ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাশনাল পিপলস পার্টি | |
|---|---|
| উর্দু নাম | نیشنل عوامی پارٹی |
| বাংলা নাম | ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি |
| সংক্ষেপে | এনএপি |
| নেতা | আব্দুল হামিদ খান ভাসানী |
| প্রতিষ্ঠাতাগণ | আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং ইয়ার মোহাম্মদ খান |
| প্রতিষ্ঠা | ১৯৫৭ ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান, পাকিস্তান |
| ভাঙ্গন | ৩০ নভেম্বর ১৯৬৭ |
| একীভূতকরণ | আজাদ পাকিস্তান পার্টি সিন্ধ মহাজ সিন্ধ হরি কমিটি পশতুন্ন ব্রাদারহুড উসমান গুল খুদাই খিদমতগার গণতান্ত্রিক দল |
| পরবর্তী | এনএপি (ওয়ালি) এনএপি (ভাসানী) |
| ছাত্র শাখা | ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফেডারেশন |
| রাজনৈতিক অবস্থান | বামপন্থী |
| নির্বাচনী প্রতীক | |
ধানের শীষ | |
| দলীয় পতাকা | |
| পাকিস্তানের রাজনীতি | |
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি অবিভক্ত পাকিস্তানের[১] একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী রাজনৈতিক দল যা পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী ১৯৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান সংগঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকলে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর সাথে মতবিরোধ থেকে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন। ১৯৫৭ সালের ২৬শে জুলাই প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাপ। ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। ন্যাপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পূর্ববাংলা থেকে হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, মশিউর রহমান (যাদু মিয়া), পীর হাবিবুর রহমান, এস.এ আহাদ, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আতাউর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছিলেন ওয়ালি খান, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মিয়া ইফতেখার প্রমুখ।
১৯৫৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ন্যাপের উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ফুলছড়িতে কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় এবং ঐ সম্মেলনে ‘কৃষক সমিতি’ গঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে মওলানা ভাসানীকে গ্রেফতার করেন। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের দাবিতে মওলানা ভাসানী কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করেন। মওলানা ভাসানীর আহবানে সর্বদলীয় প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬৪ সালের ১৮ মার্চ সর্বজনীন ভোটাধিকার দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ন্যাপ সংযুক্ত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে মিস ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে ন্যাপ বিভক্ত হয়ে যায়। চীনপন্থী "ন্যাপ (ভাসানী)" ও সোভিয়েতপন্থী "ন্যাপ (মোজাফফর)" নামে দুটি পৃথক দল তৈরি হয়। যেখানে "ন্যাপ (ভাসানী)" ছিলো ৬ দফা দাবির বিপক্ষে এবং "ন্যাপ (মোজাফফর)" ছিলো ৬ দফা দাবির পক্ষে। "ন্যাপ (মোজাফফর)" কে সমর্থন দিয়েছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের "ন্যাপ (ওয়ালী)"।
১৯৬৭ সালে মওলানা ভাসানী ন্যাপের কাউন্সিল ও কৃষক সমিতির অধিবেশন আহবান করেন। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় রিকুইজিশন কাউন্সিল অধিবেশন। ১৯৬৮ সালে ন্যাপ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী গণঅভ্যূত্থানের সূচনা করে। ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর ‘দাবি দিবস’ এবং ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হয়। ঐদিন পল্টনে এক জনসভা শেষে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জনগণ গভর্ণর হাউজ ঘেরাও করে এবং ৭ ডিসেম্বর হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঢাকায় হরতালের দিন পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ৮ ও ১০ ডিসেম্বর সারা প্রদেশব্যাপী হরতাল আহবান করা হয়।
১৯৭২ সালে ন্যাপ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণতান্ত্রিক সরকারের এক কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ভাসানীর নেতৃত্বে ৭ দলীয় মোর্চা গঠিত হয়। ভাসানী ন্যাপ ১৬৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের দুষ্প্রাপ্র্যতার প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী ১৯৭৩ সালের ১৫ থেকে ২২ মে ঢাকায় অনশন করেন। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যজোট খাদ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। সরকার ১৯৭৩ সালের ৩০ জুন মওলানা ভাসানীকে সন্তোষে তাঁর বাড়িতে গৃহবন্দি করে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মুজাফফর) ও কমিউনিস্ট পার্টি সমন্বয়ে ত্রি-দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ, জাতীয় লীগ (অলি আহাদ), জাতীয় লীগ (আতাউর রহমান), জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন (হাজী দানেশ), কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল (খান সাইফুর রহমান), কমিউনিস্ট পার্টি (নাসিম আলী), লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ে এক বিরোধী ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। "ন্যাপ (ভাসানী)" শেখ মুজিবের বাকশাল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে "ন্যাপ (ভাসানী)" এই চুক্তির বিরোধিতা করে। ১৯৭৪ সালের ১৫ মে ভাসানী ন্যাপের এডহক কমিটি গঠন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় ন্যাপ পুনরায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই জাতীয় রিকুইজিশন কাউন্সিল অধিবেশন ডাকা হয়। দলের তরুণ বামপন্থী অংশ কাজী জাফর আহমদ ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনাইটেড পিপল্স পার্টি (ইউপিপি) গঠন করে। মওলানা ভাসানী দলীয় কর্মীদের কোন্দল ও নেতৃত্বের ব্যর্থতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে ন্যাপ থেকে পদত্যাগ করেন।
মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী আলেমা ভাসানীর নেতৃত্বে ভাসানী ন্যাপ কিছুদিন নামসর্বস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে "বাংলাদেশ ন্যাপ" নামে পৃথক একটি রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটে। মশিউর রহমানের (যাদু মিয়া) নেতৃত্বে "ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী)" একটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে দলটির উৎপত্তি হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৩টি ন্যাপের অস্তিত্ব দেখা যায়।
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |