও জাহাঙ্গীর-এর শাষনামলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং চিত্তাকর্ষক সাংস্কৃতিক সাফল্য বিদ্যমান ছিল। এছাড়া সার্বভৌম সীমানা অগ্রসরও অব্যাহত ছিল - বঙ্গ, মেওয়ার, আহমেদনগরদক্ষিণ ভারত পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল। এই সাম্রাজ্য বৃদ্ধির একমাত্র বাধা আসে যখন পারস্য অঞ্চলের সাফারীদ রাজবংশের শাহেনশাহ আব্বাস কান্দাহার আক্রমন করেন। তা ঘটে যখন ভারতে তিনি খসরুর বিদ্রহ দমন করছিলেন। তিনি রাজপুতানা রাজাদের সাথে সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনায় বসেন ও তারা সকলেই মুঘল আধিপত্য মেনে নেন ও তার বদলে তাদের মুঘল সাম্রাজ্যে উঁচু পদ দেওয়া হয়।

জাহাঙ্গীর শিল্প, বিজ্ঞান এবং, স্থাপত্য সঙ্গে মুগ্ধ হয়ে তরুণ বয়স থেকেই চিত্রকলার প্রতি ঝোঁক দেখিয়েছেন এবং তার নিজের একটি কর্মশালায় ছিল। মুঘল চিত্রকলা শিল্প, জাহাঙ্গীর এর রাজত্বের অধীনে মহান উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তার সময় উস্তাদ মনসুর জন্তু ও পাখির ছবি একে বিখ্যাত হন। জাহাঙ্গীর এর ছিল একটি বিশাল পক্ষিশালা ও পশুশালা ছিল। জাহাঙ্গীর ইউরোপীয় এবং ফার্সি শিল্পকলাকেও ভালবাসতেন। তিনি ফার্সি রানী নুর জাহান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার সাম্রাজ্য জুড়ে ফার্সি সংস্কৃতি প্রচার করেন। তার সময়েই শালিমার গার্ডেন তৈরি হয়।

জাহাঙ্গীর তার বাবার মত একজন কঠোর সুন্নি মুসলমান ছিলেন না। তিনি সার্বজনীন বিতর্কে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের অংশগ্রহণ করতে দিতেন। জাহাঙ্গীর তার লোকদের কাউকে জোড়পূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বারণ করতেন। তিনি সকল প্রকার ধর্মের লোকেদের থেকে সমান খাজনা নিতেন। থমাস রো, এডওয়ার্ড টেরি-সহ অনেকেই তার এইপ্রকার আচরণের প্রশংসা করেন। থমাস রোর মতে জাহাঙ্গীর নাস্তিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন।

অনেক ভাল গুন থাকা সত্ত্বেও, মদ্যপান ও নারী এই দুই আসক্তির জন্য জাহাঙ্গীর সমালোচিত হন। তিনি এক সময় তার স্ত্রী নুর জাহান কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে ফেলেন এবং নুর জাহান বিভিন্ন বিতর্কিত চক্রান্তের সাথে জড়িয়ে পরেছিলেন। ১৬২২ সালে তার পুত্র ক্ষুরাম প্রথম বিদ্রোহ করেন। কিন্তু ১৬২৬ সালে জাহাঙ্গীরের বিশাল সেনাবাহিনীর কাছে কোণঠাসা হয়ে তিনি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু ১৬২৭ সালে তার মৃত্যুর পর ক্ষুরামই নিজেকে শাহ জাহান উপাধিতে ভূষিত করে সিংহাসন দখল করেন। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর বিভিন্ন গল্প , সিনেমা ও সাহিত্যে তার ও আনারকলির রহস্যে ভরা সম্পর্ক স্থান পায়।

বিদ্রোহ এবং উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদ[সম্পাদনা]

১৬০০ সালে জাহাঙ্গীর এর ক্ষমতায়ে আসা নিয়ে উৎসব

রাজকুমার সেলিম ৩৬ বছর বয়েসে তার বাবার মৃত্যুর ৮ দিন পর ৩০ নভেম্বর ১৬০৫ সালে ক্ষমতায় এসে নিজেকে নুরুদ্দিন মহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী উপাধিতে ভূষিত করে। এখান থেকেই তার ২২ বছরের রাজত্বের শুরু।

তিনি প্রথমেই তার ছেলে খসরু মিরজার বিদ্রোহের মুখে পড়েন। খসরু কে তিনি অন্ধ করে দেন ও তাকে আর্থিক সাহায্য করায় পঞ্চম শিখ গুরু অর্জন দেব কে পাঁচ দিন ধরে অত্যাচার করা হয়। পরে তিনি নদীতে স্নান করার সময় উধাও হয়ে যান।

জাহাঙ্গীর তার ছোট ছেলে খুরাম (পরবর্তী কালে শাহ জাহানকে উত্তরাধিকার এর বিষয় সমর্থন করতেন।) উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে শাহ জাহান ১৬২২ সালে তার বড় ভাই খসরু কে খুন করেন।

মেয়ার এর রানা ও শাহ জাহান এর মধ্যে একটি সফল চুক্তি হয়। শাহ জাহান বঙ্গবিহার ব্যস্ত থাকার সময়, জাহাঙ্গীর তার জেতা রাজ্য কে নিজের বলে দাবি করেন। নিজেদের মধ্যে বিবাদের সাহায্য নিয়ে ফার্সি ভাষা রা কান্দাহার জয় করেন। এর ফলে মুঘল রা আফগানিস্তান ও পারস্য এর মুল্যবান বাণিজ্যিক রুট গুলি নিজেদের অধীন থেকে হারিয়ে ফেলে।

শাসনকাল[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরের ভারি কয়েন
জাহাঙ্গীর দরবারে ,জাহাঙ্গীর-নামা থেকে

নাস্তিকতাবাদে বিশ্বাসী জাহাঙ্গীর নিজের শাসনকে একটি ন্যায়বিচার এর প্রদর্শন হিসেবে শুরু করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Andrea, Alfred J.; Overfield, James H. (2005)। The Human Record: Sources of Global History. Vol. 2: Since 1500 (Fifth সংস্করণ)। Boston: Houghton Mifflin। আইএসবিএন 0-618-37041-2  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Alvi, Sajida S. (1989)। "Religion and State during the Reign of Mughal Emperor Jahǎngǐr (1605–27): Nonjuristical Perspectives"। Studia Islamica 69 (69): 95–119। জেএসটিওআর 1596069ডিওআই:10.2307/1596069 
  • Findly, Ellison B. (1987)। "Jahāngīr's Vow of Non-Violence"। Journal of the American Oriental Society (Journal of the American Oriental Society, Vol. 107, No. 2) 107 (2): 245–256। জেএসটিওআর 602833ডিওআই:10.2307/602833 
  • Lefèvre, Corinne (2007)। "Recovering a Missing Voice from Mughal India: The Imperial Discourse of Jahāngīr (R. 1605–1627) in his Memoirs"। Journal of the Economic and Social History of the Orient 50 (4): 452–489। ডিওআই:10.1163/156852007783245034 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী:
সম্রাট আকবর
মুঘল সম্রাট
১৬০৫১৬২৬
উত্তরসূরী:
সম্রাট শাহজাহান