বাউন্ডারি (ক্রিকেট)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিউ সাউথ ওয়েলস এর ওয়াল্যান্ডবীন এ একটি ক্রিকেট ওভালে একটি সাদা পিকেটের বেড়া ঐতিহ্যগতভাবে সীমানা হিসাবে ব্যবহৃত হয়

ক্রিকেটবাউন্ডারি হ'ল খেলার মাঠ এর পরিধি। যখন স্কোরিং শট এর বলটি মাঠের পরিসীমা স্পর্শ করে বা তার বাইরে চলে যায় তখন এই শব্দটির প্রয়োগ করা হয়।

মাঠের কিনারায়[সম্পাদনা]

বাউন্ডারি হচ্ছে খেলার মাঠের প্রান্ত বা মাঠের প্রান্ত চিহ্নিত করার কোনও বস্তু (প্রায়ই একটি দড়ি হয়)। নিচের-স্তরের ম্যাচে মাঝে মাঝে এক সারি প্লাস্টিকের শঙ্কু ব্যবহার করা হয়। ২০০০ এর দশকের শুরু থেকে পেশাদার ম্যাচের সীমানায় প্রায়ই দড়ি বরাবর স্পনসরদের লোগো বহনকারী প্যাডযুক্ত কুশনের সারি বসানো চালু হয়। যদি খেলার সময় দুর্ঘটনাক্রমে এটি সরে যায় (যেমন কোনও ফিল্ডার দড়ির উপর ঝাঁপ দিয়ে গড়িয়ে বল থামানোর চেষ্টা করলে) তখন সেই বস্তুটি প্রথম যেখানে দাঁড় করানো ছিল বলে মনে করা হয় সেই স্থানটিকে বাউন্ডারি বলে মানা হয়।

একটি চিরাচরিত দড়ির সীমানা

ক্রিকেট বল যখন সীমানার ভিতরে থাকে তখন তা লাইভ থাকে। যখন বলটি প্রায় বাউন্ডারি স্পর্শ করে, বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়, বা কোনও ফিল্ডার যিনি নিজে হয় বাউন্ডারিটি স্পর্শ করেন বা তার বাইরে চলে যান তখন বলটি মৃত হয় এবং ব্যাটিং পক্ষটি সাধারণত বাউন্ডারির ওপরে বল মারার জন্য ৪ বা ৬ রান লাভ করে। এই নিয়মের কারণে সীমানার কাছাকাছি ফিল্ডাররা দৌড়ানোর সময় বা ডাইভিংয়ের সময় বলটিকে সরাসরি তুলে নেওয়ার পরিবর্তে বাধা দিয়ে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ গতিশীলতার করণে ধরা বল সহ ফিল্ডার দড়ির বাইরে চলে যেতে পারেন। তারপরে তাঁরা মাঠে ফিরে বলটি তুলে নিয়ে বোলারের কাছে ছুঁড়ে দেন।

২০১০ সালে আইনে একটি পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছিল যে কোনও ফিল্ডার বাউন্ডারির পেছন থেকে লাফিয়ে উঠে বায়ুবাহিত বলকে প্রতিহত করে মাঠে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। [১][২]

রান স্কোর[সম্পাদনা]

বাউন্ডারি হ'ল একই ডেলিভারীতে বলটি খেলার মাঠের সীমানা স্পর্শ করলে অথবা অতিক্রম করলে তার থেকে চার বা ছয় রান স্কোর হয়। বলটি খেলার মাঠের মাটি ছুঁয়ে সীমানা অতিক্রম করতে পারে (চার রানের ক্ষেত্রে) অথবা মাটি না ছুঁয়ে সীমানা অতিক্রম করতে পারে (ছয় রানের ক্ষেত্রে)। এই ঘটনাই যথাক্রমে চার বা ছয় হিসাবে পরিচিত। [৩]

মাঝে মধ্যে "চার" এর প্রতিশব্দ হিসাবে বাউন্ডারি শব্দটির একটি ভ্রান্ত ব্যবহার করতে দেখা যায়। যেমন কখনও কখনও ভাষ্যকাররা বলেন "ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি এবং তিনটি ছক্কা ছিল।" সঠিকভাবে বললে কথাটি হবে "ইনিংসে দশটি বাউন্ডারি ছিল যার সাতটি চার এবং তিনটি ছয় ছিল।"

এই ভাবে প্রাপ্ত রানগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটসম্যান এবং তাঁর দলের স্কোরের সাথে যুক্ত হয় এবং বলটি সঙ্গে সঙ্গে মৃত (ডেড) হয়ে যায়। যদি বলটি ব্যাটে স্পর্শ না করে বা এক হাতে ব্যাটে ধরা থাকে তবে প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত হিসাবে চারটি রান ব্যাটিং দলকে দেওয়া হয়। বল বাউন্ডারি পার করলেও ছয় রান অতিরিক্ত হিসাবে স্কোর করা যায় না এবং বাস্তবিকই এটি যে কোনও ক্ষেত্রেই অত্যন্ত অসম্ভব।

বিশেষ লক্ষনীয় ব্যাপার হ'ল বল মাঠের প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই ব্যাটসম্যান যে রান সম্পূর্ণ করেন তাহলে বল বাউন্ডারি হয়ে গেলে সেই দৌড়ে করা রান গন্য করা হয় না - বাউন্ডারির চার রানই তখন বরাদ্দ করা হয়। অবশ্য দৌড়ে করা রানের সংখ্যা বেশি হলে তখন সেই রানটিই গৃহীত হয়।

এসেক্সের ক্রিশাল এ খেলার সময় এক ব্যাটসম্যান ছক্কা মেরেছেন

ভাল আক্রমণাত্মক শটে চার বা ছয় রান করা হল বোলারের উপরে ব্যাটসম্যানের নির্দিষ্ট পরিমাণে দক্ষতার পরিচায়ক এবং তা দেখে দর্শকরাও সাধুবাদ জানান। আবার ব্যাটের প্রান্তে লেগে বা ব্যাটসম্যানের ইচ্ছানুসারে শট না কাটিয়ে আসা চার রানকে বোলারের দুর্ভাগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। একজন ব্যাটসম্যান যখন নিজের পছন্দ মতো খেলতে থাকেন তখন তাঁর ইনিংসের অগ্রগতির সাথে তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং তাঁর করা রানে বাউন্ডারির অনুপাত প্রায়ই বেড়ে যায় দেখা যায়।

প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সাধারণত গড়ে ৫০ থেকে ১৫০ টি বাউন্ডারি আসে চার রানের মাধ্যমে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ছক্কা তুলনায় কম দেখা যায় এবং সাধারণত ম্যাচের সময় ১০ টিরও কম (এবং কখনও কখনও কিছুই হয় না) থাকে (বিশেষত টেস্ট ম্যাচ এ)।

আইন মোতাবেক ক্যাপ্টেন ম্যাচের পূর্বে চুক্তির মাধ্যমে বাউন্ডারি ভাতা (উভয় ধরনের বাউন্ডারীর মাধ্যমে করা রানের সংখ্যা) পরিবর্তন করতে পারেন।

চার রান[সম্পাদনা]

মাঠের প্রান্ত স্পর্শ করার আগে বলটি মাঠে বাউন্স করলে বা মাটিতে গড়িয়ে পড়লে চার রান হয়।

যদি কোনও ফিল্ডার বলটি সংগ্রহ করে তারপর ছুঁড়ে দেন অথচ তা অন্য কোনও ফিল্ডার সীমানা পৌঁছানোর আগে সংগ্রহ করতে না পারলে বলটি সীমানা স্পর্শ বা অতিক্রম করে গেলে ওভারথ্রো হিসাবে ব্যাটিং দল চার রান সংগ্রহ করেন। ইতিমধ্যে ব্যাটসম্যান কোনও রান করলে সেটিও ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ সহ তাঁর দলের সংগ্রহে যুক্ত হয়। আর বল ব্যাটে না লেগে রান হলে সেই রান 'অতিরিক্ত' হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ হয় এবং তা ব্যাটিং দলের স্কোরের সাথে যুক্ত হয় এবং ব্যাটসম্যানের স্কোরের সাথে সে রান যুক্ত হয় না।

আউটফিল্ডে বল মেরে এবং উইকেট এর মধ্যে দৌড়ে চারটি রান (বা আরও বেশি ) করা হলে এইভাবে করা রানকে "অল রান ফোর" হিসাবে উল্লেখ করা হয় এবং এটি বাউন্ডারি হিসাবে গণ্য হয় না।

ছয় রান[সম্পাদনা]

বাতাসে বাউন্ডারি পেরিয়ে যাওয়ার আগে যদি বলটি মাঠে বাউন্স না করে তবে ছয় রান হয়।

১৯১০ সালের আগে ছয় রান কেবলমাত্র মাঠের বাইরে বল আঘাত করার ক্ষেত্রে দেওয়া হত[৪] এবং তা না হয়ে বাউন্ডারি পার হলে দেওয়া হত পাঁচটি রান। with five runs awarded for clearing the boundary.[৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Explanation of the changes between the 3rd Edition and 4th Edition of the 2000 Code of the Laws of Cricket" (PDF) 
  2. "October 2010 Laws of cricket changes – Ball over the boundary"Lords Cricket Ground। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৩ 
  3. "{% DocumentName %} Law | MCC"www.lords.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৯ 
  4. "Ask Steven", 23 January 2006 Retrieved 7 July 2011
  5. "Just not cricket"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২০