ঔষধবিজ্ঞান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঔষধবিজ্ঞান জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা যার মূল আলোচ্য বিষয় হল দেহের উপর ঔষধের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া। বিস্তারিতভাবে বললে বলা যায় ঔধধবিজ্ঞান হল বহিরাগত রাসায়নিক পদার্থের সাথে দেহের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া কীভাবে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক প্রাণরাসায়নিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তার গবেষণা। ঔষধ বিষয়ক সকল জ্ঞান এর আলোচ্য বিষয়, বিশেষত যেসব রাসায়নিক পদার্থের রোগ নিরাময়যোগ্য গুনাগুণ রয়েছে এবং যার ব্যবহার চিকিৎসাগতভাবে নিরাপদ। ঔষধবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা ফার্মাকোলজি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ফার্মাকন ("Pharmacon", যার আভিধানিক অর্থ "মাদক, বিষ") এবং "লোগোস" ("Logos", যার অর্থ "বিজ্ঞান") থেকে।

ঔষধবিজ্ঞানের দুইটি প্রধান শাখা হল ঔষধগতিবিজ্ঞান ("Pharmacokinetics") এবং ঔষধক্রিয়াবিজ্ঞান (Pharmacodynamics)। যখন ঔষধ আমাদের দেহে প্রবেশ করে তখন দেহ সরাসরি তার উপর কাজ করতে শুরু করে। দেহের মধ্যে ঔষধের শোষণ, বণ্টন, বিপাক এবং নিষ্কাশন হল ঔষধগতিবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। ঔষধ দেহের উপর যে ক্রিয়া করে, সেই প্রক্রিয়াটি কোনও গ্রাহকের ভূমিকা ছাড়া অনেকাংশেই অচল, যেহেতু এই গ্রাহকই তার নির্বাচনশীলতার গুণে ঔষধকে দেহের উপর ক্রিয়া করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে দেহের উপর ঔষধ বা রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়াই মূলত ঔষধক্রিয়াবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। ঔষধ গ্রহণের পুরামাত্রা বা "কোর্স" ও তার চিকিৎসাবিদ্যাগত ক্রিয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয় ঔষধগতিবিজ্ঞান এবং ঔষধক্রিয়াবিজ্ঞানের আলোকেই। ঔষধবিজ্ঞান এবং ঔষধপ্রস্তুতিবিজ্ঞানের (ইংরেজি পরিভাষায় ফার্মেসি) মধ্যে পার্থক্য আছে। ঔষধবিজ্ঞান আলোচনা করে কীভাবে ঔষধ জীবদেহ বা জৈব মাধ্যমকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে ঔষধ জীবদেহ বা জৈব মাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত হয়। অপরপক্ষে ঔষধপ্রস্তুতিবিজ্ঞান হল একটি জৈব চিকিত্সাবিজ্ঞান যার আলোচনার বিষয়বস্তু হল ঔষধবিজ্ঞান থেকে আহরিত জ্ঞান প্রয়োগ করে ঔষধের প্রস্তুতি, ব্যবহার ও পরিবেশন, ইত্যাদি।

শাখাপ্রশাখা[সম্পাদনা]

নিদানতাত্ত্বিক ঔষধবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখা যা আলোচনা করে জীব ও মানবদেহের ওপর চিকিৎসার প্রভাব। ইংরেজিতে "ক্লিনিকাল ফার্মাকোলজি" বলা হয়।

স্নায়ু-ঔষধবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর ঔষধের প্রভাব সম্পর্কিত শাখা। ইংরেজিতে "নিউরোফার্মাকোলজি" বলা হয়।

মনোঔষধবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

মন তথা মস্তিস্কের উপর ঔষধের ক্রিয়া ও এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ, আচরণগত পার্থক্য নির্ণয় ও শারীরতাত্ত্বিক প্রভাব পর্যবেক্ষণ, ইত্যাদি এ শাখার আলোচ্য বিষয়। ইংরেজিতে "সাইকোফার্মাকোলজি" বলা হয়।

ঔষধমাত্রাবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

কিভাবে ঔষধের মাত্রা নির্ধারণ করা হয় সে সম্পর্কিত জ্ঞান। নির্ভর করে রোগীর বয়স, ভর, লিঙ্গ, আবহাওয়া ইত্যাদির উপর। ইংরেজিতে "পোসোলজি" বলা হয়।

ভেষজ ঔষধবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

ভেষজ গুনাগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীজ পদার্থ থেকে চিকিৎসাগত দ্রব্যাদির আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, সুষ্ঠু বণ্টন ও বিতরণ ইত্যাদি এর আলোচ্য বিষয়। ইংরেজিতে "ফার্মাকগনসি" বলা হয়।

ঔষধ-বংশাণুবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

বিভিন্ন জাত, বিভাগ, বর্ণ তারতম্য ভেদে ঔষধের প্রভাবের পার্থক্য নিরূপণ করা এবং এগুলোর উপর ভিত্তি করে সঠিক পরিমানের ও সর্বনিম্ন প্রতিক্রিয়াযুক্ত ঔষধ নির্বাচন করা এই শাখার প্রধান বিষয়। ইংরেজিতে "ফার্মাকোজেনেটিক্‌স" বলা হয়।

ঔষধ-জিনোমবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

ঔষধ প্রযুক্তিতে জিন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা। এই সম্পর্কিত বিদ্যমান ঔষধের উন্নয়ন এবং নতুন ঔষধ আবিস্কারের নিমিত্তে গবেষণা। ইংরেজিতে "ফার্মাকোজিনোমিক্‌স" বলা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]