জওহরলাল নেহ্রু
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
| পন্ডিত জওহরলাল নেহরু | |
|
|
|
| দপ্তরের কার্যকাল ১৫ই আগস্ট, ১৯৪৭ – ২৭শে মে, ১৯৬৪ |
|
| রাষ্ট্রপতি | রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং সার্বোপল্লি রাধাকৃষ্ণান |
|---|---|
| গভর্নর | লুইস মাউন্টব্যাটেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারি |
| পূর্বসূরী | নেই |
| উত্তরসূরী | গুলজারিলাল নান্দা (অন্তর্বর্তীকালীন) |
|
|
|
| দপ্তরের কার্যকাল ১৫ই আগস্ট, ১৯৪৭ – ২৭শে মে, ১৯৬৪ |
|
| পূর্বসূরী | নেই |
| উত্তরসূরী | গুলজারিলাল নান্দা |
|
|
|
| দপ্তরের কার্যকাল ৮ই অক্টোবর, ১৯৫৮ – ১৭ই নভেম্বর, ১৯৫৯ |
|
| পূর্বসূরী | টি টি ক্রিশনামাচারি |
| উত্তরসূরী | মরারজি দেশাই |
|
|
|
| জন্ম | ১৪ই নভেম্বর, ১৮৮৯ এলাহাবাদ, (ব্রিটিশ ভারত) |
| মৃত্যু | ২৭শে মে, ১৯৬৪ (৭৪ বছর) দিল্লি (ভারত) |
| স্বামী/স্ত্রী | কমলা নেহেরু |
| সন্তান | ইন্দিরা গান্ধী |
| পেশা | ব্যারিস্টার |
| ধর্ম | অজ্ঞেয়বাদী[১] বা নাস্তিক[২] |
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (হিন্দি ভাষায়: जवाहरलाल नेहरू জাভ়াহার্লাল্ নেহ্রু; আ-ধ্ব-ব: [dʒəvaːhərlaːl nehruː]) (১৪ই নভেম্বর, ১৯৮৯—২৭শে মে, ১৯৬৪) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পন্ডিত এবং কূটনীতিবিদ নেহরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। লেখক হিসেবেও নেহরু ছিলেন বিশিষ্ট। তাঁর তিনটি বিখ্যাত বই- 'একটি আত্মজীবনী'(An Autobiography), 'বিশ্ব ইতিহাস ক্ষণে ক্ষণে'(Glimpses of World History), এবং 'ভারত আবিষ্কার'(The Discovery of India) চিরায়ত(Classics) এর মর্যাদা লাভ করেছে।
তার পিতা মতিলাল নেহেরু একজন ধনী ভারতীয় ব্যারিস্টার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর তত্ত্বাবধানে নেহেরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ও দৌহিত্র রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] প্রথম জীবন
গঙ্গা নদীর তীরে এলাহাবাদ শহরে ১৮৮৯ সালে জওহরলাল নেহেরু জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা স্বনামধন্য ব্যারিস্টার মতিলাল নেহেরু ও মা স্বরুপ রানি। আইন ব্যবসার কারনে মতিলাল নেহেরু এলাহবাদে গমন করেন এবং সেখানে একজন আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। এই সময়েই মতিলাল নেহেরু কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। জওহরলাল ও তার দুই বোন বিজয়া লক্ষী ও কৃষ্ণা আনন্দ ভবন নামক বিশাল বাড়িতে পশ্চাত্য সংস্কৃতিতে গড়ে উঠেন। ইংরেজীর সাথে সাথে তাদের হিন্দী ও সংস্কৃতিও শিক্ষা দেওয়া হত। তৎকালীন ভারতের সবথেকে আধুনিক স্কুলে পড়ার পর প্রায় ১৫ বছর বয়সে নেহেরু ইংল্যান্ডের হ্যারোতে চলে যান। তিনি প্রকৃতি বিজ্ঞানের উপরে ট্রিনিটি কলেজে লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি কেমব্রীজেই ব্যারিস্টারি পড়া শুরু করেন। ইংল্যান্ডে পড়ার সময় নেহেরু ভারতীয় ছাত্র সংসদের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এই সময়েই তিনি সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন।
ভারতে ফিরে আসবার পরে ১৯১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জওহরলাল নেহেরু কমলা কাউলকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ২৭ আর তার স্ত্রীর বয়স ছিল ১৬। পরের বছরেই কমলা কাউলের গর্ভে তাদের একমাত্র কন্যা ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনির জন্ম হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালীন সময়ে একজন আইনজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সাথে সাথে নেহেরু ভারতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৬ সালে লক্ষ্মৌ সম্মেলনে কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতার জানায়। সে সময় পিতার হাত ধরেই নেহেরু কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেন। যদিও মহাত্মা গান্ধীর ভারত আগমনের পূর্বে নেহেরু কংগ্রেসের রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নি।
[সম্পাদনা] নবীন নেতা নেহেরু
গান্ধীর দর্শন ও নেতৃত্ব জওহরলাল নেহেরুকে গভীর ভাবে আকর্ষণ করে। এর আগে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার চুক্তিবদ্ধ ভারতীয় শ্রমিকদের এক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ভারতে ফিরে গান্ধী চাম্পারান ও খেদাতে কৃষক ও মজুরদের বৃটিশ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া ট্যাক্সের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য সংগঠিত করেন। গান্ধীর নীতি ছিল সত্যাগ্রহ ও অহিংসা। চাম্পারান আন্দোলনের সময় নেহেরু গান্ধীর সাথে পরিচিত হন এবং তাকে সাহায্য করেন।
মহাত্মা গান্ধীর প্রভাবে নেহেরু পরিবার তাদের ভোগ-বিলাসের জীবন ত্যাগ করেন। তখন থেকে নেহেরু খাদির তৈরি কাপড় পড়তেন। গান্ধীর প্রভাবে নেহেরু ভগবত গীতা পাঠ এবং যোগ ব্যায়াম শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও গান্ধীর কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন এবং গান্ধীর সাথেই বেশির ভাগ সময় কাটাতেন। একজন বিশিষ্ট সংগঠক হিসেবে নেহেরু উত্তর ভারতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন, বিশেষ করে যুক্তপ্রদেশ, বিহার ও কেন্দ্রীয় প্রদেশগুলোতে। তার পিতা ও গান্ধী গ্রেফতার হবার পর নেহেরু তার মা ও বোনদের সহ কয়েক মাস কারাবরণ করেন। গান্ধী ঐ সময় কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরাতে বাইশজন পুলিশকে বিদ্রোহীরা হত্যা করলে গান্ধী এরুপ হিংসাত্বক ঘটনার প্রতিবাদে গান্ধী অনশন ত্যাগ করেন। এ ঘটনার পরে মতিলাল নেহেরু কংগ্রেস ছেড়ে স্বরাজ পার্টিতে যোগ দেন, যদিও নেহেরু গান্ধীর সাথে কংগ্রেসে থেকে যান।
জাতীয়তাবাদী কর্মকান্ডের খানিকটা বিরতীতে নেহেরু সামাজিক সমস্যা ও স্থানীয় সরকারের প্রতি নজর দেন। তিনি ১৯২৪ সালে এলাহবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দুই বছর এই পদে অসীন থাকেন।
[সম্পাদনা] নিখিল ভারতীয় রাজনীতিতে নেহেরু
১৯২০ সালে নেহেরু নিখিল ভারত শ্রমিক ইউনিয়ন কংগেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ঐ সময় সুভাষ চন্দ্র বসু যথেষ্ট প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহেরুর নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে ভারতের জন্য ডোমেনিয়ন স্টাটাস চাওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধী ঘোষণা দেন, দুই বছরের মধ্যে ভারতকে ডোমেনিয়ন স্টাটাস দেওয়া না হলে তিনি ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করবেন। ১৯২৯ সালের লাহোর সম্মেলনে গান্ধীর পরামর্শে নেহেরুকে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
১৯২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কংগ্রেস সভাপতি নেহেরু রাভি নদীর তীরে এক জনসভায় স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজ আন্দোলনের ডাক দেয়। লবনের উপর করারোপ করায় নেহেরু গুজরাট সহ দেশের অন্যান্য অংশে সফর করেন এবং গন আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি এসময় গ্রেফতার হন। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৫ সালের মাঝে মাত্র চার মাস ছাড়া বাকি সময় তিনি বোন ও স্ত্রীসহ কারাগারে ছিলেন। ১৯৩১ সালে নেহেরুর পিতা মতিলাল নেহেরু মৃত্যু বরণ করেন।
[সম্পাদনা] ভারত ছাড় আন্দোলন
১৯৩৫ সালে জেল থেকে মুক্ত হয়ে নেহেরু সপরিবারে ইউরোপ যান। সেখানে কমলা নেহেরু চিকিৎসা নেন। তবুও, ১৯৩৮ সালে কমলা নেহেরু মৃত্যু বরণ করেন। ১৯৩৬ সালে নেহেরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এর লক্ষ্মৌ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সে সম্মেলনে ভারতের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক নীতি হিসেবে সমাজতন্ত্রকে গ্রহণ করার জন্য নেহেরু বক্তব্য রাখেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের ভাইসরয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কোন রুপ আলোচনা ছাড়াই, ভারতের পক্ষে মিত্র শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদানের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে সকল কংগ্রেসী জনপ্রতিনিধিরা তাদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। যুদ্ধের পর ভারতীয়দের পূর্ন স্বাধীনতা প্রদান করা হবে এই আশায়, নেহেরু বৃটিশদের সমর্থন দেন। অপরদিকে সুভাষ চন্দ্র বসু অক্ষ শক্তিকে সমর্থন দেন। কিন্তু বৃটিশ সরকার কংগ্রেস নেতাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করলে গান্ধী ও বল্লভভাই প্যাটেল আন্দোলনের ডাক দেন। রাজাগোপালচারী এর পক্ষে ছিলেন না, অন্যদিকে নেহেরু ও মাওলানা আজাদ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। অনেক আলোচনার পরে কংগ্রেস "ভারত ছাড়" আন্দোলনের ডাক দেয়। পক্ষে না থাকলেও, দলের সিদ্ধান্তে নেহেরু "ভারত ছাড়" আন্দোলনকে জনপ্রিয় করতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে সফর করেন। অবশেষে বৃটিশ সরকার ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট নেহেরু ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করে। তারা প্রায় সকলেই ১৯৪৫ এর জুন মাস নাগাদ কারাবন্দি ছিলেন। নেহেরুর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ও তার স্বামী ফিরোজ গান্ধীও কয়েক মাসের জন্য গ্রেফতার হন। ১৯৪৪ সালের ইন্দিরা গান্ধী রাজীব গান্ধীর জন্ম দেন। ১৯৪৫ সালে জেল থেকে বের হয়ে তিনি ১৯৪৬ এ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
নির্বাচনের আগে থেকেই নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবি জানাচ্ছিলেন। নেহেরু ভারত বিভাগকে সমর্থন করেন। অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়।
[সম্পাদনা] ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ভারতে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়। এই সময়ে একটি ভারত-পাকিস্তান ও একটি ভারত-চীন যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ভারত পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি করেন।
[সম্পাদনা] মৃত্যু
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পরে নেহেরু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কাশ্মীরে কিছুদিন বিশ্রাম নেনে। ১৯৬৪ সালের মে মাসে কাশ্মীর থেকে ফেরার পরে নেহেরু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবশেষে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে নেহেরু তার কার্যালয়ে মৃত্যু বরণ করেন।
[সম্পাদনা] পাদটীকা
- ↑ Tharoor, Shashi। Gandhi & Nehru। TIME। 2008-02-25 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ In Jawaharlal Nehru's autobiography, An Autobiography (1936), and in the Last Will & Testament of Jawaharlal Nehru, in Selected Works of Jawaharlal Nehru, 2nd series, vol. 26, p. 612, Nehru says that he does not believe in a god in any form.
[সম্পাদনা] বহির্সংযোগ
| উইকিমিডিয়া কমন্সে নিচের বিষয় সংক্রান্ত চিত্র বা অডিও রয়েছে: জহরলাল নেহরু |
- Jawaharlal Nehru University
- Nehru biography at Harappa.com
- Nehru's Quotes
- India Today's profile of Nehru
- The Discovery of India by Jawaharlal Nehru (ISBN 0-670-05801-7)
- Nehru's reincarnation as a dog in Sweden according to ISKCON's Srila Pradupada
- Nehru Pictures
[সম্পাদনা] আরো দেখুন
|
|||||||
|
|||||