বিষয়বস্তুতে চলুন

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(১৯৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
১৯৬৮-৬৯ পাকিস্তান বিপ্লবের অংশ
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের একটি মিছিল
তারিখজানুয়ারি ১৯৬৯  মার্চ ১৯৬৯
অবস্থান
কারণকর্তৃত্ববাদ
লক্ষ্যরাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের পদত্যাগ, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ছয় দফা
পদ্ধতিপ্রতিবাদ মিছিল
ফলাফলআইয়ুব খানের পদত্যাগ
ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত
পক্ষ
নেতৃত্ব দানকারী
Arrests
নিহত৬৮ (জহুরুল হক সহ)

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশের) জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালের সর্বাধিক গুরত্বপূর্ণ একটি আন্দোলন। ইতিহাসে এটি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত৷[] এটি নিপীড়নমূলক সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাবদ্ধ করার প্রতিবাদে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়। সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়৷

এই বিদ্রোহে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সরকারি সশস্ত্র বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটে। যদিও ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিরতা শুরু হয়, তবে ১৯৬৯ সালের শুরুতে এটি গতি পায়। আইয়ুব খানের পদত্যাগের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। এই বিদ্রোহের ফলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য আসামীদের খালাস দেওয়া হয়।


পটভূমি

[সম্পাদনা]

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে, জেনারেল আইয়ুব খান এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন।

১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য নামে পরিচিত, তবে এটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত কারণ মূল ষড়যন্ত্রটি ত্রিপুরা রাজ্যের ভারতের আগরতলা শহরে সংঘটিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে , যেখানে শেখ মুজিবের সহযোগীরা ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছিলেন।

১৯৬৯ সালের ঘটনাবলীর সময়রেখা

[সম্পাদনা]

জানুয়ারী

[সম্পাদনা]

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারী গঠিত হয়। এটি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন , পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ , পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডাকসু) এর ছাত্র নেতাদের যোগদানের মাধ্যমে গঠিত হয়। পরিষদ ১৯৬৫ সালের শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে একটি এগারো দফা কর্মসূচি তৈরি করে । পরিষদটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ছিল এবং এটি পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক সত্তায় পরিণত হয়। পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করার পরেও ১৭ জানুয়ারী পরিষদ একটি সভা ডাকে । রাস্তায় পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় যার ফলে অনেক ছাত্র আহত হয় এবং একটি EPRTC বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

৭-৮ জানুয়ারী: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (DAC) নামে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটির মুখপাত্র ছিলেন নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান । ডিএসি খান আব্দুল ওয়ালি খান এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির আহ্বান জানায় ।

২০ জানুয়ারী: পরিষদ ২০ জানুয়ারী প্রদেশ জুড়ে ধর্মঘট ডাকে। ধর্মঘটে পুলিশের গুলিতে বামপন্থী ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় পরিষদ ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারী পর্যন্ত ধর্মঘট ও মিছিলের ডাক দেয়। ২৪ জানুয়ারী প্রদেশ জুড়ে ধর্মঘটকারী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে ময়মনসিংহে আলমগীর মনসুর (মিন্টু) নামে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। প্রদেশ জুড়ে অনেকেই আহত হন। নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক এবং ঢাকায় রুস্তম আলী নিহত হন। বিক্ষোভে ৬১ জন কর্মী নিহত হন। ১৯৭০ সালের ১২ জানুয়ারী ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অবসান ঘটে।


১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারী দ্য আজাদ পত্রিকায় আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীপা সেন (২৫ জানুয়ারী ১৯৬৯) ২৪ জানুয়ারী: মতিউর রহমান মল্লিক , একজন কিশোর কর্মী, পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এই দিনটি বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়।

ফেব্রুয়ারী

[সম্পাদনা]

পূর্ব পাকিস্তানের পাকিস্তান মুসলিম লীগ আটক ছাত্রদের মুক্তি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদ থেকে আব্দুল মোনেম খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। পাকিস্তান মুসলিম লীগ রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানকে দুই বছরের জন্য দলীয় সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত করে।

১৫ ফেব্রুয়ারি: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে কুর্মিটোলা সেনানিবাসের কারাগারে হত্যা করা হয়। হকের মৃত্যুর ফলে আরও বেশি রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন এবং অন্যান্য সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রথম সশস্ত্র বিরোধী দল হিসেবে "১৫ ফেব্রুয়ারি বাহিনী" তৈরি করা হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি: রাজশাহীতে একটি নীরব মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহা নিহত হন।

২২ ফেব্রুয়ারী: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার । নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা সেনানিবাসের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

২৩শে ফেব্রুয়ারী: শেখ মুজিবুর রহমানকে এক বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যেখানে তাকে বঙ্গবন্ধু (বাংলার বন্ধু) উপাধি দেওয়া হয় । দুই বছরের কারাদণ্ডের পর মুক্তি পাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানে তিনি বীরের মতো অভ্যর্থনা পান।

মার্চ

[সম্পাদনা]

আইয়ুব খান বিরোধী দলের সাথে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানান। শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা আন্দোলন এবং এগারো দফা আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে একটি খসড়া সংবিধান পেশ করেন।

১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয় এবং আইয়ুব খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে আইয়ুব খান মন্তব্য করেছিলেন যে শেখ মুজিবুর রহমানের খসড়া "কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেনাবাহিনীকে বাতিল করে দেবে"।

ঘটনাপ্রবাহ

[সম্পাদনা]

পরিণতি

[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন রেডিও এবং টেলিভিশনে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে এবং তিনি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে দেশের অবস্থা সামাল দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে বলেন। ইয়াহিয়া খান ঐদিন দুপুর দুইটায় আরেকটি রেডিও এবং টেলিভিশন বার্তায় নিজেকে দেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা দেন, ঐদিনই রাতে তিনি আবার শুধু রেডিওবার্তায় নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন। আইয়ুবের করে যাওয়া সকল সাংবিধানিক পরিবর্তন বাতিল সহ ইয়াহিয়া দেশে নতুন করে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দেন।[]


১৯৬৯ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেন যে ১৯৭০ সালের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নবনির্বাচিত পরিষদ ইয়াহিয়া খানের মতে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন করবে। খান আরও ঘোষণা করেন যে পশ্চিম পাকিস্তানকে পৃথক প্রদেশে বিভক্ত করা হবে।

১৯৭০ সালের ৩১ মার্চ, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান একটি আইনি কাঠামো আদেশ (LFO) ঘোষণা করেন যা এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার জন্য সরাসরি নির্বাচনের আহ্বান জানায়। পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই দেশব্যাপী প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য পূর্ব অংশের দাবিতে ভীত ছিলেন। LFO-এর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের পরে লিখিত ভবিষ্যতের সংবিধান সুরক্ষিত করা যাতে এতে পাকিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামী আদর্শ সংরক্ষণের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

১৯৫৪ সালের ২২ নভেম্বর গঠিত পশ্চিম পাকিস্তানের সমন্বিত প্রদেশটি বিলুপ্ত করে চারটি প্রদেশ পুনরুদ্ধার করা হয়: পাঞ্জাব , সিন্ধু , বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ । জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল এবং যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের সম্মিলিত জনসংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল, তাই পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে অর্ধেকেরও বেশি আসন পেয়েছিল। শেখ মুজিব এলএফও উপেক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং ভারত পূর্ব পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ করছে এমন প্রতিবেদন ইয়াহিয়া খান উপেক্ষা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেননি যে আওয়ামী লীগ আসলে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনে জয়লাভ করবে।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর এটি ছিল প্রথম সাধারণ নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে অনুষ্ঠিত একমাত্র সাধারণ নির্বাচন । ৩০০টি সাধারণ নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ১৬২টি পূর্ব পাকিস্তানে এবং ১৩৮টি পশ্চিম পাকিস্তানে । আরও তেরোটি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল (যার মধ্যে সাতটি পূর্ব পাকিস্তানে এবং ছয়টি পশ্চিম পাকিস্তানে), যারা জাতীয় পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল।


১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ উভয় ক্ষেত্রে নির্বাচন করে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে।জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাধারণ নির্বাচনের একই সাথে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের তালিকা

[সম্পাদনা]
  • ৮ ডিসেম্বর ১৯৬৮ - নীলক্ষেতে ওয়াবদার কর্মচারী আব্দুল মজিদ ও গুলিস্তানে সাইকেল মিস্ত্রি আবু।
  • ৯ ডিসেম্বর ১৯৬৮ - ফৌজদার হাটে শ্রমিক মুসা মিয়া।
  • ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৮ - হাতির দিয়ায় কৃষক মিয়া চাঁন, হাসান আলী, চেরাগ আলী এবং শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান।
  • ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৯ - রূপগঞ্জে ছাত্র হাফিজ আহমেদ।
  • ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ - ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্র ও কৃষক সংগঠক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ
  • ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ - সেক্রেটারিয়েটের সামনে ছাত্র মতিয়ুর রহমান মল্লিক[],রচ্স্তম আলী ও ময়মনসিংহে ছাত্র আলমগীর মনসুর এবং চট্টগ্রামে শ্রমিক হাসানুজ্জামান ও জানু মিঞা।
  • ২৫ জানুয়ারি ১৯৬৯ - নাখালপাড়ায় গৃহবধু আনোয়ারা বেগম, তেজগাঁতে ছাত্র আব্দুল লতিফ, ধানমণ্ডি এলাকায় চাকুরীজীবি রহিমদাদ।
  • ২৬ জানুয়ারি ১৯৬৯ - ঢাকায় শ্রমিক সরল খান, শিমুলিয়া রেলস্টেশনে আনোয়ার আলী, সিদ্দিরগঞ্জে জুলহাস শিকদার।
  • ২৭ জানুয়ারি ১৯৬৯ - গৌরিপুরে ছাত্র হারচ্ন আব্দুল আজিজ।
  • ২৮ জানুয়ারি ১৯৬৯ - বরিশালে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আলাউদ্দিন খান।
  • ৩০ জানুয়ারি ১৯৬৯ - জাজিরায় ছাত্র আলাউদ্দীন ও নৌকার মাঝি আব্দুল জব্বার মাঝি
  • ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - জলির পাড় ছাত্র মহানন্দ সরকার ছাত্র।
  • ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - ঢাকায় শ্রমিক আব্দুল আলী।
  • ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - রাজারগাঁও ছাত্র মজিবর রহমান ও কামাল উদ্দীন আকন্দ।
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - নবীনগর, নারায়ণগঞ্জে ছাত্র মাজাহার আহমেদ ও ঢাকা সেনানিবাসে বিমানসেনা সার্জেন্ট জহুরুল হক
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - নাজিরা বাজারে প্রেসকর্মী ইসহাক।
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - সোনাদিঘীর পাড়, রাজশাহীতে সিটি কলেজ ছাত্র ও ছাত্রনেতা নূরুল ইসলাম খোকা , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা ও নাজিরাবাজারে চাকুরীজীবি রহমতুল্লাহ।
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - ঢাকায় শ্রমিক লোকমান, মুজিবুর রহমান, মালিবাগে দর্জি আতাহার খান, হোটেল বয় শামসু আইসক্রীম বিক্রেতা আব্দুল আলী, কাঠমিস্ত্রী আবুল হাশেম, সেনবাগে ছাত্র শামসুল হক এবংখোরশেদ আলম, সেনবাগ- নোয়াখালীতে শ্রমিক হাফিজুর রহমান, আব্দুর রহমান, ছাত্র আবুল কালাম, , কুষ্টিয়ায় চাকুরীজীবি আব্দুর রাজ্জাক।
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - ঢাকা সেনানিবাসে মু. দেলওয়ার হোসেন।
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - দৌলতপুরে ছাত্র আবদুস সাত্তার, মনিরচ্জ্জামান, নৈশবিদ্যালয়ের ছাত্র ও শ্রমিক মাহতাক আলী, শ্রমিক ইসরাফিল বান্দো, আলতাব, হাবিবুর রহমান,নাসির, লোকনাথ।
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - বরিশালে ছাত্র আলাউদ্দীন, ঢাকায় শ্রমিক আব্দুস সাত্তার।
  • ৭ মার্চ ১৯৬৯ - টাঙ্গাইলে ছাত্র বিশ্বনাথ সাহা।
  • ৮ মার্চ ১৯৬৯ - শেরপুরে ছাত্র দারোগ আলী।
  • ২৩ মার্চ ১৯৬৯ - মানিকগঞ্জে ছাত্র আবদুল কাদের।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ডেস্ক, পড়াশোনা (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "আজ ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থান দিবস"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৪ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  2. বাংলাদেশ প্রতিcccghhccc((hhদিন ২৪ জানুয়ারি ২০১৫
  3. বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান, সম্পাদকঃ সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম, ২য় সংস্করণ, ২০০৩, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃ. ১৭২
  4. Ziring, Lawrence (১৯৮০)। Pakistan: The Enigma of Political Development। Dawson। পৃ. ১০৪। আইএসবিএন ০-৭১২৯-০৯৫৪-০
  5. যুগান্তর

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • [Tariq Ali, Pakistan : Military Rule or People’s Power, London & New York , 1970]
  • মেসবাহ কামাল, আসাদ ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ঢাকা, ১৯৮৬
  • লেনিন আজাদ, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান : রাষ্ট্র সমাজ রাজনীতি, ঢাকা, ১৯৯৭।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (২য় খন্ড) (পটভূমি ১৯০৫-১৯৫৮) নভেম্বর ১৯৮২ ও মার্চ ২০০৪: পৃষ্ঠা-৫২২
  • [বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১) : ড. মোহাম্মদ হাননান : ১৯৯৯]
  • আসাদ থেকে গণঅভ্যুত্থান : মোস্তফা কামাল: এশিয়া পাবলিকেশন্স, ঢাকা : ২০০০ পৃষ্ঠা- ১০৬-১০৮
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস : বায়েজিদ আহমেদ: শেকড় সন্ধানী ফাউন্ডেশন, রাজশাহী: ডিসেম্বর-২০০৫: পৃষ্ঠা-২১৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]