গোপালকৃষ্ণ গোখলে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গোপালকৃষ্ণ গোখলে
गोपाल कृष्‍ण गोखले
Gopal krishan gokhale.jpg
জন্ম (১৮৬৬-০৫-০৯)মে ৯, ১৮৬৬
কোথলুক, রত্নগিরি জেলা, বোম্বাই প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৯১৫(১৯১৫-০২-১৯) (৪৮ বছর)
বোম্বাই, ব্রিটিশ ভারত, (অধুনা মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত)
বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ভারতীয়
যে জন্য পরিচিত স্বাধীনতা সংগ্রামী, ডেকান এডুকেশন সোসাইটির সদস্য

গোপালকৃষ্ণ গোখলে (মারাঠি: गोपाल कृष्‍ण गोखले) (মে ৯, ১৮৬৬ - ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৯১৫) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আদিযুগের এক স্বনামধন্য রাজনৈতিক নেতা এবং এক বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক। গোখলে ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা এবং সার্ভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা। সোসাইটি, কংগ্রেস ও অন্যান্য আইনসভা সংস্থার মাধ্যমে গোখলে শুধুমাত্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনতা থেকে ভারতের স্বাধীনতার দাবিকেই জোরদার করেননি, লিপ্ত থেকেছিলেন নানা প্রকার সমাজ সংস্কার মূলক কাজেও। লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি দুটি মূল আদর্শে বিশ্বাস করতেন: সহিংসতা বর্জন ও সরকারি সংস্থার মধ্য থেকে সংস্কার সাধন। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাঙালি জাতি সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত উক্তি,[১]

বাঙালি আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে আগামীকাল।
(What Bengal thinks today, India thinks tomorrow.)

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

১৮৬৬ সালের ৯ মে তৎকালীন বোম্বাই প্রেসিডেন্সির (অধুনা মহারাষ্ট্র রাজ্য) কোটালুকে গোপালকৃষ্ণ গোখলের জন্ম। উচ্চবর্ণীয় চিৎপবন ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও, গোখলের পরিবার ছিল অপেক্ষাকৃত দরিদ্র। তবুও তাঁরা বাল্যকালে গোখলেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছিলেন যাতে ভবিষ্যতে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে করণিক বা ছোটোখাটো পদাধিকারীর পদ লাভ করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত ভারতীয়দের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হলেন গোখলে। ১৮৮৪ সালে এলফিনস্টোন কলেজ থেকে তিনি স্নাতক হন। গোখলের শিক্ষা তাঁর পরবর্তী কর্মজীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। ইংরেজি শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অবহিত হয়েছিল পাশ্চাত্য রাজনৈতিক ধ্যানধারণার সঙ্গে। এই সময় জন স্টুয়ার্ট মিলএডমন্ড বার্কের চিন্তাভাবনা তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।[২] ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের নানা দিকের কঠোর সমালোচনা করলেও, কলেজ জীবনের শিক্ষা থেকে পাওয়া ইংরেজদের রাজনৈতিক তত্ত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ আমৃত্যু বজায় ছিল।

জাতীয় কংগ্রেস ও তিলকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা[সম্পাদনা]

১৮৮৯ সালে গোখলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্যপদ লাভ করেন। তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক মহাদেব গোবিন্দ রানডেবাল গঙ্গাধর তিলক, দাদাভাই নওরোজি, বিপিনচন্দ্র পাল, লালা লাজপৎ রাই, অ্যানি বেসান্ত প্রমুখ সমসাময়িক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভারতীয়দের হাতে অধিকতর শাসনক্ষমতা দেওয়া ও আইনসভায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সংখ্যা বৃদ্ধির পক্ষে বক্তব্য রাখেন। রাজনৈতিক আদর্শের বিচারে তিনি ছিলেন মধ্যপন্থী নেতা। তিনি মনে করতেন, আবেদন-নিবেদন নীতিতে চললে ভারতীয় অধিকারগুলি আদায়ের ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের সম্ভ্রম পাওয়া সহজ হবে। গোখলে আয়ারল্যান্ড সফর করেন[৩] এবং তাঁরই উদ্যোগে আইরিশ জাতীয়তাবাদী নেতা আলফ্রেড ওয়েব ১৮৯৪ সালের জাতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। পরের বছর গোখলে তিলকের সঙ্গে কংগ্রেসের যুগ্মসচিব নিযুক্ত হন। অনেক দিক থেকেই গোখলে ও তিলকের প্রাথমিক জীবন সংক্রান্ত নানা মিল ছিল। তাঁরা দুজনেই ছিলেন চিৎপবন ব্রাহ্মণ (যদিও তিলক ছিলেন ধনী); দুজনেই এলফিনস্টোন কলেজে পড়াশোনা করেন; দুজনেই ছিলেন গণিতের অধ্যাপক; এবং দুজনেই ছিলেন ডেকান এডুকেশন সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবুও কংগ্রেসে যোগ দেওয়া পর ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উপায় সংক্রান্ত প্রশ্নে উভয়ের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকট হয়ে পড়ে।[৪]

১৮৯১-৯২ সাল নাগাদ ব্রিটিশ সরকারের এজ অফ কনসেন্ট বিল নিয়ে তিলকের সঙ্গে গোখলের মতপার্থক্য প্রকট হয়। গোখলে ছিলেন উদারপন্থী সংস্কারক। তিনি হিন্দুধর্মের সংস্কার কল্পে বাল্যবিবাহ প্রথা রদ করতে চেয়েছিলেন। বিলটির বিষয় ছিল সামান্যই – এই বিলে প্রাপ্তবয়স্কতার মাপকাঠি দশ বছর থেকে বাড়িয়ে বারো বছর করা হয়েছিল। কিন্তু তিলক বিষয়টিকে হিন্দুধর্মের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন। তিলক মনে করতেন এই ধরনের সংস্কার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের হাতে না হয়ে স্বাধীনতার পর ভারতীয়দের নিজেদের হাতে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তিলকের বিরোধিতা সত্ত্বেও, সেদিন গোখলে ও তাঁর সহকারী সমাজ সংস্কারকদের জয় হয়েছিল এবং বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে বিলটি আইনে পরিণতও হয়েছিল।[৫]

১৯০৫ সালে গোখলে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি তাঁর এই নবলব্ধ ক্ষমতা তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী তিলকের ক্ষমতা খর্ব করার কাজে ব্যবহার করেন। ১৯০৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির মনোনয়ন থেকে তিলকের নাম বাদ দেওয়া হয়। ফলে কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। গোখলে ও তিলক যথাক্রমে নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর নেতৃত্বদান করতে থাকেন। এই চরমপন্থীদেরই পরবর্তীকালে বলা হত উগ্র জাতীয়তাবাদী। তিলক গণআন্দোলন ও প্রত্যক্ষ বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের ডাক দেন। অন্যদিকে গোখলে সংস্কারপন্থীই থেকে যান। কংগ্রেস দলও এই বিবাদের জেরে দুটি শাখায় ভেঙে গিয়ে এক দশকের জন্য অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে ১৯১৬ সালে গোখলের মৃত্যুর পর দুই শাখা আবার পরস্পরের কাছাকাছি এসেছিল।

সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি[সম্পাদনা]

১৯০৫ সালে গোখলে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। এইরূপ রাজনৈতিক উচ্চতায় আসীন হওয়ার পর তিনি স্থাপন করে সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি। এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পশ্চাতে বলবতী ছিল তাঁর হৃদয়ের গভীরতম ইচ্ছাটি – ভারতে শিক্ষার প্রসার। গোখলে বিশ্বাস করতেন, নতুন প্রজন্ম দেশ ও দশের প্রতি তাঁদের সাধারণ ও জাতীয় কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসা সম্ভবপর নয়। আবার তিনি সেযুগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসকেও এই শিক্ষার বিস্তারের জন্য যথোপযুক্ত মনে করতেন না। এই কারণে তাঁর মনে হয় সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। সংস্থার সংবিধানে গোখলে লিখেছিলেন, “The Servants of India Society will train men prepared to devote their lives to the cause of country in a religious spirit, and will seek to promote, by all constitutional means, the national interests of the Indian people.”[৬] সংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার বিস্তার। এই লক্ষ্যে তাঁরা ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার, বিদ্যালয় ও কারখানার শ্রমিকদের জন্য নৈশ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করেন।[৭] গোখলের মৃত্যুর পর এই সংস্থার দুর্বল হয়ে পড়লেও, আজও এর অস্তিত্ব রয়েছে। যদিও বর্তমানে এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা খুবই কম।

ব্রিটিশ সরকারি ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

গোখলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম যুগের একজন বিশিষ্ট নেতা হলেও প্রাথমিকভাবে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের থেকে সমাজ সংস্কারে অধিক গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি মনে করতেন, এই ধরনের সংস্কার বিদ্যমান ব্রিটিশ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমেই সম্ভব। এই জাতীয় চিন্তাভাবনার ফলে তিলকের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতৃবর্গের সঙ্গে তাঁর শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। তবে এই ধরনের বিরোধিতায় নিরুৎসাহিত না হয়ে সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক কর্মজীবনেই তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতার পরিবেশে প্রত্যক্ষভাবে সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন।

১৮৯৯ সালে গোখলে বোম্বাই প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯০২ সালে নির্বাচিত হন ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে। সেখানে এক পরম প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরূপে তাঁর পরিচিত হয়। বার্ষিক বাজেট বিতর্কগুলিতে তিনি তাঁর প্রতিভার সাক্ষর রেখে যান। ব্রিটিশদের মধ্যে গোখলের প্রতি সম্ভ্রম বৃদ্ধি পায়। সেক্রেটারি অফ স্টেট লর্ড জন মর্লের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি লন্ডনে নিমন্ত্রিতও হন। ১৯০৯ সালে প্রবর্তিত মর্লে-মিন্টো সংস্কারের খসড়াও এই সফরকালেই রচিত হয়েছিল। ১৯০৪ সালে নববর্ষ সম্মান তালিকায় গোখলে একজন সিআইই (কমপ্যানিয়ন অফ দি অর্ডার অফ দি ইন্ডিয়ান এমপায়ার) নিযুক্ত হন। এটি ছিল সাম্রাজ্যের প্রতি তাঁর আনুগত্যের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

গান্ধী ও জিন্নাহর রাজনৈতিক গুরু[সম্পাদনা]

মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন গোখলে। ১৯১২ সালে গান্ধীজির আমন্ত্রণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। এই সময় তরুণ ব্যারিস্টার গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধের সরকারের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত ছিলেন। গোখলে তাঁকে নিজ প্রজ্ঞা, ভারত সম্পর্কিত জ্ঞান ও ব্যক্তিগত সহায়তা দান করে ভারতীয়দের সংঘবদ্ধ করতে সাহায্য করেন। ১৯২০-এর দশকে গান্ধীজি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক দিকপাল নেতা রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। নিজের আত্মজীবনী আত্মকথা অথবা সত্যের প্রয়োগ গ্রন্থে গান্ধীজি গোখলেকে তাঁর গুরু এবং সহায়ক বলেছেন। গান্ধীজির মতে তিনি ছিলেন প্রশংসনীয় নেতা ও দক্ষ রাজনীতিবিদ। গোখলের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে গান্ধীজি বলেন তিনি ছিলেন “pure as crystal, gentle as a lamb, brave as a lion and chivalrous to a fault and the most perfect man in the political field”।[৮] গোখলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ সত্ত্বেও গান্ধীজি রাজনৈতিক সংস্কার সাধনের উপায় হিসেবে পাশ্চাত্য প্রতিষ্ঠান নির্ভরতার ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি শেষ অবধি গোখলের সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটির সদস্যপদ গ্রহণ করেননি।[৯] পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহেরও আদর্শস্থানীয় ব্যক্তি তথা রাজনৈতিক গুরু ছিলেন গোখলে। ১৯১২ সালে জিন্নাহ "মুসলিম গোখলে" হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

জীবনের শেষভাগেও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন গোখলে। এই উদ্দ্যেশ্যে তিনি একাধিক স্থান ভ্রমণ করেন। ১৯০৮ সালে ইংল্যান্ড সফরের পাশাপাশি ১৯১২ সালে গান্ধীজির আমন্ত্রণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও যান। এরই সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে সারভেন্টস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি, কংগ্রেস ও আইনসভার কাজও চালিয়ে যান। অতিরিক্ত পরিশ্রমে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। ১৯১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গোখলের প্রভাব[সম্পাদনা]

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গোখলে গভীর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ স্তর পর্যন্ত সম্পর্ক স্থাপন করে গোখলে কেবলমাত্র ভারতের তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিতই করে তোলেননি, তাঁদের অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সরকারি কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনীতির আধ্যাত্মিকীকরণ, সমাজ সংস্কার ও বিশ্বজনীন শিক্ষায় দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রেরিত হয়েছিলেন তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মহাত্মা গান্ধী। তবে গান্ধীজি তাঁর পাশ্চাত্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও ধ্রুপদি উদারবাদের আদর্শকে পরিত্যাগ করলেও ১৯৫০ সালের ভারতীয় সংবিধানে যে ওয়েস্টমিনিস্টার ধাঁচের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়, তা ছিল গোখলেরই চিন্তার ফসল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. What Bengal thinks today...
  2. Stanley Wolpert, Tilak and Gokhale: Revolution and Reform in the Making of Modem India, Berkeley, U. California (1962), 22.
  3. Cited by John Hume in his acceptance speech for the 2001 Gandhi Peace Prize. Reported in Seminar Magazine No.511 March 2002, accessed at [১] July 26, 2006
  4. Jim Masselos, Indian Nationalism: An History, Bangalore, Sterling Publishers (1991), 95.
  5. D. Mackenzie Brown, Indian Political Thought from Ranade to Bhave, Los Angeles: University of California Press (1961), 77.
  6. Stanley Wolpert, Tilak and Gokhale: Revolution and Reform in the Making of Modem India, Berkeley, U. California (1962), 158-160.
  7. Carey A. Watt, “Education for National Efficiency: Constructive Nationalism in North India, 1909-1916,” in Modern Asian Studies, Vol. 31, No. 2 (May, 1997), 341-342, 355.
  8. Leadbeater, Tim (2008). Britain and India 1845-1947. London: Hodder Eduction. p38.
  9. Jim Masselos, Indian Nationalism: An History, Bangalore, Sterling Publishers (1991), 157.

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]