স্নায়বিক নব্বই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শচিন টেন্ডুলকার ক্রিকেটের সব কটি ফরম্যাটে মোট ২৭ বার ৯০ রানের পর আউট হয়েছেন, যা যে কোন ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

স্নায়বিক নব্বই সাধারণত ক্রিকেটে ব্যবহৃত একটি শব্দ।[১][২][৩]

এই শব্দটি ক্রিকেটীয় বিশ্লেষনের একটি রূপককে বুঝায়, যেখানে ব্যাটসম্যান মনে করেন যখন তিনি একটি ইনিংসে ৯০ এর বেশী রান করেছেন, তখন তিনি এটিকে শতকে (১০০ রান) রূপান্তর করতে একটু অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, শতরানকে খেলার মধ্যে ব্যক্তিগত সফলতার একটি মাইলফলক ভাবা হয়। অতএব উক্ত পরিস্থিতিটি ব্যাটসম্যানদের জন্য স্নায়বিক নব্বই এর মধ্যে বিরাজ করছে বলা হয়। ব্যাটসম্যানরা যখন সেঞ্চুরীর কাছাকাছি থাকে তখন আরো রক্ষণশীল পদ্ধতিতে ব্যাট করতে থাকে, যাতে তার সংগৃহিত রানগুলো হারাতে না হয় এবং লক্ষিত মাইলফলক থেকে বাদ পড়ে না যায়। ৯৯ রানে আউট হওয়া ব্যাটম্যানদেরকে দুর্ভাগা স্নায়বিক নব্বইয়ে শিকার ভাবা হয়। যা খুবই বিরক্তিকর একজন ব্যাটসম্যানের জন্য।

প্রতিপক্ষের অধিনায়ক হয়তো তার ফিল্ডারকে ব্যাটসম্যানের কাছাকাছি নিযুক্ত করতে পারে তার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরী করতে। এর ফলে অনেক ব্যাটসম্যান নব্বইয়ের দশকের স্কোরকে শতরানে পূর্ণ করতে ব্যর্থ হন।

পরিসংখ্যানগতভাবে, স্নায়বিক নব্বইয়ের সবচেয়ে খারাপ শিকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার (বর্তমানে ভাষ্যকার) মাইকেল স্ল্যাটার। তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নব্বই দশকের মধ্যে আউট হয়েছেন ৭ বার এবং বেচে বেচে সেঞ্চুরী করতে পেরেছেন ১৪ বার।[৪] ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান আলভিন কালীচরণের রেকর্ডও ছিল একই রকম নিম্নমানের। ক্যারিয়ারের ১২টি সেঞ্চুরীতে তিনি নব্বইয়ের দশকে আউট হয়েছেন ৭ বার। ভারতের সবচেয়ে সুপরিচিত ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৭বার এবং টেস্ট ক্রিকেটে ১০বার সহ মোট ২৭বার ৯০ এর দশকে আউট হয়েছে। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান সর্বকালের সর্ববৃহৎ নব্বই দশকের শেষভাগে বিনা উইকেট হারিয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরীর রেকর্ড গড়েন। গ্রেগ চ্যাপেল ২৪টি শতক এবং মাইকেল ভন ১৮টি শতক নিয়ে পরবর্তী সেরা রেকর্ডধারী।[৫]

যদিও বেশিরভাগ ডেডিকেটেড ব্যাটসম্যান বহু শতক এবং বহু অলরাউন্ডার এবং বোলারদের জন্য তাদের শতক স্কোর করার সম্ভাব্য কয়েক ডজন সুযোগ পেতে পারেন, তবে এটা খুবই ব্যতিক্রম হতে পারে যে একটি ইনিংস সেঞ্চুরী করা পর্যন্ত দীর্ঘ হবে, তবে দার দল-সঙ্গী উইকেট হারানোর কারণেও তা সম্ভব হয় না। অথবা নিম্ন দক্ষ বোলারের পক্ষে তার স্ট্রোক খেলা যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে, যা বেশ কয়েকবার শতরানের কাছাকাছি আসতে পারে। শেন ওয়ার্ন, যিনি ক্ষমতাশীল নিম্ন-ক্রিকেটার ব্যাটসম্যান হিসেবে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৯টি টেস্ট ইনিংস খেলেছিলেন এবং ১২টি অর্ধশতক সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি ৯০ দশকে দুইবার, একবার ৯০ এবং একবার ৯৯ রান করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে আসা অ্যাস্টন অ্যাগার শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এসেছিলেন এবং ১১তম ব্যাটসম্যান হিসাবে সর্বোচ্চ স্কোর সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু ৯৮ রানে একটি বাজে পুল শর্ট খেলে আউট হয়ে যান। ১৯০ ও ২৯০ রানে আউট হওয়া ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও স্নায়বিক নব্বই প্রযোজ্য হয়। অস্ট্রেলিয়ান উইকেট রক্ষক স্টিভ স্মিথ ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, পাকিস্তানের ইউনুস খান এবং ভারতের লোকেশ রাহুল তাদের দ্বৈত শতরানের সুযোগ হারায় স্নায়বিক নব্বই (১৯৯) এ। সম্ভবত সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আউট ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মার্টিন ক্রো'র ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯৯ রানে আউট হওয়া।

টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যালেক্স হেলস ৯৯ রানে আউট হন। এটিই একমাত্র উদাহরণ যেখানে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে কোন ব্যাটসম্যান আউট হন। তবে হয়তো এমন ৯৯-এ আউট হওয়ার ঘটনা ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘটে থাকতে পারে। বিগ ব্যাশ লীগের ২০১৭-১৮ মৌসুমে ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে মেলবোর্ন স্টার্স এর মার্কাস স্টইনিস আউট হন।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Horton takes the slow lane through nervous nineties"। The Independent। ২০১৪-০৩-১৯। ২০০৭-০৯-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১১ 
  2. "Nervous nineties"। Bbc.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১১ 
  3. "Gibbs stuck in the nineties rut"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১১ 
  4. "Michael Slater – Cricket Players and Officials"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১০ 
  5. Cricinfo.com। "Batting records"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানু ২০১১ 
  6. "Big Bash League: Marcus Stoinis' 99 in vain as Melbourne Stars lose to Brisbane Heat"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১২-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-০৫ 

‌আরো পড়ুন[সম্পাদনা]