বিষয়বস্তুতে চলুন

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০০৯ সালের পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র মঁত্র মোয়া দু রোজ! (Montre-moi du rose!)-এর একটি দৃশ্য
"অ্যাকশন" এর আগে একটি অশ্লীল চলচ্চিত্রের সেটে

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র বা যৌন চলচ্চিত্র এমন চলচ্চিত্র যা দর্শকদের যৌন উত্তেজনা এবং যৌনতৃপ্তি দিতে যৌনস্পষ্ট বিষয় উপস্থাপন করে। অশ্লীল চলচ্চিত্রগুলি যৌন কল্পনা উপস্থাপন করে এবং সাধারণত নগ্নতা (সফটকোর) এবং যৌন মিলন (হার্ডকোর) এর মতো ইরোটিকভাবে উদ্দীপক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করে। "শ্রুতিমূলক" এবং "অশ্লীল" ছায়াছবিগুলির মধ্যে মাঝে মাঝে একটি পার্থক্য তৈরি হয় যার ভিত্তিতে যে পরবর্তী শ্রেণিতে আরও সুস্পষ্ট যৌনতা রয়েছে এবং গল্প বলার চেয়ে উত্তেজনায় বেশি মনোনিবেশ করা হয়, তবে পার্থক্যটি অত্যন্ত বিষয়ভিত্তিক।

১৮৮০ এর দশকে মোশন পিকচার আবিষ্কারের পর থেকে পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে। এই জাতীয় চলচ্চিত্রের তৈরি লাভজনক ছিল এবং বেশ কয়েকজন নির্মাতা তাদের প্রযোজনায় বিশেষজ্ঞ হতে শুরু করেন। তবে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী এ জাতীয় চিত্রকে অনৈতিক বলে বিবেচনা করে, তাদের "অশ্লীল" হিসাবে চিহ্নিত করে এবং সাফল্যের সাথে অশ্লীলতা আইনে দমন করার চেষ্টা করেছিল। এই জাতীয় চলচ্চিত্রগুলি নির্মাণ করা অব্যাহত ছিল, তবে কেবল ভূগর্ভস্থ প্রেসগুলি দ্বারা বিতরণ করা হতে থাকে। এই জাতীয় চলচ্চিত্র দেখা সামাজিক কলঙ্ক বহন করে, তাই তারা পতিতালয়, প্রাপ্তবয়স্ক সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ, ব্যাচেলর পার্টি, বাড়িতে, বেসরকারী ক্লাবগুলিতে এবং রাতের সিনেমা হলে দেখানো হত।

শুধুমাত্র পঁচাত্তরের দশকে, পর্নের স্বর্ণযুগের সময়, অশ্লীল চলচ্চিত্রগুলি আধা-বৈধতাযুক্ত ছিল; এবং ১৯৮০ এর দশকের মধ্যে, হোম ভিডিওতে পর্নোগ্রাফি ব্যাপক বিতরণ অর্জন করেছিল। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিকে ইন্টারনেটের উত্থান একইভাবে পর্নোগ্রাফিক ছায়াছবি বিতরণ করার পদ্ধতিকে বদলে দেয়, বিশ্বজুড়ে সেন্সরশিপ পদ্ধতি একে আরও জটিল করে তোলে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক যুগ: ১৯২০ সালের পূর্বে

[সম্পাদনা]
১৯০৬ সালের অস্ট্রিয়ান আদিরসাত্মক চলচ্চিত্রের চিত্র (প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে আম স্ক্লাভেনমার্কট)

চলচ্চিত্র আবিষ্কারের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আদিরসাত্মক চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এই ধারার প্রথম দিকের দুই পথিকৃৎ ছিলেন ফরাসি নির্মাতা ইউজিন পিরু এবং আলবের কির্শনার।[] কির্শনার "লেয়ার" নামে ইউজিন পিরুর জন্য প্রথম সংরক্ষিত আদিরসাত্মক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ১৮৯৬ সালের সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রটির নাম ছিল [[লে কুশে দে লা মারিয়ে]], যাতে অভিনেত্রী লুইজ উইলি একটি গোসলখানায় বস্ত্রমোচন করেন।[] অন্যান্য ফরাসি নির্মাতারাও এই ধরনের সাহসী চলচ্চিত্র থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ দেখতে শুরু করেন, যেখানে নারীদের পোশাক খোলার দৃশ্য দেখানো হতো।[][] একই বছর ১৮৯৬ সালে ফাতিমার কুচি-কুচি ড্যান্স [fr][] নামে একটি সংক্ষিপ্ত নিকেলোডিয়ন কিনেটোস্কোপ/চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, যেখানে ফাতিমা নামে একজন ঘূর্ণায়মান বেলি ড্যান্সার ছিলেন। “তার ঘূর্ণায়মান নিতম্বের অংশ সেন্সর করা হয়েছিল, যেটি সেন্সরকৃত প্রথম চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। তখন বহু ঝুঁকিপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি প্রচলিত ছিল, যেখানে বিদেশি নর্তকীরা উপস্থিত থাকত।[]

একই বছর, দ্য মে ইরউইন কিস নামে ৪৭ সেকেন্ডের একটি চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো চুম্বনের দৃশ্য ধারণ করা হয়। যেখানে একটি জোড়াকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা যায়; প্রথমে তারা মুখ ঘষাঘষি করে এবং পরে ঠোঁটে একটি ছোট চুম্বন করে—যা “চুম্বনের রহস্য উন্মোচিত” শিরোনামে উপস্থাপিত হয়। চুম্বনের এই দৃশ্য তৎকালীন সিনেমা দর্শকদের কাছে বিস্ময়কর ও অশালীন মনে হয়েছিল। এর ফলে রোমান ক্যাথলিক চার্চ সেন্সর আর নৈতিক শালীনতার পক্ষে কথা বলতে শুরু করে। কারণ তখন জনসমক্ষে চুম্বন আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য ছিল।[] সম্ভবত প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে, অথবা "ছবিতে রসায়ন যোগ করার" জন্য, এর পর একের পর এক চুম্বন অনুকরণকারী ছবি মুক্তি পেতে থাকে—যেমন দ্য কিস ইন দ্য টানেল (১৮৯৯) এবং দ্য কিস (১৯০০)। ১৯০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বার্থ অব পার্ল শীর্ষক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য নীরব চলচ্চিত্রে, ট্যাবল্যু লিভাঁ শৈলীর অনুসরণে এক তরুণী মডেলকে শরীরঘেঁষা দেহরঙা পোশাকে সরাসরি ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে উপস্থাপন করা হয়। পরিচয়হীন এই দীর্ঘকেশী মডেল নারীর শরীরকে এক ধরণের আদিরসাত্মক চিত্ররূপে তুলে ধরে, যা সেই সময়ের চলচ্চিত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।[][] এই দৃশ্যের অঙ্গভঙ্গি ও ভঙ্গিমা সান্দ্রো বোটিচেল্লি-র বিখ্যাত চিত্রকর্ম দ্য বার্থ অফ ভেনাস-এর আদলে নির্মিত, যেখানে নারীর শরীরকে এক প্রাচীন পৌরাণিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।[] অস্ট্রিয়ায় প্রেক্ষাগৃহে পুরুষদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো, যাকে বলা হতো ভদ্রলোকদের রজনী (Herrenabende)—এ ধরনের রাতগুলোতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত চলচ্চিত্র দেখানো হতো। জোহান শোয়ার্জার এই সময় স্যাটার্ন-ফিল্ম নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা ১৯০৬ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে মোট ৫২টি আদিরসাত্মক চলচ্চিত্র তৈরি করে। প্রতিটি চলচ্চিত্রে স্থানীয় যুবতীদের সম্পূর্ণ উলঙ্গভাবে উপস্থাপন করা হতো, যা শুধুমাত্র ওই বিশেষ প্রদর্শনীগুলোর জন্যই বানানো হয়েছিল। শোয়ার্জারের চলচ্চিত্রগুলো তৈরির আগে আদিরসাত্মক চলচ্চিত্রের চাহিদা পূরণ করতো পাথে ভ্রাতৃদ্বয়, যারা ফ্রান্সে নির্মিত ছবি সরবরাহ করতেন। ১৯১১ সালে স্যাটার্ন প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রিয়ান সেন্সর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ যেসব চলচ্চিত্র খুঁজে পেয়েছিল, সেগুলো ধ্বংস করে দেয়।[] তবে কিছু কিছু কপি পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে উদ্ধার হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর দশকের দিকে আমেরিকাতেও কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল, যেখানে নারীদের নগ্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।[] বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত বিশ্বের প্রথম পর্নোগ্রাফি চলচ্চিত্র উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।[১০][১১] যদিও অনেকে মনে করেন, পর্নো চলচ্চিত্রের উৎপত্তি ফ্রান্সেই ঘটেছিল প্রায় সেই সময়, যখন চলচ্চিত্র মাধ্যমটিরই জন্ম হয়, তবে বুয়েনোস আইরেস শহরেই এই ধরনের গোপন চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু, যা স্ট্যাগ ফিল্ম বা স্মোকারস নামে পরিচিত। এই ধরণের চলচ্চিত্র আর্থিকভাবে বাণিজ্যিক রূপ পেতে শুরু করে।[১২] আনুমানিক ১৯০৫ সালের দিকে,[১০] পাথে এবং গোমঁ ফরাসি সরকারের সেন্সরশিপ এড়াতে তাদের পর্নো চলচ্চিত্র উৎপাদন কার্যক্রম আর্জেন্টিনায় স্থানান্তর করে।[১১] এসব চলচ্চিত্র স্থানীয় দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং ইউরোপের উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য “আড়ম্বরপূর্ণ বিনোদন” হিসেবে নির্মিত হতো।[১১] গোপন ধারার চলচ্চিত্রের উৎপত্তি নিয়ে লেখক আর্থার নাইট ও হলিস আলপার্ট ব্যাখ্যা করেছেন, আর্জেন্টিনা থেকে হার্ডকোর চলচ্চিত্র জাহাজে করে ব্যক্তিগত ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হতো—মূলত ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে। এছাড়া যেমন রাশিয়া এবং বলকান এলাকাতেও পাঠানো হতো।[১০] ২০০৮ সালের প্রামাণ্যচিত্র ব্লাক অ্যান্ড হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু-এ, ‘স্ট্যাগ ফিল্ম’ নামে পরিচিত গোপন পর্নো বাণিজ্যের ইতিহাস দলিল করার একটি অন্যতম গবেষণাভিত্তিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। গবেষক ডেভ থম্পসন প্রমাণসহ বর্ণনা করেছেন যে বিশ শতকের সূচনালগ্নেই আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস ও অন্যান্য দক্ষিণ আমেরিকান শহরের পতিতালয়গুলোতেই এই শিল্পের গোড়াপত্তন হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা মধ্য ইউরোপে বিস্তার লাভ করে।

নাট্যকার ইউজিন ও'নিল-এর জীবনীগ্রন্থে লেখক লুইস শেফার উল্লেখ করেন যে ও'নিল ১৯০০-এর দশকে বুয়েনোস আইরেস সফর করেন এবং বারাকাস অঞ্চলের পর্নোগ্রাফিক সিনেমা হলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।[১০]

আর্জেন্টাইন চলচ্চিত্র এল সার্তোরিও(El Sartorio)-কে ইতিহাসের প্রাচীনতম পর্নো চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক গবেষক।[১০][১৩] ১৯০৭ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে কুইলমেস অথবা রোসারিওর নদীতীরে এই চলচ্চিত্র ধারণ করা হয়।[১৩] এতে দেখা যায়, ছয় জন নগ্ন নারী পরীর আকৃতির চরিত্র নদীতীরে ঘুরছিল, তখন একটি বনদেবতা আকস্মিকভাবে তাদের সামনে আসে এবং একজনকে ধরে নিয়ে বিভিন্ন যৌন অবস্থানে সহবাস করে, যার মধ্যে ৬৯ (যৌনাসন) অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১০][১৪] এল সার্তোরিও বর্তমানে কিনসে ইনস্টিটিউটের চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত আছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম স্ট্যাগ ফিল্ম সংগ্রহশালা।[১৩][১৪] যেহেতু পিরু (Pirou) একজন পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে প্রায় অজানা, তাই প্রায়ই প্রথম পর্নো চলচ্চিত্র হিসেবে অন্যান্য চলচ্চিত্রকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। প্যাট্রিক রবার্টসনের ফিল্ম ফ্যাক্টস গ্রন্থ অনুযায়ী, “যে পর্নোগ্রাফিক চলমানচিত্রটি নির্দিষ্টভাবে তারিখসহ শনাক্ত করা যায়, সেটি হলো আ লে’ক্যু দ’অর ও লা বোন ওবের্জ (A L'Ecu d'Or ou la bonne auberge; অর্থাৎ "সোনালী ঢাল চিহ্নিত সরাইখানা বা ভালো সরাই"), যা ১৯০৮ সালে ফ্রান্সে নির্মিত।” এই চলচ্চিত্রের কাহিনি একটি ক্লান্ত সৈনিককে ঘিরে, যে একটি সরাইখানায় এক নারী পরিচারিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

রবার্টসন আরও উল্লেখ করেন, “আমেরিকার কিনসেই সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত কিছু চলচ্চিত্রই সম্ভবত সবচেয়ে পুরনো বিদ্যমান পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র। এর একটি চলচ্চিত্রে দেখা যায় কীভাবে প্রাথমিক পর্নো চলচ্চিত্রের নানান শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য গঠিত হতে শুরু করেছিল।” তিনি যে জার্মান চলচ্চিত্রটির কথা বলেন, সেটি হলো আম আবেন্ড (Am Abend), যেটি ১৯১০ মুক্তিলাভ করেছিল। আম আবেন্ড একটি দশ মিনিটের চলচ্চিত্র যেখানে প্রথমে এক নারীকে তার শোবার ঘরে একা হস্তমৈথুন করতে দেখা যায়। এরপর ধাপে ধাপে দেখা যায় সেই নারী ও এক পুরুষের মধ্যে মিশনারি আসনে, শিশ্ন-মুখমৈথুন, এবং পায়ুসঙ্গমে লিপ্ত হতে। [১৫]

১৯২০–৪০-এর দশকে দমন

[সম্পাদনা]
দুইটি স্ট্যাগ চলচ্চিত্রে নারীদের বস্ত্রমোচন পরিবেশন করতে দেখা যায়

আদিরসাত্মক চলচ্চিত্র ১৯২০-এর দশকের নির্বাক চলচ্চিত্র যুগে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেগুলো প্রায়ই যৌনপল্লিগুলোতে প্রদর্শিত হতো। অল্প সময়ের মধ্যেই এই চলচ্চিত্রগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এরপর স্ট্যাগ ফিল্ম বা ব্লু ফিল্ম নামে পরিচিত এই চলচ্চিত্রগুলো ১৯৪০-এর দশক থেকে বহু বছর ধরে গোপনে অপেশাদারদের মাধ্যমে নির্মিত হতে থাকে।

এই চলচ্চিত্রগুলোর প্রক্রিয়াকরণ ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক সময় প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা না পেলে (যেগুলো প্রায়ই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দ্বারা পরিচালিত হতো), মানুষ ঘরের বাথটাবেই ফিল্ম ধুয়ে নিতো। এরপর এগুলো ব্যক্তিগতভাবে বা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ত। তবে কেউ এসব চলচ্চিত্র দেখা বা নিজের কাছে রাখার সময় ধরা পড়লে কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তেন।[১৬][১৭]

১৯৫০-এর দশক: হোম মুভির যুগ

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে গণবাজারে এবং অপেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যাপক প্রসার ঘটে, বিশেষ করে ৮ মিমি ও সুপার-৮ ফিল্মের আবির্ভাবের মাধ্যমে, যা মূলত পারিবারিক হোম মুভির জন্য ব্যবহৃত হতো।[১৮]

এই চাহিদা পূরণে ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হন। ব্রিটেনে, ১৯৫০-এর দশকে হ্যারিসন মার্কস কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা তখনকার সময়ে “ঝুঁকিপূর্ণ” বলে বিবেচিত হতো এবং আধুনিক পরিভাষায় যেগুলোকে “সফটকোর” বলা হয়। ১৯৫৮ সালে, তাঁর প্রকাশিত ম্যাগাজিনগুলোর এক উপশাখা হিসেবে, মার্কস ৮ মিমি ফিল্মের জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। এসব চলচ্চিত্রে তাঁর মডেলদের পোশাক খোলা এবং উর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত অবস্থায় নিজেকে প্রদর্শন করতে দেখা যেত। এগুলো সাধারণভাবে “গ্ল্যামার হোম মুভি” নামে পরিচিত ছিল।

মার্কসের কাছে "গ্ল্যামার" শব্দটি ছিল নগ্ন মডেলিং বা ফটোগ্রাফির একটি প্রয়োগগত শব্দ, যা মূলত শোভন রূপে উপস্থাপন করা নগ্নতাকে বোঝাত। এই ধরনের গ্ল্যামার চলচ্চিত্রে যৌনতার প্রকাশ সরাসরি না দেখিয়ে, তা উপস্থাপন করা হতো সৌন্দর্য, ভঙ্গিমা ও চাহনির মাধ্যমে। এর ফলে তিনি মূলধারার সেন্সরশিপ এড়িয়ে জনসমক্ষে নগ্নতা প্রদর্শনের একটি সাংস্কৃতিক ‘ছদ্মাবরণ’ তৈরি করেন। ফলে গ্ল্যামার চলচ্চিত্র পশ্চিমা দেশে ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে জনপ্রিয়তা লাভ করে, এমনকি যারা সোজাসুজি পর্নোগ্রাফি গ্রহণ করতেন না, তাদের মধ্যেও।[১৯]

১৯৭০-এর দশক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রেক্ষাগৃহ ও মুভি বুথ

[সম্পাদনা]
১৯৭৭ সালের ইতালীয় প্রামাণ্যচিত্র নোত্তি পর্নো নেল মন্দো (Notti porno nel mondo)-এর একটি দৃশ্য

১৯৭০-এর দশকে মূলধারার বাইরে থাকা চলচ্চিত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা সহনশীল হয়ে ওঠে। তখনকার মূলধারার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সফটকোর চলচ্চিত্র  প্রদর্শনে অনাগ্রহী থাকায়, দেশের নানা প্রান্তে গড়ে উঠতে শুরু করে বিশেষায়িত "প্রাপ্তবয়স্ক প্রেক্ষাগৃহ"। এই প্রেক্ষাগৃহগুলো এক ধরনের গোপনীয়, প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনের স্থান হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। পাশাপাশি, যৌন সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোতে কয়েন-চালিত "মুভি বুথ" স্থাপন করা হয়, যেখানে স্বল্প দৈর্ঘ্যের পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র লুপ আকারে দেখানো হতো — একটানা একই দৃশ্য বারবার চলত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

এই সময়ে ডেনমার্ক ছিল আরেকটি আলোচিত উদাহরণ, যেখানে তুলনামূলকভাবে বড় বাজেটে প্রেক্ষাগৃহ উপযোগী যৌন কৌতুকধর্মী চলচ্চিত্র তৈরি শুরু হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বোর্দেলেত (১৯৭২), বেডসাইড ফিল্মস (১৯৭০–১৯৭৬) এবং জোডিয়াক ফিল্মস (১৯৭৩–১৯৭৮)। এসব চলচ্চিত্রে মূলধারার অভিনেতারা অভিনয় করতেন, এবং কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই যৌনদৃশ্যে অংশ নিতেন — যা সে সময়ের জন্য সাহসী পদক্ষেপ ছিল। যদিও এগুলোকে সরাসরি পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র বলা হতো না, তবুও অধিকাংশ চলচ্চিত্রে পূর্ণাঙ্গ হার্ডকোর দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত থাকত। এই ছবিগুলো কেবল বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক প্রকাশ এবং সীমার পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়। এর অনেকগুলো চলচ্চিত্র এখনো ডেনিশ সিনেমার ইতিহাসে সর্বাধিক দর্শকপ্রাপ্ত সিনেমার তালিকায় রয়েছে,[২০] এবং এগুলো এখনও হোম ভিডিও বাজারে জনপ্রিয় রয়ে গেছে।[২১]

১৯৬৯ সালে অ্যান্ডি ওয়ারহোল নির্মিত নীল চলচ্চিত্র যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম পর্নোগ্রাফি চলচ্চিত্র, যাতে প্রকাশ্য যৌনদৃশ্য দেখানো হয় এবং যা বাণিজ্যিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।Canby, Vincent (২২ জুলাই ১৯৬৯)। "Movie Review - Blue Movie (1968) Screen: Andy Warhol's 'Blue Movie'"New York Times। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫</ref>[২২][২৩] মূলধারার বাইরের হলেও, ছবিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দর্শকমহলে কৌতূহল ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এটি পর্নোগ্রাফির স্বর্ণযুগের সূচনালগ্নে একটি দৃষ্টান্তমূলক চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওয়ারহোল এই ছবিটিকে শুধুমাত্র পর্নোগ্রাফি হিসেবে নয়, বরং একটি সমাজ-সাংস্কৃতিক বিবৃতি হিসেবে উপস্থাপন করেন, যেখানে যৌনতা, শিল্প এবং স্বাধীনতার ধারণাগুলো একত্রিত হয়েছে। তাঁর মতে, নীল চলচ্চিত্র সিনেমাটি পরবর্তীতে মুক্তিপ্রাপ্ত বিতর্কিত আন্তর্জাতিক আদিরসাত্মক চলচ্চিত্র লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস নির্মাণে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ঐ ছবিতে মারলন ব্র্যান্ডো মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।[২২] যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে মুক্তি পাওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাহিনীভিত্তিক পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র হিসেবে সাধারণভাবে ধরা হয় ১৯৭০ সালেরমোনা দ্য ভার্জিন নিম্ফ (অন্য নাম মোনা)। এই চলচ্চিত্রটজ ৫৯ মিনিট দৈর্ঘ্যের, এটি পরিচালনা করেন বিল অসকো। যিনি পরবর্তীতে অপেক্ষাকৃত উচ্চ বাজেটের হর্ডকোর/সফটকোর (রিলিজ অনুযায়ী) কাল্ট চলচ্চিত্র ফ্লেশ গর্ডন (১৯৭৪) নির্মাণ করেন।[১৭][২৪] পরে, ১৯৭৬ সালে, তিনি এক্স-রেটেড সংগীত-নির্ভর কৌতুক চলচ্চিত্র অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড নির্মাণ করেন, যা লুইস ক্যারলের বিখ্যাত শিশু-কাহিনির প্রাপ্তবয়স্ক ব্যঙ্গরূপ হিসেবে পরিচিতি পায়।

শ্রেণিবিন্যাস

[সম্পাদনা]
অস্ট্রেলিয়ায় একটি পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্রের সেটে কর্মী এবং অভিনেতারা
২০১১ সালে সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়ায় কিঙ্ক পর্নোগ্রাফির শুটিং। অভিনেত্রী: নাটাশা লিন ও প্রিন্সেসডোনা

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্রগুলি সাধারণত সফটকোর বা হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। সাধারণভাবে, সফটকোর পর্নোগ্রাফি যৌন কার্যকলাপ, যৌন অনুপ্রবেশ বা চরম বস্তুকাম স্পষ্টভাবে চিত্রিত করে না। [২৫] এটি সাধারণত যৌন পরামর্শদায়ক পরিস্থিতিতে নগ্নতা বা আংশিক নগ্নতা ধারণ করে। হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি হ'ল অশ্লীলতা যা অনুপ্রবেশ বা চূড়ান্ত বস্তুকামের কাজগুলি বা উভয়ই চিত্রিত করে। এতে গ্রাফিক যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং দৃশ্যমান অনুপ্রবেশ রয়েছে। [২৬] একটি পর্নোগ্রাফিক কাজ হার্ডকোর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যদি কোনও হার্ডকোর সামগ্রী থাকে।

পর্নোগ্রাফিক ছায়াছবিগুলিকে সাধারণত উপপ্রকারে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় যা চিত্র ও অভিনেতারা যেমন যৌন কল্পনার বর্ণনা তৈরির চেষ্টা করে। উপপ্রকারগুলি পারফর্মারদের বৈশিষ্ট্য বা যৌন ক্রিয়াকলাপের ধরনের ক্ষেত্রেও শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে, যাতে এটি মনোনিবেশ করে। উপপ্রকারগুলি সাধারণত কিছু নিয়মাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট দর্শক আকর্ষণ করতে পারে।

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র শিল্প

[সম্পাদনা]
২০১৫ সালে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের সেটে পর্ন অভিনেত্রী নিকিতা বেলুচ্চি ও অ্যালিস লেরোয়-এর ছবি তুলছেন পর্ন অভিনেতা ফ্রান্সেস্কো মালকম।
জন বি. রুট পরিচালিত ফরাসি পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র ইনকোরেক্ত(এস)-এর আউটডোর শুটিং। অভিনয়ে মাহে ও টিটোফ।

বিশ্বব্যাপী, পর্নোগ্রাফি হ'ল এক বৃহত ব্যবসা যা প্রায় $ ১০০ বিলিয়ন আয় [২৭] এর সাথে বিভিন্ন মিডিয়া এবং সম্পর্কিত পণ্য ও যৌন পরিষেবাদির উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত। শিল্প সমর্থন এবং উৎপাদন কর্মীদের পাশাপাশি হাজারো অভিনয় শিল্পী নিয়োগ করে। এরপরে নিবেদিত শিল্প প্রকাশনা এবং বাণিজ্যিক সমিতির পাশাপাশি মূলধারার প্রেস, বেসরকারী সংস্থা (নজরদারি দল), সরকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলিকে অনুসরণ করে। ২০০৫ সালের রয়টার্সের একটি নিবন্ধ অনুসারে, "বহু মিলিয়ন-ডলারের এই শিল্প প্রতি বছর প্রায় ১১,০০০ শিরোনামের ডিভিডি প্রকাশ করে।" [২৮] পর্নোগ্রাফিক ছায়াছবিগুলি ডিভিডিতে বিক্রি করা বা ভাড়া দেওয়া যেতে পারে, ইন্টারনেট এবং বিশেষ চ্যানেলগুলির মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় এবং কেবল ও স্যাটেলাইটে এবং প্রাপ্তবয়স্ক থিয়েটারগুলিতে প্রতি-দর্শন অনুযায়ী প্রদান করা হয়। তবে, ২০১২ সালের নাগাদ, ইন্টারনেটে অবৈধভাবে অনুলিপি করা সামগ্রী এবং অন্যান্য স্বল্প ব্যয়ের প্রতিযোগিতার ব্যাপক প্রাপ্যতা অশ্লীল চলচ্চিত্রের শিল্পকে ছোট এবং লাভজনকতা হ্রাস করেছিল। [২৯]

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সান ফার্নান্দো ভ্যালি অঞ্চলটি এই শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে বিশ্বব্যাপী অশ্লীল চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রেখেছে। [৩০] এই শিল্পের আকারের বেশিরভাগ পরিসংখ্যান কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই উল্লেখ করে। পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র স্টুডিওগুলি হিউস্টন, লাস ভেগাস ভ্যালি, নিউ ইয়র্ক সিটি, ফিনিক্স এবং মিয়ামিতে কেন্দ্রীভূত। এগুলি প্রাথমিকভাবে অপেশাদার বা "স্বতন্ত্র" পর্ন চলচ্চিত্রগুলি উৎপাদন করে। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনের মোট বর্তমান আয় অনুমান করা হয় প্রায় ১০-১৩ বিলিয়ন ধরা হয়, যার মধ্যে ৪-৬ বিলিয়ন বৈধ আইনি। চিত্রটির কৃতিত্ব প্রায়শই ফরেস্টার রিসার্চকে দেয়া হয় যারা এই গবেষণায় করেছিল এবং ১৯৯৮ সালে যা হ্রাস পেয়েছিল। [৩১] ২০০৭ সালে অবজার্ভার পত্রিকায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চিত্রও প্রকাশিত হয়েছিল। [৩২] ২০০১ এর ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, বার্ষিক আয়ের বিতরণটি নিম্নলিখিত:

অ্যাডাল্ট ভিডিও ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার
ইন্টারনেটের ১ বিলিয়ন
ম্যাগাজিন ১ বিলিয়ন
প্রতি দর্শনে পরিশোধ ১২৮ মিলিয়ন
মুঠোফোন ৩০ মিলিয়ন [৩৩]

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যানেনবার্গ স্কুল অফ কমিউনিকেশন দ্বারা প্রকাশিত অনলাইন জার্নালিজম রিভিউ, এমন একটি বিশ্লেষণ নিয়ে বিবেচনা করেছেন যা ফোর্বসের সংখ্যাটির পক্ষে ছিল। হোটেলগুলিতে বিতরণ করা প্রাপ্ত বয়স্ক চলচ্চিত্রগুলির আর্থিক পরিধিটি অনুমান করা শক্ত, কেননা হোটেলগুলি পরিসংখ্যানগুলি নিজের কাছে রাখে বা এগুলি একেবারেই রাখে না। [৩৪]

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্রের স্টুডিও ভিভিড এন্টারটেইনমেন্ট আনুমানিক $ ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে, বার্ষিক ৬০ টি চলচ্চিত্র বিতরণ করে [৩৫] এবং ভিডিও স্টোর, হোটেল রুম, কেবল সিস্টেম এবং ইন্টারনেটে সেগুলি বিক্রি করে। স্পেনীয় স্টুডিও প্রাইভেট মিডিয়া গ্রুপ ন্যাসডাক-এ নভেম্বর ২০১১ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ছিল। তাদের ভিডিও ভাড়া থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের কম ছিল ১৯৮৩ সালে যা বেড়ে বছরে অর্ধ বিলিয়ন ডলার হয় ১৯৯৩ সালে। [৩৬] নিউজ কর্পোরেশনের ডাইরেকটিভির মতো বড় কর্পোরেশনের কয়েকটি সহায়ক হ'ল বৃহত্তম পর্নোগ্রাফি বিক্রেতা। দেশটির বৃহত্তম ক্যাবল সংস্থা কমকাস্ট একবার $ ৫০ মিলিয়ন ডলার তুলে আনে অ্যাডাল্ট প্রোগ্রামিং থেকে। প্লেবয় এবং হাসলারের মতো সংস্থাগুলির আয় তুলনামূলক কম ছিল। [৩৭]

আইনি অবস্থা

[সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, সুপ্রিম কোর্ট ১৯৬৯ সালে বলেছিল যে, রাষ্ট্রীয় আইনে অশ্লীল উপাদানের ব্যক্তিগত অধিকারকে একটা অপরাধ হিসাবে গণ্য করে অবৈধ ঘোষণা করে। [৩৮] ১৯৭০ এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্নোগ্রাফি শিল্প বন্ধ করার আরও চেষ্টা করা হয়েছিল, এবার এই শিল্পে যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়াযর আদালতে মামলা শুরু হয়েছিল, এই পিপল বনাম ফ্রিম্যান কেসের। ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্ট ফ্রিম্যানকে খালাস দিয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে অংশগ্রহণের (পতিতাবৃত্তি) সাথে এমন ব্যক্তির পার্থক্য করেছে যার ভূমিকা কেবল অভিনয়ের অংশ হিসাবে পর্দায় যৌন সম্পর্কের চিত্র চিত্রিত করছে । রাজ্যটি ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আবেদন জানায়নি, যেখানে বর্তমানে বেশিরভাগ অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। [৩০][৩৯]

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত

[সম্পাদনা]

অশ্লীল চলচ্চিত্রগুলিতে যৌন ক্রিয়াকলাপগুলি কনডম ব্যবহার না করেই ঐতিহ্যগতভাবে সম্পাদিত হয়, পারফর্মারদের মধ্যে যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে যায়। ১৯৮৬ সালে, এইচআইভি সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব ঘটে যা বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর এইডস -এ মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। এর ফলে ১৯৯৮ সালে অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রি মেডিকেল হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছিল, যা মার্কিন পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটি মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপনে সহায়তা করেছিল, যার জন্য প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র অভিনেতাদের এইচআইভি পরীক্ষা করা দরকার। [৪০] ২০১৩-এর হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন পর্নোগ্রাফি শিল্পে অভিনেতাদের এইচআইভি সংক্রমণ বিরল ঘটনা, পরবর্তী তিন দশক ধরে কেবল কয়েকটি প্রকোপ রেকর্ড করা হয়েছে। নাম এবং এসটিডি ফলাফল সহ ক্লায়েন্টদের গোপনীয় তথ্য ফাঁসের অভিযোগে হওয়া মামলার ফলস্বরূপ এআইএম দেউলিয়া হয়ে যায়। [৪১][৪২]

পরিভাষা

[সম্পাদনা]
  • কমপিলেশন - বিশেষ ঘরানার বৈশিষ্ট্যযুক্ত [৪৩] অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক ছায়াছবি বা ভিডিও ফুটেজের বিশেষ অংশের জোড়া লাগানো একটি প্রকাশনা
  • ম্যাচিউর - অভিনয় রীতি যেমন- এমআইএলএফ পর্ন নির্দেশ করতে উল্লেখ করা হয়।
  • রেইনকোট - কনডম বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ
  • পর্নোগ্রাফির সমার্থক অন্যান্য পদ:
    • অশ্লীল বা পর্ণ
    • অ্যাডাল্ট ফিল্ম
    • ব্লু মুভি
    • স্ট্যাগ ফিল্ম
    • স্কিন ফ্লিক

গ্যালারি

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Lenz, Lyz (১৭ অক্টোবর ২০১৬)। "A brief and incredible history of porn"Daily DotComplex Media, Inc.। ১৮ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮
  2. Richard Abel, Encyclopedia of early cinema ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে, Taylor & Francis, ২০০৫, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-২৩৪৪০-৫, পৃ. ৫১৮
  3. Bottomore, Stephen (১৯৯৬)। Stephen Herbert; Luke McKernan (সম্পাদকগণ)। "Léar (Albert Kirchner)"Who's Who of Victorian Cinema। British Film Institute। ১০ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০০৬
  4. Bottomore, Stephen (১৯৯৬)। Stephen Herbert; Luke McKernan (সম্পাদকগণ)। "Eugène Pirou"Who's Who of Victorian Cinema। British Film Institute। ২ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০০৬
  5. জেমস এ. হোয়াইট দ্বারা প্রযোজিত এবং উইলিয়াম হাইজ দ্বারা এডিসন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির জন্য শুট করা।
  6. 1 2 3 4 "Sex in Cinema: Pre-1920s Greatest and Most Influential Erotic / Sexual Films and Scenes"। ২৩ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  7. "Full caption: Birth of the Pearl. Camera: F.S. Armitage. AM&B, 1901. Paper Print Collection (LC1318), Moving Image Section, Motion Picture, Broadcasting and Recorded Sound Division."। ৩০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  8. Michael Achenbach, Paolo Caneppele, Ernst Kieninger: Projektionen der Sehnsucht: Saturn, die erotischen Anfänge der österreichischen Kinematografie. Filmarchiv Austria, Wien 2000, আইএসবিএন ৩-৯০১৯৩২-০৪-৬.
  9. https://www.yahoo.com/entertainment/skin-history-nudity-movies-film-012811415.html. https://m.imdb.com/list/ls045401746
  10. 1 2 3 4 5 6 Moret, Natalia (৫ ডিসেম্বর ২০১০)। "La primera vez"Radar. Página/12 (স্পেনীয় ভাষায়)। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২০
  11. 1 2 3 Ferreirós, Hernán (১২ ডিসেম্বর ২০০৪)। "La argentinidad al palo"Página/12 (স্পেনীয় ভাষায়)। ৮ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২০
  12. Robledo, Juanjo (৭ আগস্ট ২০১০)। "La era del cine porno mudo" (স্পেনীয় ভাষায়)। BBC Mundo। ১৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২০
  13. 1 2 3 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; infobaeporno নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  14. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; gerace নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  15. Robertson, Patrick (ডিসেম্বর ২০০১)। Film Facts। Billboard Books। পৃ. ২৫৬আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৩০-৭৯৪৩-৮
  16. Chris Rodley, Dev Varma, Kate Williams III (Directors) Marilyn Milgrom, Grant Romer, Rolf Borowczak, Bob Guccione, Dean Kuipers (Cast) (৭ মার্চ ২০০৬)। Pornography: The Secret History of Civilization (DVD)। Port Washington, NY: Koch Vision। আইএসবিএন ১-৪১৭২-২৮৮৫-৭। ২২ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০০৬
  17. 1 2 Corliss, Richard (২৯ মার্চ ২০০৫)। "That Old Feeling: When Porno Was Chic"Time Magazine। Time inc। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০০৬
  18. "Videos", Meningiomas, Elsevier, পৃ. xix–xx, ২০১০, ডিওআই:10.1016/b978-1-4160-5654-6.00076-3, আইএসবিএন ৯৭৮১৪১৬০৫৬৫৪৬, সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২২
  19. "glamour, n."। OED। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১৬
  20. "Scope: Flest solgte billetter"। ২৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  21. "Sengekant (inkl. en uges skiferie)"Ekko.dk (ডেনীয় ভাষায়)। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০
  22. 1 2 Comenas, Gary (২০০৫)। "Blue Movie (1968)"WarholStars.org। ৬ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  23. Canby, Vincent (১০ আগস্ট ১৯৬৯)। "Warhol's Red Hot and 'Blue' Movie. D1. Print. (behind paywall)"New York Times। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  24. Mehendale, Rachel (৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)। "Is porn a problem?" (পিডিএফ)The Daily Texan। পৃ. ১৭, ২২। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০০৬
  25. Martin Amis (১৭ মার্চ ২০০১)। "A rough trade"Guardian.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২
  26. "P20th Century Nudes in Art"। The Art History Archive। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২
  27. Morris, Chris। "After rough 2013, porn studios look for a better year – "Globally, porn is a $97 billion industry, according to Kassia Wosick, assistant professor of sociology at New Mexico State University. At present, between $10 billion and $12 billion of that comes from the United States.""। CNBC। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  28. "Porn Business Driving DVD Technology - BizReport"। ১১ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০০৬
  29. Louis Theroux (৫ জুন ২০১২)। "How the internet killed porn"The Guardian
  30. 1 2 "Porn In The U.S.A."। ২১ নভেম্বর ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  31. Ackman, Dan (25 May 2001).
  32. Helmore, Edward (16 December 2007).
  33. Strauss, Gary (12 December 2005).
  34. Bradley, Matt (6 September 2006).
  35. Pulley, Brett (২৭ মার্চ ২০০৫)। https://web.archive.org/web/20090224221604/http://www.forbes.com/2005/03/07/cz_bp_0307vivid.html। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। {{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি magazine এর জন্য |magazine= প্রয়োজন (সাহায্য)
  36. "Prime-Time Porn Borrowing tactics from the old Hollywood studios, Vivid Entertainment has ditched the plain brown wrapper and is taking the multibillion-dollar sex-film industry mainstream. - June 1, 2003"। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  37. Egan, Timothy (23 October 2000).
  38. "STANLEY v. GEORGIA"Findlaw। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৬
  39. But see news.com.au: Coffee shop girls face charges over sex shows ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে February 08, 2010
  40. Basten, Fred; Holmes, Laurie (১৯৯৮)। Porn King: The John Holmes Story। John Holmes Inc। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৮০০৪৭-৬৯-৯
  41. Dennis Romero (৩ মে ২০১১)। "Porn Clinic AIM Closes For Good: Valley-Based Industry Scrambles to Find New STD Testing System"LA Weekly। ৭ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১১
  42. Williams, Mitchell। Press "How a Straight Adult Performer Convinced Me That Condoms Are Useless in Porn"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |ইউআরএল= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  43. Stoeffel, Kat। "The World's Most Baffling Porn Search Terms, Explained"nymag.com। New York Magazine। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

গ্রন্থপঞ্জি

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]