পর্নোগ্রাফির বিরোধিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

পর্নোগ্রাফির বিরোধিতার কারণ হচ্ছে মানুষের জীবনে ঋণাত্মক প্রভাব আসা যেমন মানুষের স্বাভাবিক যৌনরুচি নষ্ট হয়ে যাওয়া, পায়ুকামের প্রতি আকর্ষণ আসা (যা পায়ুপথের ক্ষতি করে), সমকামী হওয়ার ইচ্ছা জাগা (যা মানুষের স্বাভাবিক যৌনরুচিকে নষ্ট করে দেয়), শিশুদের দ্বারা যৌনলালসা পূরণের ইচ্ছা জাগা, ধর্ষণ করার ইচ্ছা জাগা, উঠতি বয়সের কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয়তা, সহপাঠিনীদের সঙ্গে অসম্মতিমূলক যৌন আচরণ করার আগ্রহ জাগা এবং উত্ত্যাক্ত করা, যৌন নির্যাতন করার ইচ্ছা জাগা ইত্যাদি। অনেক গবেষক পর্নোগ্রাফিকে মাদকের মত খারাপ বলেছেন।[১][২][৩][৪][৫][৬][৭][৮]

ক্ষতিসমূহ[সম্পাদনা]

মানুষের স্বাভাবিক যৌনতা হলো একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের পারস্পরিক সম্মতি ভিত্তিক প্রেম-ভালোবাসা বা/এবং বিয়ের মাধ্যমে দৈহিক মিলন করা। কিন্তু পর্নোগ্রাফিতে চিত্রিত বিষয়বস্তু মানুষকে অস্বাভাবিক যৌনকর্মে জড়াতে প্রলুব্ধ করে যা একজন মানুষের ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি সাধন করে থাকে। কিশোর ছেলেদের মনে বিকৃত যৌনাচারের দৃশ্য খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে তাদের মানসিক রোগ হতে পারে, তারা হস্তমৈথুনে লিপ্ত হয় যার মাধ্যমে তাদের শারীরিক দূর্বলতা দেখা দেয়, লিপ্ত হয় সমকামে যা তাদের মন-মানসিকতাকে ঋণাত্মক করে ফেলে এবং স্বাভাবিক যৌনরুচি নষ্ট হয়ে যায়, তাদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ এবং মনোযোগ উঠে যায়, তারা বখাটে হয়ে যেতে পারে এবং পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে তাদের ঘটতে পারে বিচ্যুতি, যৌনসঙ্গীর অভাবে তারা অজাচারে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে যা অত্যন্ত নীতিগর্হিত কাজ। তারা পরে হতাশায় ভুগতে পারে একটি মেয়ে সঙ্গী পাওয়ার অভাবে, মেয়েদেরকে উত্ত্যাক্ত এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতে পারে, হিংস্র যৌনাচরণ করতে পারে, লেখাপড়ার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে অথবা পর্নোগ্রাফিতে দর্শিত জিনিস দেখে তার নিজের মধ্যে অপরাধবোধ জন্মাতে পারে এবং এর কারণে সে হয়ে যেতে পারে ধর্মীয় মৌলবাদী বা উগ্রবাদী যা একটি সভ্য সমাজের জন্য বড় একটি হুমকি। মোট কথা পর্নোগ্রাফি ব্যক্তিক, চারিত্রিক ও সামাজিক জীবনে বয়ে আনে অনেক সমস্যা ও ঋণাত্মকতা। পর্নোগ্রাফিতে দেখানো বিষয়বস্তুসমূহ যে অভিনয় এবং কৃত্রিম যৌন উত্তেজনা এটা বুঝেনা অনেকেই আবার বুঝলেও ওগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। বিবাহত যুগলরা পর্নোগ্রাফি দেখে ব্যাভিচার কিংবা বহুগামিতায় জড়াতে পারে।

পূর্ণ নগ্নতা এবং পর্নোগ্রাফি[সম্পাদনা]

পূর্ণ নগ্নতা মানেই যে পর্নোগ্রাফি তা কিন্তু নয়, পূর্ণ নগ্ন নারী-পুরুষের অঙ্কিত ছবি বা সত্যিসত্যি আলোকচিত্র শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন জীববিজ্ঞানে, যৌনবিজ্ঞানে, শারীরিক শিক্ষায়, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে, চিকিৎসাবিদ্যায় এসবের দরকার তো পড়েই, এছাড়া বিভিন্ন গল্প/উপন্যাস বা আত্মজীবনীতে পূর্ণ নগ্নতা বা যৌনতার বিবরণ থাকলে এগুলোকে পর্নোগ্রাফি বলা হবেনা (সমকামিতা,পায়ুকাম,শিশুকাম,অজাচার,পশুকামের কোনো বিষয় থাকলেও), কারণ একজন লেখককে অবশ্যই লেখালেখির স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ তবে পর্নোগ্রাফির মত যৌনতা বর্ণিত হলে এবং কাহিনী ছাড়া শুধুই যৌনতায় ভরা থাকলে সেটাকে পর্নোগ্রাফি ধরা হবে। কোনো চলচ্চিত্রে কিংবা নাটকে কাহিনীর প্রয়োজনে পুরোপুরি নগ্নতা বা যৌনতার দেখানোর দরকার হলে সেটাকেও পর্নোগ্রাফি বলা হবেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত ঋণাত্মকভাবে নগ্নতা/যৌনতা প্রদর্শিত হয় অর্থাৎ পর্নোগ্রাফিতে চিত্রিত নগ্নতা এবং যৌনতার মত না দেখালেই হলো কারণ পর্নোগ্রাফিতে অস্বাভাবিক যৌনতা, সহিংসমূলক যৌনতা, নকল যৌন উত্তেজনা এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর এমন যৌনতা প্রদর্শিত হয়। এরূপ কোনো শিল্পী যদি কোনো নারী কিংবা পুরুষের সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি আঁকে অথবা পূর্ণ নগ্ন নারী বা পুরুষের ভাস্কর্য/মূর্তি তৈরী করে তাহলেও সেটা পর্নোগ্রাফি নয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Report of the Surgeon General's Workshop on Pornography and Public Health: Background Papers: 'Effects of Prolonged Consumption of Pornography' (August 4, 1986)
  2. Lykke, Lucia; Cohen, Philip (২০১৫)। "The Widening Gender Gap in Opposition to Pornography, 1975–2012"। Social Currents 2 (4): 307–323। ডিওআই:10.1177/2329496515604170 
  3. "Pornography, rape and the internet"। ২ নভেম্বর ২০০৬-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৬-১০-২৫ 
  4. Freeman, Tzvi। "What's Wrong With Pornography?"। সংগৃহীত ৬ মে ২০১৩ 
  5. Smith, Neil। "The Science Behind Negative Effects of Masturbation (and Pornography)"। সংগৃহীত ৮ নভেম্বর ২০১৪ 
  6. Morgan, Robin (1974). "Theory and Practice: Pornography and Rape". In: Going Too Far: The Personal Chronicle of a Feminist. Random House. .
  7. MacKinnon, Catharine (1987). Feminism Unmodified: Discourses on Life and Law. Cambridge, MA: Harvard University Press. pp. 146–150.
  8. http://www.fiawol.demon.co.uk/FAC/harm.htm