ভারতরত্ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতরত্ন
Bharat Ratna.jpg
পুরস্কারের বিবরণ
ধরন অসামরিক
শ্রেণী সাধারণ
প্রবর্তনকাল ১৯৫৪
সর্বশেষ প্রদানকারী ২০০৮
প্রাপকের সংখ্যা ৪৩
প্রদানকারী ভারত সরকার
বর্ণনা অশ্বত্থপাতার উপর
সূর্যের চিত্র
সঙ্গে "ভারত রত্ন" কথাটি খচিত
দেবনাগরী লিপিতে
প্রথম প্রাপক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন
সর্বশেষ প্রাপক ভীমসেন জোশী
পুরস্কার মর্যাদা
কোনওটিই না ← ভারতরত্নপদ্মবিভূষণ

ভারতরত্ন (ইংরেজি অনুবাদে জুয়েল অফ ইন্ডিয়া[১] বা জেম অফ ইন্ডিয়া[২]) ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার। জাতীয় সেবার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ভারতরত্ন প্রদান করা হয়। এই সেবাক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে কলা, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং “সর্বোচ্চ স্তরের গণসেবার স্বীকৃতি”।[৩] ভারতরত্ন প্রাপকগণ কোনও বিশেষ সম্মানজনক উপাধি নামের অঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। তবে তাঁরা ভারতীয় মানক্রমে বিশেষ স্থানের অধিকারী। ১৯৫৪ সালের ২ জানুয়ারি ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ এই পুরস্কারের প্রবর্তনা করেন।[৪] পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণপদ্মশ্রী সম্মানগুলির সঙ্গে ভারতরত্নও ১৩ জুলাই ১৯৭৭ থেকে ২৬ জানুয়ারি ১৯৮০ পর্যন্ত রদ ছিল। অদ্যাবধি ৪৩ জন ব্যক্তি এই সম্মান পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে দুইজন অভারতীয় ও একজন অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশতামিলনাড়ু থেকে সর্বাধিক সংখ্যক ব্যক্তি (প্রত্যেক রাজ্য থেকে ৭ জন) এবং মাদার তেরেসা বাদে মোট পাঁচজন বাঙালি এই পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতরত্নের মূল নির্দিষ্ট বিবরণ অনুসারে, এটি একটি গোলাকার সোনার পদক যার মধ্যে অঙ্কিত বস্তুগুলির মধ্যে জাতীয় প্রতীক ও নীতিবাক্যটি রয়েছে। তবে এই বিবরণী অনুসারে কখনও ভারতরত্নের পদকটি নির্মিত হয়েছিল কিনা জানা যায় না। প্রকৃত পদকটি অশ্বত্থ পাতার আদলে নির্মিত। এর একদিকে দেবনাগরী লিপিতে “ভারত রত্ন” কথাটি লিখিত, অপর দিকে জাতীয় প্রতীক ও নীতিবাক্যটি খচিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৫৪ সালের ২ জানুয়ারি ভারতরত্ন সম্মাননার প্রবর্তন করেন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ। মূল জানুয়ারি, ১৯৫৪ স্ট্যাটাসে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদানের প্রথা ছিল না। এই কারণেই হয়ত মহাত্মা গান্ধীকে ভারতরত্ন প্রদান করা হয়নি। জানুয়ারি, ১৯৫৫ স্ট্যাটাসে অবশ্য মরণোত্তর ভারতরত্ন দানের প্রথাটি সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্র বসু সহ মোট বারো জনকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদান করা হয়। পরে আইনি জটিলতার কারণে সুভাষচন্দ্রের ভারতরত্ন ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন সরকার। এটিই পুরস্কার প্রত্যাহারের একমাত্র নিদর্শন। ১৩ জুলাই ১৯৭৭ থেকে ২৬ জানুয়ারি ১৯৮০ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর মোরারজি দেশাই পরিচালিত সরকারের আমলে অন্যান্য পদ্ম পুরস্কারের সঙ্গে ভারতরত্নও রদ করা হয়েছিল।

একমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই ভারতরত্ন পাবেন, এমন কোনও বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই। এটি একটি সাধারণ সম্মাননা হিসেবেই প্রদত্ত হয়। ভারতরত্ন প্রাপক মাদার তেরেসা (১৯৮০) ছিলেন অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক। দুইজন বিদেশিও এই পুরস্কার পান। এঁরা হলেন খান আবদুল গফফর খান (১৯৮৭, পাকিস্তানের নাগরিক) ও নেলসন ম্যান্ডেলা (১৯৯০, দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক)। ২০০১ সালে এই পদক পান লতা দীননাথ মঙ্গেশকার এবং ওস্তাদ বিসমিল্লাহ্ খান সাহেব। ২০০৮ সালে পণ্ডিত ভীমসেন জোশীকে এই পুরস্কার দান করা হয়। তিনিই সর্বশেষ ভারতরত্ন প্রাপক।

পদক[সম্পাদনা]

ভারতরত্ন পদকটির আদি বিধিবদ্ধ রূপটি হল একটি গোলাকার স্বর্ণপদকের, যার ব্যাস ৩৫ মিলিমিটার। এর উপরে অঙ্কিত একটি সূর্য এবং তার উপরে দেবনাগরী হরফে লিখিত “ভারত রত্ন” কথাটি ও নিচে পুষ্পস্তবক। পদকটির উল্টোপিঠে খচিত জাতীয় প্রতীক ও নীতিবাক্য। তবে এই ধরণের কোনও পদক আদৌ নির্মিত হয়েছিল কিনা তা জানা যায় না। কারণ এক বছর পরেই এই নকশা পরিবর্তিত হয়েছিল। বর্তমানে দেয় পদকটি অশ্বত্থ পাতার আদলে নির্মিত। তার উপরে প্ল্যাটিনাম সূর্য ও নিচে “ভারত রত্ন” কথাটি খচিত। এটি একটি সাদা রিবনের মাধ্যমে প্রাপকের গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাপকগণ[সম্পাদনা]

ক্রম নাম ছবি জন্ম / মৃত্যু পুরস্কারের বছর পরিচিতি যে ভারতীয় রাজ্য বা দেশের মূল বাসিন্দা
১. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন Radhakrishnan.jpg ১৮৮৮-১৯৭৫ ১৯৫৪ দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, দার্শনিক তামিলনাড়ু
২. চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী C Rajagopalachari Feb 17 2011.JPG ১৮৭৮-১৯৭২ ১৯৫৪ সর্বশেষ গভর্নর-জেনারেল, স্বাধীনতা সংগ্রামী তামিলনাড়ু
৩. চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন Sir CV Raman.JPG ১৮৮৮-১৯৭০ ১৯৫৪ নোবেলজয়ী পদার্থবিদ তামিলনাড়ু
৪. ভগবান দাস ১৮৬৯-১৯৫৮ ১৯৫৫ সাহিত্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম উত্তরপ্রদেশ
৫. মোক্ষগুণ্ডাম বিশ্বেশ্বরা ১৮৬১-১৯৬২ ১৯৫৫ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বাঁধ-স্থপতি, দেশীয় রাজ্য মহীশূরের দেওয়ান কর্ণাটক
৬. জওহরলাল নেহেরু Bundesarchiv Bild 183-61849-0001, Indien, Otto Grotewohl bei Ministerpräsident Nehru cropped.jpg ১৮৮৯-১৯৬৪ ১৯৫৫ প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, লেখক উত্তরপ্রদেশ
৭. গোবিন্দ বল্লভ পন্থ ১৮৮৭-১৯৬১ ১৯৫৭ স্বাধীনতা সংগ্রামী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ (বর্তমানে উত্তরাখণ্ড)
৮. ধোণ্ডো কেশব কর্বে ১৮৫৮-১৯৬২ ১৯৫৮ শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক। জন্মশতবর্ষে প্রদত্ত। মহারাষ্ট্র
৯. বিধানচন্দ্র রায় ১৮৮২-১৯৬২ ১৯৬১ চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, প্রথম বাঙালি ভারতরত্ন সম্মানপ্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ
১০. পুরুষোত্তম দাস টন্ডন ১৮৮২-১৯৬২ ১৯৬১ স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ উত্তরপ্রদেশ
১১. রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৮৮৪-১৯৬৩ ১৯৬২ প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিচারপতি বিহার
১২. জাকির হুসেইন ১৮৯৭-১৯৬৯ ১৯৬৩ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, পণ্ডিত অন্ধ্রপ্রদেশ
১৩. পাণ্ডুরঙ্গ বামন কাণে ১৮৮০-১৯৭২ ১৯৬৩ ভারততত্ত্ববিদ ও সংস্কৃত পণ্ডিত মহারাষ্ট্র
১৪. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ১৯০৪-১৯৬৬ ১৯৬৬ মরণোত্তর প্রাপক, দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী উত্তরপ্রদেশ
১৫. ইন্দিরা গান্ধী Indira2.jpg ১৯১৭-১৯৮৪ ১৯৭১ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ
১৬. বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি ১৮৯৪-১৯৮০ ১৯৭৫ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, ট্রেড ইউনিয়িন নেতা ওড়িশা
১৭. কুমারস্বামী কামরাজ ১৯০৩-১৯৭৫ ১৯৭৬ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তামিলনাড়ু
১৮. মাদার তেরেসা MotherTeresa 090.jpg ১৯১০-১৯৯৭ ১৯৮০ নোবেলজয়ী (শান্তি, ১৯৭৯), প্রথম অধিকারপ্রাপ্ত ভারতীয় নাগরিক, কলকাতার বাসিন্দা ম্যাসিডোনিয়া প্রজাতন্ত্র
১৯. বিনোবা ভাবে ১৮৯৫-১৯৮২ ১৯৮৩ মরণোত্তর প্রাপক, সমাজ সংস্কারক, স্বাধীনতা সংগ্রামী মহারাষ্ট্র
২০. খান আবদুল গফফর খান Khan Abdul Ghaffar Khan.jpg ১৮৯০-১৯৮৮ ১৯৮৭ প্রথম অভারতীয়, স্বাধীনতা সংগ্রামী, একমাত্র পাকিস্তানি ভারতরত্ন সম্মানপ্রাপ্ত পাকিস্তান
২১. মরুদূর গোপালা রামচন্দ্রন MGR with K Karunakaran (cropped).jpg ১৯১৭-১৯৮৭ ১৯৮৮ মরণোত্তর প্রাপক, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, অভিনেতা তামিলনাড়ু
২২. ভীমরাও রামজি আম্বেডকর Ambedkar Barrister.jpg ১৮৯১-১৯৫৬ ১৯৯০ মরণোত্তর প্রাপক, ভারতীয় সংবিধানের রূপকার, সমাজ সংস্কারক, অর্থনীতিবিদ ও পণ্ডিত মহারাষ্ট্র
২৩. নেলসন ম্যান্ডেলা Nelson Mandela-2008 (edit).jpg ১৯১৮-২০১৩ ১৯৯০ দ্বিতীয় অনাগরিক ও প্রথম অভারতীয়, জাতিবিদ্বেষবিরোধী আন্দোলনের নেতা দক্ষিণ আফ্রিকা
২৪. রাজীব গান্ধী Rajiv Gandhi (cropped).jpg ১৯৪৪-১৯৯১ ১৯৯১ মরণোত্তর প্রাপক, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি
২৬. সর্দার বল্লভভাই পটেল Sardar patel (cropped).jpg ১৮৭৫-১৯৫০ ১৯৯১ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুজরাট
২৬. মোরারজি দেশাই Morarji Desai 1978.jpg ১৮৯৬-১৯৯৫ ১৯৯১ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী গুজরাট
২৭. মৌলানা আবুল কালাম আজাদ Maulana Abul Kalam Azad.jpg ১৮৮৮-১৯৫৮ ১৯৯২ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতের প্রথম মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী নয়াদিল্লি
২৮. জাহাঙ্গির রতনজি দাদাভাই টাটা 75px ১৯০৪-১৯৯৩ ১৯৯২ শিল্পপতি ও সমাজসেবী মহারাষ্ট্র
২৯. সত্যজিৎ রায় SatyajitRay.jpg ১৯২২-১৯৯২ ১৯৯২ অস্কারবিজয়ী চিত্র পরিচালক পশ্চিমবঙ্গ
৩০. এ পি জে আবদুল কালাম AbdulKalam.JPG জন্ম ১৯৩১ ১৯৯৭ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী তামিলনাড়ু
৩১. গুলজারিলাল নন্দা ১৮৯৮-১৯৯৮ ১৯৯৭ স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাব (ব্রিটিশ ভারত)
৩২. অরুণা আসফ আলি ১৯০৮-১৯৯৬ ১৯৯৭ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী পশ্চিমবঙ্গ
৩৩. এম এস সুব্বুলক্ষ্মী Ms subbulakshmi.jpg ১৯১৬-২০০৪ ১৯৯৮ কণ্ঠশিল্পী, কর্ণাটক শাস্ত্রীয় সঙ্গীত তামিলনাড়ু
৩৪. চিদম্বরম সুব্রহ্মণ্যম ১৯১০-২০০০ ১৯৯৮ স্বাধীনতা সংগ্রামী, কৃষিমন্ত্রী, সবুজ বিপ্লবের জনক তামিলনাড়ু
৩৫. জয়প্রকাশ নারায়ণ ১৯০২-১৯৭৯ ১৯৯৮ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক বিহার
৩৬. রবি শংকর Ravi Shankar 2009 crop.jpg ১৯২০-২০১২ ১৯৯৯ সেতার বাদক, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পশ্চিমবঙ্গ
৩৭. অমর্ত্য সেন Amartya Sen NIH.jpg জন্ম ১৯৩৩ ১৯৯৯ অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী (১৯৯৮) পশ্চিমবঙ্গ
৩৮. গোপীনাথ বরদলৈ Gopinath Bordoloi.jpg ১৮৯০-১৯৫০ ১৯৯৯ মরণোত্তর প্রাপক, স্বাধীনতা সংগ্রামী অসম
৩৯. লতা দীননাথ মঙ্গেশকর Lata Mangeshkar - still 29065 crop.jpg জন্ম ১৯২৯ ২০০১ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী মহারাষ্ট্র
৪০. উস্তাদ বিসমিল্লাহ্‌ খাঁ Bismillah at Concert1 (edited).jpg ১৯১৬-২০০৬ ২০০১ সানাই বাদক, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উত্তরপ্রদেশ
৪১. ভীমসেন জোশী Pandit Bhimsen Joshi (cropped).jpg ১৯২২-২০১১ ২০০৮ কণ্ঠশিল্পী, হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কর্ণাটক
৪২. সি. এন. আর. রাও CNRrao2.jpg জন্ম ১৯৩৪ ২০১৪ ( ঘোষনা : ২০১৩) বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ারিং কর্ণাটক
৪৩. শচীন টেন্ডুলকার Sachin at Castrol Golden Spanner Awards (crop).jpg জন্ম ১৯৭৩ ২০১৪ ( ঘোষনা : ২০১৩) ক্রিকেটার মহারাষ্ট্র

বিতর্ক[সম্পাদনা]

ভারতরত্ন সম্মাননা প্রদানকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সম্মাননা প্রদানের বিরুদ্ধে একাধিকবার জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মৌলানা আবুল কালাম আজাদকে পুরস্কার প্রদান প্রসঙ্গে[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা ভারতের প্রথম মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদকে এই পুরস্কার প্রদানের কথা ঘোষণা করা হলে, তিনি জানিয়ে দেন পুরস্কার নির্বাচক সমিতির কাউকে এই পুরস্কার দেওয়া উচিত নয়। সেই সঙ্গে তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যানও করেন। পরে ১৯৯২ সালে তাঁকে মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।[৫]

সুভাষচন্দ্র বসুকে পুরস্কার প্রদান প্রসঙ্গে[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুভাষচন্দ্র বসুকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেটি বাতিল ঘোষণা করে।

১৯৯২ সালের ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সচিবালয় থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুভাষচন্দ্র বসুকে মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মাননা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়। "মরণোত্তর" সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি বিতর্ক সৃষ্টি করে। সম্মাননা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।[৬] মামলাকারী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুর উল্লেখ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, সম্মাননার তুলনায় মহত্তর কোনো ব্যক্তিত্বকে এই সম্মান প্রদান হাস্যকর এবং এর ফলে অতীত ও ভবিষ্যতের ভারতরত্ন প্রাপকদের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের অযৌক্তিক তুলনা শুরু হতে পারে। তাছাড়া মামলায় আরও জানানো হয় যে, ভারত সরকার সরকারিভাবে ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুর ঘটনাকে স্বীকার করে নেয়নি। মামলাকারী উক্ত তারিখের পর সুভাষচন্দ্র কোথায় ছিলেন সেই সম্পর্কে ১৯৫৬ সালের শাহনওয়াজ কমিটি ও ১৯৭০ সালে খোসলা কমিটির প্রতিবেদনও জনসমক্ষে আনার দাবি জানান। এছাড়া সুভাষচন্দ্র বসুর আত্মীয়রা এই সম্মান গ্রহণে অসম্মতি জানান।[৭][৮]

মামলায় রায়দানের জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি সুজাতা ভি. মনোহর ও জি. বি. পট্টনায়েককে নিয়ে একটি স্পেশাল ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে। ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে, ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণপদ্মশ্রী সম্মাননা প্রদানের জন্য প্রাপকের নাম দ্য গেজেট অফ ইন্ডিয়া-এ প্রকাশিত হওয়া এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রক্ষিত প্রাপক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক।[৯] আরও বলা হয় যে, সম্মান প্রদানের বিষয়টি শুধুমাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণাই করা হয়েছিল। সরকার দ্য গেজেট অফ ইন্ডিয়া-য় প্রাপকের নাম অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাছাড়া ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আর. ভেঙ্কটরামন (১৯৮৭-৯২) ও শঙ্করদয়াল শর্মা (১৯৯২-৯৭) তাঁদের সাক্ষর ও সিলমোহর সহ প্রাককের নামে কোনো সনদ প্রকাশ করেননি।[৭]

১৯৯৭ সালের ৪ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যেহেতু সম্মান দেওয়া হয়নি, সেহেতু এটি বাতিল করা যাবে না। ঘোষণা করা হয়, প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল বলে গণ্য করা হবে। তবে আদালত সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু ও "মরণোত্তর" শব্দটির উল্লেখ নিয়ে কোনো রায় দিতে অস্বীকার করে।[৭][১০]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতরত্ন সম্মাননা প্রদান নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘন ঘন ভারতরত্ন প্রদান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বদের উপেক্ষা করার অভিযোগ একাধিকবার উত্থাপিত হয়েছে। ভারতরত্ন সম্মাননা প্রদানের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে করেন। সেই হিসেবে, ১৯৫৫ সালে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (১৯৪৭-৬৪) ও ১৯৭১ সালে অপর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (১৯৬৬-৭৭, ১৯৮০-৮৪) বিরুদ্ধে নিজেদের ভারতরত্ন প্রদানের অভিযোগ ওঠে।[১১][১২]

১৯৮৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী (১৯৮৪-৮৯) চলচ্চিত্র অভিনেতা তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম. জি. রামচন্দ্রনকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদান করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ১৯৮৯ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল।[১৩][১৪] স্বাধীনতা সংগ্রামী ভীমরাও রামজি আম্বেডকরবল্লভভাই প্যাটেলের আগে রামচন্দ্রনকে ভারতরত্ন প্রদান করা নিয়েও সমালোচনা হয়। উল্লেখ্য, আম্বেডকর ও প্যাটেলকে যথাক্রমে ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদান করা হয়।[১৫]

রবি শংকরের বিরুদ্ধে ভারতরত্নের জন্য তদ্বির করার অভিযোগ ওঠে।[১১] ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক কে. কামরাজকে ভারতরত্ন প্রদান ১৯৭৭ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের বিরুদ্ধে দলিতদের প্রভাবিত করার জন্য আম্বেডকরকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদানের অভিযোগ ওঠে।[১২][১৩]

কয়েকজনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পরে তাঁদের ভারতরত্ন প্রদান করার জন্য সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে।[১৬] উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৭৯ সালে মাদার টেরিজা নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করলে ১৯৮০ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। আবার ১৯৯২ সালে সত্যজিৎ রায় অস্কার পুরস্কার পাওয়ার পর ভারতরত্ন পান।[১৭][১৮] আবার ১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ১৯৯৯ সালে ভারতরত্ন পেয়েছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে. আর. নারায়ানান তদনীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে অমর্ত্য সেনের নাম ভারতরত্ন সম্মানের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী তাঁর সুপারিশ মেনে নেন।[১৯][২০]

জনপ্রিয় দাবি[সম্পাদনা]

সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে, ভারতরত্ন প্রদানের সুপারিশ একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রপতির কাছে করতে পারেন।[২১] তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দলের বিশিষ্ট নেতানেত্রীদের ভারতরত্ন প্রদানের জন্য একাধিক দাবিও অতীতে উত্থাপিত হয়েছিল। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কাছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ভারতরত্ন প্রদানের সুপারিশ জানিয়ে চিঠি লেখেন।[২২][২৩] এর পরেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) তাদের নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে ভারতরত্ন প্রদানের সুপারিশ জানায়।[২৪] জ্যোতি বসু অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁকে ভারতরত্ন প্রদান করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন।[২৫] তেলুগু দেশম পার্টি নেতা এন. চন্দ্রবাবু নাইডু উক্ত দলের নেতা এন. টি. রামা রাও, বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী তাঁর দলের নেতা কাঁশি রামশিরোমণি অকালি দল প্রকাশ সিং বাদলকে ভারতরত্ন প্রদানের সুপারিশ জানিয়েছিল।[২৬]

মূল সাংবিধানিক বিধি অনুসারে, ক্রীড়াবিদদের ভারতরত্ন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে নিয়মে পরিবর্তন এনে "মানবীয় কৃতিত্বের যে কোনো ক্ষেত্র"কে ভারতরত্নের আওতাভুক্ত করা হয়।[২৭] এরপরই বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের নাম ভারতরত্নের জন্য আলোচিত হয়। এঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলেন ফিল্ড-হকি খেলোয়াড় ধ্যান চাঁদ। তাঁর নাম একাধিকবার মরণোত্তর সম্মানের জন্য বিবেচিত হয়েছিল।[২৮] ২০১১ সালের ৮২ জন সাংসদ প্রধামন্ত্রী কার্যালয়ে ধ্যান চাঁদের নাম ভারতরত্নের জন্য সুপারিশ করেন। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও তাঁর নাম সুপারিশ করা হয়। সেই সঙ্গে ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক বিজয়ী শ্যুটার অভিনব বিন্দ্রা ও শেরপা তেনজিং নোরগের নামও সুপারিশ করা হয়। [২৯] ২০১৩ সালের মে মাসে ন্যাশানাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকেও বিন্দ্রার নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। [৩০] ২০১৩ সালের জুলাই মাসে যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আবার ধ্যান চাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়।[২৯][৩১] ২০১৩ সালের নভেম্বরে ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভারতরত্ন পান।[৩২] ধ্যান চাঁদের আগে তেন্ডুলকরকে ভারতরত্ন প্রদান করার জন্য সরকারের বিস্তর সমালোচনা হয়।[৩৩]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Mahajan, Vidya Dhar (1971)। The Constitution of IndiaLucknow, Uttar Pradesh: Eastern Book Company। পৃ: 169। 
  2. Hoiberg, Dale; Indu Ramchandani (2000)। Students' Britannica IndiaNew Delhi: Encyclopedia Britannica (India)। Vol. 3, p198। আইএসবিএন 0-85229-760-2  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  3. Pylee, Moolamattom Varkey (1971)। The Constitution of India। New Delhi: S. Chand & Company Ltd.। পৃ: 114। আইএসবিএন 81-219-2203-8 
  4. Dhawan, S. K. (1991)। Bharat Ratnas, 1954-1991। Wave Publications। পৃ: 9। এএসআইএন B0006EYROK 
  5. Those who said no to top awards The Times of India, 20 Jan 2008.
  6. Basu 2010, পৃ. 132.
  7. ৭.০ ৭.১ ৭.২ "Union of India Vs. Bijan Ghosh and ORS: Special Leave Petition (civil) 628 of 1994"Supreme Court of India। 4 August 1997। সংগৃহীত 14 May 2014 
  8. Basu 2010, পৃ. 102.
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; award1 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  10. "SC cancels note on Bharat Ratna for Subhash Bose"Press Trust of India (New Delhi: The Indian Express)। 5 August 1997। সংগৃহীত 17 November 2013 
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; aticon নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  12. ১২.০ ১২.১ Chatterjee, Saibal; Prakash, Amit (1996)। "An Honourable Judgement: A Supreme Court ruling aims to restore the sanctity of the nation's highest awards"Outlook (10 January 1996)। সংগৃহীত 14 May 2014 
  13. ১৩.০ ১৩.১ Guha 2001, পৃ. 169.
  14. Hattangadi, Shekhar (11 February 2011)। "It’s time to junk the sullied Padma awards"। Mumbai: Daily News and Analysis। সংগৃহীত 17 May 2014 
  15. Patranobis, Sutirtho (13 January 2008)। "'Politicking' over the Bharat Ratna award"Hindustan Times (New Delhi)। সংগৃহীত 16 May 2014 
  16. "Bharat Ratna cry for Bose"The Telegraph (New Delhi)। 6 September 2012। সংগৃহীত 18 May 2014 
  17. Guha 2001, পৃ. 170.
  18. "Acceptance Speeches: Satyajit Ray"Academy of Motion Picture Arts and Sciences। সংগৃহীত 18 May 2014 
  19. "Bharat Ratna for Amartya Sen"Frontline (The Hindu) 16 (03)। 30 January - 12 February 1999। সংগৃহীত 18 May 2014 
  20. Tripathi, Salil (23 August 2013)। "Freedom of Expression: Indians are Becoming Increasingly Intolerant"Forbes India Magazine। সংগৃহীত 18 May 2014 
  21. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; scheme নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  22. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; pm নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  23. Chatterjee, Manini (10 January 2008)। "Uneasy lies crown that awaits Ratna—Advani proposes Vajpayee's name, method and timing fuel murmurs"। Calcutta: The Telegraph (Calcutta)। সংগৃহীত 19 May 2014 
  24. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; cmwb নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  25. "Jyoti Basu can be given Bharat Ratna: CPI (M)"। Kolkata: Daily News and AnalysisPress Trust of India। 11 January 2008। সংগৃহীত 19 May 2014 
  26. "Bharat Ratna losing its sanctity?"। 24 November 2013। সংগৃহীত 19 May 2014 
  27. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; sports নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  28. Ray, Suman (8 January 2014)। "Fans hold rally demanding Bharat Ratna for Dhyan Chand"। New Delhi: India Today। সংগৃহীত 19 May 2014 
  29. ২৯.০ ২৯.১ "Dhyan Chand, not Sachin Tendulkar, is Sports Ministry's choice for Bharat Ratna"। New Delhi: NDTV Sports। Press Trust of India। 19 July 2013। সংগৃহীত 19 May 2014 
  30. "National Rifle Association of India recommends Abhinav Bindra for Bharat Ratna"। New Delhi: NDTV Sports। Press Trust of India। 13 May 2013। সংগৃহীত 19 May 2014 
  31. Shukla, Neha (13 February 2014)। "Sports ministry recommended Dhyan Chand for Bharat Ratna"The Times of India। সংগৃহীত 19 May 2014 
  32. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; sachin নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  33. "I have no hope of Bharat Ratna for Dhyan Chand now: Ashok Kumar"। Mumbai: NDTV Sports। Mid Day। 5 February 2014। সংগৃহীত 19 May 2014 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]