মাতঙ্গিনী হাজরা
মাতঙ্গিনী হাজরা | |
|---|---|
গান্ধী বুড়ি শ্রী মাতঙ্গিনী হাজরা | |
| জন্ম | মাতঙ্গিনী মাইতি ১৯ অক্টোবর ১৮৭০ |
| মৃত্যু | ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ |
| মৃত্যুর কারণ | গুলির ক্ষত |
| পরিচিতির কারণ | সমাজসেবী, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ |
| আন্দোলন | আইন অমান্য আন্দোলন, চৌকিদারি কর বন্ধ আন্দোলন, ভারত ছাড়ো আন্দোলন |
| দাম্পত্য সঙ্গী | ত্রিলোচন হাজরা |

মাতঙ্গিনী হাজরা (১৯ অক্টোবর ১৮৭০–২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক মহান বিপ্লবী নেত্রী। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন মেদিনীপুর জেলার বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার সামনে ব্রিটিশ ভারতীয় পুলিশের গুলিতে তিনি শহিদ হয়েছিলেন। তিনি 'গান্ধীবুড়ি' নামে পরিচিত ছিলেন।[১][২][৩]
প্রাথমিক জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ
[সম্পাদনা]মাতঙ্গিনী হাজরার প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। শুধু এটুকুই জানা যায় যে, ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তমলুকের অদূরে হোগলা[৪] নামে একটি ছোটো গ্রামে (ডাকঘর: হোগলা) এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল। দারিদ্র্যের কারণে বাল্যকালে প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন মাতঙ্গিনী।[৫] অতি অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আলিনান গ্রামের হাজরা বংশে। তাঁর স্বামীর নাম ত্রিলোচন হাজরা। তিনি মাত্র আঠারো বছর বয়সেই নিঃসন্তান অবস্থায় বিধবা হয়েছিলেন।[৬]
মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল নারীদের এই আন্দোলনে যোগদান।[৭] ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মাতঙ্গিনী হাজরা। মতাদর্শগতভাবে তিনি ছিলেন একজন গান্ধীবাদী।[৫] ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন। সেই সময়ে তিনি লবণ আইন অমান্য করে কারাবরণ করেছিলেন। অল্পকাল পরেই অবশ্য তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চৌকিদারি কর মকুবের দাবিতে প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে আবার তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। এই সময় তিনি বহরমপুরের কারাগারে ছয় মাস বন্দি ছিলেন।[৬] তিনি হিজলি বন্দি নিবাসেও বন্দি ছিলেন কিছুদিন।[৮] মুক্তিলাভের পর তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্যপদ লাভ করেন এবং নিজের হাতে চরকা কেটে খাদি কাপড় বানাতেও শুরু করেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী শ্রীরামপুরে মহকুমা কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় আহত হন।[৬]
সমাজসেবামূলক কাজ
[সম্পাদনা]তিনি সর্বদা মানবতাবাদী উদ্দেশ্য সাধনে নিয়োজিত থেকেছেন। তাঁর অঞ্চলে যখন মহামারি আকারে বসন্ত-রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন তিনি আক্রান্ত পুরুষ, নারী ও শিশুদের সেবা করেছেন।[৩] ১৯৩০-এর দশকে কারাবাস ও পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। কিন্তু জেল থেকে মুক্তির পরেই তিনি সমাজের সেবায় আবার নিয়োজিত হন, বিশেষত অস্পৃশ্যদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।[৯]
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ
[সম্পাদনা]ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কংগ্রেস সদস্যেরা মেদিনীপুর জেলার সকল থানা ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয় দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।[৬] এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল জেলা থেকে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করে এখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানত মহিলা স্বেচ্ছাসেবকসহ ছয় হাজার সমর্থক তমলুক থানা দখলের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা।[৫][৭] শহরের উপকণ্ঠে মিছিল পৌঁছালে ব্রিটিশ রাজপুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।[৫] কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে মাতঙ্গিনী অগ্রসর হলে তাঁকে গুলি করা হয়।[৫] কিন্তু তা সত্ত্বেও মাতঙ্গিনী এগিয়ে চলেন এবং পুলিশের কাছে আবেদন করেন জনতার ওপর গুলি না-চালাতে।[৬]
তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের মুখপত্র বিপ্লবী পত্রিকার বর্ণনা অনুযায়ী, ফৌজদারি আদালত ভবনের উত্তর দিক থেকে মাতঙ্গিনী একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। পুলিশ গুলি চালালে তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের পিছনে রেখে নিজেই এগিয়ে যান। পুলিশ তিনবার তাঁকে গুলি করে। গুলি লাগে তার কপালে ও দুই হাতে। তবুও তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন।
এরপরেও বারংবার তার ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। কংগ্রেসের পতাকাটি মুঠোর মধ্যে শক্ত করে উঁচিয়ে ধরে বন্দেমাতরম ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[৫][৬]
উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার স্বদেশের জন্য মাতঙ্গিনী হাজরার মৃত্যুবরণের দৃষ্টান্তটিকে সামনে রেখে মানুষকে বিপ্লবের পথে উদ্বুদ্ধ করে তুলেছিল। উল্লেখ্য, এই সমান্তরাল সরকারটি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সফলভাবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়। পরে গান্ধীজির অনুরোধে এই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।[৭]
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলে অসংখ্য স্কুল, পাড়া ও রাস্তার নাম মাতঙ্গিনী হাজরার নামে উৎসর্গ করা হয়। কলকাতায় দীর্ঘ বিস্তৃত হাজরা রোড তাঁর নামেই নামাঙ্কিত হয়েছে।[৯] স্বাধীন ভারতে কলকাতা শহরে প্রথম যে নারীমূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটি ছিল মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি।[১০] ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ময়দানে এই মূর্তিটি স্থাপিত হয়।[১১]
তমলুকে ঠিক যে জায়গাটিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সেই জায়গাটিতেও তার একটি মূর্তি আছে।[১২] ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০০২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ডাকবিভাগ মাতঙ্গিনী হাজরার ছবি দেওয়া পাঁচ টাকার ডাকটিকিট চালু করে।[১৩] ২০১৫ সালে তমলুক শহরে মহিলাদের জন্য শহীদ মাতঙ্গিনী গভর্নমেন্ট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে।[৯]

আলিনান বীরঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা বসতভিটা ও মিউজিয়াম
মুহাম্মদ নাসেরউদ্দিন আব্বাসী
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার আলিনান গ্ৰাম ইতিহাসের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
হাওড়া থেকে ট্রেনে বা বাসে মেছেদা। মেছেদা বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে কাকটিয়া, ওখান থেকে তিন কিমি টোটোতে আলিনান।
এই আলিনান গান্ধিবুড়ি মাতঙ্গিনী হাজরার শ্বশুর বাড়ি। বারো বছর বয়সে ষাট বছরের ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে বিবাহ হয়। মাত্র ছয় বছর তাদের দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হয়।
এরপর থেকেই বাড়ির এক কুটিরে বিধবা জীবন আরম্ভ করেন মাতঙ্গিনী হাজরা। এমনকি নিজের জীবন অতিবাহিতের হেতু সংসার থেকে টাকা নিতেন না। অন্যের বাড়িতে মুড়ি ভাজা থেকে ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গানো-সহ নানা কাজ করে জীবনধারণ করতেন।
এই সময়ে স্বদেশীদের সাহায্য করতে শুরু করেন। অতঃপর লবণ সত্যাগ্রহ-সহ বিভিন্ন আন্দোলনে সংযুক্ত হয়ে বিপ্লবী মানসিকতার পরিচয় দেন। বিশাল দুই তলা মাটি, টালির চাল আজও স্বাধীনতা সংগ্ৰামীর জলন্ত স্মৃতি বাহিত হচ্ছে। বর্তমানে এই ঘরেই তার নিকট আত্মীয়দের বসবাস।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১৩ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আলিনানে" শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরা স্মৃতি স্তম্ভের" উদ্ধোধন করেন। সৌজন্যে আলিনান মাতঙ্গিনী হাজরা স্মৃতি সংঘ।
১৯৯৩ সালের ১৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কয়লা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজিত পাঁজা আলিনানে বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে অভিজাত আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন। সৌজন্যে শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরা স্মারক সংঘ।
আলিনানের প্রবেশ পথে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত "আলিনান শহীদ মাতঙ্গিনী ভবন বালিকা বিদ্যালয়" স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।
আলিনানে মাতঙ্গিনী হাজরার বসতভিটার সন্মুখে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে "বীরঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা মিউজিয়াম ও মেমোরিয়াল গ্যালারির "প্রর্দশনী ও আবক্ষ মূর্তির উদ্বোধন করেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
এই মিউজিয়ামে মাতঙ্গিনী হাজরার ব্যবহ্নিত পুস্তক,কম্বল, কাঁথা, কাপড়, থালা, শঙ্খ, শীলনোড়া, এবং ভারত সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ডাকটিকিট সংরক্ষিত আছে। এই মিউজিয়ামের চাবি মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মীয়দের সমীপে থাকে।
মাতঙ্গিনী হাজার স্মৃতি বিজড়িত দুই তলা টালির বাড়ি অবিলম্বে সংস্কার করা একান্ত জরুরি।
প্রকাশ থাকে যে,পূর্ব-মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমার হোগলা গ্রামে ১৮৭০ সালের ১৭ নভেম্বর জন্ম মাতঙ্গিনী হাজরা জন্মগ্ৰহণ করেন।পিতা ঠাকুরদাস মাইতি।
স্থানীয় স্তরে পাঠচর্চা শুরু, তমলুকে পড়াশোনা করেন।
১৮৮২ সালে ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। ১৮৮৮ সালে স্বামীর অকাল প্রয়াণ হয়। ১৮ বছর বয়সে তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় বিধবা হন।
১৮৯০ সালে স্যার সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে আলিগড়ে মুসলিম নেতৃবৃন্দ বৃটিশ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।
১৮৯৪ সালে অসমে ব্রিটিশ শাসক বিরোধী আন্দোলন হয়।
১৯০৪ সালে মহারাষ্ট্রে বালগঙ্গাধর তিলক, পাঞ্জাবের লালা লাজপত রায় এবং বাংলার বিপিনচন্দ্র পাল-তিনজন চরমপন্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
১৯০৫ সালের ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণায় সারা বাংলায় আন্দোলন হয়।
১৯১৪ সালে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে বিপ্লবী আন্দোলন হয়।
১৯১৫ সালে গান্ধিজির নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের মৌলিক পরিবর্তন ঘটে।
১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড হয়।
১৯৩০ সালের ১২ মার্চ গান্ধিজির ডান্ডিতে লবন আইন ভঙ্গ করেন।
১৯৩২ সালে স্থানীয় ব্যক্তিরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর শোভাযাত্রায় তিনি যোগদান করেন।
আলিনান লবন কেন্দ্রে তিনি লবন আইন অমান্য করেন। পুলিশ তাকে আটক করে পদব্রজে বহু মাইল পথ অতিক্রান্তের পর মুক্তি দেন।
চৌকিদারি কর বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে ও ভারত মুক্তির দাবিতে মিছিলের জন্য গ্রেফতার করে বহরমপুর জেলে ছয় মাস বন্দি থাকার পর তিনি কারামুক্ত হন।
১৯৩৩ সালে মহকুমা কংগ্রেস কমিটির বাতিলের পরও তমলুকে মহকুমা কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন।
১৯৩৫ সালে বিহার প্রাদেশিক কিষাণসভার হাজিপুর অধিবেশনে জমিদারি প্রথা বিলোপের কর্মসূচি গৃহিত হয়।
১৯৩৭ সালে বাংলার চটকলে সাধারণ ধর্মঘটের মধ্যে শ্রমিক মহিলা সম্মেলনে প্রতিনিধিরূপে সংযুক্ত হন। আশেপাশের গ্রামে তাঁকে "গান্ধিবুড়ি" বলত।
১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির বোম্বাই অধিবেশনে "ভারত ছাড়ো" প্রস্তাব পাশ হয়।
৯ আগস্ট '৪২ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি "ভারতছাড়ো" আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল,নারীদের যোগদান। এই প্রসঙ্গে মেদিনীপুরে মাতঙ্গিনী হাজরা ও রামচন্দ্র বেরার নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। উক্ত আন্দোলনে তিনি এক বিরাট স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়ে থানা দখলের পরিকল্পনা করেন।
বেশ কিছু জায়গাতে সমান্তরাল জাতীয়তাবাদী সরকার গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে মেদিনীপুর, সাতারা উল্লেখযোগ্য।
বৃটিশ সেনা গুলি চালাতে শুরু করলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এই দৃশ্য দেখে মাতঙ্গিনী হাজরা জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে গর্বভরে সামনে অগ্রসর হয়ে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন।
বৃটিশ পুলিশের নির্মম গুলিতে ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিধন হয়ে শহিদ হন।স্বাধীনতা আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরা এক প্রেরণার নাম।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Bhowal, Sayantika (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১)। "The Story Of Matangini Hazra, Fondly Known As 'Gandhi Buri'"। www.digpu.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২২।
- ↑ Simlandy, Sagar; Mandal, Ganesh Kr (৭ জুলাই ২০২১)। History of India & Abroad (ইংরেজি ভাষায়)। BFC Publications। পৃ. ১৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৯০৮৮০-২০-১।
- 1 2 "হাজরা, মাতঙ্গিনী - বাংলাপিডিয়া"। bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২২।
- ↑ "স্মরণ করেই ভুলে যাওয়া, একলা আঁধারে গান্ধীবুড়ি"। EI Samay। ২ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২০।
- 1 2 3 4 5 6 Maity, Sachindra (১৯৭৫)। Freedom Movement in Midnapore। Calcutta: Firma, K.L.। পৃ. ১১২–১১৩।
- 1 2 3 4 5 6 Amin, Sonia (২৯ আগস্ট ২০০৬)। "Hazra, Matangini"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬।
- 1 2 3 Chakrabarty, Bidyut (১৯৯৭)। Local Politics and Indian Nationalism: Midnapur (1919-1944)। New Delhi: Manohar।
- ↑ পতি, ভাস্করব্রত (২২ ডিসেম্বর ২০১৬)। "দেশের প্রথম মহিলা জেল এখন আই আই টি'র গুদামঘর!"। গণশক্তি ডট কম। কলকাতা। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬।
- 1 2 3 "Matangini Hazra: Flag in hand, the 73-year-old walked into a barrage of bullets"। The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২২।
- ↑ "কলকাতার পথেঘাটে ভারতের মহীয়সীরা, দেখে নিন ছবিতে"। Indian Express Bangla। ২ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২০।
- ↑ catchcal.com (২০০৬)। "At first in Kolkata"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬।
- ↑ Haldia Development Authority (২০০৬)। "Haldia Development Authority"। ৩১ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬।
- ↑ Ghosh, Ruchira (২২ নভেম্বর ২০১৭)। "Matangini Hazra And Her Sacrifice For India's Freedom | #IndianWomenInHistory"। Feminism In India (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২০।
- ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার বিপ্লবী
- বাংলার ইতিহাস
- ১৮৬৯-এ জন্ম
- ১৯৪২-এ মৃত্যু
- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ব্যক্তি
- পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী
- পশ্চিমবঙ্গের বিপ্লবী
- ভারতীয় নারী স্বাধীনতা কর্মী
- ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ
- ১৮৭০-এ জন্ম
- বাঙালি হিন্দু
- ২০শ শতাব্দীর বাঙালি
- ভারতীয় নারী সক্রিয়কর্মী
- পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয়কর্মী
- পশ্চিমবঙ্গের নারী
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী
- ১৯শ শতাব্দীর ভারতীয় ব্যক্তি
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় ব্যক্তি
- তমলুকের ব্যক্তি
- বাঙালি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী
- ভারতীয় স্বাধীনতার বিপ্লবী আন্দোলন