ফার্মেসি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Pharmacy থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ফার্মেসি স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা যা মূলত রসায়নের সাথে জীব বিজ্ঞানের একটি যোগসূত্র হিসাবে কাজ করে। মুলত ঔষধ ও কসমেটিকসের প্রস্তুতি, ব্যবহার এদের নিরাপদ ও সঠিক বিতরণ ও পরিবেষণ(Dispensing) ইত্যাদি সবই এর আলোচ্য বিষয়। আধুনিক যুগের ফার্মাসিস্টদের কাজ হচ্ছে ঔষধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ঔষধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সঠিক চিকিৎসাগত প্রয়োগ ইত্যাদি। অতঃপর একজন ফার্মাসিস্ট হলেন সেই ব্যক্তি যে এই সকল বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ফার্মেসি শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ “Pharmakon” থেকে যার আভিধানিক অর্থ বিষ।

ফার্মেসির প্রধান মৌলিক বিভাগ তিনটি- ঔষধ প্রযুক্তি, ফার্মাকোলজি, ক্লিনিক্যাল গবেষণা। ঔষধ প্রযুক্তি (Pharmaceutics) বিভাগে বিভিন্ন ধরনের ঔষধের প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে থাকে কার্যকরী ঔষধি যৌগের সাথে ব্যবহার করা অতিরিক্ত যৌগসমূহের ব্যবহার (Excipients), প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির বিবরণ (Tooling), প্রস্তুতপ্রণালী(Formulation and Preparation), প্যাকেটজাতকরন ও তার উপকরন (Packaging) ইত্যাদি। Dosage Form Design বা ঔষধের ধরন শিল্পায়নও এর অন্তর্ভুক্ত। এই উপবিভাগে ঔষধের কণা ও তার বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায়; সাথে থাকে পূর্বপ্রস্তুতি (Preformulation). Preformulation বলতে বুঝায় ঔষধের প্রস্তুতির পূর্বে করনীয় বিষয়সমুহ যেমন- ট্যাবলেট তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজন তার ত্বরান্বিত স্থায়িত্ব পরীক্ষা (Accelerated Stability Testing)

ফার্মেসি শিক্ষার প্রধান শাখাগুলো হলঃ

  1. ভৌত ফার্মেসি (Physical Pharmacy)
  2. ফার্মাকগনসি ও ভেষজ রসায়ন (Pharmacognosy)
  3. জৈব ও অজৈব রসায়ন (Organic & Inorganic Chemistry)
  4. ঔষধ তৈরির প্রযুক্তি ও প্রকৌশল (Pharmaceutical Technology)
  5. নিউক্লিয়ার ফার্মেসি
  6. হসপিটাল ফার্মেসি
  7. কমিউনিটি ফার্মেসি
  8. ভেটেরেনারি ফার্মেসি
  9. ঔষধ নকশাকরন (Drug Design)
  10. ঔষধ বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় (Pharmaceutical Marketing & Sales)

বাংলাদেশে ফার্মেসি[সম্পাদনা]

ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রয় সীমিতকরার জন্য বর্তমানে জোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যেকোনো ঔষধালয় থেকে যে কোন সাধারণ নাগরিক এন্টিবায়োটিকের মত ঔষধ বিনা কোন প্রেসক্রিপসনে নিয়ে আসতে পারেন। যদিও ঔষধ লিখার দায়িত্ব একজন ডাক্তারের হলেও সঠিকভাবে সেই ঔষধ প্রদান করার জন্য ফার্মাসিস্টকে পদায়ন করার কথা। শুধুমাত্র গুটিকয়েক জায়গা ছাড়া এই ধারাটি অনুসরণ দেখতে পাওয়া যায়না। একারণে বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। যার ফলশ্রুতিতে এখন ফার্মেসি বলতে অনেকে ঔষধালয়কেই বুঝে থাকেন।

ইদানিং বাংলাদেশে ফার্মেসি শিক্ষা দ্রুত বাড়ছে। এর কারণ বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের উন্নতি। দেশের অনেক সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ রয়েছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত ৪ বছরের বি.ফার্ম(অনার্স) ডিগ্রিকে কে ৫ বছর মেয়াদী প্রফেশনাল ডিগ্রি (Pharm.D)-তে রুপান্তরিত করা হয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি বলা চলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]