বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

স্থানাঙ্ক: ২৮°২০′ উত্তর ৭৭°০৬′ পূর্ব / ২৮.৩৩° উত্তর ৭৭.১০° পূর্ব / 28.33; 77.10
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ.jpg
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের চিহ্ন
সংক্ষেপেভিএইচপি/VHP
নীতিবাক্যধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ
গঠিত২৯ আগস্ট ১৯৬৪ (৫৭ বছর আগে) (1964-08-29)
প্রতিষ্ঠাতাএস.এস. আপ্তে
এম এস গোলওয়ালকর
স্বামী চিন্ময়ানন্দ
ধরনডানপন্থী হিন্দু রাষ্ট্রবাদী সংগঠন
উদ্দেশ্যহিন্দু রাষ্ট্রবাদী সমর্থন
সদরদপ্তরনতুন দিল্লী, দিল্লী, ভারত
স্থানাঙ্ক২৮°২০′ উত্তর ৭৭°০৬′ পূর্ব / ২৮.৩৩° উত্তর ৭৭.১০° পূর্ব / 28.33; 77.10
যে অঞ্চলে কাজ করে
ভারত
সদস্যপদ
৬.৯ মিলিয়ন [১]
দাপ্তরিক ভাষা
হিন্দি
অধ্যক্ষ
রাঘব রেড্ডি[২]
সহায়করাবজরং দল (যুব দল)
দুর্গা বাহিনী (নারী দল)
অনুমোদনসঙ্ঘ পরিবার
ওয়েবসাইটvhp.org

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ভারতের একটি হিন্দুত্ববাদী সামাজিক সংগঠন। এটি এর ইংরেজি নামের আদ্যাক্ষর VHP দিয়েই বেশি পরিচিত। এটি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১২৫টিরও বেশি দেশে এই সংঘঠনের কার্যক্রম চলমান।[৩]

দলটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ দলের শাখা হিসাবে যাত্রা শুরু করে। এটি হিন্দুত্ববাদী দলসমূহের মাতৃসংগঠন সংঘ পরিবার এর অন্তর্গত। দলটির স্লোগান হলো "ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ" (धर्मो रक्षति रक्षितः), তথা ধর্মকে সুরক্ষা করলে ধর্ম বাঁচায়। এই দলের প্রতীক হলো বট গাছ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৬৪ সালের ২৯শে আগস্ট, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক পরম পূজনীয় শ্রী মাধব সদাশিব রাও গোলওয়ালকরের নেতৃত্বে স্বামী চিন্ময়ানন্দ, শ্রী শিবরাম শঙ্কর আপ্তে প্রমুখের সহায়তায় "হিন্দু সমাজকে সংগঠিত ও সঙ্ঘবদ্ধ করতে এবং হিন্দু ধর্মের সেবা ও রক্ষা" করার ব্রত নিয়ে পথ চলা শুরু এই সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনটির। সন্দীপনী আশ্রম ও চিন্ময় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী চিন্ময়ানন্দ ছিলেন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ও শ্রী শিবরাম শঙ্কর আপ্তেজী ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

প্রয়াগ ধর্ম সম্মেলন[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে প্রয়াগ মহাকুম্ভের সময় পথ চলা শুরু পরিষদের, প্রয়াগে আয়োজিত হয় প্রথম বিশ্ব ধর্মসম্মেলন। পরিষদের মূলমন্ত্র : ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ (অর্থাৎ যে ধর্মরক্ষা করে, ধর্ম তাকে রক্ষা করে)। পরিষদের চিহ্ন : বটবৃক্ষ। পরিষদ বিশ্বাস করে বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মাবলম্বীগণ বৃহত্তর হিন্দু সমাজের অঙ্গীভূত এবং এইসকল মতাদর্শ "ভারতীয় সন্ত সমাজ" কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও প্রসারিত।

উদুপী সন্ত সম্মেলন[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে দাক্ষিণাত্যে কর্ণাটকের উদুপীতে এক সুবিশাল সন্ত সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ - যার মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উদুপীর সুমহান পেজাবর মঠের প্রধান শ্রী বিশ্বেষতীর্থ স্বামীজী মহারাজ। হিন্দু সমাজে চলে আসা কুপ্রথা : জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সারা ভারতবর্ষ আগত থেকে সকল সন্ত সমাজ উদুপী ধর্ম সম্মেলন থেকে একত্রে উদ্ঘোষ করেন জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে : বলেন সকল হিন্দু সহোদর - কোনো হিন্দু পতিত নয়, হিন্দু রক্ষা আমার দীক্ষা, আমার মন্ত্র সমানতা। " হিন্দবঃ সোদরাঃ সর্বে ন হিন্দুঃ পতিতো ভবেৎ। মম দীক্ষা হিন্দুরক্ষা মম মন্ত্র সমানতা।।" গত ছাপ্পান্ন বছর ধরে হিন্দু সমাজের জন্য কাজ করে চলেছে পরিষদ - জাতিভেদ প্রথা নিরসনে, গোহত্যা বিরোধী আন্দোলনে, ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে : সাফল্য এসেছে, সমালোচনাও হয়েছে - কিন্তু, নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে "চরৈবেতি" মন্ত্রকে সম্বল করে এগিয়ে যাচ্ছে পরিষদ। অযোধ্যায় রাম মন্দির আন্দোলনের মুখ্য সূত্রধর হলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ - ১৯৮৪ সালে উদুপীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধর্ম সংসদে যে দেশব্যাপী জন আন্দোলনের সূচনা - তা সাফল্যমণ্ডিত পরিণতি লাভ করে বিগত ৫ই আগস্ট, ২০২০।

যুব সংস্থাসমূহ[সম্পাদনা]

বজরং দল ও দুর্গাবাহিনী[সম্পাদনা]

হরিদ্বারে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্থানীয় অফিস

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব বাহিনীর নাম বজরং দল যাতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার যুবক ধর্ম ও সমাজ রক্ষার কাজে নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। ১৯৯১ সালে সাধ্বী ঋতম্ভরাজীর নেতৃত্বে ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহযোগিতায় পথ চলা শুরু পরিষদের মাতৃকাশক্তি : দুর্গাবাহিনীর - যারা "লাভ জিহাদ" বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার। গত ছাপ্পান্ন বছরে পরিষদ ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

মূল মতাদর্শ[সম্পাদনা]

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মূল মতাদর্শ হলো -

  1. হিন্দু সমাজে একতা আনা ও সমাজকে শক্তিশালী করে তোলা
  2. জীবন, নীতি, এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ে হিন্দু মূল্যবোধগুলোকে সুরক্ষা করা এবং সর্বত্র এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়া।
  3. বিদেশে বসবাসরত সব হিন্দুদের সাথে যোগাযোগ রাখা, এবং তাদের হিন্দু পরিচয়, মূল্যবোধ ও হিন্দুত্বের ধারণাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করা।

বিস্তারিত দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; convert নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Raghava Reddy takes over as VHP international chief"Andhra Wishesh। ২০ ডিসে ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৪ 
  3. Kurien, Prema (২০০১)। "Religion, ethnicity and politics: Hindu and Muslim Indian immigrants in the United States"। Ethnic and Racial Studies24 (2): 268। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]