চন্ডেশ্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চন্ডেশ্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার অন্তর্গত একটি প্রত্নস্থল। এই স্থানটি পুরুলিয়া-বাঁকুড়া সড়কের ওপর অবস্থিত লধুড়কা গ্রামের অন্তর্গত। এখানে পূর্বে বেশ কয়েকটি পুরাকীর্তি থাকলেও সেগুলি অপসারিত বা অপহৃত হয়েছে। জনৈক অনিল কুমার চৌধুরী নিম্নে বর্ণিত মাত্র দুইটি মূর্তিকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া শহরের হরিপদ সাহিত্য মন্দিরের সংগ্রহশালায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে সমর্থ হন।

আদি মিথুন মূর্তি[সম্পাদনা]

অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে নির্মিত ৫০ সেন্টিমিটার X ৩৬ সেন্টিমিটার মাপের একটি নর ও একটি নারী মূর্তি সম্বলিত যুগ্ম মূর্তি সম্বলিত ভাস্কর্যটি আদি মিথুন মূর্তি নামে পরিচিত। নগ্ন উর্ধাঙ্গে রত্নোপবীত ও নিম্নাঙ্গে সূক্ষ্ম খাটো ধুতি পরিহিত অলঙ্কার শোভিত পুরুষ মূর্তিটি স্ত্রী মূর্তিটির পাশে অর্ধ পর্য্যঙ্কাসনে সিংহাসনে উপবিষ্ট। নারী মূর্তিটি সূক্ষ্ম ও স্বচ্ছ বস্ত্রে আচ্ছাদিত ও অলঙ্কারে সজ্জিত। দুই মূর্তির ডান হাত ভেঙ্গে গেলেও লক্ষ্য করলে বোঝা যায় সেগুলি মূর্তি দুটির জানুতে অভয় মুদ্রায় স্থাপিত। মূর্তি দুটির বাঁ দিকে একটি করে শিশু মূর্তি অবস্থিত। সিংহাসনের নিচে পাঁচটি মূর্তি সারিবদ্ধ ভাবে সজ্জিত। একেবারে বাঁ দিকে দুই হাতে রত্নপাত্রে উপাচার ধারণ করে অর্ঘ্য নিবেদনরত একটি বানর মূর্তি দেখা যায়, তার ডানদিকে দুই অশ্বারোহী মূর্তি একে অপরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তার ডানদিকে দুইজন শ্মশ্রুযুক্ত বামন মূর্তি অবস্থিত।[১]:৮০

সূর্য মূর্তি[সম্পাদনা]

চন্ডেশ্বর প্রত্নস্থলে নবম বাঁ দশম শতাব্দীতে নির্মিত ৪০ সেন্টিমিটার X ৩৬ সেন্টিমিটার মাপের একটি সূর্য মূর্তিও পাওয়া যায়, যা মানভূম অঞ্চলে প্রায় বিরল। স্ফীতাধর মূর্তিটির মুখের গঠন গোলাকার এবং দুই হাতে দুইটি প্রস্ফুটিত সনাল পদ্ম ধারণ করে সমভঙ্গ মুদ্রায় দণ্ডায়মান। মূর্তিটির কিরীট ও জানু পর্যন্ত নিম্নাংশ ভগ্ন। মূর্তিটির ডানদিকে একটি ‘দণ্ডী’ মূর্তি অবস্থিত, যার ডান হাতে একটি দন্ড স্কন্ধের ওপর স্থাপিত। সূর্য মূর্তির বাঁ দিকে আভঙ্গ মুদ্রায় দণ্ডায়মান একটি ‘পিঙ্গল’ মূর্তি বর্তমান। এই দুই মূর্তির দুই পাশে ‘ঊষা’ ও ‘প্রত্যুষার’ মূর্তি অবস্থিত।[১]:৮১

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. অনিল কুমার চৌধুরী, পুরুলিয়ার গ্রামে গঞ্জে, পুরুলিয়ার কয়েকটি প্রত্নস্থল, সম্পাদনা সুভাষ রায়, অনৃজু প্রকাশনী, চেলিয়ামা, পুরুলিয়া, ৭২৩১৪৬, প্রথম প্রকাশ, আশ্বিন ১৪১৯