কলকাতা মেট্রো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কলকাতা মেট্রো
Kolkatametro logo.gif
তথ্য
অবস্থান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,  ভারত
অতিক্রমণের ধরণ দ্রুত পরিবহন
লাইনের সংখ্যা
স্টেশনের সংখ্যা ২৩ (১৫টি ভূগর্ভস্থ, ১টি ভূতলস্থ, ৭টি উড়াল)
কাজ
কাজ শুরু ১৯৮৪
পরিচালক মেট্রো রেলওয়ে, কলকাতা
প্রযুক্তি
লাইনের দৈর্ঘ্য ২২.৩ কিলোমিটার

কলকাতা মেট্রো পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী উত্তরদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অংশবিশেষে পরিষেবা প্রদানকারী দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা। এই নেটওয়ার্কে ২২.৩০ কিলোমিটার পথে ২৩টি মেট্রো স্টেশন বিদ্যমান, যার মধ্যে ১৫টি স্টেশন ভূগর্ভস্থ। কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ব্রড গেজ ট্র্যাকে ভূগর্ভস্থ, ভূতলস্থ এবং উড়াল, তিন প্রকার স্টেশনই রয়েছে।

১৯৮৪ সালে চালু হওয়া কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা (দ্বিতীয় মেট্রো পরিষেবা দিল্লি মেট্রো চালু হয় ২০০২ সালে)। এটি ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এবং ভারতীয় রেলের একটি ক্ষেত্রীয় রেলওয়ের মর্যাদা ভোগ করে।

বর্তমান মেট্রো লাইনটি উত্তরে দমদম থেকে দক্ষিণে কবি নজরুল (গড়িয়া) পর্যন্ত প্রসারিত। এই পথটির দৈর্ঘ্য ২৩.৩ কিলোমিটার। মোট স্টেশনের সংখ্যা ২১। ভূগর্ভস্থ ও উড়াল – উভয় প্রকার ট্র্যাকেই ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর একাধিক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও নতুন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্যারিস মেট্রোর মতো কলকাতা মেট্রোতেও দেশের বিভিন্ন মণীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্টেশনের নামকরণ করা হয়ে থাকে। পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলের মেট্রো ভবনে কলকাতা মেট্রোর সদর কার্যালয় অবস্থিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস [সম্পাদনা]

সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের বহির্গাত্রের ম্যুরাল

১৯৪৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের তদনীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায় কলকাতার ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে শহরে একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কথা বিবেচনা করেন। এই মর্মে একটি ফরাসি বিশেষজ্ঞ দলকে দিয়ে সমীক্ষা চালানো হলেও, কোনো সুসংহত সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি।[১] এরপর ১৯৬৯ সালে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (রেলওয়ে) নামে একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। এই প্রকল্পের প্রতিবেদনে কলকাতার ট্রাফিক সমস্যার সমাধানে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই বলে জানানো হয়। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যানে কলকাতার জন্য মোট ৯৭.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মেট্রো লাইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।[১] এই পাঁচটি পথের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপিত হয় ১৬.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট দমদম-টালিগঞ্জ লাইনটির উপর।[১] ১৯৭২ সালের ১ জুন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৩-৭৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।[১][২]

প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ১৯৭৭-৭৮ সালে অর্থের জোগান বন্ধ থাকা, ভূগর্ভস্থ পরিষেবাগুলির স্থানান্তরণ, আদালতের নানা স্থগিতাদেশ, কাঁচামালের অনিয়মিত সরবরাহ ইত্যাদি কারণে প্রকল্প রূপায়ণে অযথা দেরি হতে থাকে। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এসপ্ল্যানেড-ভবানীপুর (নেতাজি ভবন) ৩.৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট রুটে ভারতের প্রথম তথা এশিয়ার পঞ্চম মেট্রো পরিষেবা কলকাতা মেট্রোর উদ্বোধন করেন।[১] ওই বছরই ১২ নভেম্বর চালু হয় দমদম-বেলগাছিয়া ২.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট রুটটিও। উল্লেখ্য, এটিই কলকাতা মেট্রোর দীর্ঘতম স্টেশন দূরত্ব।[১] ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল টালিগঞ্জ অবধি মেট্রো সম্পসারিত হলে এসপ্ল্যানেড থেকে টালিগঞ্জ অবধি ১১টি স্টেশন নিয়ে ৯.৭৯ কিলোমিটার পথের কাজ সম্পূর্ণ হয়।[১]

২২ নভেম্বর ১৯৯২ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া অংশটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এই বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশটি খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। টালিগঞ্জ অবধি সম্প্রসারণের দীর্ঘ আট বছর পরে ১৩ অগস্ট ১৯৯৪ তারিখে দমদম-বেলগাছিয়া শাখাটিকে ১.৬২ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করে শ্যামবাজার অবধি নিয়ে আসা হয়। সেই বছরের ২ অক্টোবর তারিখে ০.৭১ কিলোমিটার এসপ্ল্যানেড-চাঁদনি চক শাখাটি চালু হয়। শ্যামবাজার-শোভাবাজার-গিরিশ পার্ক (১.৯৩ কিলোমিটার) ও চাঁদনি চক-সেন্ট্রাল (০.৬০ কিলোমিটার) শাখাদুটি চালু হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ তারিখে। গিরিশ পার্ক থেকে সেন্ট্রালের মধ্যবর্তী ১.৮০ কিলোমিটার পথ সম্পূর্ণ হয় ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ তারিখে। এর ফলে বর্তমান মেট্রোলাইনটির কাজ সম্পূর্ণ হয়।

সম্প্রতি ২২শে আগস্ট ২০০৯ টালিগঞ্জ (বর্তমানে মহানায়ক উত্তমকুমার) স্টেশন থেকে গড়িয়া বাজার (বর্তমানে কবি নজরুল) স্টেশন পর্যন্ত ৫.৮৫ কিলোমিটার সম্প্রসারিত নতুন মেট্রোপথের উদ্বোধন করা হয়।

রুট ও স্টেশনসমূহ [সম্পাদনা]

কলকাতা মেট্রো
টেমপ্লেট:BS-alt
ব্যারাকপুরের দিকে
টেমপ্লেট:BS-alt টেমপ্লেট:BS-alt
দমদম
টেমপ্লেট:BS-alt টেমপ্লেট:BS-alt
শিয়ালদহের দিকে মেন লাইন
টেমপ্লেট:BS-alt
বেলগাছিয়া
টেমপ্লেট:BS-alt
শ্যামবাজার
টেমপ্লেট:BS-alt
শোভাবাজার-সুতানুটি
টেমপ্লেট:BS-alt
গিরিশ পার্ক
টেমপ্লেট:BS-alt
মহাত্মা গান্ধী রোড
টেমপ্লেট:BS-alt
সেন্ট্রাল
টেমপ্লেট:BS-alt
চাঁদনি চক
টেমপ্লেট:BS-alt
এসপ্ল্যানেড
টেমপ্লেট:BS-alt
পার্ক সার্কাস
টেমপ্লেট:BS-alt
ময়দান
টেমপ্লেট:BS-alt
রবীন্দ্র সদন
টেমপ্লেট:BS-alt
নেতাজি ভবন
টেমপ্লেট:BS-alt
যতীন দাস পার্ক
টেমপ্লেট:BS-alt
কালীঘাট
টেমপ্লেট:BS-alt
রবীন্দ্র সরোবর
টেমপ্লেট:BS-alt
মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ)
টেমপ্লেট:BS-alt
নেতাজি (কুঁদঘাট)
টেমপ্লেট:BS-alt
মাস্টারদা সূর্য সেন (বাঁশদ্রোণী)
টেমপ্লেট:BS-alt
গীতাঞ্জলি (নাকতলা)
টেমপ্লেট:BS-alt
কবি নজরুল (গড়িয়া বাজার)
টেমপ্লেট:BS-alt
শহীদ ক্ষুদিরাম (ব্রিজী)
টেমপ্লেট:BS-alt
কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া)

উত্তর-দক্ষিণ করিডোর [সম্পাদনা]

কবি নজরুল (গড়িয়া বাজার) মেট্রো স্টেশন।

কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের স্টেশনসমূহ হল :

উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের সম্প্রসারণ [সম্পাদনা]

টালিগঞ্জের আরও দক্ষিণে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত মেট্রোর রুট সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ২৩শে আগস্ট ২০০৯ গড়িয়া বাজার বা কবি নজরুল পর্যন্ত পথ সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এই পথের বাকি নির্মীয়মান স্টেশনগুলি হল :

পূর্ব-পশ্চিম করিডোর [সম্পাদনা]

পূর্ব-পশ্চিম কলকাতা মেট্রো

বিধাননগর (সল্টলেক) থেকে হাওড়া পর্যন্ত নির্মীয়মান পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের প্রস্তাবিত স্টেশনগুলি হল :

  • সল্টলেক সেক্টর ফাইভ
  • করুণাময়ী
  • সেন্ট্রাল পার্ক
  • সল্টলেক সিটি সেন্টার
  • বেঙ্গল কেমিক্যাল
  • যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন
  • ফুলবাগান
  • শিয়ালদহ স্টেশন
  • বউবাজার
  • সেন্ট্রাল জংশন
  • মহাকরণ
  • হাওড়া স্টেশন

বৈশিষ্ট্যসমূহ [সম্পাদনা]

কারিগরি বৈশিষ্ট্যসমূহ ও নির্মাণপদ্ধতি [সম্পাদনা]

কলকাতার মেট্রোয় যাত্রীরা

মেট্রো পরিকাঠামো বিনির্মাণ একটি অত্যন্ত জটিল কাজ। কারণ, এই কাজে একযোগে প্রয়োগ করতে হয় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারগণ তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বিদেশ থেকে আহরিত জ্ঞানকে সম্বল করে ভারতে প্রথম কয়েকটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটান কলকাতা মেট্রো সংস্থাপনকালে।

  • ডায়াফ্রাম দেওয়াল ও শিট পাইলের সাহায্যে কাট অ্যান্ড কভার অর্থাৎ খনন ও ভরাটকরণ পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ চালানো হয়।
  • মাটির নিচে যখন খননকার্য চলছিল, তখন উপরের রাস্তায় ট্র্যাফিক পরিষেবা সচল রাখার জন্য প্রশস্ত ডেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।
  • বায়ুচাপ ও এয়ারলক ব্যবহার করে সিল্ড টানেলিং করা হয়।
  • ইলাস্টিক ফাস্টেনিং, রাবার প্যাড, এপক্সি মর্টার এবং নাইলন ইনসার্টস ব্যবহার করে ব্যাল্যাস্টবিহীন ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়।
  • স্টেশন ও সুড়ঙ্গের পরিবেশ নিয়ণকল্পে শীততাপ-নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুচলনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • ট্র্যাকশনের জন্য তৃতীয় রেল কারেন্ট কালেকশনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • শুষ্ক ধরনের ট্রান্সফর্মার ও সিএফ-৬ সার্কিট ব্রেকার্স সহ ভূগর্ভস্থ সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়।
  • টানেল ট্রেন ভিএইচএফ-রেডিও সংযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়।
  • মাইক্রোপ্রসেসর-ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও সাবস্টেশনগুলির জন্য তত্ত্বাবধায়কীয় রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় টিকিট বিক্রয় ও পরীক্ষণ বা চেকিং-এর ব্যবস্থা করা হয়।

সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ [সম্পাদনা]

সামগ্রিক ট্র্যাক দৈর্ঘ্য ২২.৩ কিলোমিটার
স্টেশন ২১ (১৫টি মাটির তলায়, ১টি ভূপৃষ্ঠে, ৫টি উত্তোলিত)
গেজ ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৬৭৬ মিলিমিটার) ব্রডগেজ
প্রতি ট্রেনের কামরাসংখ্যা
সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি ৫৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা
গড় গতি ৩০ কিলোমিটার/ঘণ্টা
ভোল্টেজ ৭৫০ ভোল্ট ডিসি
বিদ্যুৎ সংগ্রহ পদ্ধতি ৭৫০ ভোল্ট ডিসি ব্যবহার করে তৃতীয় রেল
ভ্রমণ সময় : দমদম থেকে কবি নজরুল ৪১ মিনিট (প্রায়)
প্রতি কামরার লোকধারণ ক্ষমতা ২৭৮ জন দণ্ডায়মান ও ৪৮ জন উপবিষ্ট
প্রতি ট্রেনের লোকধারণ ক্ষমতা ২৫৯০ জন যাত্রী (প্রায়)
দুটি ট্রেনের আগমনের মধ্যে সময়ান্তর অফিস টাইমে ৭ মিনিট ও ১০-১৫ মিনিট অন্যান্য সময়ে
প্রকল্প রূপায়ণে সামগ্রিক ব্যয় ১৮২৫ কোটি ভারতীয় টাকা (প্রায়)
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ পরিশুদ্ধ ও শীতল বায়ুযুক্ত কৃত্রিম বায়ুচলন

রোলিং স্টক [সম্পাদনা]

সমগ্র রেকটি ভেস্টিবিউল-বেষ্টিত। রোলিং স্টক সরবরাহ করে চেন্নাইয়ের আইসিএফ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে বেঙ্গালুরুর এনজিইএফ। এই রোলিং স্টকগুলি অদ্বিতীয়, কারণ ডবলিউএজি-৬ সিরিজের কয়েকটি লোকোমোটিভ ছাড়া এগুলি ভারতের একমাত্র এন্ড-মাইন্টেড ক্যাব দরজা-বিশিষ্ট।

কলকাতা মেট্রোর ভূগর্ভস্থ রেল পরিষেবার জন্য আইসিএফ এই কোচগুলি বিশেষ নকশায় নির্মিত করে সরবরাহ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল :

  • ট্র্যাকশনের বিদ্যুৎসংযোগ তৃতীয় রেল বিদ্যুৎ সংগ্রহ ব্যবস্থায় লব্ধ হয়।
  • স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা/বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা ও নিরবিচ্ছিন্ন ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে।
  • কোনওরকম মানবিক ব্যর্থতার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন রক্ষণব্যবস্থা লব্ধ, এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রযুক্ত হয়ে হয়।
  • ট্রেনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। ড্রাইভার কেবল তত্ত্বাবধান করে থাকেন।
  • আসন্ন স্টেশনের নাম ঘোষণা করে গণসম্বোধন ব্যবস্থাও চালু আছে। ট্রেন স্টেশনে উপস্থিত হলে সেই স্টেশনের নামও ঘোষণা হয়ে থাকে। এই ঘোষণা হয় বাংলায় এবং তারপর ঘোষণার হিন্দিইংরেজি অনুবাদও সম্প্রচারিত হয়। ট্রেনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ট্রেন ক্রিউ-এর যে কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এই ব্যবস্থায় সরাসরি যাত্রীদের সম্বোধন করে ঘোষণা করতে পারেন।

এই সকল অত্যাধুনিক কলাকৌশলবিশিষ্ট কোচগুলির নকশা ও নির্মাণ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের। সুরক্ষা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে বিবেচিত হয়। কোনওরকম কারিগরি সহযোগিতা ছাড়াই যা লব্ধ হয়ে থাকে। সমগ্র ব্যবস্থাটি ২৩৫৬ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন।

ভাড়া কাঠামো [সম্পাদনা]

কলকাতে মেট্রোর সাধারণ টিকিট

মেট্রো রেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। দুরত্ব অনুসারে এই ভাড়া পরিবর্তিত হয়ে থাকে। একটি ত্রিবার্ষিক বিরতির পর সর্বশেষ ১ অক্টোবর ২০০১ তারিখে মেট্রোর ভাড়া পর্যালোচিত হয়েছিল। বর্তমানের ভাড়া কাঠামোটি নিম্নরূপ:

জোন দুরত্ব (কিলোমিটারে) ভাড়া (টাকায়)
৫ কিমি পর্যন্ত ৪.০০
৫-১০ কিমি ৬.০০
১০-১৫ কিমি ৮.০০
১৫-২০ কিমি ১০.০০
২০ কিমি বা তার বেশি ১২.০০

টিকিট [সম্পাদনা]

কলকাতার মেট্রো রেলে নিম্নোক্ত ধরণের টিকিট দেখা যায়:

  • দৈনিক টিকিট
    • একক ব্যক্তি একমুখী যাত্রা
    • একক ব্যক্তি দ্বিমুখী যাত্রা (গমন ও প্রত্যাবর্তন)
    • বহু ব্যক্তি (২-৭ জন) একমুখী যাত্রা
    • বহু ব্যক্তি (২-৭ জন) দ্বিমুখী যাত্রা (গমন ও প্রত্যাবর্তন)
  • মাল্টি রাইড টিকিট
    • মিনিমাম মাল্টি রাইড (এমএমআর) – ২১ দিনের জন্য কার্যকর। এতে ১১টি রাইডের ভাড়ায় ১২টি রাইড লব্ধ হয়।
    • লিমিটেড মাল্টি রাইড (এলএমআর) – ৩০ দিনের জন্য কার্যকর। এতে ৩০টি রাইডের ভাড়ায় ৪০টি রাইড লব্ধ হয়।
    • এক্সটেন্ডেড মাল্টি রাইড (ইএমআর) - ৯০ দিনের জন্য কার্যকর। এতে ৫৫টি রাইডের ভাড়ায় ৮০টি রাইড লব্ধ হয়।

স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ [সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালের অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা মেট্রো চৌম্বকীয় কোডযুক্ত টিকিট ও যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা-সহ স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ বা অটোমেটিক ফেয়ার কালেকশন (এএফসি) ব্যবস্থা চালু করে। পরে এই ব্যবস্থা দমদম থেকে কবি নজরুল অবধি সকল স্টেশনে চালু করা হয়। চৌম্বকীয় টিকিটগুলি টিকিট মেশিন দ্বারা বিতরিত হয়। সে টিকিট একটি স্বয়ংক্রিয় ফেয়ার-কালেকশন গেটে নির্দিষ্ট স্থানে ঢোকালে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারা যায়। চৌম্বকীয় টিকিট ছয় প্রকার –

  • একক রাইড
  • দুই রাইড (গমন ও প্রত্যাবর্তন)
  • বারো রাইড (এলএমআর)
  • ৪৮ রাইড (ইএমআর)
  • বহু ব্যক্তি একমুখী যাত্রা (এমপিএস)
  • বহু ব্যক্তি দ্বিমুখী যাত্রা (এমপিআর)
  • বর্তমানে বারো রাইড (এলএমআর)৪৮ রাইড (ইএমআর) পরিবর্তিত হয়ে ১২ রাইড (এমএমআর), ৪০ রাইড (এলএমআর) ও ৮০ রাইড (ইএমআর) করা হয়েছে।

টিকিট অফিস মেশিন (টিওএম) এমন একটি মেশিন যা থেকে বুকিং কাউন্টারগুলি টিকিট ইস্যু করে। এই টিকিটগুলি স্বয়ংক্রিয় ফেয়ার কালেকশন গেটে ঢোকালে স্টেশনে প্রবেশ করা যায়। আবার স্টেশন থেকে বের হবার সময়ও একই পদ্ধতিতে বের হতে হয়। এই সময় গেট টিকিটগুলি ফিরিয়ে দেয় না।

এই ব্যবস্থায় কখনও যদি যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়, তবে সেক্ষেত্রে সাধারণ পদ্ধতিতে টিকিট বিতরণ ও পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

স্মার্ট কার্ড [সম্পাদনা]

২০০৫ সাল থেকে মেট্রো রেল স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা চালু করে। এক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি একটি স্মার্ট (সম্ভবত আরএফআইডি-চিপ ইনস্টল করা) কার্ড ইস্যু করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থে রিচার্জ করতে পারেন। স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুরত্ব নির্ধারিত হয়ে যায় ও সেই হিসাবে অর্থ রিচার্জ করা অর্থ থেকে কেটে নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা চৌম্বকীয় টিকিটের খরচ কমায়, তাই চৌম্বকীয় টিকিটের তুলনায় তিন টাকা কম মূল্যে মেট্রোয় পরিভ্রমণ করা যায়।

পাদটীকা [সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ History of Kolkata Metro
  2. "মেট্রো রেল", বাংলার ঐতিহ্য:কলকাতার অহংকার, পল্লব মিত্র, পারুল প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১০

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]

আরও দেখুন [সম্পাদনা]