রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ
राष्ट्रीय स्वयंसेवक संघ
সংক্ষেপে আরএসএস
সভাপতি মোহন ভাগবত
প্রতিষ্ঠাতা কে বি হেডগেওয়ার
স্লোগান "জন্মভূমির প্রতি নিঃস্বার্থ সেবা"
সদর দপ্তর নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ভারত
সদস্যপদ 70-80 লক্ষ
৫১,৩৫৫টি শাখা
মতাদর্শ হিন্দু জাতীয়তাবাদ
রাজনৈতিক অবস্থান ডানপন্থা
ওয়েবসাইট
rss.org

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)[১][২] ভারতের একটি দক্ষিণপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী, আধাসামরিক[৩] ও বেসরকারী স্বেচ্ছা-সেবক সংগঠন। আরএসএস সংঘ পরিবার নামে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর একটি অংশ।[৩] ১৯২৫ সালে নাগপুর-বাসী ডাক্তার কে. বি. হেডগেওয়ার একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রূপে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেন।[৪] উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা ও মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরোধিতা।[৫]

আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকেরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন-সহ[৪] বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে ভারতের একটি অগ্রণী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনে পরিণত হয়।[৫] ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে এই সংগঠন অসংখ্য স্কুল, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও মতাদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে।[৫] আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজও করে থাকে।[৬] আরএসএস এক লক্ষেরও বেশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামোন্নয়ন, আদিবাসী উন্নয়ন, গ্রামীণ স্বনির্ভরতা, কৃষি কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং কুষ্ঠ ও দুঃস্থ ছাত্রদের দেখাশোনা করে।[৭][৮][৯]

কোনো কোনো সমালোচক আরএসএস-কে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন বলে থাকেন।[১০][১১][১২][১৩] ব্রিটিশ আমলে এই সংগঠন নিষিদ্ধ ছিল।[৫] স্বাধীন ভারতে ১৯৪৮ সালে নাথুরাম গডসে নামে এক প্রাক্তন আরএসএস-সদস্য[১৪] মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করলে ভারত সরকার এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দেয়।[৫][১৫][১৬] জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫-৭৮) এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরও এই সংগঠন নিষিদ্ধ হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আরএসএসের নেতারা প্রকাশ্যে আডলফ হিটলারের প্রশংসা করতেন। মাধব সদাশিব গোলবলকার যিনি হেডগেওয়ারের পরে আরএসএসের পরবর্তী সর্বোচ্চ প্রধান হয়েছিলেন, তিনি হিটলারের বর্ণ-বিশুদ্ধতা মতবাদে অনুপ্রাণীত ছিলেন। কিন্তু কিছু আরএসএস নেতারা ইসরায়েলপন্থীও ছিলেন, বস্তুত সাভারকর ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল গঠনের সময় পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন। তবে গোলবলকার "ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষা" সমুন্নত রাখার জন্য ইহুদিদের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন[সম্পাদনা]

আরএসএস নিজেদেরকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে, কিন্তু তারা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে নিজেদেরকে বরাবরই দূরে সরিয়ে রেখেছিল। উপনিবেশী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তারা কোন ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে নি। গান্ধি মুসলিমদের সাথে মিলে গান্দী কাজ করতে চাইলে তারা সেটাকেও প্রত্যাখ্যান করে।[১৭][১৮]

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার পরে কে. বি. হেডগেওয়ার আরএসএসকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ঐতিহ্যের সূত্রপাত ঘটান। ব্রিটিশবিরোধী বলে পরিগণিত হতে পারে এরকম যেকোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই আরএসএস সযত্নে পরিহার করে চলত। আরএসএস এর জীবনীকার সি. পি. ভিশিকার এর কথায়, হেডগেওয়ার সরকার নিয়ে সরাসরি যেকোন মন্তব্য করা এড়িয়ে গিয়ে কেবল হিন্দু সংগঠন নিয়েই কথা বলতেন।[১৯] ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারিতে "স্বাধীনতা দিবস" ঘোষণা করেছিল। কেবল সেই বছরেই আরএসএস এই দিবস উদযাপন করেছিল, কিন্তু এর পরের বছরগুলোতে তারা এই দিবস উদযাপন থেকে বিরত থাকে। আরএসএস ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের তেরঙ্গাকেও পরিহার করেছিল। ১৯৩০ সালের এপ্রিলে গান্ধীর ডাকা সত্যাগ্রহ আন্দোলনে হেডগেওয়ার ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি আরএসএসকে এই আন্দোলনে জড়ান নি। তিনি সর্বত্র প্রচার করে দিয়েছিলেন যে, সংঘ সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সেখানে অংশগ্রহণ করা নিষেধ ছিল না। ১৯৩৪ সালে, কংগ্রেস রিজোল্যুশন পাশ করে। এটা অনুসারে কংগ্রেসের কোন সদস্যের উপর আরএসএস, হিন্দু মহাসভা অথবা মুসলিম লীগে যোগদান করায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।[২০]

১৯৪০ সালে আরএসএস এর নেতা হন এম. এস. গোলবলকার। তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে আরএসএসকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গিতে, আরএসএস ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নয়, বরং "ধর্ম ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার মাধ্যমে" স্বাধীনতা অর্জন করার প্রতিজ্ঞা করেছে। এমনকি গোলবলকার ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, এবং একে "প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি" বলে মত প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে এই "প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনতা আন্দোলনের সমগ্র কার্যধারায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বাস করা হয় যে, গোলবলকার ব্রিটিশদেরকে আরএসএসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবার কোন সুযোগ দিতে চাইতেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশদের সকল কঠোর নীতিকে মেনে নেন। এমনকি সেসময় ব্রিটিশদের কথায় তিনি আরএসএস এর সামরিক বিভাগেরও পরিসমাপ্তি ঘটান। ব্রিটিশ সরকার বলেছিল, আরএসএস তাদের বিরুদ্ধে কোন নাগরিক অবাধ্যতাকে সমর্থন করে নি, আর তাই তাদের কোন রাজনৈতিক কার্যক্রমে দৃষ্টিপাত করার প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ এই বিষয়টির উপর ভিত্তি করে নোট গ্রহণ করে যে, সংঘের অধিবেশনের বক্তাগণ তাদের সদস্যদেরকে প্ররোচিত করেছিলেন যাতে তারা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রতি নির্লিপ্ত থাকেন। আরএসএস যথাযথভাবে সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আজ্ঞা মেনে আসছিল, আর তাই সরকারের মত ছিল যে, আরএসএস ব্রিটিশ ভারতের কোন আইন ও বিধির জন্য ভীতিজনক নয়। বোম্বে সরকার একটি রিপোর্টে আরএসএসকে প্রশংসা করেছিল, কারণ তারা কর্তব্যপরায়ণের সাথে নিজেদেরকে আইনের মধ্যে রেখেছিল এবং কোন ধরণের ঝামেলায় (ভারত ছাড় আন্দোলন) সংযুক্ত হওয়া থেকে বিরত ছিল। এটাও রিপোর্ট করা হয় যে, আরএসএস কখনই আইনকে অমান্য করে নি, এবং এরা সবসময়ই আইন মেনে এসেছে। সংগঠনটি থেকে উপদেশীয় কমিউনিস্ট নেতাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়, আরা যেন ব্রিটিশ সরকারের কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন, আর এভাবেই পরিণামে আরএসএস ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করেছিল যে, "সরকারের বিধিমালার বিরুদ্ধে যাবার মত কোন উদ্দেশ্য সংগঠনটির নেই"।[২১] এম. এস. গোলবলকার পরবর্তীতে জনসম্মুখে স্বীকার করে নেন যে, আরএসএস ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে নি। গোলবলকার আরও বলেন যে, তাদের এরকম অবস্থানই সংঘকে একটি নিষ্ক্রীয় সংগঠন হিসেবে নেবার দিকে নিয়ে গিয়েছিল, বাস্তবে যাদের কথার কোন মূল্য ছিল না। আরএসএস ১৯৪৫ সালে হওয়া ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হওয়া রাজকীয় ভারতীয় নৌবিদ্রোকে সমর্থন বা অংশগ্রহণ কিছুই করে নি।

R.S.S. এর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়[সম্পাদনা]

১৯২৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কাজ আরম্ভ হয়। তেমনই আজ ভারতের প্রত্যেক রাজ্য এবং প্রত্যেক জেলাতে সংঘ নিজের ৪০,০০০ এরও বেশি শাখার মাধ্যমে সামাজিক কার্য করে চলেছে। সংঘের স্বয়ংসেবক সমাজে এক লাখেরও বেশি সেবা কার্য করছে। উপেক্ষা, বিরোধ এবং অবরোধ কে পরাজিত করতে করতে সংঘ কার্য নিরন্তর অগ্রেসর হয়ে চলেছে।

বর্তমানে সমাজে RSS অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের  বিষয়ে জানার জন্য আগ্রহঃ ক্রমবর্ধমান বলেই দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। জনমানসে সংঘবিষয়ে বেশ কয়েক প্রকার জিজ্ঞাসা রয়েছে- যেমন RSS কি, এই সংগঠনের উদ্দেশ্য কি, এটি কি সামাজিক সংগঠন? অথবা এটি একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিলভারতীয় প্রচার প্রমূখ ডা. মনমোহন বৈদ্য মহাশয়-

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কি?[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ হলো সমগ্র দেশে ব্যপ্ত সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠন। সমগ্র দেশের সকল রাজ্যে ৪০ হাজার এর অধিক শাখার মাধ্যমে সংঘকার্য চলছে। প্রত্যেক সমাজেরই দেশভক্ত, অনুশাসিত, চরিত্রবান, নিঃস্বার্থ ভাবে কার্যরত লোকের আবশ্যকতা হয়ে থাকে। সমাজ এমন লোক তৈরি করতে, তাদের সংগঠিত করার কাজ করে চলেছে। সংঘ সমাজেরই একটি সংগঠন হয়ে না থেকে, সম্পূর্ণ সমাজকেই সংগঠিত করতে প্রয়াস রত আছে।

সংঘের উদ্দেশ্য কি?[সম্পাদনা]

সংঘের উদ্দেশ্য আমাদের এই দেশ ভারতবর্ষকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ বানানো। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। আর্থিক দিক থেকেও আমাদের দেশ স্বাবলম্বী ও সম্পন্ন হোক। ভারত এখনো কারো উপর আক্রমণ করেনি। কিন্তু ভারতের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে যুদ্ধে ভারত সর্বদা অজেয় হোক। এরসাথে সাথে ভারত কেবল মাত্র একটি দেশই নয়। ভারতীয় জীবনের এক প্রাচীন ভাবধারা আছে। একটি ধারণা আছে। ভারতের একটি জীবনদৃষ্টি আছে। সেই জীবনদৃষ্টি একাত্ম ও সর্বাঙ্গীন। সেই জীবনদৃষ্টিই ভারতের পরিচয়। সেই জীবনদৃষ্টি ভারতের রাষ্ট্র জীবনের সর্বক্ষেত্র প্রকটিত হোক। এমন সমাজ তৈরি করতে আমরা চাই। স্বামীবিবেকানন্দ বলেছিলেন যে আধ্যাত্মিকতাই এখানের সমাজ-জীবনের প্রতিটি অঙ্গে প্রকটিত হোক, এমন এক সর্বাঙ্গীন উন্নত সমাজ আমরা নির্মাণ করতে চাই।

এই লক্ষ্যে সংঘ কিভাবে পৌছাবে?[সম্পাদনা]

যে কোনো দেশের সমাজের শ্রেষ্ঠতাদি বৈশিষ্ঠের উপর নির্ভর তার ঐ দেশের উৎকর্ষতা। যদি সমাজ নিজেদের মধ্য বিভক্ত হয়,  স্বার্থপর হয়,  নীতি ভ্রষ্ট হয়,  কুঁড়ে বা কর্মবিমুখ হয়, তবে দেশ কখনো প্রগতি করতে পারে না। সমাজের মধ্যে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে থাকা,  চরিত্রবান, পরস্পর স্নেহপ্রবণ, অনুশাসিত,  উদ্যমী লোক থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব। এমন সমাজ নির্মাণেরকাজ সংঘ নিজের হাতে নিয়েছে। ব্যক্তি সমাজের বিষয়ে সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রের বিষয়ে জাগ্রত ও সক্রিয় হোক, এমন ব্যক্তি তৈরি করতে এবং তাদের সংগঠিত করার কাজ সংঘ করে থাকে।

সংঘের রাজনীতির সঙ্গে কি সম্বন্ধ?[সম্পাদনা]

মানুষ তৈরি(ব্যক্তিত্ব নির্মাণ) ও সমাজ সংস্কার এর যে কাজ সংঘ নিজ হাতে নিয়েছে। সেই কাজ সরকারের দ্বারা সম্ভব নয়। সঙ্ঘ প্রথম থেকেই তা স্বীকার করে এসেছে। এজন্য রাজনীতিতে প্রথমথেকে সক্রিয় এমন সংঘপ্রতিষ্ঠাতা ডাক্তারজীও রাজনীতি থেকে পৃথক হয়ে সংঘকার্য আরম্ভ করেছিলেন। দেশভক্ত এবং সামাজিক সহকার সমাজে নির্মাণ করা,  এবং তার মাধ্যমে সংগঠিত জনশক্তির দ্বারা রাজশক্তির উপরে অঙ্কুশ রাখার কাজ করতে পারে। এজন্য জাগ্রত, সংগঠিত লোকশক্তির দ্বারা রাজশক্তির উপরে অঙ্কুশ থাক এবং নৈতিকতার উপরে আধারিত স্বচ্ছ রাজনীতি দেশে চলুক, এমনটাই সংঘ চায়।

ভা.জ.পা. -এর সঙ্গে সংঘের কি সম্পর্ক?[সম্পাদনা]

প্রত্যেক দেশের সমাজ, নিজ নিজ সুবিধার জন্য কিছু না কিছু ব্যবস্থা নির্মান করে থাকে। রাজনীতি বা রাজশক্তি ঐ ব্যবস্থারই অঙ্গ। সংঘ সম্পূর্ণ সমাজের জন্য কাজ করে। সংঘের স্বয়ংসেবক রাষ্ট্রিয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ জীবনের বিভিন্ন অঙ্গে সক্রিয় আছে। এমন প্রায় ৩৫ টি সংগঠনের মাধ্যমে সংঘের স্বয়ংসেবক সমাজে কাজ করছে। রাজনীতি সমাজেরই অঙ্গ হওয়ায় কোনো কোনো স্বয়ংসেবকেরা উক্ত ক্ষেত্রেও সক্রিয় আছেন। এই সকল সংগঠনই স্বায়ত্ব এবং স্বতন্ত্র। নিজ নিজ কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থা, সদস্যতা, নির্ণয় প্রক্রিয়া এমন সমস্ত বিষয়ে স্বতন্ত্র সংগঠন। এমন সমস্ত সংগঠনে যুক্ত হতে সংঘের স্বয়ংসেবক হওয়াও অনিবার্য নয়। ভারতীয় জনতা পার্টির যা পূর্বের স্বরূপ ছিল, তা ভারতীয় জনসংঘ, তার প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। এমন সংগঠন গুলিতে সক্রিয় স্বয়ংসেবক মাঝে মাঝে একত্রিত হয়। পরস্পরের অনুভব আদান প্রদান করে। পরস্পর পরামর্শ করে, পরস্পরের কথা বোঝে ও দরকার হলে পরস্পর পরস্পর সহযোগিতাও করে। দেশ হিতে কাজ কারছে এমন যেকোন সংগঠনের সঙ্গে সংঘ এমনই পরামর্শ ও সহযোগ করে থাকে। দেশের বিকাশের জন্য সংঘের এক বিশিষ্ট স্বপ্ন আছে, একটি আদর্শ আছে। সেই আদর্শে যে দল সহমত হয়, সেই দলের সঙ্গে সংঘের স্বয়ংসেবকদের স্বাভাবিক সহানুভুতি এবং সমর্থন থাকে। ভা.জ.পা. সংঘের এই আদর্শকে ভাগকরে নিয়েছে একারনে সংঘের স্বয়ংসেবক দের স্বাভাবিক সমর্থন ভা.জ.পা. প্রাপ্ত হয়। সংঘের এই আদর্শের সঙ্গে যে যে দল সহমত হবে, সেই সব দলের স্বয়ংসেবকদের সমর্থন প্রাপ্ত হবে। একারণে সংঘের যেখানে প্রভাব আছে সেখানে স্বাভাবিক সমর্থন লাভ করছে- এমনটা দেখা যায়। কিন্তু সংঘ কোন এক বিশেষ দলের জন্য কাজ করে না, দেশের জন্য কাজ করে।

সংঘ কেবল হিন্দুদের সংঘঠন এর কথা বলে কেনো? সংঘ কি তবে একটি ধার্মিক  সংগঠন?[সম্পাদনা]

সংঘে ‘হিন্দু’ শব্দের প্রয়োগ উপাসনা পদ্ধতি, পন্থ, মজহব, অথবা রিলিজিয়ন এর সম্পর্কিত রূপে প্রযুক্ত হয় না। একারনে সংঘ একটি ধার্মিক বা রিলিজিয়স্ সংগঠন নয়। হিন্দু হল এক জীবন দৃষ্টি, এক View of life এবং এক way of life .এই অর্থে সংঘে হিন্দুর প্রয়োগ হয়। সর্বোচ্চ আদালতও এক মহত্ত্বপূর্ণ নির্ণয়ে বলেছে Hinduism is not a religion but a wey of life. উদাহরণের জন্য বলাযায় সত্য এক এবং অদ্বিতীয়। তাকে ডাকার জন্য নাম অনেক থাকতে পারে। তাকে পাওয়ার পথও অনেক হতে পারে। তারা সবাই সমান এটা মানাই ভারতের পরম্পরা গত জীবনদৃষ্টি। এই জীবনদৃষ্টিকে মান্য করে, ভারতের ইতিহাসকে নিজের বলে যারা মানে, এখানে যে জৈবিকমূল্য বিকশিত হয়ছে, সেই জীবনমূল্যর আদর্শকে নিজের আচরণের দ্বারা যারা সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং এই জীনমূল্যকে রক্ষার জন্য ত্যাগ ও বলিদানকারী দেরকে আদর্শ বলে মানে যারা তেমন প্রত্যেক ব্যক্তি হলেন হিন্দু। ততে তার উপাসনা পদ্ধতি বা মজহব যাই হোকনা কেনো।

সংঘে কি মুসলিম ও খ্রীষ্টান দের প্রবেশাধিকার আছে?[সম্পাদনা]

ভারতে বাসকরা মুসলিম ও খ্রীষ্টানেরা ভারতের বাইরে থেকে আসেন নি। তারা সবাই এখানকারই। আমাদের সবার পূর্বপূরুষ একই। কোনো কারনে ধর্ম বদলে গেলেই জীবনদৃষ্টি বদলে যায় না। একারণে তাদের সবার জীবন দৃষ্টি ভারতের অর্থাৎ হিন্দুই হয়ে থাকে। হিন্দু, এই সম্পর্কে তারা সংঘে আসতে পারে। আসছেন ও দায়িত্ব নিয়ে সংঘের কাজও করছেন। তাদের সঙ্গে ধর্মগত(মজহব) কারনে কোন ভেদভাব করা হয় না, কোনো স্পেশল ট্রিটমেন্ট তারা প্রাপ্ত হন না। সবার সঙ্গে হিন্দু, এই সম্পর্কে তারা সকলে সমস্ত কার্যক্রমে সহভাগী হয়ে থাকেন।

হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিগত বিসঙ্গতি অথবা অস্পৃশ্যতার প্রসঙ্গে  সংঘের কি ধারণা আছে, সিদ্ধান্ত কি আছে?[সম্পাদনা]

সংঘের মান্যতা আছে যে “হিন্দবঃ সোদরাঃ সর্বে” অর্থাৎ হিন্দুরা  সকলেই একমাতার গর্ভজাত পুত্র। এজন্য সকলে ভাই-ভাই সম্পর্কেরই হবেন। কেউ উচ্চ অথবা কেউ নীচ হবেন না। সংঘের আদর্শও এমন আছে, সংঘের আচরণও তেমনই আছে। পুনের প্রসিদ্ধ বসন্ত ব্যাখ্যান মালায়, সংঘের তৃতীয় সরসঙ্ঘচালক পূজ্য বালাসাহেব দেওরসজী নিজের ভাষণে বলেছেন যে – যদি অস্পৃশ্যতা পাপ না হয় তবে জগতে পাপ বলে আর কিছুই হয় না। আর একে ঝাড়-মূল সহ উপড়ে ফেলে দিতে হবে। If untouchability is not wrong there is nothing wrong in the world. And it should go lock, stock and barrel. সংঘ সম্পূর্ণ সমাজকে সংগঠিত করার কথা বলে। অতএব সমাজের প্রত্যেক বর্গের লোক সংঘে আসা অনিবার্য হয়ে পড়ে। সংঘের এমন প্রয়াসও থাকে এবং এমন লোকেরা সংঘে প্রথম থেকেই আসছেন। ১৯৩৪ সালে বর্ধার পাসে এক সংঘের শিবিরে ডা.হেডগেওয়ারের সময়েই মহাত্মাগান্ধী শিবির দেখতে এসে ছিলেন। সামাজে যাদেরকে অস্পৃশ্য বলা হয় সেখানে এমন সমাজের লোকেরাও সবার সঙ্গে থেকে সমান ব্যবহার পেয়েছে, এক সঙ্গে ভোজন করেন, এসব দেখে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। এবং সেই প্রসন্নতা তিনি ডা. হেডগেওয়ারজীকে দ্বিতীয় দিন জানিয়েও ছিলেন।

সংঘে কি মহিলাদের প্রবেশাধিকার আছে?[সম্পাদনা]

সংঘে ব্যক্তিনির্মাণের যে কাজ শাখার মাধ্যমে চলে, তাতে কেবল মাত্র পূরূষেরাই আসেন। মহিলাদের মধ্যে ঐ একই কাজ রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি নামে স্বতন্ত্র সংগঠনের দ্বারা চলে থাকে। সমিতির সমগ্রদেশে সকল প্রান্তে ২১০০ শাখা চলে। পরস্পর সমণ্বয় সহযোগ অবশ্যই থাকে। সামাজিক জাগরণ এবং প্রবধনের কাজ সবাই এক সঙ্গে মিলিত ভাবে করেথাকে।

যুবকদের সংঘে আসার জন্য সংঘের গণবেশ(Uniform) প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠেনা? তার বদল করার জন্য কখনোও চিন্তন করা হয়েছে কি?[সম্পাদনা]

সংঘের গণবেশ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতেই থাকে, আর দরকার পড়লে তা পরিবর্তিত হতেই পারে। কিন্তু সংঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মুখ্য আকর্ষণ কখনই গণবশ ছিল না। সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মুখ্য আকর্ষণ হল ভারতভক্তি বা দেশভক্তি। নিজ সমাজের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে অন্তঃকরণে স্থিত বেদনা। এর পরিবর্তন আনার সংকল্প এবং সেই হেতু প্রেরণা, সেটিই সংঘের সঙ্গে ব্যক্তিকে বছরের পর বছর জুড়ে রাখে। দ্বিতীয় আকর্ষণ হলো এখানে প্রাপ্ত অক্রিকৃম স্নেহঃ, নিস্বার্থ ভাবে প্রাপ্ত সম্পর্কের উষ্ণতা(Warmth of relationship). এবং তৃতীয় মহত্বের আকর্ষণ হলো এখানে একদম নীকটে দৃশ্যমান, যার সঙ্গে আমরা খেলতে পারি, কথা বলতে পারি, কথা বলতে পারি, যাকে পরীক্ষা করতে পারি, এমন আদর্শে জীবন্ত মানুষ(Role Models)আর এক মহত্বের বিষয় হলো সেটি যে সংঘের শাখায় আশার জন্য প্রতিদিনই গণবেশ ধারণ করা অনিবার্য নয। শাখায় খ্যালা ও শারীরিক কার্যক্রম অধিক হয়ে থাকে। এমন কার্যক্রমের জন্য উচিত যে কোন বেশ ধারণ করে যেকেউ শাখায় আসতে পারে। বড় শিবির অথবা বিশেষ কোন কার্যক্রমেই গণবেশ ধারণকরা অনিবার্য হয়ে থাকে। দৈনিক কার্যক্রমে আসার জন্য এমন শিবিরাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাও অনিবার্য নয়। এজন্য সংঘে যুক্ত হতে গণবেশ বাধা এমন মনে হয় না।

শাখা কি? শাখায় কি হয়?[সম্পাদনা]

যে সকল রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক গুণগুলিকে আমরা নির্মাণ করতে চাইছি, তা নির্ণাণ করার প্রয়োগভূমি অর্থাৎ ল্যবরেটরি হল শাখা। শাখায় লোকেরা রোজ একত্র এসে কিছু কার্যক্রম করে থাকে। কিছু সামুহিক-গুণের উপাসনা কারা এবং কিছু গুণের সামুহিক উপাসনা করা(To inculcate some collective qualities and to inculcate some qualities collectively)।এর কার্য ক্রম (Programme) হল শাখা। শাখায় শারীরিক কার্যক্রম, খ্যালা এবং দেশভক্তি জাগ্রত কারী গীসংত, চর্চা আদি কার্যক্রম হয়ে থাকে। এমন দৈনিক একত্রীকরণ (Daily gathering centre)কেন্দ্র হল শাখা।

হিন্দু রাষ্ট্রের তত্বটি কি?[সম্পাদনা]

ভারতীয় পরম্পরায় রাষ্ট্র শব্দের অর্থ পাশ্চাত্য়ের নেশন স্টেট এর কল্পনা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এখানে রাষ্ট্র শব্দের অর্থ রাজ্যাধারিত নয়। বরং সাংস্কৃতিক। অনেক বছরের চিন্তনের আধারে এখানে এক জীবন দৃষ্টি(View of life) বিকশিত হয়েছে, এর আধারে এখানে এক জীবনপদ্ধতি (Way of life) বিকশিত হয়েছে। ভারতের গ্রামে বসবাসরত, শহরে বসবাস রত, মরুভূমিতে বসবাসরত, পাহাড়ডে বসবাসরত, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরীব সবার কাছেই তা আপন মনে হয়। এজন্য এই সকলের জোযক সূত্র হলো এই জীবনদৃষ্টি, যা হলো সংস্কৃতি। এই অর্থে এ হলো জীবনদৃষ্টি, সংস্কৃতি এই সমাজের আত্মপরিচয়। সমাজই হল রাষ্ট্র। People are the Nation. এজন্য এখানের জীবনদৃষ্টিকে যারা আপন বলে মানে, এ জীবনদৃষ্টিকে নিজজীবনে আত্মীকরণ কারী, যা হল এখানকার পুত্রবৎ সমাজ, তার এটি ‘হিন্দু’ কেবল নামই নয়,‘হিন্দু’ তার পরিচয়ের রূপ পেয়েছে। এই জীবন দৃষ্টির আধার হল আধ্যাত্মিক। এই আধ্যাত্মিকতার উপরে আধারিত দীবনদৃষ্টিকে সমগ্রবিশ্বের লোকেরা ‘হিন্দু’ এই বলেই চেনেন। এজন্য তা হলো এই সমাজের পরিচয়, এজন্য এটি হলো হিন্দুরাষ্ট্র। এই জীবনদৃষ্টি সমাজের প্রতিক্ষেত্রে প্রস্ফুটিত হোক, সমাজের প্রতি ক্ষেত্রে এই জীবনদৃষ্টি দৃষ্টিগোচর হোক, তা হলো এর পিছনের পরিকল্পনা। মজহব, উপাসনাপদ্ধতি, পন্থ, সম্প্রদায় ইত্যাদির কারণে কোনো প্রকার ভেদভাব যেন না হয়, এটাই হলো বাস্তবে হিন্দু জীবনদৃষ্টি। এজন্য হিন্দুরাষ্ট্র, এই সংকল্প, কোনোপ্রকার ভেদভাব না করা, এটাই বাস্তবে হিন্দু জীবনদৃষ্টি। এজন্য হিন্দুরাষ্ট্র এই সংকল্প কোনো প্রকার মজহব, সম্প্রদায় এর বিরোধী নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এক নিশ্চিত লক্ষের প্রতি জীবন বিকশিত করার নাম হল হিন্দুরাষ্ট্র।

বর্তমান  বিশ্বায়ণের(Globalisation) যুগে বেশিরভাগ লোক ইংরাজী মাধ্যমের বিদ্যালয়ে পড়ছে। তারাও কি সংঘে যোগ দিতে পারবে?[সম্পাদনা]

ইংরাজী মাধ্যমের বিদ্যালয়ে পড়া অথবা মহানগরের বাসিন্দা দেশভক্ত হতে পারেনা, অথবা তাদের মধ্যে সামাজিক সমবেদনা থাকে না এমন মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমানের যুবকদের মধ্যে দেশভক্তি যেমন আছএ তেমনি সমাজের জন্য কিছু করার সদিচ্ছাও আছে। এর জন্য সংঘে অনুকুল পরিবেশ তারা পেয়ে থাকে। তাই তারা সংঘের সঙ্গে বিরাট সংখ্যায় সংয়ুক্ত হচ্ছে, এমন অনুভব আমারা প্রাপ্ত হয়েছি। সংঘের ওয়েবসাইট (www.rss.org)তে সংঘের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। ২০১২ সালে এই মাধ্যম থেকে প্রায় প্রতিমাসে ১০০০ যুবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০১৩ সালে প্রতি মাসে ২৫০০ ছিল, ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা ৯০০০ হয়ে ছিল। সংঘের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পরে - সংঘের প্রাথমিক শিক্ষণ নেওয়ার জন্য সাতদিনের আবাসিক শিবিরের আয়োজন করা হয়ে তাকে। এই বর্গে ১৩ – ৪০ বছর বয়সের যুবকেরা এই বছরে(২০১৪) ১লাখ ৪০ হাজার জন অংশগ্রহণ করেছে। এই শিবিরে নিজ শুল্কদিয়ে সাতদিন ওখানেই থাকতে হয়। তৎ সত্বেও এই সংখ্যা নিরন্তর বাড়ছে। এর অর্থ হল যে, এর চার গুণ অর্থাৎ ৪লাখ ৮০ হাজার যুবক প্রতিবছর সংঘের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্কে আসছে। আজকের তরুনদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়ে জাগরণও সমাজের জন্য কিছু করার বাসনা বাড়ছে। সংঘে সে সবের জন্য অনুকুল পরিবেশ এবং সুযোগ তারা পেয়ে তাকে। সেজন্য সংঘের সঙ্গে বিরাট সংখ্যায় যুবক যুক্ত হচ্ছে।

আজকের বিশ্বায়ণ (Globalisation) এর যুগে সংঘের স্বদেশীর ভাবনা কতটা উচিত হবে?[সম্পাদনা]

স্বদেশী ও স্বাবলম্বন প্রত্যেক দেশের জন্য প্রত্যেক সময়ে উচিত হবে। স্বদেশীর অর্থ বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখব না এমন নয়। ভারতের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সুপ্রাচীন কালথেকেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। পরস্পর পরস্পরের পূরক এই আধারেই পরস্পরের সম্মতিতেই বহির্বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নির্মানের সময় নিজেদের স্বাবলম্বনের উপরেও জোর দিচ্ছে, এটাই স্বদেশী।

ভারতের বাইরে অন্যদেশেও কি সংঘের কাজ চলছে?[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রিয় স্বয়ংসেবক সংঘের কাজ কেবল ভারতেই চলে। কিন্তু সংঘের স্বয়ংসেবক যখন নিজ ব্যবসায় অথবা চাকরির সূত্রে বিদেশে ভারতের বাইরে গিয়ে বসবাস করেন, তখন তারা ওখান কার হিন্দু সমাজের সংগঠনের কাজ হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ(HSS)এর মাধ্যমে করে থাকে। ৩৫টি দেশে এই সংগঠন চলছে। ওখানকার সকল হিন্দুদের একত্রীকরণ করার কাজ করা, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের গৌরবপূর্ণ সংস্কৃতিক উত্তরাধিকার প্রদান করতে ব্যবস্থা করা, এবং যে দেশে তারা থাকে ওখানকার সমাজের সেবা কাজ করা, এই কাজ হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘের মাধ্যমেই স্বয়ংসেবকেরা ভারতের বাইরে করে থাকে।

যুদ্ধকালীন কার্যক্রম[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় আরএসএস সদস্যরা ভারতের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছা-সেবী হয়ে কাজ করেছিল এবং যুদ্ধকালীন সময়ে তারাই প্রথম রক্তদান কর্মসূচী পালন করেছিল।

বিশিষ্ট স্বয়ংসেবক সদস্যগণ[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS)"(Hindi: “National Volunteer Organization”) also called Rashtriya Seva Sang 
  2. Lutz, James M.; Lutz, Brenda J. (২০০৮)। Global Terrorism। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 303। আইএসবিএন 9780415772464। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১০ 
  3. McLeod, John (২০০২)। The history of India। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 209–। আইএসবিএন 9780313314599। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১০ 
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Andersen 1987 111 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. Atkins, Stephen E. (২০০৪)। Encyclopedia of modern worldwide extremists and extremist groups। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 264। আইএসবিএন 9780313324857। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১০ 
  6. Outlook, Feb 12, 2001
  7. "Who says RSS is a dying institution?"। Rediff.com। ২০০৯-০৭-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৬ 
  8. "RSS service projects multiply ten-fold"। Times of India। ২০০৯-১১-০৪। 
  9. Ekal Launches Sustainable Farming Program in Rural India | Indo American News
  10. Bhatt, Chetan (২০০১)। Hindu Nationalism: Origins, Ideologies and Modern Myths। New York: Berg Publishers। পৃষ্ঠা 113। আইএসবিএন 1859733484 
  11. "South Asia | Analysis: RSS aims for a Hindu nation"। BBC News। ২০০৩-০৩-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৬ 
  12. Jaffrelot, Christophe (১৯৯৮)। The Hindu Nationalist Movement in India। New York: Columbia University Press। পৃষ্ঠা 35। আইএসবিএন 0-231-10334-4 
  13. Dossani, Rafiq (২০০৫)। Prospects for peace in South Asia। Stanford: Stanford University Press। পৃষ্ঠা 186। আইএসবিএন 0-8047-5085-8  অজানা প্যারামিটার |coauthor= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য)
  14. Dr.'Krant'M.L.Verma Swadhinta Sangram Ke Krantikari Sahitya Ka Itihas (Part-3) p.766
  15. "RSS releases `proof' of its innocence"। Chennai, India: The Hindu। ২০০৪-০৮-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২৬ 
  16. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; IAR নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  17. Nussbaum, Martha Craven (২০০৮)। The Clash Within: Democracy, Religious Violence, and India's Future। Harvard University Press। পৃষ্ঠা 156। আইএসবিএন ISBN 978-0-674-03059-6 |isbn= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য) 
  18. Bhatt, Chetan (২০০১)। Hindu Nationalism: Origins, Ideologies and Modern Myths। পৃষ্ঠা 115। 
  19. Islam, Shamsul (২০০৬)। Religious Dimensions of Indian Nationalism: A Study of RSS। Media House। পৃষ্ঠা 188। আইএসবিএন ISBN 978-81-7495-236-3 |isbn= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য) 
  20. Chitkara, M. G. (২০০৪)। Rashtriya Swayamsevak Sangh: National Upsurge। APH Publishing। পৃষ্ঠা 251–254। আইএসবিএন ISBN 8176484652 |isbn= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য) 
  21. Gupta, Partha Sarathi (১৯৯৭)। Towards Freedom 1943-44,Part III। New Delhi: Oxford University Press। পৃষ্ঠা 3058–9। আইএসবিএন ISBN 978-0195638684 |isbn= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য)