প্রেম জিহাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্রেম জিহাদ, রোমিও জিহাদ নামেও পরিচিত, হচ্ছে একটি অস্তিত্বহীন অভিযান[১][২][৩][৪] যেখানে বলা হয় যে মুসলিম পুরুষরা প্রেমের ছল করে অমুসলিম মহিলাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে। প্রতিবেদকরা বারংবার তুলে ধরেছেন যে "প্রেম জিহাদ" একটি অলীক-কল্পনা ও নির্বাচন-কালীন আবিষ্কার,[৫] এমনকি এটি ধর্মীয় ঘৃণা ও ভুল ধর্মীয় তথ্য ছড়ানোর একটি অভিযান।[৪] এই শব্দটির উৎপত্তি অজানা হলেও অনেকের কাছেই পরিচিত। তবে এ ধরনের দাবীর কোন সরকারি প্রমাণ নেই।[১][২][৩] এই ধারণাটি ২০০৯ সালে ভারতের জাতীয় নজরে আসে যখন কেরালাকর্ণাটকে ধর্মান্তর নিয়ে অভিযোগ করা হয়।

নভেম্বর ২০০৯ সালে ডিজিপি জ্যাকব পুন্নজ জানান যে,এমন কোন দল নেই যারা ধর্মান্তরের জন্য মেয়েদের প্রেমের ধোঁকা দেয়। তিনি কেরালা হাই কোর্টকে জানান তার কাছে আসা ১৮টি ঘটনার ৩টিই সন্দেহযুক্ত। শক্ত প্রমাণ না থাকলেও তদন্ত তখনও চলছিল।[৬] ডিসেম্বর ২০০৯ সালে, বিচারপতি কে.টি. সঙ্করণ পুন্নজের কথা মানতে নারাজ ছিলেন, তিনি একটি ঘটনার ডাইরি থেকে নিষ্পত্তি করেন যে এই বিষয়ে কিছু শক্ত তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন এটা পরিষ্কার যে পুলিশের রিপোর্ট থেকে পাওয়া যায় মহিলাদের ধর্মান্তরের জন্য কিছু সংযুক্ত দল রয়েছে। প্রেম জিহাদে অভিযুক্ত দুজনের মামলা চলার সময় জানানো হয় গত ৪বছরে ৩০০০-৪০০০ এমন ধর্মান্তর ঘটেছে।[৭] ডিসেম্বর ২০০৯ সালে কেরালা হাইকোর্ট দুজন অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়ে উক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে যদিও এতে পুলিশের অনুসন্ধান সমালোচিত হয়।[৮] বিচারপতি এম.শশীধরন নম্বিয়া কর্তৃক অনুসন্ধান কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যেহেতু পুন্নজের মতামতের উপর ভিত্তি করে প্রেম জিহাদের কোন অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[৪]

কর্ণাটক সরকার ২০১০ সালে জানায় যদিও অনেক বড় অংশ মহিলা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে এমনকোন দল নেই যারা তাদেরকে প্ররোচিত করেছে।[৯] ২০১২ সালে প্রেম জিহাদ অনুসন্ধানের ২বছর পর কেরালা পুলিশ এটিকে অস্তিত্ত্বহীন অভিযান হিসেবে ঘোষণা করে।পরবর্তীতে আরেকটি কেস চালু হয় একটি ওয়েবসাইটের বিষয়ে যেখানে ভুয়া মুসলিমদের সংগঠন মেয়েদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য মুসলিম যুবকদের টাকা দিত। সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে, তিন মাসের মধ্যে প্রেম জিহাদ সম্পর্কে উত্তর প্রদেশ পুলিশ এর কাছে আসা ৬টি ঘটনার কোনটিরই প্রমাণ মেলেনি যেটাতে জোর করে ধর্মান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানায় বিবেকহীন মানুষদের দ্বারা করা এসব মামলায় এই ঘটনার কোন প্রমাণ নেই।[১০]

২০১৭ সালে, কেরালা হাইকোর্ট প্রেম জিহাদ বন্ধে আইন করে যে, হিন্দু মেয়েদের মুসলিম ছেলেদের বিয়ে করা অবৈধ। একজন মুসলিম স্বামী এটি পুনর্বিবেচনার জন্য ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেন যেখানে কোর্ট এনআইএ এর কাছ থেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ চায় এবং এনআইকে প্রেম জিহাদ সম্পর্কিত সকল ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়। এটা এনআইএ কে বিভিন্ন সন্দেহজনক ঘটনা অনুসন্ধান করার সুযোগ দেয় যার মাধ্যমে তারা খোঁজ করতে পারে যে কোন নিষিদ্ধ সংস্থা যেমন সিমি হিন্দু মেয়েদের সন্ত্রাসী হিসেবে তৈরি করছে কিনা।[১১][১২][১৩][১৪] এনআইএ পূর্বে আদালতকে জানায় এই মামলা শুধুমাত্র একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাজ্যের মধ্যে এধরনের অনেক ঘটনা ঘটে চলেছে। আরো বলে যে, সেই মামলার একই ব্যক্তি যে প্ররোচক হিসেবে কাজ করেছিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা রয়েছে।[১৫]

এই বিষয়টি জাতীয় নজরে আসে প্রথম ২০০৯ সালে যখন কর্ণাটককেরালায় ব্যাপক হারে ধর্মান্তর ঘটে, ধীরে ধীরে এটি ভারতের বাইরে পাকিস্তানযুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১৪ সালের ব্যাপক প্রচারণার জন্য প্রেম জিহাদ বিভিন্ন হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টান সংস্থার মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করে যদিও মুসলিম সংস্থা অভিযোগটিকে অস্বীকার করে। রয়টার্সের ভাষ্যমতে, বিষয়টি অনেকের কাছে একটি সামাজিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হলেও ভারতীয় প্রধানদের মতে এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা বৈ কিছু নয়।[১৬] আগস্ট ২০১৭-তে, এনআইএ (ন্যাশনাল ইনবেস্টিগেশন এজেন্সি) জানায় যে তারা প্রেম জিহাদ সম্পর্কে মামলাগুলোতে কিছু সাধারণ প্রমাণ পেয়েছে।[১৭] দ্য ইকোনমিস্টের পরবর্তী একটি নিবন্ধে জানানো হয়, পুলিশ বারবার অনুসন্ধান করেও ধর্মান্তর করার কোন প্রমাণ পেতে ব্যার্থ হয়েছে। "প্রেম জিহাদের" দাবীকে সংবাদদাতারা বারবার উচ্চপর্যায়ের অলীক কল্পনা এবং নিকৃষ্টতম বলে অভিহিত করছেন, এবং নির্বাচন-কালীন উদ্ভাবন বলছেন।"[৫] ভারত সরকার ভারতে তিন তালাক নিষিদ্ধ করেছে যাতে মুসলিম পুরুষরা এটির অপব্যবহার না করতে পারে। দ্রুত বিচ্ছেদ-অনেক সময় দেখা যায় মুসলিম পুরুষরা প্রেম জিহাদের জন্য এটিকে ব্যবহার করে।[১৮]

পটভূমি[সম্পাদনা]

শতাব্দী থেকেই ভারতে বিভিন্ন ধর্মালম্বী ছিল।১৯০৯সালের এই মানচিত্র থেকে আমরা দেখতে পাই সবুজ রঙে চিহ্নিত উত্তর-পশ্চিমের মুসলিম অঞ্চগুলো হিন্দু অঞ্চলগুলোর সাথে মিলিত হয়েছে।

আবেগের সাহায্যে ধর্মান্তর[সম্পাদনা]

দ্য অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অফ রিলিজিয়াস কনভার্সন উল্লেখ করেছে যে মানুষের এক বিশ্বাস থেকে অন্য বিশ্বাসে রূপান্তরের জন্য আবেগের ব্যবহার খুবই জনপ্রিয় এবং মাঝে মাঝেই ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়।[১৯] অধিক সংখ্যক মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ধর্মীয় দলগুলোর কিছু পদ্ধতি রয়েছে; যেমন:লাভ বোম্বিং, ফ্লার্টি ফিশিং[১৯] প্রেম জিহাদ হলো এমন কাজ যেখানে মুসলিম যুবকরা আবেগ ও চাকচিক্যের সাহায্যে প্রেমের ধোঁকার মাধ্যমে মেয়েদের ধর্মান্তর করে থাকে– অনেক সময় এগুলো বিভিন্ন সংস্থার দ্বারা বা অর্থ দিয়েও করানো হয়।[১][২০][২১]

ধর্মীয় ঐতিহাসিক ঘটনা[সম্পাদনা]

শিকাগো ট্রিবিউন, ফোরেইন পলিসি সাংবাদিক সিদ্ধার্থ মহন্ত প্রতিবেদন করেন যে বর্তমান প্রেম জিহাদের মূল ভিত্তি সুচিত হয় ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের ঘটনায়।[২২] এই বিভক্তির কারণে পাকিস্তান অধিরাজ্য থেকে (যেটি পরবর্তীতে ইসলাম প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তানগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভাগ হয়) বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্রের তৈরি হয় এবং ভারত অধিরাজ্যের (পরবর্তীতে ভারত প্রজাতন্ত্র) সৃষ্টি হয়। দুটি দেশের সৃষ্টি ও দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকার কারণে বৃহৎ আকারে দেশান্তরতা দেখা দেয় যেখানে লাখ লাখ মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করে ও উভয় ধর্মের নারীরা পুরুষদের দ্বারা জোরপূর্বক ধর্মান্তরতার স্বীকার হয়।[২২][২৩][২৪] উভয় দেশের নারীরা এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়, পাকিস্তানী ও ভারতীয় সরকার কর্তৃক পুনরুদ্ধার অপারেশন করে ১৯৪৭-১৯৫৬ সালের মধ্যে ২০০০০ মুসলিম এবং ৯০০০ অমুসলিম নারীকে পুনরুদ্ধার করা হয়।[২৪] মাহান্তার মতে, উভয় ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আন্তঃবিবাহ একটি সাংস্কৃতিক চাপ হিসেবে সংকটপূর্ণ ইতিহাস হয়ে দুই ধর্মালম্বিদের ভেতর বিভিন্ন দশকে সংঘর্ষে রূপ নেয়, যা পরবর্তীতেও চলতে থাকে।[২২]

২০১৪ সাল অনুসারে,ভারতে হিন্দু রয়েছে ৮১% যা ভারতের প্রধান ধর্ম ও মুসলিম রয়েছে ১৩%।[২৫]

বিয়ের সংস্কৃতি ও প্রথা[সম্পাদনা]

ভারতে আনুষ্ঠানিক বিয়ে সংস্কৃতি বিদ্যমান, যেখানে বর ও কনে স্বেচ্ছায় তার জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারেনা। ২০০০-এর দশক ও ২০১০-এর দশক জুড়ে ভারতে ভালোবেসে বিয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যদিও দুটি ধর্মের মাঝে বিয়ে করা তখনও ভয়ের বিষয় ছিল।[২৬][২৭] ২০১২ সালে,দ্য হিন্দু জানায় আন্তঃধর্মীয় বিয়েতে দম্পতীদের অবৈধভাবে ভয় দেখানোর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।[২৮] একই বছর, উত্তর প্রদেশে যারা সমাজের কাছ থেকে তাদের আন্তঃধর্মীয় বিয়ে লুকিয়ে রাখছিল, তাদের উৎসাহ করতে বিয়ের নীতি অনুসারে, ধর্ম জানার প্রয়োজনীয়তাকে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।[২৬]

আন্তঃধর্মীয় বিয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে এটি জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বৈবাহিক ধর্মান্তরের সাথে সম্পর্কিত।[২৭][২৯] কিছু রীতিনীতি সাপেক্ষে ইসলামে এ ধরনের বিয়ে বৈধ। যেখানে মুসলিম নারীরা শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত, পক্ষান্তরে মুসলিম পুরুষরা "আহলে কিতাব", বর্ণনানুসারে ইহুদীখ্রিষ্টানদের এবং বিতর্কিতভাবে হিন্দুদের বিয়ে করতে পারে।[৩০] ২০১৪ সালে মুম্বাই মিরর একটি প্রবন্ধে জানায়, সামান্য সংখ্যক অমুসলিম কনেরা বিয়ের জন্য মুসলিম-হিন্দু ধর্মান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, যেখানে অন্যরা ১৯৫৪ সালের স্পেশাল ম্যারেজ এক্ট অনুসারে আইনীয় বিয়ে করে থাকে।[২৭] ১৯৫৪ সালের স্পেশাল ম্যারেজ এক্ট অনুযায়ী মুসলিম মেয়েদের কোন হিন্দু পুরুষ (সিখ ও বৌদ্ধসহ) কে বিয়ে করা বৈধ।

প্রসার এবং ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রেম জিহাদের অভিযোগ প্রথম জাতীয় আলোচনার বিষয় হয় সেপ্টেম্বর ২০০৯-এ।[২০][৩১] প্রেম জিহাদের শিকার হতে দেখা যায় কেরালা ও কর্ণাটক অঞ্চলের মাঙ্গালোরে। কেরালা ক্যাথোলিক বিশপ্‌স কাউন্সিলের অনুসারে, কেরালার ৪৫০০ মেয়েকে লক্ষ্য করা হয় যেখানে হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতি দাবি করে শুধু কর্ণাটকেই ৩০,০০০ মেয়েকে ধর্মান্তরিত করা হয়।[৩২][৩৩][৩৪] শ্রী নারায়ণা ধর্ম পরিপালনা এর জেনারেল সেক্রেটারি ভেল্লাপল্লি নাতেসান বলেন নারায়নীয়া সম্প্রদায়গুলোতে প্রেম জিহাদ সম্পর্কে রিপোর্ট রয়েছে।[৩৫][৩৬] পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের কাজের রিপোর্ট রয়েছে।[৩৭][৩৮][৩৯] একজন অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ব্লগার সানি হুন্দালের মতে-নব্বই এর দশকে একটি নামবিহীন পত্রিকা (অনুমান করা হয় হিজবুত তাহরির অনুসারীরা) প্রচার করে যে মুসলিম পুরুষরা শিখ মেয়েদের ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত করার জন্য তাদের প্রলুব্ধ করে।[৪০]

২০১৪ সালে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই কাজের তথ্য পাওয়া যায় যার মধ্যে রয়েছে- বিহার,[৪১] কানপুর,[৪২] গওয়ালিয়র[৪৩] এবং ইংল্যান্ড[৪৪]

দ্য শিখ কাউন্সিলের ২০১৪ সালের একটি প্রতিবেদন থেকে পায় যে ব্রিটিশ শিখ পরিবারের মেয়েরা প্রেম জিহাদের শিকার হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, এই মেয়েদেরকে তাদের স্বামী কাজে লাগায় যাদের মধ্যে অনেকেকে পরবর্তীতে পাকিস্তানে রেখে দেয়া হয়। তাখ্‌ত জাতেদারের মতে, শিখ কাউন্সিল কিছু মেয়ে উদ্ধার করে ও তাদেরকে তাদের পিতা-মাতার কাছে ফেরত পাঠায়।[৪৪]

মৌলবাদী মুসলিম সংস্থা, পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া ও 'দ্য ক্যাম্পাস ফ্রন্টকে এই কাজটি প্রচার করার জন্য দায়ী করা হয়।[২১][৪৫] কেরালাতে কিছু সিনেমাকে প্রেম জিহাদ প্রচার করার জন্য দায়ী করা হয়, যে দায়টি চলচ্চিত্রনির্মাতারা মেনে নেয় না।[৪৬]

২০০৯ সালের পর ২০১০, ২০১১ ও ২০১৪ সালে সমালোচনাটি পুনরায় জেগে ওঠে।[৪৭][৪৮][৪৯] ২৫জুন ২০১১সালে, কেরালার মন্ত্রী উম্মেন চান্দি রাজ্যের আইনসভায় জানান যে ২০০৬ সালের মধ্যে সে রাজ্যে ২৬৬৭ যুবক মেয়েদেরকে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত করেছে। কিন্তু এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে সেসব মেয়েদের আসলেই জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা হয়েছে, এবং এরফলে প্রেম জিহাদের ভয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।[৪৯] দিল্লীর একটি মামলার সাথে সম্পর্কিত ঘটনায়, ইন্ডিয়া টিভি সেপ্টেম্বর ২০১৪-তে প্রকাশ করে যে প্রেম জিহাদের মামলার পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও মুসলিম ছেলে ও হিন্দু মেয়েদের সম্পর্কে ঝামেলা তৈরি হয়েছে।[৫০]

২০১৪ সালে ভারতের জাতীয় শুটার তারা শাহদেও অভিযোগ করেন যে তার স্বামী ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য তাকে জোর করে কিন্তু তারা সে দাবী না মানায় তাকে নির্যাতন করেছে। পরবর্তীতে তার স্বামীকে গ্রেফতার হয়।[৫১]

একজন ভারতীয় তাওয়েকোন্দো খেলোয়ার ২০১৪ সালে জানায় যে তিনি প্রেম জিহাদের শিকার হন যখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তার স্বামীকে পরে অপহরণ করার জন্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করতে জোর করার জন্য গ্রেফতার করা হয়।[৫২]

জনসাধারণে প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

২০০৯[সম্পাদনা]

এই হৃদয় বিদারক বিষয়টির জন্য বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়। খ্রিষ্টান দলগুলো যেমন ক্রিসচিয়ান এসোসিয়েশন ফর সোশিয়াল একশন এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এটি বন্ধের জন্য বিরোধিতা করে, আর ভিএইচপি একটি হিন্দু হেল্পলাইন তৈরি করে যেটি ৩মাসে প্রেম জিহাদ সম্পর্কে ১৫০০ কলের উত্তর দেয়।[১] দ্য ইউনিয়ন অফ ক্যাথলিক এশিয়ান নিউজ (ইউসিএএন) প্রতিবেদনে জানায় যে ক্যাথলিক চার্চ এই ঘটনার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।[৫৩] কেরালা ক্যাথলিক বিশপস কাউন্সিল (কেসিবিসি) ক্যাথলিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে সতর্ক করে।[৩২] সেপ্টেম্বরে, কেরালার তিরুবনন্তপুরমে শ্রী রাম সেনা নামে একটি দল প্রেম জিহাদ সম্পর্কে একটি পোস্টার প্রকাশ করে।[৫৪] ডিসেম্বরে দলটি ঘোষণা করে যে তারা দেশব্যাপী প্রেম জিহাদ সম্পর্কিত একটি প্রচরণা চালাবে যার নাম সেভ আউর ডটারস, সেভ ইন্ডিয়া[৫৫]

কেরালার মুসলিম সংগঠন এটিকে আক্রোশপূর্ণ ও ভুল তথ্য সংবলিত প্রচারণা বলে অভিহিত করে।[৫৬] পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই) কমিটির সদস্য নাসিরউদ্দিন ইলামারাম অস্বীকার করেন যে পিএফআই প্রেম জিহাদের সাথে যুক্ত ছিল না, তিনি বলেন মানুষ হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মেও ধর্মান্তরিত হয় আর সেটি কোন অপরাধ নয়।[৫৩] দক্ষিণা কান্নাডা ও উদুপি জেলার মুসলিম সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যরা বলেন, মুসলিম বিশ্বাস ও সম্প্রদায়কে গোপনে ক্ষতিসাধন করার জন্যই হিন্দু ও খ্রিস্টানরা এই ষড়যন্ত্র করেছে।[৫৭]

২০১০[সম্পাদনা]

জুলাই ২০১০ সালে, প্রেম জিহাদ বিষয়টি পুনরায় সংবাদে আসে যখন কেরালার মন্ত্রী ভি.এইচ. অচুটন্ডন উদাহরণ হিসেবে বলেন, কেরালাকে মুসলিম প্রধান রাজ্য তৈরি করতেই অমুসলিম মেয়েদের ধর্মান্তর করা হচ্ছে।[৪৭][৫৮] কেরালায় বিষয়টি তদন্তের জন্য পিএফআই তার বক্তব্যটি অগ্রাহ্য করে,[৫৮] কিন্তু বিজেপি মহিলা মর্চ প্রধান ও ভারতীয় জনতা পার্টি এনআইএ এর কাছে অনুসন্ধানের আবেদন জানায়।[৫৯] কেরালাতে কংগ্রেস পার্টি সেই মন্ত্রীর মন্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানায় এবং বর্ণনা করে এটি খুবই খারাপ ও বিপজ্জনক বিষয়।[৪৭]

২০১১[সম্পাদনা]

২০১১ সালে, আলোচনাটি পুনরায় কর্ণাটক আইনসভাতে উত্থাপিত হয় যখন ভারতীয় জনতা পার্টির মল্লিকা প্রসাদ বলেন যে সমস্যাটি গোপনে চলছিল। তার মতে, ৮৪জন মেয়ের ৬৯জন যারা সে বছরের জানুয়ারি ও নভেম্বরে নিখোঁজ হয়েছিল, উদ্ধারের পর জানায় তারা মুসলিম যুবকদের প্রেমে পড়ে প্রতারিত হয়েছে।[৪৮] দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানায়, এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ছিল, ডেপুটি স্পিকার এন.যোগিস ভাট এবং এস.সুরেশ কুমার সরকারের সাথে সমর্থন করেন, যেখানে কংগ্রেস সদস্য বি.রামানথ রায় এবং অভয় চন্দ্র জাইন বিরোধীতা করেন যে সমাজের একতা নষ্ট করার জন্যই বিষয়টি তুলা হয়েছে।[৪৮]

একই মাসে, হিন্দু হীতরক্ষণা ভেদিকে ১৫জন লোকের অ্যারেস্ট নিয়ে আয়োজিত একটি প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নেতা এই বিষয়টি তুলে ধরেন, যেখানে সংঘ বলে যে পুলিশ মুসলিম যুবকদের ধরতে ভয় পায় যারা প্রেম জিহাদ করে এবং হিন্দু মেয়েদের ফোন ব্যবহার করায় সাবধান হতে বলেন, আরো বলেন যে এগুলো অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।[৬০] চলচ্চিত্রনির্মাতা পরমিতা ভোহরাও বিষয়টি তুলেন যিনি বিষয়টিকে ভিএইচপি এর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।[৬১]

২০১২[সম্পাদনা]

২৫জুন ২০১২ সালে, তৎকালীন কেরালার মন্ত্রী উম্মেন চান্দি রাজ্যের আইন সভায় কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।[৬২]

২০১৪[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে, প্রেম জিহাদের জন্য সংঘর্ষমূলক প্রতিবাদ একটি উদ্বেগে পরিণত হয়। যদিও রয়টার্সের' মতে, এটি ভারতীয় প্রধান ও বুদ্ধিজীবীদের একটি ষড়যন্ত্র।[১৬] বিজেপি এমপি যোগী আদিত্যনাথ বলেন যে,প্রেম জিহাদ হলো ভারতকে লক্ষ্য করে একটি ষড়যন্ত্র।[৬৩] তিনি একটি টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, মুসলিমরা জোরপূর্বক যা চায় তা ভারতে করতে পারেনা, তাই তারা এখানে প্রেম জিহাদ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।[২৫] হিন্দু কর্মীরা উত্তর প্রদেশের মেয়েদের সাবধান করে যে তারা যেন মুসলিমদের কাছ থেকে দূরে থাকে ও তাদের সাথে যেন বন্ধুত্ব না করে।[২৫] উত্তর প্রদেশের একটি কমিটি আখিল ভারতীয় বাইশ্য একতা পরিষদ ঘোষণা করে,তাদের উদ্দেশ্য এই সমস্যায় কেও যাতে আক্রান্ত নাহয় সেজন্য যুবক মেয়েদের ফোনের ব্যবহার হ্রাস করা।[৬৪]

এই ঘোষণার পর, টাইমস অফ ইন্ডিয়া প্রতিবেদন করে যে পুলিশের নিয়ন্ত্রক শালাব মাথুর বলেন প্রেম জিহাদ শব্দটি শুধু ভয় ও সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।[৬৪] মুসলিম নেতারা বলেন ২০১৪ সালের এই বিষয়টির প্রচার করা একটি ঘৃণ্য কাজ।[২৫] নারী প্রবক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে এই ধরনের কাজ নারীদের মুক্ত পছন্দ বন্ধ করে নারীদের অধিকারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।[২৭][৬৫][৬৬][৬৭]

ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী ও পানি মন্ত্রী উমা ভারতি, যুবক মেয়ে ও ছেলেদের বাঁচাতে বিভিন্ন সমাজের নেতাদের নিয়ে একটি সামাজিক আলোচনার ডাক দেন।[৬৮]

সেপ্টেম্বর ২০১৪-এ, সমালোচিত বিজেপি এমপি সাক্ষী মহারাজ দাবি করেন যে মাদ্রাসার মুসলিম ছেলেদের বিভিন্ন অর্থের লোভ দেখিয়ে (সিখ মেয়ের সাথে সম্পর্কের জন ১১লক্ষ, হিন্দু মেয়ের সাথে সম্পর্কের জন্য ১০লক্ষ এবং জাইন মেয়ের সাথে সম্পর্কের জন্য ৭লক্ষ টাকা) প্রেম জিহাদে উৎসাহিত করা হয়। তিনি দাবি করেন তিনি এগুলো কিছু মুসলিমদের কাছ থেকে জানতে পারেন।[৬৯] জামিয়া উলামা হিন্দ এর সহ-সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক খান এসব কাজ অস্বীকার করেন ও মন্তব্য করেন দেশের শান্তি বিনষ্টে এটি ষড়যন্ত্রের অংশ।[৭০] উত্তর প্রদেশ মন্ত্রী মোঃ আজম খান উক্ত মন্তব্যকে নির্দেশ করে বলেন, দেশকে ভাঙ্গার চেষ্টা করা হচ্ছে।[৭১]

১৩ অক্টোবর, ইন্ডিয়া টুডে প্রতিবেদনে জানায়, যে নারী দাবি করেছিল যে তাকে গণধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে, সে তার বক্তব্য পরিবর্তন করে ও পুলিশকে জানান তাকে গোপনে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সে জানায় যে সে পূর্বে ভুল বক্তব্য প্রদান করেছিল কারণ তার পিতামাতা তাকে হুমকি দিয়েছিল।[৭২]

২০১৫[সম্পাদনা]

জানুয়ারিতে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নারী দল দূর্গা বাহিনী তাদের ম্যাগাজিনে প্রেম জিহাদ নিয়ে বোরকায় ডাকা কারিনা কাপুরের ছবি প্রকাশ করে।[৭৩] চিত্রের নিচে শিরোনাম ছিল:কনভার্সন অফ ন্যাশনালিটি থ্রো রেলিজিয়াস কনভার্সন[৭৪]

২০১৬-১৮[সম্পাদনা]

মে ২০১৭, কেরালা হাই কোর্ট একজন ধর্মান্তরিত মেয়ে অখিলার (হাদিয়া) সাথে একজন মুসলিম ছেলে শাফিন জাহানের বিয়েকে নাকচ করে দেয় কারণ ধর্মান্তরের সময় কনের পিতামাতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না (তার বাবা অভিযোগ করেন যে আইএসআইএসের নির্দেশে এই বিয়ে ও ধর্মান্তর হয়েছে)। তারপর কেরালার ডিজিপিকে প্রেম জিহাদ সম্পর্কিত কেস অনুসন্ধান করার জন্য ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনা খোঁজ করার আদেশ দেয়া হয় যেটা এই ধরনের সংগঠনের অস্তিত্ত্ব প্রমাণ করবে ও এদের কাজ করার পেছনের ঘটনার ধারণা দিবে। কেরালার অধিকাংশ যুবক আইএসআইএস এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটা আরো নজরে আনবে যদি বৃহৎ কোন সংস্থা এর সাথে যুক্ত থাকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।[৭৫] মেয়ের বাবার দাবি ছিল তার মেয়েকে কোন একটি সংস্থা মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করতে প্রলুব্ধ করে যার কারণে মেয়েটি পিতামাতার আয়তায় থাকেনা।[৭৬]

মেয়ের বাবা অশোকান মণি ২০১৬ সালে,যখন তার মেয়ে যেখানে পড়ত সেই ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় তখন একটি হ্যাবিয়াস কর্পাস আবেদন লেখেন। তিনি জানান তার মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তর করা হয়েছে ও তার মেয়ে অনেক সময়ই পরিবারকে জানাতো যে তাকে তার সহপাঠী জসীনা আবুবকর ও ফসীনা তার ইচ্ছার বাইরে কাজ করতে বাধ্য করত। যদিও অখিলাকে যখন পাওয়া যায় তখন সে জানায়, সে ২০১২ সাল থেকে ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করছে ও সে নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে। সে আরও জানায় যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেও ছিল না। সে বলে সে তার রুমমেটদের কাছ থেকে এই ধর্মের শিক্ষা সম্পর্কে জানার পর এ ধর্মে আগ্রহী হয়েছে। সে জানায় সে ইসলাম ধর্ম জানার জন্য থারিভাথুল ইসলাম সভা কর্তৃক আয়োজিত একটি কোর্সে যোগ দেয়। সে আরো জানায় সে ব্রিফের সময় আবুবকরের সাথে ছিল ও মঞ্জেরীর সত্যসরণি হোস্টেলে চলে যায়, যেই প্রতিষ্ঠানটি অভিযুক্তভাবে ইসলাম ধর্মান্তর প্রচার করছিল এবং বলা হয় এটি পিএফআই এর সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। সেখানে ইরনাকুলামে সে সৈনাবার সাথে পরিচিত হয় যার সাথে সে তার বাবার আবেদন করার পর থাকে। জুনে সে সত্যসারণীতে ভর্তি হওয়ার প্রমাণ দিলে কোর্ট সৈনাবার সাথে তার থাকা বৈধ করে ও তার বাবার আবেদন খারিজ করে। দুই মাস পর তার বাবা আবার আবেদন করেন ও বলেন তার মেয়ে আইএসআইএস এর নির্দেশে ধর্মান্তর করেছে ও তার শঙ্কা সে আফগানিস্তানে উক্ত দলে যোগ দিবে, তিনি উদ্ধৃত করেন কেরালার দুই নারীর কথা যারা মুসলিম পুরুষদের দ্বারা ধর্মান্তর করেছে ও উক্ত দলে যোগ দিয়েছে। ডিসেম্বরে, অখিলা শাফিনকে বিয়ে করে ও আশোকানের আবেদন মন্জুর করা হয় জানুয়ারি ২০১৭ সালে। আখিলা বিয়ের সার্টিফিকেট কোর্টকে দেখায় কিন্তু এটা নাকোচ করা হয়।[৭৫][৭৬]

জুলাই ২০১৭ সালে,শাফিন জাহান কোর্টের সিদ্ধান্তকে ভারতের সুপ্রিমকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে।[৭৬] শাফিন তার পরিবারের সাথে প্রথম মেয়েকে দেখে আগস্ট ২০১৬-তে একটি বৈবাহিক ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে।[৭৭] সুপ্রিমকোর্টে কেসের কাজ শুর হয় ৪ আগস্ট ২০১৭-এ। মেয়ের বাবা অভিযোগ করে যে তার মেয়েকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে।[৭৮] সুপ্রিমকোর্ট একইসাথে কেরালা সরকার ও এনআইএ-এর কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করে।[৭৯] প্রাক্তন বিচারক আর.বি. রবীন্দ্রন এনআইএ'কে ১৬আগস্ট বিষয়টি অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেন যখন এনআইএ প্রকাশ করে যে, মেয়েটির বিয়ে করা ও ধর্মান্তরের ঘটনা ভিন্ন নয় এবং রাজ্যে এমন ঘটনা দেখা দিয়েছে, আরো বলেন তারা একই লোকের আরো একটি কেস পেয়েছেন।.[১৫] এনআইএ জানায় কেসের স্বামী আরো দুটি ভিন্ন সংস্থা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট-এর সাথে যুক্ত। যাদের যেকোন একটি হয়তো এই বিয়ে সম্পাদন করেছে।[৮০]

২০১৮ সালের ৮ মার্চে সুপ্রিম কোর্ট কেরালা উচ্চ আদালত থেকে হাদিয়ার বিবাহ বাতিল সম্পর্কিত রায়টি তুলে নেয় এবং সেখান থেকে জানানো হয় তিনি তার নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অবশ্য জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এনআইএ কে তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দান করেছে।[৮১]

মূল অনুসন্ধান[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের অক্টোবরে, কর্ণাটক সরকার জানায় তারা প্রেম জিহাদ বন্ধে কাজ করবে যেটি তখন একটি গুরুতর বিষয়ে পরিণত হয়।[৮২] ঘোষণার এক সপ্তাহ পর, সরকার একটি অনুসন্ধানের জন্য সিআইডি নিযুক্ত করে যাতে এমন সংগঠনের অস্তিত্ত্ব খুঁজে যারা মেয়েদের ধর্মান্তর করতে চায়, আর যদি অস্তিত্ত্ব থাকে তাহলে কে বা করা এটিকে অর্থায়ন করছে তা জানার চেষ্টা করে।[৮৩] ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত একজন মেয়ের ঘটনা সামনে আসলে তাকে তার পিতামাতার সাথে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়। কিন্তু কোর্টে সে জোর করে ধর্মান্তরের বিষয় অস্বীকার করলে তাকে তার স্বামীর কাছে ফেরত দেয়া হয়।[৮৪][৮৫] ২০১০ সালের এপ্রিলে, মহীশূর থেকে পুলিশের কাছে এমন আরেকটি ঘটনা আসে যেখানে এক ১৭ বছরের কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে অপহরণ ও জোর করে ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠে।[৮৬]

থিরুবানানথাপুরাম,কেরালায় শ্রী রাম সেনা কর্তৃক একটি পোস্টার অভিযান চালু করার সময় পুলিশ সেই সংস্থার উপস্থিতির উপর অনুসন্ধান করে।[৫৪] ২০০৯ সালের অক্টোবরে, পুলিশ প্রেম জিহাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে, আর বর্ণনা করে যেহেতু তারা প্রেম জিহাদ নামে কোন সংস্থা খুঁজে পায়নি তাই মুসলিম ছেলেদের সঙ্গে প্রেমের মাধ্যমে মেয়েদের ইসলাম ধর্মে রুপান্তর সন্দেহজনক।[৮৭][৮৮] তারা কিছু অনিশ্চিত তথ্য পায় যে বিদেশী অর্থায়নকৃত কিছু সংগঠন রয়েছে যারা ধর্মান্তরে উৎসাহিত করে, কিন্তু তারা খেয়াল করে এমন সংগঠনের কোন নিশ্চিত তথ্য নেই ও বিদেশ থেকে অর্থায়িত হয় এমন কোন সংগঠনের প্রমাণও নেই।[৮৯]

২০০৯ সালে, কর্ণাটক সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনবেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) যদিও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল, তবে এমন কোন প্রমান পায়নি যে প্রেম জিহাদের অস্তিত্ব রয়েছে।[৯০] ২০০৯-এর শেষের দিকে, ডিজিপি (ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) জ্যাকব পুন্নজ জানান যে অনুসন্ধান চালানো সত্ত্বেও এমন কোন প্রমাণ মিলেনি যে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তি প্রেমের মাধ্যমে কোন মেয়েকে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরের চেষ্টা করেছে।[৯০][৯১] তারা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন হিন্দু মেয়েদের একটি বড় অংশ নিজ ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।[৯২]

৯ডিসেম্বর ২০০৯,কেরালা হাইকোর্টের বিচারক কে.টি. সঙ্করণ একটি বিষয়ে মনোযোগ দেন যখন তিনি জানতে পারেন একজন মুসলিম যুবকের মুক্তি সম্পর্কে যে স্বীয় ক্যাম্পাসের দুজন মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরের জন্য অভিযুক্ত ছিল। সঙ্করণের মতে, পুলিশ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ধর্মান্তরের জন্য পরিশ্রমের ক্ষেত্রে কিছু দলের আশীর্বাদ রয়েছে, ৪বছরে প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় ৩০০০-৪০০০ ঘটনা রয়েছে।[৯৩] সঙ্করণ জানতে পারেন যে ভালোবাসার নামে জোর করে ধর্মান্তর ঘটছে ও পরামর্শ দেন, এই ধরনের প্রতারণামূলক কাজ ঠেকাতে আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন।[৯৩]

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর মতে, সঙ্করণের বক্তব্য প্রেমের এসকল ঘটনা রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটত যা রাজ্য সরকারের বক্তব্যের বিপরীতে যায়।[৯৪] ২০১০ সালের শুরুতে, রাজ্য সরকার কর্ণাটক হাইকোর্ট কে জানায় যে, যদিও হিন্দু মেয়েদের একটি বড় অংশ ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত হয়েছে এমন কোন সংস্থা নেই যা তাদেরকে এটি করতে প্রলুব্ধ করেছে।[৯২]

সঙ্করণের কাছে "প্রেম জিহাদ" ও "রোমেও জিহাদ" শব্দ দুটি ব্যবহার বন্ধের জন্য দরখাস্ত করা হয়, কিন্তু গণমাধ্যমে ব্যবহারের জন্য অতি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা জারি না করে সঙ্করণ দরখাস্তটি নাকচ করে।[৯৪] ধারাবাহিকভাবে, হাই কোর্ট পুলিশের অনুসন্ধান জারি রাখে কেননা পুলিশের কোন প্রমাণ এই ধরণের কোন সংগঠনের কাজ নিশ্চিত করে না এবং অনুসন্ধানটি শুধু একটি দলকে লক্ষ্য করে ছিল।[৪][৯৫]

জানুয়ারি ২০১২-তে, কেরালার পুলিশ ঘোষণা করে, প্রেম জিহাদ একটি অস্তিত্ত্বহীন অভিযান, এবং www.hindujagruti.org ওয়েবসাইটটি ধর্মীয় ঘৃণা ও ভুল প্রজ্ঞা প্রচার করার জন্য এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে।[৪]

সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে, জাতীয়ভাবে পুনরুত্থানের পর[৪৯] রয়টার্স জানায় উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রেম জিহাদ সম্পর্কিত পাঁচ ছয়টি অভিযোগের কোনটিরই প্রমাণ পায়নি যেগুলো তাদের সামনে আনা হয়েছিল। এ.এল.ব্যানার্জি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখি একজন মুসলিম ছেলে ও একজন হিন্দু মেয়ে বাবা-মার অনিচ্ছাতে বিয়ে করে।[১৬] তারা বারবার বলেন, সাধারণ মানুষের কিছু ঘটনা এই ষড়যন্ত্রের কোন প্রমাণ নয়।[১৬]

একই মাসে, যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ও প্রেম জিহাদ শব্দটি ব্যবহার বন্ধের আবেদনের প্রতিক্রিয়া প্রদান করার জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট ও উত্তর প্রদেশের নির্বাচন কমিশন সরকারকে ১০দিন সময় দেয়।[২২][৬৩][৯৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ananthakrishnan G (২০০৯-১০-১৩)। "'Love Jihad' racket: VHP, Christian groups find common cause"। Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  2. "Muzaffarnagar: 'Love jihad', beef bogey sparked riot flames"। Hindustan Times। ১২ সেপ্টে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  3. Khalid, Saif। "The Hadiya case and the myth of 'Love Jihad' in India"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৩ 
  4. Padanna, Ashraf (৪ জানুয়ারি ২০১২)। "Kerala police probe crack 'love jihad' myth"The Gulf Today। ২০১৩-১২-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "India is working itself into a frenzy about interfaith marriages"The Economist। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। 
  6. "Kerala police have no proof on love jihad"। ৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  7. "Kerala HC asks govt to stop love jihad" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। The Economic Times। 
  8. 'Love jihad': Kerala high court stays police investigation DNA News
  9. "No love jihad in state"। The Hindu। 
  10. "Love jihadand religious conversion polarise in Modis India" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। Reuters। 
  11. "Top Counter-Terror Agency, NIA, To Probe Kerala 'Love Jihad' Marriage.", NDTV, 16 August 2017.
  12. "NIA probe on 'love jihad' may cover all suspicious cases.", Economic Times, 16 August 2017.
  13. "Supreme Court hears its 1st 'love jihad' case, demands proof from NIA", The Times of India, 5 August 2017.
  14. "Kerala 'Love Jihad' Case: NIA to Assess Ramifications on National Security." ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ আগস্ট ২০১৭ তারিখে, CNN News18, 10 August 2017.
  15. "Supreme Court orders NIA probe into Kerala woman's conversion and marriage case"The Hindu। ১৬ আগস্ট ২০১৭। 
  16. Nair, Rupam Jain; Daniel, Frank Jack (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "'Love Jihad' and religious conversion polarise in Modi's India"Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  17. "NIA finds a common mentor in Kerala 'love jihad' cases"Times of India। New Delhi: Bennett, Coleman & Co.Ltd.। ২৮ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  18. "Triple talaq in times of love jihad: Banning instant triple talaq's a good idea but won't build bridges between Muslims and BJP"Times of India। New Delhi: Bennett, Coleman & Co.Ltd.। ৩ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৮ 
  19. Rambo, Lewis R.; Farhadian, Charles E. (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। The Oxford Handbook of Religious Conversion। Oxford University Press, USA। পৃষ্ঠা 145। আইএসবিএন 978-0-19-971354-7 
  20. "'Love jihad' piqued US interest"The Times of India। ৬ সেপ্টে ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৯-০৮ 
  21. Nelson, Dean (১৩ অক্টো ২০০৯)। "Handsome Muslim men accused of waging 'love jihad' in India"The Telegraph। Telegraph Media Group Limited। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৯-১৪ 
  22. Mahanta, Siddhartha (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "India's Fake 'Love Jihad'"Foreign Policy। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৫ 
  23. Bhavnani, Nandita (২৯ জুলাই ২০১৪)। The Making of Exile: Sindhi Hindus and the Partition of India। Westland। পৃষ্ঠা 253–255। আইএসবিএন 978-93-84030-33-9 
  24. Huynh, Kim; Bina D'Costa; Katrina Lee-Koo (৩০ এপ্রিল ২০১৫)। Children and Global Conflict। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 274–275। আইএসবিএন 978-1-316-29876-3 
  25. Mandhana, Niharika (৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Hindu Activists in India Warn Women to Beware of 'Love Jihad'"The Wall Street Journal। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  26. "Indian Laws, Culture Boost Inter-Faith Marriages"Voice of America। ১২ আগস্ট ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  27. "Jihad in the time of love"Mumbai Mirror। ৩১ আগস্ট ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  28. Dhar, Aarti (২৪ জানুয়ারি ২০১২)। "Law Commission's new draft wants khap panchayats on marriages declared illegal"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  29. "Two booked for forcing wives to embrace Islam in Madhya Pradesh"Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  30. Cornell, Vincent J. (২০০৭)। Voices of Islam: Voices of life : family, home, and society। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 61। আইএসবিএন 9780275987350This includes Jew, Christians and Sabeans (a sect that most Muslims believe no longer exists). Zoroastrians, certain types of Hindus, and Buddhists are accepted by some Muslims as 'People of the Book' as well, but this is a matter of dispute. 
  31. Brown, Stephen (১৬ অক্টো ২০০৯)। "The "Love Jihad""Front Page Mag। ১৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৮ 
  32. "Beware of 'love jihad'"MathrubhumiKochi, Kerala, India: mathrubhumi.org। ২০০৯-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-১৮ [অকার্যকর সংযোগ]
  33. "Is 'Love Jihad' terror's new mantra?"। Rediff। ২০০৯-১০-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  34. "Mangalore: Eight Hindu Organisations to Protest Against 'Love Jehad'"। Daijiworld.com। ১৪ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  35. "SNDP to campaign against Love Jihad: Vellappally"Asianet। ১৯ অক্টোবর ২০০৯। ২০১২-০৩-১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০০৯ 
  36. "SNDP to join fight against 'Love Jihad'"। ExpressBuzz। ১৯ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০০৯ 
  37. Yudhvir Rana (২০১১-০১-১০)। "'Not just White girls, Pak Muslim men sexually target Hindu and Sikh girls as well"। Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  38. "Police protect girls forced to convert to Islam"। Thisislondon.co.uk। ২০০৭-০২-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  39. metrowebukmetro (২০০৭-০২-২২)। "Hindu girls targeted by extremists"। Metro.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  40. Sunny Hundal। "EDL and Sikh men unite in using women as pawns | Sunny Hundal | Opinion"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৯-১২ 
  41. "Now 'Love Jihad' case in Bihar, girl forced to change her religion, pleads for justice"Daily Bhaskar। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  42. "Taekwondo national player from UP says she is love jihad victim"India Today। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  43. "MP Love-Jihad: Nurse accuses husband for religion conversion and nikah"Daily Bhaskar। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  44. HT Correspondent (২৭ জানুয়ারি ২০১৪)। "'Love jihad': UK Sikh girls' exploitation worries Takht"Hindustan Times। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  45. Raghavan, B. S. (৩০ জুলাই ২০১০)। "Kerala's demographic trends bear watching"The Hindu Business Line। The Hindu Business Line। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৯-১৪ 
  46. Raj, Rohit (২৭ জুলাই ২০১২)। "Filmmakers protest Love Jihad slur in social media"Deccan Chronicle। Deccan Chronicle। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৯-১৬ 
  47. "Kerala CM criticised for speaking out against 'love jihad'"The Economic Times। ২৭ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১০ 
  48. "Love jihad sparks hate"The Times of India। ১৭ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১১ 
  49. "Over 2500 women converted to Islam in Kerala since 2006, says Oommen Chandy"। India Today। ২০১২-০৯-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৭-১৬ 
  50. India TV Web Desk (২ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Love Jihad: Hindu girl commits suicide after conversion"India TV। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  51. "Love Jihad:National shooter Tara Shahdeos husband arrested."। TOI। 
  52. "Taekwondo national player from UP says she is love jihad victim"India Today। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  53. "Church, state concerned about ´love jihad´"। Wayback.archive.org। ১৮ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-২২ 
  54. Babu Thomas (২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "Poster campaign against 'Love Jihad'"। expressbuzz.com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০০৯ 
  55. "'Rama Sene to launch 'Save our daughters Save India'"। times of India। ২০০৯-১০-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  56. "'Love Jihad' a misinformation campaign: Kerala Muslim outfits"। Times of India। ২০০৯-১১-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  57. "'Anti Muslim forces phrase 'Love Jihad''"। Sahilonline.org। ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  58. "Kerala CM reignites 'love jihad' theory"Times of India। ২৬ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১০ 
  59. "Love jihad cases: Mahila Morcha for NIA probe"Express News Service। The New Indian Express Group। ২৫ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১০ 
  60. "Sullia: Prabhakara Bhat Resents Injustices Inflicted on Hindu Society"Daijiworld.com। ১৭ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১১ 
  61. Vohra, Paromita (১৮ ডিসেম্বর ২০১১)। "Love, Sting Aur Dhoka"The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১১ 
  62. "Spate of conversions, 'love jihad' cases hint at more disappearances"firstpost.com। ২৫ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৬ 
  63. "Love Jihad: High Court asks UP govt, EC to file response"India TV। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  64. Mishra, Ishita (২ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "In UP, community bans mobiles for girls to fight 'love jihad'"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  65. Saha, Abhishek (১ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Amid rage over 'Love Jihad' what about what women want?"New Delhi। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  66. Aravind, Indulekha (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Love Jihad campaign treats women as if they are foolish: Charu Gupta"Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  67. Akram, Maria (২৯ আগস্ট ২০১৪)। "'Netas using love jihad as a tool for polarization'"Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  68. Nelson, Dean (২ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "'We need to talk about 'Love Jihad says minister: India's Muslim boys seducing Hindu girls to force their conversion"Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  69. "BJP Unnao MP Sakshi Maharaj claims madrasas offering cash rewards for love jihad"Indian Express। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  70. "Muslim Cleric Blasts Sakshi Maharaj for Jihad Factory Remark"Times of India। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  71. "Azam slams Sakshi Maharaj on madarssa issue, calls him "rapist""India TV News। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  72. "Meerut woman denies 'love jihad', says she eloped"India Today। ১৩ অক্টোবর ২০১৪। 
  73. "Star Power Used As Warning Again Love Jihad"। Hindustan Times। 
  74. "Kareena Kapoor is now the face of VHP's love jihad campaign"। India Today। 
  75. "Kerala High Court nullifies woman's marriage with Muslim man after bride's father raises Islamic State angle"India Today। ২৫ মে ২০১৭। 
  76. "Kerala Muslim man challenges HC decision to nullify marriage with Hindu woman over ISIS link"India Today। ৬ জুলাই ২০১৭। 
  77. "Voluntary marriage not love jihad: man's plea against Kerala HC ruling"The Hindu। ৯ জুলাই ২০১৭। 
  78. "Supreme Court hears its 1st 'love jihad' case, demands proof from NIA"Times of India। ৪ আগস্ট ২০১৭। 
  79. "Supreme Court Hears Case Of 'Love Jihad', Seeks Response From The NIA"Huffington Post। ৪ আগস্ট ২০১৭। 
  80. "Hadiya's 'husband' was in touch with IS men before their marriage: NIA"Times of India। New Delhi: Bennett, Coleman & Co.Ltd.। ৪ ডিসেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  81. "Hadiya's marriage restored, Supreme Court says no love jihad"India Today। ৮ মার্চ ২০১৮। 
  82. "Karnataka to take steps to counter 'Love Jihad' movement"। Deccan Herald। ২০০৯-১০-২২। 
  83. "Govt directs CID to probe 'love jihad'"। Times of India। ২০০৯-১০-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  84. "Love jihad: HC orders thorough probe by DGP"। Times of India। ২০০৯-১০-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  85. "Woman denies 'love jihad', court lets her to go with lover"। Thaindian News। ২০০৯-১১-১৩। ২০১৩-১১-০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  86. "Love Jihad: girl rescued"। Times of India। ২০১০-০৪-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  87. "No 'Love Jihad' in Kerala"। Deccan Herald। ২০১৩-০৫-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  88. "Kerala HC wants probe into 'love jihad'"। Indian Express। 
  89. "DGP suspects presence of 'Love Jihad' in Kerala"। Mathrubhumi। [অকার্যকর সংযোগ]
  90. "Karnataka CID finds no evidence of 'Love Jihad'"The Hindu। ২০০৯-১১-১৩। 
  91. "Kerala police have no proof on 'Love Jihad'"Deccan Herald। ২০০৯-১১-১১। 
  92. Staff Reporter (২০১০-০৪-২৩)। "No love jihad movement in State'"The Hindu 
  93. "Kerala HC asks govt to frame laws to stop 'love jihad'"। The Economic Times। ২০০৯-১২-১০। 
  94. "HC calls for law to check 'love jehad'"। The Indian Express। ২০০৯-১২-১০। 
  95. "Kerala cops fail to establish 'love jihad' conspiracy"। Ibnlive। ২০০৯-১২-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৪-১৮ 
  96. "'Love-jihad' row: Allahabad High Court issues notice to Centre, Uttar Pradesh government"DNA। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]