রবীন্দ্রসংগীত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"স্বদেশ" পর্যায়ের একটি গানের চিত্রিত পাণ্ডুলিপি
কলকাতায় রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান।

রবীন্দ্রসংগীত হল বিশিষ্ট বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও সুরারোপিত গান। বাংলা সংগীতের জগতে এই গানগুলি এক বিশেষ স্থানের অধিকারী। রবীন্দ্রনাথের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হেআমার সোনার বাংলা গানদুটি যথাক্রমে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় স্তোত্র বন্দে মাতরম্‌ রবীন্দ্রনাথেরই সুরারোপিত।

রবীন্দ্রনাথ রচিত মোট গানের সংখ্যা ১৯১৫।[১] রবীন্দ্রনাথের গানের বাণীতে উপনিষদ্‌, হিন্দু পুরাণসংস্কৃত কাব্যনাটক, বৈষ্ণববাউল দর্শনের প্রভাব সুস্পষ্ট। সুরের দিক থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকী উভয় প্রকারই), বাংলা লোকসংগীত, কীর্তন ও রামপ্রসাদী এবং পাশ্চাত্য ধ্রুপদি ও লোকসংগীতের "ত্রিবেণীসংগম" ঘটেছে রবীন্দ্রসংগীতে।[২] রবীন্দ্রনাথের সমুদয় গান তাঁর গীতবিতান গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত গ্রন্থের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে কবি গানগুলিকে "পূজা", "স্বদেশ", "প্রেম", "প্রকৃতি", "বিচিত্র" "আনুষ্ঠানিক", এই ছয়টি "পর্যায়ে" বিন্যস্ত করেছিলেন।[৩] কবির প্রয়াণের পর প্রথম দুটি খণ্ডে অগ্রন্থিত গানগুলি নিয়ে গীতবিতান সংকলনের তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়। এই খণ্ডে গানগুলি "গীতিনাট্য", "নৃত্যনাট্য", "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী", "নাট্যগীতি", "জাতীয় সংগীত", "পূজা ও প্রার্থনা", "আনুষ্ঠানিক", "প্রেম ও প্রকৃতি" ইত্যাদি পর্বে বিন্যস্ত হয়।[৪] ৬৪ খণ্ডে প্রকাশিত স্বরবিতান গ্রন্থে তাঁর সমুদয় গানের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের পরিবারে সংগীতের চর্চা ছিল মজ্জাগত। পিতা দেবেন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথের দাদারা নিয়মিত সংগীতচর্চা করতেন। তবে কিশোর রবীন্দ্রনাথের সংগীতশিক্ষায় সর্বাধিক প্রভাব ছিল তাঁর "নতুনদাদা" জ্যোতিরিন্দ্রনাথের[৫] তেরো বছর বয়সে লেখা "গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে" গানটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের প্রথম রচিত গান। এরপর প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি অবিশ্রাম গীতিরচনা করেন। স্বরচিত গান ছাড়াও সুরারোপ করেন বৈদিক স্তোত্র, বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস ও অন্যান্যদের রচনায়। তাঁর শেষ গান "হে নূতন দেখা দিক আর-বার" ১৯৪১ সালে কবি তাঁর জীবনের শেষ জন্মদিন উপলক্ষ্যে রচনা করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও ছিলেন সুগায়ক। বিভিন্ন সভা-সমিতিতে তিনি স্বরচিত গান গেয়ে শোনাতেন। কয়েকটি গান গ্রামাফোন ডিস্কে রেকর্ডও করেছিলেন। সংগীত প্রসঙ্গে একাধিক প্রবন্ধও রচনা করেছিলেন কবি। সংগীতকে তিনি বিদ্যালয়-শিক্ষার পরিপূরক এক বিদ্যা মনে করতেন।[৬] রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তাঁর গানগুলি বাঙালি সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

"রবীন্দ্রসংগীত" বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কর্তৃক রচিত এবং রবীন্দ্রনাথ অথবা তাঁর দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর-কর্তৃক সুরারোপিত গানগুলিকেই বোঝায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় অন্যের সুরারোপিত গানগুলিকে রবীন্দ্রসংগীত হিসেবে ধরা হয় না।[৭]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

তিনি কেবল গীতিকার বা সুরকার নন, তিনি সংগীতস্রষ্টা। রবীন্দ্রসংগীত কাব্য ও সুরের মধুর মিলনের অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বরচিত অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেছেন রবীন্দ্রনাথ নিজেই। "স্থায়ী", "অন্তরা", "সঞ্চারী" এবং "আভোগ" - এই চারটি রূপবন্ধের ক্রমিক সমন্বয়ে যে একটি গান সম্পূর্ণ হয়ে তা তিনি সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর এই উপলব্ধি সর্বভারতীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। তবে তিনি গানে "তান-বিস্তারের" অপরিহার্যতা অস্বীকার করে সংগীত রচনা করেছেন। তাঁর গানে বিস্তার ব্যতিরেকেই সুর শব্দকে ছাড়িয়ে বিশেষ ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। সুরের বৈশিষ্ট্যেই তাঁর গান রবীন্দ্রসংগীত হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে প্রচলিত তালে সুর বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত নানা তাল তিনি ব্যবহার করেছেন। তাঁর কাছে আমরা পেয়েছি ১৫ মাত্রা, ১৭ মাত্রা, ১৮ মাত্রা, ১৯ মাত্রা ইত্যাদির বাংলা গান। "সঙ্গীতের মুক্তি" নামীয় প্রবন্ধটি তাঁর সংগীত চিন্তার দলিল।

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ[সম্পাদনা]

বাংলা চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। ওই বছর নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহার করা হয়। এরপর সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, গৌতম ঘোষ, ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রমুখ আন্তর্জাতিক-খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালকগণ তাঁদের ছবিতে সার্থকভাবে রবীন্দ্রসংগীত প্রয়োগ করেছেন। মূলধারার বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রেও জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতগুলি ব্যবহার করা হয়।

মুক্তি[সম্পাদনা]

নিউ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রযোজিত ও প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত মুক্তি (১৯৩৭) চলচ্চিত্রে প্রথম রবীন্দ্রসংগীত প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পঙ্কজ কুমার মল্লিক। পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের অনুমতি নিয়ে কবির খেয়া কাব্যগ্রন্থের "শেষ খেয়া" কবিতাটিতে সুরারোপ করেন এবং এই চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করেন।[৮] গানটি "দিনের শেষে ঘুমের দেশে" শিরোনামে রেকর্ডে প্রকাশিত হয় ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মুক্তি চলচ্চিত্রে পঙ্কজকুমার মল্লিক রবীন্দ্রনাথের "আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে", "তার বিদায়বেলার মালাখানি" ও "আমি কান পেতে রই" গান তিনটিও ব্যবহার করেছিলেন।[৯]

বিশিষ্ট শিল্পীবর্গ[সম্পাদনা]

বাংলা সংগীতের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রসংগীত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ধারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই ছিলেন সমসাময়িক যুগের একজন বিশিষ্ট গায়ক। স্বামী বিবেকানন্দ নিয়মিত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সেখানে একাধিক রবীন্দ্রসংগীত শিখে নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে, ব্রাহ্মসমাজের উৎসবে, এমনকি দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংসের সামনেও পরিবেশন করেছিলেন।[১০][১১] ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার প্রথাও তাঁর সমসাময়িক কালেই শুরু হয়। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহানা দেবী, ইন্দিরা দেবী চৌধুরানি, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখ রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্যেরা ছাড়াও, পঙ্কজকুমার মল্লিক, কুন্দনলাল সায়গল, কানন দেবী প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী কালে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, সুবিনয় রায়, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সাগর সেন, ঋতু গুহ, গীতা ঘটক প্রমুখ শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁদের অনুপ্রেরণায় লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার প্রমুখ বিশিষ্ট বলিউড-শিল্পীরাও রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছিলেন। বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গান সহ অন্যান্য ধারার সংগীত শিল্পীরাও রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হক, কলিম শরাফি, সনজীদা খাতুন প্রমুখ শিল্পীরা বাংলাদেশে রবীন্দ্রসংগীতকে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলেন। আধুনিক যুগে মনোজ মুরলী নায়ার, মণীষা মুরলী নায়ার, মোহন সিং, বিক্রম সিং, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, লোপামুদ্রা মিত্র, শ্রাবণী সেন, শ্রীকান্ত আচার্য, পীযূষকান্তি সরকার প্রমুখ ভারতীয় এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসিন, মিতা হক, পাপিয়া সারোয়ার প্রমুখ বাংলাদেশী শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছেন। বাবুল সুপ্রিয়, শান, কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক, সাধনা সরগম, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ বলিউড-শিল্পীরাও এখন নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীতের সংকলন প্রকাশ করে থাকেন।

কয়েকজন বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়কের নাম নিচে দেয়া হল।

  1. ইন্দুলেখা ঘোষ
  2. পঙ্কজ মল্লিক
  3. নলিনীকান্ত সরকার
  4. রাজেশ্বরী দত্ত
  5. মায়া সেন
  6. নীলিমা সেন
  7. অমিতা সেন
  8. আরতি মুখোপাধ্যায়
  9. চিত্রলেখা চৌধুরী
  10. বন্দনা সিংহ
  11. শৈলজারঞ্জন মজুমদার
  12. শান্তিদেব ঘোষ
  13. হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
  14. কনক দাস
  15. কণিকা বন্দোপাধ্যায়
  16. অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়
  17. অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়
  18. দেবব্রত বিশ্বাস
  19. কবীর সুমন
  20. পাপিয়া সারোয়ার
  21. মনীষা মুরলী নায়ার
  22. মনোজ মুরলী নায়ার
  23. মালতি ঘোষাল
  24. মোহন সিংহ খাঙ্গুরা
  25. কে এল সায়গল
  26. সুবিনয় রায়
  27. চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়
  28. সুচিত্রা মিত্র
  29. সাগর সেন
  30. সুমিত্রা সেন
  31. ইন্দ্রাণী সেন
  32. শ্রাবণী সেন
  33. অর্ঘ্য সেন
  34. রুমা গুহঠাকুরতা
  35. রাজেশ্বর ভট্টাচার্য
  36. কলিম শরাফী
  37. কাদেরী কিবরিয়া
  38. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা
  39. মিতা হক
  40. লোপামুদ্রা মিত্র
  41. স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত
  42. শিবাজী চট্টোপাধ্যায়
  43. শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  44. শ্রীকান্ত আচার্য
  45. শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায়
  46. সুপ্রতীক দাস
  47. ঋতু গুহ
  48. গীতা ঘটক
  49. রেণুকা দাসগুপ্তা
  50. জয়তী চক্রবর্তী
  51. কমলিনী মুখোপাধ্যায়
  52. অদিতি মহসিন
  53. অদিতি গুপ্তা
  54. দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়
  55. শাশা
  56. শ্রেয়া গুহঠাকুরদা
  57. মনোময় ভট্টাচার্য
  58. ইন্দ্রনীল সেন
  59. কিশোর কুমার
  60. অরুন্ধুতি হোমচউধুরি
  61. সাদী মুহম্মদ
  62. পীযুষকান্তি সরকার

বিতর্ক[সম্পাদনা]

দেবব্রত বিশ্বাস—বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি বিরোধ[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালের ভারতের কপিরাইট আইন অনুসারে, ২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতে রবীন্দ্রসংগীতের রেকর্ড প্রকাশ করতে হলে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতির অনুমোদন প্রয়োজন হত। ১৯৫৭ সালে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের "তুমি রবে নীরবে" গানটি প্রকাশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে, দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় প্রকাশিত স্বরলিপি দেখিয়ে গীতবিতান-এ গানের পাঠের ভুল নির্দেশ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ শিষ্য শান্তিদেব ঘোষ এই ব্যাপারে দেবব্রত বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য সমর্থন করলে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি গানটি প্রকাশের অনুমতি দেয়।[১২] ১৯৬৪ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া "মেঘ বলেছে, যাব যাব" ও "এসেছিলে তবু আস নাই" গানদুটি প্রকাশের অনুমতি দিতে বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি অস্বীকার করে। ১৯৬৯ সালে তাঁর "পুষ্প দিয়ে মারো যারে" ও "তোমার শেষের গানের" গানদু-টির প্রকাশের অনুমতি বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি দেয়নি। বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি দেবব্রত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গানে অতিনাটকীয়তা, অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদির অভিযোগ এনেছিল। [১৩] ১৯৭০-৭১ সালে দেবব্রত বিশ্বাস বেশ কিছু গান রেকর্ড করেন। কিন্তু তার কয়েকটিকে বিশ্বভারতী অনুমোদন দিতে অসম্মত হন। বিরক্ত হয়ে দেবব্রত বিশ্বাস স্থির করেন তিনি আর রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করবেন না।[১৪] বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র অবশ্য লিখেছেন যে, দেবব্রত বিশ্বাসের কোনো গান বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি বাতিল করেনি।[১৫]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. গীতবিতানের জগৎ, সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬ সং, পৃ. ১৭১
  2. রবীন্দ্রসংগীতের ত্রিবেণীসংগম, ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৪০৫ মুদ্রণ, পৃ. ২১, ৩৭-৩৮
  3. গীতবিতানের জগৎ, পৃ. ১২২
  4. গীতবিতানের জগৎ, পৃ. ১২৪
  5. রবীন্দ্রজীবনকথা, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৪১৪, পৃ. ২০-২৩
  6. রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাদর্শে সঙ্গীত ও নৃত্য, শান্তিদেব ঘোষ, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৮৭, পৃ. ৯
  7. গ্রন্থপরিচয়, গীতবিতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, পৃ. ১০২৬-২৭
  8. বেতার ও চলচ্চিত্রের জগতে প্রবাদপ্রতিম সংগীত সাধক পঙ্কজ কুমার মল্লিক, রাজীব গুপ্ত, পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশন, কলকাতা, পৃ. ৮৩-৮৫
  9. বেতার ও চলচ্চিত্রের জগতে প্রবাদপ্রতিম সংগীত সাধক পঙ্কজ কুমার মল্লিক, রাজীব গুপ্ত, পঙ্কজ মল্লিক মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফাউন্ডেশন, কলকাতা, পৃ. .১২৯
  10. "যুগ-আচার্য ও যুগ-কবি : বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ", স্বামী সুবীরানন্দ, স্বামীজী সার্ধশতবর্ষপূর্তি সংখ্যা", ২০১৪, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা, পৃ. ৪১৮-১৯
  11. "প্রাসঙ্গিক তথ্য ও আলোচনা", ড. সর্বানন্দ চৌধুরী, সঙ্গীতকল্পতরু, নরেন্দ্রনাথ দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দ) ও বৈষ্ণবচরণ বসাক, রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার, কলকাতা, পৃ. ৬-৭
  12. "আমায় ডাকলে কেন গো, এমন করে", বাসব দাশগুপ্ত, অন্য প্রমা, দেবব্রত বিশ্বাস জন্মশতবার্ষিকী সংখ্যা, ২০১০, পৃ. ৪৮-৪৯
  13. বিশ্বভারতী সংগীত সমিতি-কর্তৃক প্রেরিত অনুমতি পত্রের প্রতিলিপি, ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত, দেবব্রত বিশ্বাস, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পৃ. ৭৮-৮০
  14. ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত, দেবব্রত বিশ্বাস, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পৃ. ৯১
  15. মনে রেখো, সুচিত্রা মিত্র, আজকাল, কলকাতা, পৃ. ৫৩