বিদ্যাসাগর সেতু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিদ্যাসাগর সেতু
দ্বিতীয় হুগলি সেতু
Vidyasagar Setu 2.jpg
অফিসিয়াল নাম বিদ্যাসাগর সেতু
বাহক দুটি পথ, প্রতি পথে তিনটি সবরকম যানবাহন চলাচলের উপযোগী লেন
ক্রস হুগলি নদী
স্থান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
তদারক সংস্থা হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স
নকশা ঝুলন্ত সেতু
মোট দৈর্ঘ্য ৮২২.৯৬ মিটার (২,৭০০ ফু)
প্রস্থ ৩৫ মিটার (১১৫ ফু)
দীর্ঘতম স্প্যান ৪৫৭.২ মিটার (১,৫০০ ফু)
ক্লিয়ারেন্স (নিচে) ২৬ মিটার (৮৫ ফু)
উন্মেষিত ১০ অক্টোবর, ১৯৯২
পথশুল্ক হ্যাঁ, টোল সেতু
স্থানাঙ্ক ২২°৩৩′২৫″ উত্তর ৮৮°১৯′৪০″ পূর্ব / ২২.৫৫৬৯৪° উত্তর ৮৮.৩২৭৭৮° পূর্ব / 22.55694; 88.32778স্থানাঙ্ক: ২২°৩৩′২৫″ উত্তর ৮৮°১৯′৪০″ পূর্ব / ২২.৫৫৬৯৪° উত্তর ৮৮.৩২৭৭৮° পূর্ব / 22.55694; 88.32778

বিদ্যাসাগর সেতু, বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হুগলি নদীর উপর অবস্থিত একটি সেতু। এর মাধ্যমে হাওড়াকলকাতা শহরদুটির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে। সেতুটি সব রকম যানবাহনের ক্ষেত্রেই টোল সেতু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মোট দৈর্ঘ্য ৮২২.৯৬ মিটার। এটি ভারতের দীর্ঘতম ঝুলন্ত (কেবল-স্টেইড) সেতু এবং এশিয়ার দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুগুলির মধ্যে একটি। সেতুটি নির্মাণ করতে মোট ৩৮৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর সেতুটির উদ্বোধন করা হয়।[১][২] হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল।[৩]

১৯৪৩ সালে নির্মিত রবীন্দ্র সেতুর (হাওড়া ব্রিজ) ১২ কিলোমিটার (৭.৫ মা) দক্ষিণে অবস্থিত বিদ্যাসাগর সেতু হুগলি নদীর উপর নির্মিত দ্বিতীয় সেতু। উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে।[১][৩][৪]

প্রকৃতপক্ষে এই সেতু কলকাতা-সন্নিকটস্থ গঙ্গাবক্ষে স্থিত অপর দুই সেতু রবীন্দ্র সেতুবিবেকানন্দ সেতুর সহযোগী সেতু হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। বিদ্যাসাগর সেতু একটি কেবল-স্টেইড বা ঝুলন্ত সেতু। এর প্রধান বিস্তার ৪৫৭ মিটারের কিছু বেশি এবং ডেকের প্রস্থ ৩৫ মিটার। এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে এবং সেতুটির উদ্বোধন হয় ১০ অক্টোবর, ১৯৯২, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রয়াণশতবর্ষে। সেতুর তদারককারী সংস্থা হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন (এইচআরবিসি)। তবে সেতু নির্মাণ করেছিল বিবিজি নামে ব্রেইথওয়েইট, বার্ণ ও জেশপ নামক তিন সংস্থার একটি যৌথ দল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ও জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। হাওড়া ও কলকাতা শহরদুটির মধ্যে হুগলি নদীর উপর সেই সময় একটি মাত্র সেতুই ছিল - হাওড়া ব্রিজ। এই সেতুর উপর যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে, নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়। এমন একটি সেতুর পরিকল্পনা করা হয়, যে সেতুটি নিকটস্থ জাতীয় সড়কের মাধ্যমে মুম্বই, দিল্লিচেন্নাই শহর তিনটিকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করতে পারবে।[৪]

১৯৭২ সালের ২০ মে, ইন্দিরা গান্ধী এই সেতুর শিলান্যাস করেন।[৫] যদিও এই ঝুলন্ত সেতু (সেই সময়ে এই সেতুটি একই ধরনের সেতুগুলির মধ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম স্প্যান ব্রিজ ছিল) নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালের ৩ জুলাই, কলকাতার নদীতীরে একটি কূপখননের মাধ্যমে।[৬] সেতুটি সম্পূর্ণ হতে মোট ২০ বছর (অবশ্য তার মধ্যে সাত বছর কোনো নির্মাণকাজই হয়নি) সময় লেগেছিল। ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর সেতুটি উদ্বোধন করা হয়।

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

সেতুর পূর্ণ বিস্তার

বিদ্যাসাগর সেতু একটি মাল্টি-কেবল স্টেইড (১২১টি কেবল) সেতু। ১২৭.৬২ মিটার (৪১৮.৭ ফু) লম্বা দুটি ইস্পাত-নির্মিত পাইলন কেবলগুলিকে ধরে আছে। সেতুটিতে দুটি ইস্পাতের কাঠামোযুক্ত কনক্রিট ডেক রয়েছে। ডেকের দুটি ক্যারেজওয়ের মোট প্রস্থ ৩৫ মিটার (১১৫ ফু)। সেতুটিতে মোত তিনটি লেন এবং দু-পাশে ১.২ মিটার (৩ ফু ১১ ইঞ্চি) প্রস্থবিশিষ্ট ফুটপাথ রয়েছে। ডেকটি মূল ৪৫৭.২০ মিটার (১,৫০০.০ ফু) দীর্ঘ বিস্তার এবং দু-পাশের প্রতিপাশের ১৮২.৮৮ মিটার (৬০০.০ ফু) বিস্তারের উপর রয়েছে। এটিকে ধরে আছে সমান্তরাল তারের কেবল। সেতুটির নকশা করেছিল শ্লেইচ বার্গারম্যান অ্যান্ড পার্টনার, নকশা পরীক্ষা করে ফ্রিম্যান ফক্স অ্যান্ড পার্টনার ও বৃহৎ শিল্প নিগম লিমিটেড। সেতুটি নির্মাণ করে গ্যামন ইন্ডিয়া লিমিটেড।[২][৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Kolkatta India City Guide"Vidyasagar Setu। Kolkatta Clickindia.com। সংগৃহীত 8 Febaruary 2011 
  2. ২.০ ২.১ P. Dayaratnam; Indian Institution of Bridge Engineers (2000)। Cable stayed, supported, and suspension bridges। Universities Press। পৃ: 113–। আইএসবিএন 9788173712715। সংগৃহীত 8 February 2011 
  3. ৩.০ ৩.১ "History"। Bridge Calcutta: Government of India। সংগৃহীত 8 February 2011 
  4. ৪.০ ৪.১ "Vidyasagar setu"। Shibpurinternational.com। সংগৃহীত 8 February 2011 
  5. S. B. Bhattacherje (1 May 2009)। Encyclopaedia of Indian Events & Dates। Sterling Publishers Pvt. Ltd। পৃ: 242। আইএসবিএন 9788120740747। সংগৃহীত 8 February 2011 
  6. Bhattacherje{2009},p.252
  7. "Second Hooghly Bridge"। Structurae। সংগৃহীত 8 February 2011 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]