আদিরসাত্মক শিল্পকলা


আদিরসাত্মক শিল্পকলা হল দৃশ্যকলার একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র যার মধ্যে যেকোন শৈল্পিক কাজ যা যৌন উত্তেজনা জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে, সাধারণত মানুষের নগ্নতা এবং/অথবা যৌন কার্যকলাপকে চিত্রিত করে। এটি অঙ্কন, খোদাই, চলচ্চিত্র, চিত্রাঙ্কন, আলোকচিত্র এবং ভাস্কর্য সহ প্রায় যেকোনো মাধ্যমের কাজ অন্তর্ভুক্ত করে। শিল্পের প্রাচীনতম পরিচিত কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে কামোত্তেজক থিম, যা ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন বিশিষ্টতার সাথে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। যাইহোক, এটি ব্যাপকভাবে নিষিদ্ধ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে, হয় সামাজিক নিয়ম বা আইন এর সৃষ্টি, বিতরণ এবং দখলকে সীমাবদ্ধ করে, বিশেষ করে যখন এটি "পর্নোগ্রাফিক", "অনৈতিক" বা "অশ্লীল" বলে মনে করা হয়।
সংজ্ঞা
[সম্পাদনা]কামোত্তেজক শিল্পের সংজ্ঞা কিছুটা বিষয়ভিত্তিক, এবং প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভরশীল, যেহেতু কামোত্তেজক এবং শিল্প কী উভয়ের উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু সংস্কৃতিতে ফ্যালাসের একটি ভাস্কর্য প্রকাশ্যভাবে কামোত্তেজকতার পরিবর্তে শক্তির একটি ঐতিহ্যগত প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। যৌন শিক্ষাকে চিত্রিত করার জন্য যে উপাদান তৈরি করা হয় তা অন্যদের দ্বারা অনুপযুক্তভাবে কামোত্তেজক হিসাবে অনুভূত হতে পারে। দ্য স্ট্যানফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ফিলোসফি আদিরসাত্মক শিল্পকলাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে "শিল্প যা তার লক্ষ্য দর্শকদের যৌনভাবে উদ্দীপিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়, এবং এটি তা করতে কিছুটা সফল হয়"। [১]
কামোত্তেজক শিল্প এবং পর্নোগ্রাফির মধ্যে একটি পার্থক্য প্রায়শই তৈরি করা হয়, যা যৌন কার্যকলাপের দৃশ্যও চিত্রিত করে এবং কামোত্তেজক উত্তেজনা জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে করা হয়, কিন্তু সাধারণত চারুকলা হিসাবে বিবেচিত হয় না। কেউ কেউ কাজের উদ্দেশ্য এবং বার্তার উপর ভিত্তি করে একটি পার্থক্য আঁকেন: কামোত্তেজক শিল্প উদ্দীপনা ছাড়াও উদ্দেশ্যমূলক কাজ হবে, যা তাদের কামোত্তেজক বিষয়বস্তুতে অনাগ্রহী কেউ শিল্প হিসাবে প্রশংসা করতে পারে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পটার স্টুয়ার্ট বিখ্যাতভাবে ১৯৬৪ সালে লিখেছিলেন যে, পার্থক্যটি স্বজ্ঞাত ছিল, হার্ড-কোর পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এটি যৌন শিল্প হিসাবে আইনত সুরক্ষিত হবে না, "আমি যখন এটা দেখি তখন আমি এটি জানি"। [২]
দার্শনিক ম্যাথিউ কিয়েরান [৩] এবং হ্যান্স মেস, [৪] সহ অন্যরা যুক্তি দিয়েছেন যে কামোত্তেজক শিল্প এবং পর্নোগ্রাফির মধ্যে কোন কঠোর পার্থক্য করা যায় না।
ঐতিহাসিক
[সম্পাদনা]

বিশ্বের প্রাচীনতম আদিরসাত্মক চিত্রকলার মধ্যে রয়েছে প্যালিওলিথিক যুগের গুহাচিত্র ও খোদাইকৃত মূর্তি। তবে বিভিন্ন সভ্যতাই তাদের নিজস্ব আদিরসাত্মক শিল্প নির্মাণ করেছে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া থেকে উদ্ধারকৃত নিদর্শনগুলিতে সুস্পষ্টভাবে বিপরীতকামী যৌনতা চিত্রিত হয়েছে।[৫][৬]
সুমেরীয় সভ্যতার প্রাথমিক রাজবংশীয় যুগে নির্মিত খোদাইচিত্রে প্রায়শই সম্মুখমুখী সঙ্গম দেখানো হয়েছে।[৫] খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুর দিকে নির্মিত মেসোপটেমীয় ভেটিক ফলকে পুরুষকে প্রায়ই পিছন থেকে নারীর সঙ্গে যৌনমিলনে অংশ নিতে দেখা যায়, যেখানে নারী মুখে নল নিয়ে বিয়ার পান করছে।[৫] মধ্য আসিরীয় সীসার ভেটিক মূর্তিগুলিতে পুরুষকে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং নারীকে একটি বেদির উপর শুয়ে যৌনমিলনরত অবস্থায় দেখানো হয়েছে।[৫]

বিশেষজ্ঞগণ ঐতিহ্যগতভাবে এই ধরনের সব চিত্রণকে আচারিক যৌনতার দৃশ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন,[৫] তবে এগুলো সম্ভবত যৌনতা ও পতিতাবৃত্তির দেবী ইন্নানার পূজার সাথে বেশি সম্পর্কিত।[৫] আসুরে ইন্নানার মন্দিরে বহু যৌনরতিক চিত্র পাওয়া গেছে,[৫] যেখানে নারী ও পুরুষ যৌন অঙ্গের প্রতিকৃতি ছিল,[৫] যার মধ্যে রয়েছে পাথরের তৈরি লিঙ্গমূর্তি, যেগুলো হয়তো গলায় তাবিজ হিসেবে পরা হতো বা পূজার মূর্তি সাজাতে ব্যবহৃত হতো,[৫] এবং মাটির তৈরি যোনির প্রতিকৃতিও ছিল।[৫]

প্রাচীন মিশরের আনুষ্ঠানিক চিত্রকলায় যৌন মিলনের দৃশ্য সাধারণত অন্তর্ভুক্ত ছিল না,[৮] তবে মাটির পাত্রের খণ্ডে এবং গ্রাফিতিতে প্রাথমিক পর্যায়ের বিপরীতলিঙ্গীয় যৌন মিলনের চিত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।[৮]তুরিন রতিক প্যাপিরাস (প্যাপিরাস ৫৫০০১) একটি ৮.৫ ফুট (২.৬ মিটার) দীর্ঘ ও ১০ ইঞ্চি (২৫ সেন্টিমিটার) প্রশস্ত মিশরীয় চর্মগ্রন্থ যা দেইর এল-মেদিনায় আবিষ্কৃত হয়েছিল,[৮][৯] যার শেষ দুই-তৃতীয়াংশে বারোটি ভিনিয়েট রয়েছে যেখানে পুরুষ ও নারীদের বিভিন্ন যৌনাসনে চিত্রায়িত করা হয়েছে।[৯]এই চিত্রগুলোর পুরুষেরা "অগোছালো, টাক পড়া, খাটো এবং স্থূলকায়", এবং তাদের যৌনাঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে বড়,[১০] এবং তারা প্রথাগত মিশরীয় দৈহিক সৌন্দর্যের মানদণ্ড পূরণ করে না।[৮][১০]নারীরা যৌন সক্ষম হিসেবে চিত্রিত হয়েছে,[৮][১০] এবং তারা প্রথাগত রতিক চিত্ররীতির উপাদান ধারণ করছে, যেমন কলমিলতা পাতার উপস্থিতি। কিছু দৃশ্যে তারা প্রেমের দেবী হাথরের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত পদ্ম, বানর এবং সিসত্রা নামক পবিত্র বাদ্যযন্ত্র ধরে রেখেছে।[৮][১০]এই প্যাপিরাসটি সম্ভবত রামেসিদ যুগে (১২৯২–১০৭৫ খ্রিস্টপূর্ব) অঙ্কিত হয়েছিল,[৯] এবং এর উচ্চমানের চিত্রশৈলী থেকে বোঝা যায় যে এটি ধনী শ্রেণির জন্য তৈরি করা হয়েছিল।[৯] এখন পর্যন্ত এ ধরনের অন্য কোনো চর্মগ্রন্থ আবিষ্কৃত হয়নি।[৮]

লারকো জাদুঘর, লিমা। ৩০০ খ্রিস্টাব্দ

প্রাচীন গ্রিকরা তাদের সিরামিক পাত্রে যৌন দৃশ্য অঙ্কন করতেন, যেগুলোর অনেকগুলোই সমলিঙ্গ সম্পর্ক ও বালকপ্রীতির (একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং কিশোরের মধ্যকার সম্পর্ক) প্রাচীনতম চিত্ররূপে স্বীকৃত। পম্পেইয়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত রোমান স্থাপত্যগুলোর দেয়ালে বহু যৌন স্পষ্ট চিত্র আঁকা ছিল। পেরুর মোচে জনগোষ্ঠীও তাদের মৃৎপাত্রে যৌন দৃশ্য খোদাই করেছিল।[১১] লিমার লারকো জাদুঘরে পূর্ব-কলম্বিয়ান যুগের আদিরসাত্মক চিত্রশিল্পের সিরামিকের একটি পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি রয়েছে। এডওয়ার্ড পেরি ওয়ারেন কলেজে অধ্যয়নকালে গ্রিক শিল্পের প্রতি আগ্রহ জন্মান এবং এমন বহু গ্রিক শিল্প সংগ্রহ করেন, যেগুলো প্রায়শই সমকামী সম্পর্ককে চিত্রিত করত—যেমন ওয়ারেন কাপ, একটি গ্রিক-রোমান পানপাত্র, যাতে পুরুষদের মধ্যে পায়ুকাম দৃশ্য অঙ্কিত রয়েছে। ওয়ারেনের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন শিল্পকর্ম বর্তমানে বস্টনের ফাইন আর্টস জাদুঘরে সংরক্ষিত।[১২]
খলিফা আল-ওয়ালিদ দ্বিতীয়, যিনি ৮ম শতকে উমাইয়া খিলাফতের শাসক ছিলেন, যৌন শিল্পকলার একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত। তার দ্বারা নির্মিত কুসাইর আমরা প্রাসাদের চিত্রকর্মগুলোতে বহু নগ্ন নারী ও প্রেমদৃশ্য অঙ্কিত রয়েছে।[১৩][১৪] পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতিতে আদিরসাত্মক শিল্পকলার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে শুঙ্গা ১৩শ শতকে উদ্ভূত হয় এবং ১৯শ শতকের শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে, যখন ফটোগ্রাফির আবিষ্কার ঘটে[১৫]। জাপানের এদো যুগে (১৬০০–১৮৬৯), শুঙ্গা বা বসন্তের ছবি ছিল যৌনভাবপূর্ণ চিত্রের একটি ধারাবাহিক, যা কালি কিংবা কাঠ খোদাইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হত। তা কাগজের পুঁথি আকারে মুদ্রিত হত এবং এটি যৌনশিক্ষার একটি ভূমিকা পালন করত। শুঙ্গা শিল্পকে শিন্তো ধর্মের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হতো, যা সকল মানুষের—যেমন নারীদের এবং সমকামীদের—স্বাভাবিক যৌনতার মুক্তি নিয়ে কাজ করত। যৌনমিলনের দৃশ্যে দেখানো হত যে দম্পতিরা হাসিখুশি ও আনন্দের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক উপভোগ করছে; এতে যৌনতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হত।
১৭০০ সালের দিকে জাপানে শুঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং এটি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে এই প্রখ্যাত আদিরসাত্মক শিল্পকলার প্রচলন অব্যাহত থাকে। শুঙ্গা স্থানীয় গ্রন্থাগার এবং অনেক জাপানি নাগরিকের ঘরে পাওয়া যেত[১৬]। তেমনি, মিং রাজবংশের শেষ সময়ে চীনের আদিরসাত্মক শিল্পকলার (যা চুংগংতু নামে পরিচিত) জনপ্রিয়তা শিখরে পৌঁছেছিল।[১৭]। ভারতের প্রসিদ্ধ কামসূত্র একটি প্রাচীন যৌন শিক্ষা গ্রন্থ যা আজও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়[১৮]। ইউরোপে রেনেসাঁ যুগ থেকে শুরু করে অভিজাতদের বিনোদনের জন্য আদিরসাত্মক শিল্প তৈরির একটি ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল আই মোদি, যেখানে জুলিও রোমানোর নকশার উপর ভিত্তি করে মারকান্তোনিও রাইমন্ডি খোদাই করেন বিভিন্ন যৌন দৃশ্য। এই কাজটি সম্ভবত ১৫২৪ থেকে ১৫২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
১৬০১ সালে, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী কারাভাজিও আমোর ভিনচিত অমনিয়া শিরোনামে একটি চিত্রকর্ম অঙ্কন করেছিলেন, যা ভিনচেঞ্জো জুস্তিনিয়ানি নামক একজন মারকুইজের (ফরাসি ও ব্রিটিশ রাজপরিবারভুক্ত অভিজাতদের একটি উপাধি) ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হয়।
ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের আদেশে তৈরি একটি বিশেষ আদিরসাত্মক কামরা ছিল বলে জানা যায়, যা সম্ভবত গাতচিনা প্রাসাদের তাঁর নিজস্ব কক্ষপুঞ্জের পাশে অবস্থিত ছিল। এই কামরার আসবাবপত্র ছিল অস্বাভাবিক—টেবিলের পায়াগুলো ছিল বৃহৎ পুরুষাঙ্গের আকারে, আর আসবাব ও দেয়ালে খোদাই করা ছিল পুরুষাঙ্গ ও যোনী। দেওয়ালজুড়ে ছিল সাহসী আদিরসাত্মক চিত্রকর্ম। ১৯৪১ সালে জার্মান সেনাবাহিনীর দুই অফিসার এই ঘরটি দেখে গিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে এটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।[১৯][২০]পরিচালক পিটার ভোডিৎস নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়, আদিরসাত্মক এই ঘরটি আদতে পেতেরহফ প্রাসাদে ছিল, গাতচিনায় নয়।[২১] এই ধারাটি পরবর্তীকালে আরও আধুনিক কিছু চিত্রশিল্পীর দ্বারা অব্যাহত রাখা হয়, যেমন ফ্রাগোনার, কুরবে, মিলেট, বালথাস, পিকাসো, এডগার দ্যগা, তুলুজ-লত্রেক এবং এগন শিলে। এগন শিলে কিছু নগ্ন কিশোরীর আদিরসাত্মক চিত্র আঁকার কারণে কারাদণ্ড ভোগ করেন এবং তৎকালীন নীতিনৈতিকতার পরিপন্থী বিবেচনায় তাঁর বেশ কিছু চিত্রকর্ম ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
২০তম শতাব্দীতে এসে আদিরসাত্মক শিল্পের ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফি সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম হয়ে ওঠে। টাশেনের মতো প্রকাশনা সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে আদিরসাত্মক চিত্র এবং আলোকচিত্র প্রকাশ করতে শুরু করে।
বিংশ শতাব্দী ও পরবর্তীকাল
[সম্পাদনা]১৯১০-এর দশকে বহু আদিরসাত্মক শিল্পী কাজ করেছেন। যদিও এই ঘরানার শিল্প এখনও পর্যন্ত প্রতিকৃতি বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের মতো প্রচলিত শিল্পরীতির মতো সর্বজনস্বীকৃত নয়। বিংশ শতাব্দী জুড়ে আদিরসাত্মক উপস্থাপনাগুলো একটি মৌলিক অবস্থান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে।
২০শ শতকের শুরুতে কিউবিজম, ফিউচারিজম এবং জার্মান বহির্মুদ্রাবাদ ধারা নগ্ন দেহকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, রঙের পরীক্ষানিরীক্ষা এবং আকারকে জ্যামিতিক উপাদানে সরলীকরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করে আদিরসাত্মকতা অনুসন্ধান করেছে।[২২]বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাস্তববাদ এবং পরাবাস্তববাদ নগ্নতা উপস্থাপনার নতুন রূপ দিয়েছিল। পরাবাস্তববাদ শিল্পীদের জন্য আদিরসাত্মকতা ছিল কল্পনা, অবচেতন এবং স্বপ্ন-রাজ্যের ধারণা অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম।[২৩]পল ডেলভো, জর্জিও দে কিরিকো এবং ম্যাক্স এার্নস্ট এর মতো শিল্পীরা সরাসরি আদিরসাত্মক উপস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন এবং পরাবাস্তববাদ ধারার মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে বিমূর্ত মানব অবয়ব থেকে সরে এসে এক ধরনের বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার দিকে ধাবিত হয় শিল্পজগৎ। ব্রিটিশ শিল্পী স্টানলি এস্পেন্সার এই নতুন প্রবণতার নেতৃত্ব দেন। তিনি এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নগ্ন ও আদিরসাত্মক অবস্থানে চিত্রায়িত করে এক নতুনরূপে মানব অবয়ব উপস্থাপন করেন। এর একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো তাঁর ১৯৩৭ সালের চিত্রকর্ম ডাবল নিউড পোর্ট্রেট।[২৩] নগ্ন প্রতিকৃতি (naked portrait) একসময় বিংশ শতাব্দীর আদিরসাত্মক শিল্পের প্রধান ধারায় পরিণত হয়েছিল, যেমন ১৯শ শতকে একাডেমিক নগ্নতা (academic nude) প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।[২৪]
'নগ্নতা' এবং বিশেষ করে নারীর নগ্নতা নিয়ে সমালোচনামূলক লেখালেখি, শিল্পে নগ্ন চিত্রায়ন এবং যৌনতার উপস্থাপনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছিল। এই সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক যেমন, ব্রিটিশ শিল্প-ইতিহাসবিদ কেনেথ ক্লার্কের১৯৫৬ সালের লেখা দ্য নিউড: আ স্টাডি অব আইডিল আর্ট এবং শিল্প সমালোচক জন বার্গারের ১৯৭২ সালের বই ওয়েজ অব সিইয়িং এ, শিল্পে ‘নগ্নতা’ ও ‘নগ্ন দেহ’ ধারণাগুলোকে নতুন আলোকে বিশ্লেষণ করে। এটি তীব্র রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতিফলন ছিল। এটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে চিহ্নিত করে, যেখানে ১৯৬০-এর দশকের যৌন বিপ্লব শিল্পের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।[২৫]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Maes, Hans (১ ডিসেম্বর ২০১৮)। The Stanford Encyclopedia of Philosophy। Metaphysics Research Lab, Stanford University – Stanford Encyclopedia of Philosophy এর মাধ্যমে।
- ↑ Jacobellis v. Ohio, 378 U.S. 184, 197 (1964).
- ↑ Kieran, Matthew (২০০১)। "Pornographic Art": ৩১–৪৫। ডিওআই:10.1353/phl.2001.0012।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Maes, Hans (২০১১)। "Art or Porn: Clear Division or False Dilemma?" (পিডিএফ): ৫১–৬৪। ডিওআই:10.1353/phl.2011.0003।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 Black, Jeremy; Green, Anthony (১৯৯২)। Gods, Demons and Symbols of Ancient Mesopotamia: An Illustrated Dictionary। The British Museum Press। পৃ. ১৫০–১৫২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১৪১-১৭০৫-৮।
- ↑ Nemet-Nejat, Karen Rhea (১৯৯৮)। Daily Life in Ancient Mesopotamia। Santa Barbara, California: Greenwood। পৃ. ১৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০৩১৩২৯৪৯৭৬।
- 1 2 Jared Alan Johnson (২০১৫)। "The Greek Youthening: Assessing the Iconographic Changes within Courtship during the Late Archaic Period." (অভিসন্দর্ভ)। University of Tennessee। ৪ মে ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 6 7 Robins, Gay (১৯৯৩)। Women in Ancient Egypt। Cambridge, Massachusetts: Harvard University Press। পৃ. ১৮৯–১৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৯৫৪৬৯-৪।
Turin erotic papyrus.
- 1 2 3 4 O'Connor, David (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০০১)। "Eros in Egypt"। Archaeology Odyssey। ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৮।
- 1 2 3 4 Schmidt, Robert A.; Voss, Barbara L. (২০০০)। Archaeologies of Sexuality। Abingdon-on-Thames, England: Psychology Press। পৃ. ২৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-২২৩৬৬-৯।
- ↑ Chambers, M., Leslie, J. & Butts, S. (2005)। Pornography: the Secret History of Civilization [ডিভিডি], Koch Vision।
- ↑ Potvin, John (মার্চ ২০১১)। "Askesis as Aesthetic Home: Edward Perry Warren, Lewes House, and the Ideal of Greek Love"। Home Cultures। ৮ (1): ৭১–৮৯। ডিওআই:10.2752/175174211X12863597046695। এস২সিআইডি 162204319।
- ↑ "The Archaeology of a Byzantine City - Link IV: Qusayr 'Amra"। www.bijleveldbooks.nl। ৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ Fowden, Garth (২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। Qusayr Amra: Art and the Umayyad Elite in Late Antique Syria। University of California Press। ডিওআই:10.1525/california/9780520236653.003.0002। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২৩৬৬৫-৩। ১১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ "Shunga"। Japanese art net and architecture users system। ২০০১। ৭ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০০৬।
- ↑ "What is Shunga?"। Artsy। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩।
- ↑ Bertholet, L. C. P. (1997) "Dreams of Spring: Erotic Art in China", in: Bertholet Collection, Pepin Press (October, 1997) আইএসবিএন ৯০-৫৪৯৬-০৩৯-৬.
- ↑ Daniélou, A., trans. (1993) The Complete Kama Sutra: the first unabridged modern translation, Inner Traditions. আইএসবিএন ০-৮৯২৮১-৫২৫-৬.
- ↑ Igorʹ Semenovich Kon and James Riordan, Sex and Russian Society, পৃষ্ঠা ১৮।
- ↑ Peter Dekkers (৬ ডিসেম্বর ২০০৩)। "Het Geheim van Catherina de Grote" [ক্যাথরিন দ্য গ্রেট-এর গোপন রহস্য]। Trouw (ওলন্দাজ ভাষায়)। ১৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৪।
- ↑ Woditsch, Peter। "The Secret of Catherine the Great"। De Productie। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৪।
- ↑ Chambers, Emma (২০১৬)। Nude : art from the Tate collection। Paton, Justin,, Art Gallery of New South Wales। Sydney, N.S.W.। পৃ. ৮১। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৪১৭৪১২৭৮। ওসিএলসি 957155505।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - 1 2 Chambers, Emma (২০১৬)। Nude : art from the Tate collection। Paton, Justin,, Art Gallery of New South Wales। Sydney, N.S.W.। পৃ. ১৬১। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৪১৭৪১২৭৮। ওসিএলসি 957155505।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ Kahmen, Volker, 1939- (১৯৭২)। Erotic art today। Greenwich, Conn.: New York Graphic Society। পৃ. ১১। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮২১২০৪৩০৬। ওসিএলসি 428072।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Chambers, Emma (২০১৬)। Nude : art from the Tate collection। Paton, Justin,, Art Gallery of New South Wales। Sydney, N.S.W.। পৃ. ১৫। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৪১৭৪১২৭৮। ওসিএলসি 957155505।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ১০ টি সেরা কামুক কাজ, দ্য গার্ডিয়ান
- ইরোটিক আর্ট, দ্য স্ট্যানফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ফিলোসফি
- ইরোটিকা গ্রাফিকাল ইতিহাস, শিল্প ইতিহাসে নগ্ন। (স্পেনীয়)
- Honesterotica.com, প্রয়াত ভিক্টোরিয়ান থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত ইরোটিক চিত্র।