রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ
राष्ट्रीय स्वयंसेवक संघ
সংক্ষেপে আরএসএস
সভাপতি মোহন ভাগবত
প্রতিষ্ঠাতা কে বি হেডগেওয়ার
স্লোগান "জন্মভূমির প্রতি নিঃস্বার্থ সেবা"
সদর দপ্তর নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ভারত
সদস্যপদ ৫০-৬০ লক্ষ
৫১,৩৫৫টি শাখা
মতাদর্শ হিন্দু জাতীয়তাবাদ
রাজনৈতিক অবস্থান ডানপন্থা
ওয়েবসাইট
rss.org

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)[১][২] ভারতের একটি ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী, আধাসামরিক[৩] ও বেসরকারী স্বেচ্ছা-সেবক সংগঠন। আরএসএস সংঘ পরিবার নামে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর একটি অংশ।[৩] ১৯২৫ সালে নাগপুর-বাসী ডাক্তার কে. বি. হেডগেওয়ার একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রূপে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেন।[৪] উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা ও মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরোধিতা।[৫]

আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকেরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন-সহ[৪] বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে ভারতের একটি অগ্রণী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনে পরিণত হয়।[৫] ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে এই সংগঠন অসংখ্য স্কুল, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও মতাদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে।[৫] আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজও করে থাকে।[৬] আরএসএস এক লক্ষেরও বেশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামোন্নয়ন, আদিবাসী উন্নয়ন, গ্রামীণ স্বনির্ভরতা, কৃষি কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং কুষ্ঠ ও দুঃস্থ ছাত্রদের দেখাশোনা করে।[৭][৮][৯]

কোনো কোনো সমালোচক আরএসএস-কে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন বলে থাকেন।[১০][১১][১২][১৩] ব্রিটিশ আমলে এই সংগঠন নিষিদ্ধ ছিল।[৫] স্বাধীন ভারতে ১৯৪৮ সালে নাথুরাম গডসে নামে এক প্রাক্তন আরএসএস-সদস্য[১৪] মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করলে ভারত সরকার এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দেয়।[৫][১৫][১৬] জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫-৭৮) এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরও এই সংগঠন নিষিদ্ধ হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আরএসএসের নেতারা প্রকাশ্যে আডলফ হিটলারের প্রশংসা করতেন। মাধব সদাশিব গোলবলকার যিনি হেডগেওয়ারের পরে আরএসএসের পরবর্তী সর্বোচ্চ প্রধান হয়েছিলেন, তিনি হিটলারের বর্ণ-বিশুদ্ধতা মতবাদে অনুপ্রাণীত ছিলেন। কিন্তু কিছু আরএসএস নেতারা ইসরায়েলপন্থীও ছিলেন, বস্তুত সাভারকর ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল গঠনের সময় পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন। তবে গোলবলকার "ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষা" সমুন্নত রাখার জন্য ইহুদিদের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন।

যুদ্ধকালীন কার্যক্রম[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় আরএসএস সদস্যরা ভারতের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছা-সেবী হয়ে কাজ করেছিল এবং যুদ্ধকালীন সময়ে তারাই প্রথম রক্তদান কর্মসূচী পালন করেছিল।

বিশিষ্ট স্বয়ংসেবক সদস্যগণ[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS)"। "(Hindi: “National Volunteer Organization”) also called Rashtriya Seva Sang" 
  2. Lutz, James M.; Lutz, Brenda J. (২০০৮)। Global Terrorism। Taylor & Francis। পৃ: ৩০৩। আইএসবিএন 9780415772464। সংগৃহীত ১১ জুন ২০১০ 
  3. ৩.০ ৩.১ McLeod, John (২০০২)। The history of India। Greenwood Publishing Group। পৃ: 209–। আইএসবিএন 9780313314599। সংগৃহীত ১১ জুন ২০১০ 
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Andersen_1987_111 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ ৫.৩ ৫.৪ Atkins, Stephen E. (২০০৪)। Encyclopedia of modern worldwide extremists and extremist groups। Greenwood Publishing Group। পৃ: ২৬৪। আইএসবিএন 9780313324857। সংগৃহীত ২৬ মে ২০১০ 
  6. Outlook, Feb 12, 2001
  7. "Who says RSS is a dying institution?"। Rediff.com। ২০০৯-০৭-২৫। সংগৃহীত ২০১১-০১-২৬ 
  8. "RSS service projects multiply ten-fold"। Times of India। ২০০৯-১১-০৪। 
  9. Ekal Launches Sustainable Farming Program in Rural India | Indo American News
  10. Bhatt, Chetan (২০০১)। Hindu Nationalism: Origins, Ideologies and Modern Myths। New York: Berg Publishers। পৃ: ১১৩। আইএসবিএন 1859733484 
  11. "South Asia | Analysis: RSS aims for a Hindu nation"। BBC News। ২০০৩-০৩-১০। সংগৃহীত ২০১১-০১-২৬ 
  12. Jaffrelot, Christophe (১৯৯৮)। The Hindu Nationalist Movement in India। New York: Columbia University Press। পৃ: ৩৫। আইএসবিএন 0-231-10334-4 
  13. Dossani, Rafiq; Henry S. Rowen (২০০৫)। Prospects for peace in South Asia। Stanford: Stanford University Press। পৃ: ১৮৬। আইএসবিএন 0-8047-5085-8  |coauthor= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  14. Dr.'Krant'M.L.Verma Swadhinta Sangram Ke Krantikari Sahitya Ka Itihas (Part-3) p.766
  15. "RSS releases `proof' of its innocence"। Chennai, India: The Hindu। ২০০৪-০৮-১৮। সংগৃহীত ২০১১-০১-২৬ 
  16. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; IAR নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি