বিপিনচন্দ্র পাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিপিনচন্দ্র পাল (ইংরেজি: Bipin Chandra Pal)
Bipin-Chandra-Pal.jpg
জন্ম ৭ নভেম্বর ১৮৫৮
হবিগঞ্জ জেলা, পইল গ্রাম (অধুনা বাংলাদেশ
মৃত্যু ২০ মে ১৯৩২
প্রতিষ্ঠান ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ব্রাহ্মসমাজ
রাজনৈতিক আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন
স্বাক্ষর Bipin Chandra Pal Signature.jpg

বিপিনচন্দ্র পাল (নভেম্বর ৭, ১৮৫৮ -মে ২০, ১৯৩২ বাংলা ৬ই জৈষ্ঠ্য, ১৩৩৯) প্রখ্যাত বাঙালি বাগ্মী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও লেখক। বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি অনলবর্ষী বক্তৃতা দিতেন, তার আহববানে হাজার হাজার যুবক স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে।[১]

বিপিন চন্দ্র পাল ১৮৫৮ সালের ৭ই নভেম্বর সিলেটের এক ধনী কায়স্থ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা রামচন্দ্র পাল ছিলেন একজন গ্রাম্য জমিদার এবং সিলেট বারের প্রভাবশালী সদস্য। বিপিন চন্দ্র পাল এন্ট্রেন্স পরীক্ষা পাশ করে সিলেট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি প্রসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন কিন্তু সেখান থেকে পাশ করার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

বিপিন তার ১৮৭৯ সালে চাকুরি জীবন শুরু করেন একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে, ১৮৯০ - ১৮৯১ পর্যন্ত তিনি কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরীর সম্পাদক এবং লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কলকাতায় ছাত্রজীবনে তিনি কেশব চন্দ্র সেন, সিবনাথ শাস্ত্রী, বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীর মত বেশকয়েকজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের সান্নিদ্ধে আসেন। এদের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে বিপিন ব্রাহ্ম আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পরেন[২] এবং ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন[১]

সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর প্রভাবে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বল গঙ্গাধর তিলক, লাজপত রায় এবং অরবিন্দ ঘোষের বুদ্ধিতে ক্রমে তিনি চরমপন্থি রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। যদিও তিনি বল গঙ্গাধর তিলকের হিন্দু জাতীয়তাবাদ এর পক্ষপাতি ছিলেন না।[২]

১৯০৬ সালে তিনি বন্দেমাতরম পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯০৮ইংল্যান্ডে গিয়েও তিনি স্বরাজ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচীতে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মতে মিল না হওয়ায় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাড়ান। [১]

১৯৩২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ফজলুর রহমান, "শতাব্দীর দর্পণ", ২০০০, পৃষ্ঠা ১২৮।
  2. ২.০ ২.১ http://www.banglapedia.org/httpdocs/HT/P_0035.HTM