কালীপ্রসন্ন সিংহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কালীপ্রসন্ন সিংহ
Kali-prasanna-sinha.png
কালীপ্রসন্ন সিংহ
জন্ম (১৮৪১-০২-২৩)২৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৪১
কলকাতা, বাংলা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ২৪ জুলাই ১৮৭০(১৮৭০-০৭-২৪) (২৯ বছর)
কলকাতা, বাংলা, ব্রিটিশ ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
বংশোদ্ভূত বাঙালি
পেশা সাহিত্যিক
ধর্ম হিন্দু
পিতা-মাতা শান্তিরাম সিংহ

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০) ঊনবিংশ শতকের একজন সাহিত্যকার এবং সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে তিনি সাহিত্য ও সমাজের উন্নয়নের জন্য বহু কাজ করে গিয়েছেন।

মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৮৫৩ খ্রীষ্টাব্দে ইনি বাংলাভাষা চর্চার জন্য বিদ্যোৎসাহিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সভার পক্ষ থেকে বাংলায় কাব্যরচনার জন্য মাইকেল মধুসূদন দত্তকে এবং নীলদর্পণ অনুবাদ প্রকাশ করবার জন্য লঙ্ সাহেবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। এই সভার মুখপত্র বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা ছাড়া আরো দু-একটি পত্রিকা কালীপ্রসন্ন সম্পাদনা করেছিলেন।

কয়েকটি নাটক রচনা করার পর কালীপ্রসন্ন হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা রচনা করেন ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দে। তৎকালীন কলকাতার আচার ব্যবহার, পালা-পার্বণ, সভা-সমিতি প্রভৃতি সামাজিক উৎসব এবং নানা ঘটনা হুতোম প্যাঁচার নক্‌শায় সরসভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা ছিল কথ্য ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা বই। এই বইতে কোন কোন মান্য ব্যক্তির প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছিল তাই এর প্রতিবাদে এইরকমের দু-একটি বই লেখা হয়েছিল।

কালীপ্রসন্ন সিংহের সবথেকে বড় কীর্তি আঠারো পর্ব মহাভারতের গদ্য অনুবাদ পুরাণ-সংগ্রহ । এই অনুবাদটি ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৬ এর ভিতরে প্রকাশিত হয়েছিল। এই কাজে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং আরো কিছু পণ্ডিতের সাহায্য পেয়েছিলেন ।

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

কালীপ্রসন্ন সিংহ নিম্নলিখিত বইগুলি লিখেছিলেন:

  • বাবুনাটক (১৮৫৪)
  • বিক্রমোর্বশী নাটক (১৮৫৭)
  • সাবিত্রী-সত্যবান নাটক (১৮৫৮)
  • মালতী-মাধব নাটক (১৮৫৯)
  • হিন্দু পেট্রিয়ট সম্পাদক মৃত হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের স্মরণার্থ কোনো বিশেষ চিহ্ন স্থাপন জন্য বঙ্গবাসিবর্গের প্রতি নিবেদন (১৮৬১)
  • হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬১)
  • পুরাণ সংগ্রহ বা কালীসিংহীর মহাভারত (মহাভারত অনুবাদ, ১৮৫৮-৬৬)
  • বঙ্গেশ বিজয় (১৮৬৮)
  • শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা (১৯০২)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা - সুকুমার সেন - সপ্তম সংস্করণ