পর্নোগ্রাফি আসক্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আসক্তিনির্ভরতা পরিভাষাকোষ[১][২][৩][৪]
আসক্তি – ক্ষতিকর পরিণতি সত্ত্বেও অমোঘভাবে পারিতোষণমূলক প্রবৃত্তিতে রত হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি চিকিৎসাবিদ্যাবিষয়ক অবস্থা
আসক্তি-সৃষ্টিকারী আচরণ – এমন আচরণ, যা একইসাথে পারিতোষণমূলক ও ক্রমশক্তিশালীকরণমূলক
আসক্তি-সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্য – এমন ওষুধ, যা একইসাথে পারিতোষণমূলক ও ক্রমশক্তিশালীকরণমূলক
নির্ভরতা – পুনরাবৃত্তিকভাবে উদ্দীপকের সংস্পর্শ থেকে পাওয়া উদ্দীপনা অপসারণের ফলে সৃষ্ট প্রত্যাহার উপসর্গের সাথে সংশিষ্ট একটি অভিযোজিত দশা (যেমন, মাদক সেবন)
মাদকদ্রব্য সংবেদনশীলতা বা পশ্চাৎমুখী সহনশীলতা – পুনরাবৃত্তিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে কোন ওষুধ সেবনের ফলে সৃষ্ট, ওষুধের ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাওয়া প্রভাব
মাদকদ্রব্য প্রত্যাহার – পুনরাবৃত্তিকভাবে সেবনকৃত কোন ওষুধ প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট উপসর্গসমূহ
শারীরিক নির্ভরতা – এমন নির্ভরতা, যার সাথে অটলভাবে শরীরিক-দৈহিক প্রত্যাহার উপসর্গসমূহ জড়িত (যেমন, দূর্বলতা ও ডেলিরিয়াম ট্রেমেনস)
মানসিক নির্ভরতা – এমন নির্ভরতা, যার সাথে অটলভাবে অনুভূতিগত-প্রেরণাগত প্রত্যাহার উপসর্গসমূহ জড়িত (যেমন, দুঃখীভাবনিরানন্দতা)
ক্রমশক্তিশালীকরণমূলক উদ্দীপনা – এমন উদ্দীপনা, যা নিজের সাথে যুগপৎ আচরণের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে
পারিতোষণমূলক উদ্দীপনা – এমন উদ্দীপনা, যেটিকে মস্তিষ্ক মনে করে ইতিবাচক বা এমনকিছু যার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ
সংবেদনশীলতা – পুনরাবৃত্তিকভাবে সংস্পর্শের ফলে কোন উদ্দীপনার প্রতি সৃষ্ট বিবর্ধিত প্রতিক্রিয়া
মাদকদ্রব্য ব্যবহার ডিজর্ডার - এমন একটি পরিস্থিতি, যাতে মাদকদ্রব্যের অনুচিৎ পুনরাবৃত্তিক ব্যবহার উল্লেযোগ্যভাবে শারীরবৃত্তিক ক্রিয়াকলাপের অবনতি অথবা মর্মপীড়ার দিকে ধাবিত করে
সহনশীলতা – পুনরাবৃত্তিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে কোন ওষুধ সেবনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি, যার ফলে ঐ ওষুধের কার্যকরী প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পায়।
(সম্পাদনা | ইতিহাস)
Cybersex

পর্নোগ্রাফি আসক্তি (ইংরেজি: Pornography addiction, Porn addiction বা Internet pornography addiction নামেও পরিচিত) হলো আসক্তির একটি প্রস্তাবিত মনোবৈজ্ঞানিক মডেল, যার সাহায্যে নেতিবাচক শারীরিক, মানসিক, সামাজিক অথবা আর্থিক পরিণতি ঘটা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তির পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার দ্বারা তাড়িত অমোঘ যৌন ক্রিয়াকলাপকে ব্যাখ্যা করা হয়। ইঙ্গিতনির্ভর প্রতিক্রিয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সাইবারসেক্সের পারিতোষিক ও ক্রমশ আকর্ষণ শক্তিশালীকরণমূলক (যেমনঃ নেশা সৃষ্টি) বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।[৫]

সমস্যাপ্রবণ ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি দেখা বলতে বোঝায় এমন কোন উপায়ে পর্নোগ্রাফি দেখা যেটি একজন ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত বা সামাজিক দিক থেকে ক্ষতিকর এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত মূল্যবান সময় সেটি দেখার পেছনে ব্যয়িত হয়। আসক্ত ব্যক্তিরা হয়ত বিষণ্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, চাকরি হারানো, বেকারত্ব অথবা তাদের সামাজিক জীবনের উপর পর্নোগ্রাফির কুপ্রভাবের কারণে আর্থিক সংকটসহ নানাবিধ অসুবিধায় ভুগতে পারেন।[৬]

উপসর্গ ও রোগনির্ণয়[সম্পাদনা]

পর্নোগ্রাফি আসক্তি বা সমস্যাপ্রবণ পর্নোগ্রাফি দেখাকে রোগ হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য কোন সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত রোগ নির্ণয়ের মানদন্ড নেই।[৬] ২০১৩ সালে প্রকাশিত Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders এর পঞ্চম সংস্করণে (DSM-5 এ) আচরণগত আসক্তি হিসেবে শুধুমাত্র সমস্যাপ্রবণ জুয়া খেলা নির্ণয়ের মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অনেকটা মাদকাসক্তি নির্ণয়ের মানদন্ডের ধারাসমূহ যেমন, নির্দিষ্ট আচরণ সম্পর্কে সার্বক্ষণিক চিন্তাবিষ্টতা, আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, মাদকদ্রব্য সহনশীলতা, মাদকদ্রব্য নির্ভরতা, মাদকদ্রব্য প্রত্যাহার উপসর্গ, প্রতিকূল মনোসামাজিক পরিণতি প্রভৃতির অনুরূপ।[৭] তবে অন্যান্য আচরণগত আসক্তি নির্ণয়ের জন্য রোগ নির্ণয়ের মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলো মূলত মাদকাসক্তি নির্ণয়ের প্রচলিত মানদন্ডের উপর প্রতিষ্ঠিত।[৭]

রোগ হিসেবে আইনগত মর্যাদা[সম্পাদনা]

পর্নোগ্রাফি দেখাকে মানসিক রোগ হিসেবে নির্ণয়ের যথার্থতার বিষয়কে ঘিরে তুমুল তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।[৮][৯]

চিকিৎসা[সম্পাদনা]

অনলাইন সুরক্ষা[সম্পাদনা]

কিছু চিকিৎসক এবং সংস্থা ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহার নিয়ন্ত্রনের জন্য ইন্টারনেট কন্টেন্ট-কন্ট্রোল সফ্টওয়্যার ও ইন্টারনেট নজরদারী ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।[১০][১১][১২]

নোফ্যাপ (NoFap)[সম্পাদনা]

নোফ্যাপ (ইংরেজি: NoFap) হলো ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অনলাইন কম্যুনিটি,[১৩] যারা পর্নোগ্রাফি দেখা, হস্তমৈথুন করা কিংবা যৌনমিলন পরিহার করতে চান তাদের জন্য এটি একটি সাপোর্ট গ্রুপ হিসেবে কাজ করে।[১৪][১৫]

গবেষণা[সম্পাদনা]

রোগের পরিব্যপ্তি[সম্পাদনা]

অধিকাংশ সাফল্যজনক গবেষণাতেই সুবিধাজনক নমুনা জনগোষ্ঠী ব্যবহার করা হয়। এমনি একটি গবেষণায় ৯২৬৫ জনের একটি সুবিধাজনক নমুনা জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে জানা যায় যে এদের ১% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী স্পষ্টতই সাইবারসেক্সে আসক্ত এবং ১৭% ব্যবহারকারীই সমস্যাপ্রবণ যৌন আসক্তি নির্ণয়ের মানদন্ডে উত্তীর্ণ হন। অর্থাত্ তারা ক্যালিচম্যান যৌন আসক্তি স্কেলে গড় মানের প্রমাণ বিচ্যুতির চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি স্কোর করেন।[১৬] ৮৪ জন কলেজপড়ুয়া পুরুষের উপর করা একটি জরিপে দেখা যায় যে যারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করেন তাদের ২০-৬০% লোকই এটিকে সমস্যাপ্রবণ মনে করেন।[১৭] ইন্টারনেট আসক্তির উপর করা একটি গবেষণা নির্দেশ করে যে এই আসক্তির হার হয়ত ইউরোপীয় ও আমেরিকান জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১.৫ থেকে ৮.২% শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।[১৮] ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং দেখা গেছে ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহারই একমাত্র কার্যকলাপ যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীকে অমোঘ আচরণের দিকে ধাবিত করে।[১৯]

ধর্মীয় প্রভাব[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. Malenka, RC; Nestler, EJ; Hyman, SE; Sydor, A; Brown, RY (২০০৯)। "Chapter 15: Reinforcement and Addictive Disorders"। Molecular Neuropharmacology: A Foundation for Clinical Neuroscience (2nd সংস্করণ)। New York: McGraw-Hill Medical। পৃ: 364–375। আইএসবিএন 9780071481274 
  2. Nestler EJ (ডিসেম্বর ২০১৩)। "Cellular basis of memory for addiction"। Dialogues Clin. Neurosci. 15 (4): 431–443। পিএমআইডি 24459410পিএমসি 3898681 
  3. "Glossary of Terms"Mount Sinai School of Medicine। Department of Neuroscience। সংগৃহীত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  4. Volkow, ND; Koob, GF; McLellan, AT (জানুয়ারি ২০১৬)। "Neurobiologic Advances from the Brain Disease Model of Addiction"। N. Engl. J. Med. 374 (4): 363–371। ডিওআই:10.1056/NEJMra1511480পিএমআইডি 26816013 
  5. Laier, C.; Pawlikowski, M.; Pekal, J.; Schulte, F. P.; Brand, M. (২০১৩)। "Cybersex addiction: Experienced sexual arousal when watching pornography and not real-life sexual contacts makes the difference" (PDF)। Journal of Behavioral Addictions 2 (2): 100–107। ডিওআই:10.1556/JBA.2.2013.002পিএমআইডি 26165929 
  6. Twohig, M. P.; Crosby, J. M. (২০১০)। "Acceptance and Commitment Therapy as a Treatment for Problematic Internet Pornography Viewing"Behavior Therapy 41 (3): 285–295। ডিওআই:10.1016/j.beth.2009.06.002পিএমআইডি 20569778 
  7. Grant, J. E.; Potenza, M. N.; Weinstein, A.; Gorelick, D. A. (২০১০)। "Introduction to Behavioral Addictions"। The American Journal of Drug and Alcohol Abuse 36 (5): 233–241। ডিওআই:10.3109/00952990.2010.491884পিএমআইডি 20560821পিএমসি 3164585 
  8. Steele, V., Prause, N., Staley, C., & Fong, G. W. (২০১৩)। "Sexual Desire, not Hypersexuality, is Related to Neurophysiological Responses Elicited by Sexual Images"। Socioaffective Neuroscience of Psychology 3ডিওআই:10.3402/snp.v3i0.20770 
  9. "‘High desire’, or ‘merely’ an addiction? A response to Steele et al" 
  10. Cooper, Alvin; Putnam, Dana E.; Planchon, Lynn A.; Boies, Sylvain C. (১৯৯৯)। "Online sexual compulsivity: Getting tangled in the net"। Sexual Addiction & Compulsivity 6 (2): 79–104। ডিওআই:10.1080/10720169908400182 
  11. Delmonico, David L. (১৯৯৭)। "Cybersex: High tech sex addiction"। Sexual Addiction & Compulsivity 4 (2): 159–167। ডিওআই:10.1080/10720169708400139 
  12. Layden, Mary Anne, Ph.D. (সেপ্টেম্বর ২০০৫)। "Cyber Sex Addiction" (PDF)। Advances in Cognitive Therapy: 1–2, 4–5। 
  13. "NoFap » About"। NoFap LLC। সংগৃহীত ২২ মে ২০১৫। "NoFap was originally founded by Alexander Rhodes on June 20, 2011 as a forum on the social media platform 'Reddit' and has since grown to become much more" .
  14. Cowell, Tom (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "No fapping, please, it's making us ill"The Telegraph (London, England: Telegraph Media Group)। সংগৃহীত ২২ মে ২০১৫ 
  15. McMahon, Tamsin (২০ জানুয়ারি ২০১৪)। "Will quitting porn improve your life?: A growing 'NoFap' movement of young men are saying no to porn and masturbation"Maclean's (Toronto, Canada: Rogers Media)। সংগৃহীত ২২ মে ২০১৫ 
  16. Cooper, A., Delmonico, D. L., & Burg, R. (2000). Cybersex user, abusers, and compulsives. Sexual Addiction and Compulsivity, 7, 5–29.
  17. Twohig, M. P.; Crosby, J. M.; Cox, J. M. (২০০৯)। "Viewing Internet Pornography: For Whom is it Problematic, How, and Why?"। Sexual Addiction & Compulsivity 16 (4): 253–266। ডিওআই:10.1080/10720160903300788 
  18. Weinstein, A.; Lejoyeux, M. (২০১০)। "Internet Addiction or Excessive Internet Use"। The American Journal of Drug and Alcohol Abuse 36 (5): 277–283। ডিওআই:10.3109/00952990.2010.491880পিএমআইডি 20545603 
  19. Meerkerk, G. J.; Eijnden, R. J. J. M. V. D.; Garretsen, H. F. L. (২০০৬)। "Predicting Compulsive Internet Use: It's All about Sex!"। CyberPsychology & Behavior 9 (1): 95–103। ডিওআই:10.1089/cpb.2006.9.95পিএমআইডি 16497122 

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • Stafford, Duncan E (2010). Turned On: Intimacy in a Pornized Society (ISBN 978-0-9564987-1-7). Witting Press, Cambridge
  • Cooper, Al (2002). Sex and the Internet: A Guidebook for Clinicians (ISBN 1-58391-355-6) Routledge
  • Patrick Carnes (1991). Don't Call It Love: Recovery from Sexual Addiction (ISBN 978-0-553-35138-5) Bantam
  • P. Williamson, S. Kisser (1989). Answers In the Heart: Daily Meditations for Men and Women Recovering from Sex Addiction (ISBN 978-0-89486-568-8) Hazelden
  • Patrick Carnes (2007). In the Shadows of the Net: Breaking Free of Compulsive Online Sexual Behavior (ISBN 978-1-59285-478-3) Hazelden
  • Patrick Carnes (2001). Out of the Shadows: Understanding Sexual Addiction (ISBN 978-1-56838-621-8) Hazelden
  • Sex Addicts Anonymous (ISBN 0-9768313-1-7)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]