বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশ লেবার পার্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলাদেশ লেবার পার্টি
সংক্ষেপেলেবার পার্টি
চেয়ারম্যানডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
মহাসচিবইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন
প্রতিষ্ঠাতামাওলানা আবদুল মতীন
প্রতিষ্ঠা২২ অক্টোবর ১৯৭৭
সদর দপ্তর৮৫/১ নয়া পল্টন মসজিদ গলি (৩য় তলা), ঢাকা-১০০০
ছাত্র শাখাবাংলাদেশ ছাত্র মিশন
যুব শাখাবাংলাদেশ যুব মিশন
আইনজীবী শাখালেবার পার্টি আইনজীবী ফোরাম
ভাবাদর্শবাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ
ধর্মীয় মূল্যবোধ
ওমর-ই-সাম্যবাদ
রাজনৈতিক অবস্থানমধ্যপন্থি
আনুষ্ঠানিক রঙলাল, হলুদ, সবুজ
নির্বাচনী প্রতীক
দলীয় পতাকা
ওয়েবসাইট
www.labourpartybd.org
বাংলাদেশের রাজনীতি
রাজনৈতিক দল
নির্বাচন

বাংলাদেশ লেবার পার্টি (সংক্ষেপে লেবার পার্টি) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। দলটি ১৯৭৪ সালের ১৭ই আগস্ট মাওলানা মতিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী ১৩ মিনিটের সংসদে রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করলে লেবার পার্টির কার্যক্রম স্থমিত হয়। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করলে ১৯৭৭ সালের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ লেবার পার্টি পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন প্রদান করে[] বর্তমানে দলটি "১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য" এর শরীক দল।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম। ১৯৭৪ সালে মাওলানা আবদুল মতীনের নেতৃত্বে। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলে লেবার পার্টিও নিষিদ্ধ হয়। ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ দিলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৯৭৭ সালের ২২ অক্টোবর মাওলানা আবদুল মতীন ও মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুর্নজীবন ফিরে পায়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৭ মে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠিত হলে- মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ন্যাপ, শাহ আজিজুর রহমানের মুসলীম লীগ, বিচারপতি সাত্তারের জাগদল, মাওলানা মতীনের লেবার পার্টি, কাজী জাফরের ইউপিপি ও তফসিলি জাতি ফেডারেশন জোটের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ২০০৭ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই দলটি জাতীয়তাবাদী চেতনায় সমমনা দল হিসাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও অংশগ্রহণ করে আসছে। ২০১২ সালে ১৮ এর্পিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট (বর্তমানে ২০ দলীয় জোট) গঠিত হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি অন্যতম শরিকদল হিসাবে জোটের রাজনীতিতে ভূমিকা রেখেছিল।[] ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বচনে ১২৮, পিরোজপুর-২(ভান্ডারিয়া, কাউখালী, জিয়ানগর) আসনে বিএনপির নেতৃত্বে ধানের শীষ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

২০২২ সালে বিশ দলীয় জোট বিলুপ্ত হলে দলটি বারো দলীয় জোটে শরীক হয়। বাংলাদেশ লেবার পার্টির বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথে শরিকদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে।

জুলাই ছাত্র-গনঅভ্যুত্থান ২০২৪

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালে ১৮ জুলাই "মেধার মূল্যায়ন করে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের" দাবিতে ন্যায় সংগত ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার গনহত্যা চালায়। ছাত্র আন্দোলনের দাবী ক্রমশ দানা বাঁধতে থাকে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতনের আন্দোলনে। ফ্যাসীবাদী সরকার উক্ত আন্দোলন ধূলিসাৎ করতে লেলিয়ে দেয় প্রশাসনের পুলিশ বাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী দোসরদের। নির্যাতনের মাত্রা ছড়িয়ে যায় ছাত্রসহ সাধারণ জনগনের উপর। ছাত্রদের আন্দোলন রুপ নেয় গণআন্দোলনে।

২রা আগষ্ট ২০২৪ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বিক্ষোভ কর্মসূচী।
৩রা আগষ্ট ২০২৪ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বিক্ষোভ কর্মসূচী।
৪ঠা আগষ্ট ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্লকেডের সমর্থনে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে শাহবাগ অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচী।
৫ই আগষ্ট ২০২৪ ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে কোটি মানুষের মিলনমেলায় অংশ নিয়ে গনভবনের সামনে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের সামনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সহ লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীরা

ছাত্রদের দাবির সমর্থনে গনতান্ত্রিক আন্দোলনের বিএনপি, জামায়াত, লেবার পার্টিসহ সকল গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সক্রিয় ভাবে আন্দোলনের কর্মসূচীতে অংশ নেয়। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে ২রা আগষ্ট ও ৩রা আগস্ট পুলিশের বাধা অতিক্রম করে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচীতে অংশ নেয়, শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে রাখে আন্দোলনের মাঠ। ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্লকেডের সমর্থনে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড় হতে মিছিল নিয়ে শাহবাগে জনসমাবেশে যোগ দিয়েছে। লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের মহানগরের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় নেতা-কর্মীরা পুলিশ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে ঢাকা মহানগর লেবার পার্টির সদস্য আউয়াল মিয়া ও ছাত্রমিশনের সক্রিয় সদস্য নাঈম হাওলাদার পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরন করেন। ৫ আগষ্টের ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে কোটি জনতার বিজয় মিছিলে ছিল সর্বস্তরের জনগনের মিলন মেলা।

লেবার পার্টি ও খালেদা জিয়া

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ লেবার পার্টি দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আহবানে সাড়া দিয়ে ২০০৭ সালেই ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে চারদলীয় জোটের পাশাপাশি সমমনা শক্তি হিসাবে বিএনপির সাথে যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট গঠিত হয়। লেবার পার্টি জোটের অন্যতম শরিক হিসাবে সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অংশ গ্রহণ করে। এই ১৮ দলীয় জোট ক্রমে ১৯ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটে রুপ নেয়। ১৮ দলীয় জোট ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদের সাথে বঙ্গভবনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ সদস্যদের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে বিএনপির ১২ জন ও শরিক দলের ৮ জন প্রতিনিধির মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও অংশ গ্রহণ করে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন এর দাবিতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট এর ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সংলাপ।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতাকর্মীরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হামলা মামলা নির্যাতন নিপীড়ন গ্রেফতার হয়েছে। বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও উপজেলা লেবার পার্টির নেতাকর্মীরা বাড়ীঘর, ব্যাবসা বানিজ্য থেকে মামলার কারনে পালিয়ে বেড়িয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া জেল জুলুমের শিকার লেবার পার্টির ১৫ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মতবিনিময় করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার সাথে লেবার পার্টির ১৫ সদস্যদের প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির আন্দোলন সংগ্রামের সম্মুখ সারিতে ভূমিকা পালন করায় বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের আমন্ত্রণে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য ও শিক্ষা শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০১৬ ও সালেও বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগ ইফতার মাহফিলে তিনি অংশ গ্রহণ করে লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়। বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব ও সহকর্মী রাজনৈতিক শক্তির সাথে প্রানবন্ত ব্যবহার ও মূল্যায়ন লেবার পার্টি আজীবন সম্মান জানাবে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া।

ছায়া সংগঠন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. প্রতিবেদক, জ্যেষ্ঠ (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "নিবন্ধন পেল লেবার পার্টি, প্রতীক আনারস"dhakapost.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  2. "সোমবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে লেবার পার্টি"SAMAKAL (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৩